এইচআইভি হলো, একোয়াট ইমিউনো ডেফিসিয়েন্স। যাকে আমরা সংক্ষেপে এইডস বলে থাকি। এ রোগ যৌন রোগের মধ্যে একটি।এইডস রোগের লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে অনেকেরই হয়তো জানা না থাকতে পারে। ত বন্ধুরা আপনেদের উদ্দেশে আমার লেখা এই পোষ্টটি। এইচআইভি সম্পর্কে যাদের জানা নেই পোষ্টটি পড়তে থাকুন।
এইচআইভি আসলে একটি ভাইরাসের আক্রমনের কারনে হয়ে থাকে। কোন মানুষের শরীরে এ রোগ হলে তার কিছু লক্ষণ থাকে। লক্ষণ গুলো ভালো ভাবে দেখলে বুঝে নিবেন যে তার এইচআইভি রোগ হয়েছে।
ভৃমিকা
এইডস এর লক্ষণ নারী-পুরুষে প্রায় একরকম হলেও নারী দেহে কতগুলো বিশেষ লক্ষণ দেখা যায়। যেমন যোনিতে দীর্ঘস্থায়ী বা ও নিরাময় যোগ্য ইস্টের সংক্রমণ। এ সংক্রামন সুস্থ নারী দেহে দ্রুত সেরে যায়। বিভিন্ন অংশের সংক্রমণজনিত প্রচন্ড জ্বালাপোড়া ও ব্যথা সৃষ্টি হয়। জরায়ু গাত্রে হিউম্যান পাপিলোমা ভাইরাস।( HPV)এর আক্রমণের টিউমার হওয়া এবং পরবর্তীতে সার্ভিস ক্যান্সারের রূপ নিয়ে আরেকটি লক্ষণ।
এইডস রোগের কারণ
বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যেমন,
- নারী-পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ।
- সংক্রমিত সিরিজ ব্যবহার করা।
- সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ করা।
- সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহণকারী শিশু।
- সেলুনে একই ব্লেড বা খুর দিয়ে বিভিন্ন জনের ব্যবহার করা।
- বিভিন্ন দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি
এইডস রোগের লক্ষণ
এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্তকণিকা ও ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। ফলে রোগীর দেহ ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারাতে থাকে। নিচে বর্ণিত লক্ষণগুলো প্রকাশ করা হলো-
- প্রাথমিক অবস্থায় দেহে জ্বর আসে এবং ও প্রত্যাশিত ভাবে জ্বর বাড়তে থাকে।
- দেহের বিভিন্ন গ্রন্থে ফুলে যায় এবং শরীর শুকিয়ে যায় ও ওজন কমতে থাকে।
- পেটে ব্যথা হয় এবং খাবারের অরুচি সৃষ্টি হয়।
- ফুসফুসে জীবাণুর আক্রমণ ঘটে এবং বুকে ব্যথা সহ শুকনো কফ জমে।
- অস্থির সন্ধি সময় প্রচন্ড ব্যথা সৃষ্টি হয় এবং দেহের জ্বালাপোড়া হয়।
- শ্বাসকষ্ট জিহেব্বা সাদা স্তরজমা, ত্বকের মিউকাস ঝিল্লি বা যেকোনো ছিদ্র থেকে রক্তপাত ঘন ঘন ফুসকুড়ি, সর্বক্ষণিক মাথাব্যথা এবং ক্রমশ স্মৃতিশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
- সংক্রমনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রোগী যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব, প্রগতি, একাধিক রোগে আক্রান্ত হয়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে পরিশেষে মৃত্যুবরণ করে।
এইডস রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ
এইডস প্রতিরোধে নিচে বর্ণিত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত-
- নিরাপদ যৌন মিলন করা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি-বিধান মেনে চলা।
- যৌন মিলনের সময় কনডম ব্যবহার করা।
- অস্বাভাবিক যৌন মিলন বহুগামীতা সহকামিতা এবং পতিতাগ্যামিতা পরিহার করা।
- যৌন সঙ্গী নির্বাচনে সতর্ক থাকা।
