গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা সমূহের বিস্তারিত বর্ণনা- সুস্থ প্রেগন্যান্সির লক্ষণ?

গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা সমূহের বিস্তারিত বর্ণনা গুলো বিস্তারিত তুলে ধরেছি এই আরর্টিকেলে। গর্ভকালীন সময়ে প্রত্যেকটা মা সুস্থ্য শরীর এবং সুন্দর দিন কামনা করে। কিন্তু গর্ভকালীন সময়ে গর্ভবতী মায়ের অনেক ধরনের সাধারন সমস্যা গুলো লক্ষণ দেখা দেয়। সাধারন সমস্যা গুলো অবশ্যই একজন গর্ভবতী মেয়েকে সহ্য করে পুরো নয় মাস অতিক্রম করতে হবে। গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা সমূহের বিস্তারিত বর্ণনা জানতে পড়তে থাকুন আমাদের আরর্টিকেলটি।

গর্ভকালীন-সাধারন-সমস্যা-সমূহের-বিস্তারিত-বর্ণনা?
গর্ভকালীন সময়ে মা ও শিশুর সুস্থ্যতার জন্য নিয়মিত ডাক্তারের কাছে নিতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলাচলের চেষ্টা করতে হবে। এই সময় কোন রকম অবহেলা করা যাবে না। কারন প্রত্যেকটা গর্ভবতী মায়ের গ্রেথ বা ধারন ক্ষমতা এক রকম হয় না। একেক জনের শারিরিক অবস্থা একেক রকম। গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা সমূহের বিস্তারিত বর্ণনা গুলো জানতে আরর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো।

গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা সমূহের বিস্তারিত বর্ণনা?

গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা সমূহের বিস্তারিত বর্ণনা- গর্ভকালীন সময়টা প্রত্যেকটা মেয