- পতিতাদের নিরাপদ যৌনতা সম্পর্কে সচেতন করা।
- এইচ আই ভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাথে যৌন মিলন ও চুমু খাওয়া থেকে বিরত থাকা।
- এইডস আক্রান্ত মায়ের সন্তান ধারণ অথবা সন্তানকে বুকের দুধ পান করানো থেকে বিরত থাকা।
- রক্ত গ্রহণের পূর্বে এসআইভি সংক্রমিত কিনা তা পরীক্ষা করা।
- শল্য চিকিৎসায় জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা।
- ইনজেকশন গ্রহণের সময় পরিশোধিত বা নতুন সিরিঞ্জ ও সুই ব্যবহার করা।
- সেলুনে ক্ষুরকর্মে খুরের পরিবর্তে প্রতিবার একটি নতুন ব্লেড ব্যবহার করা।
- ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের এইডস এর জন্য নিয়মিত পরীক্ষা করা।
- এইচ আই ভি সংক্রামিত ব্যক্তিকে সনাক্ত করে সম্পূর্ণভাবে আলাদা রেখে চিকিৎসা প্রদান করা।
- গণমাধ্যম সময়ের দ্বারা ব্যাপক প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে এইডস সম্পর্কে জনসচেতনা বৃদ্ধি করা।
এইচআইভি রোগ নির্ণয় করা
রক্তের পরীক্ষার মাধ্যমে দেহে এইচআইভি এর সংক্রামন নির্ণয় করা হয়। এক্ষেত্রে রক্তের যেসব পরীক্ষা করা হয় সেগুলো হল, এইচআইভি অ্যান্টিবডি টেস্ট RNAটেস্ট p24 protein টেস্ট, ওয়েস্টার্ন ব্লট(western blot) টেস্ট ইত্যাদি। আই ডি এস আক্রান্ত রোগীর রক্তে T-helper cells বা CD4 cell গণনা করার জন্য নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। রক্তে যদিCD4 cell এর পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রায় চেয়ে কম থাকে তাহলে বুঝা যায় এর পরিমাণ 500 থেকে 1500 cells/mm3) ।
এইচআইভি রোগের চিকিৎসা
এইডস রোগ নিরাময়ের সফল কোন ঔষধ বা প্রতিরোধের কোন ভ্যাকসিন আজও আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে এর সংক্রামন বিলম্বিত করতে এবং তীব্রতা কমাতে চিকিৎসক কিছু ঔষধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বর্তমানে চিকিৎসা করা হয় এ চিকিৎসায় তিন প্রকার ওষুধ ব্যবহৃত হয়। যথা,
১. নিউক্লিওসাইড রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ ইনহিবিটর গ্রুপের ঔষুধ, যেমন- Zidovudine, Azidothymidine ইত্যাদি।
২. নন- নিউক্লিওসাইড রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ ইনহিবিটর গ্রুপের ঔষুধ, যেমন- Delviridine, Nevirapone ইত্যাদি এবং
৩. প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর গ্রুপের ঔষুধ, যেমন- Indinavir, Ritonavir ইত্যাদি।
১ নং গ্রুপের ঔষুধ এইচআইভি এর রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ এনজাইমকে অকেজো করে প্রতিলিপি সৃষ্টিতে বাধা দেয়। অন্যদিকে ২.নং ও ৩. নং গ্রুপের ঔষুধ এইচআইভি এর প্রোটিয়েজ এনজাইমকে নিষ্ক্রিয় করে সংক্রামন বিলম্বিত করে। এইডস চিকিৎসায় এক প্রকার ঔষুধ কম কার্যকর, তাই সম্মিলিতভাবে ঔষুধ দেয়া হয়।
শেষ কথা
আশা করি বন্ধুরা এইচআইভির রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা সম্পর্কে একটা ভালো ধারনা পেয়ে গেছেন। তবে মনে রাখবেন আপনার যদি অনিয়মিত সঙ্গীদের সাথে যৌন জীবন থাকে তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার লক্ষণ বুঝতে পারেন বা না পারেন এই পরিক্ষাগুলো করাবেন প্লিজ।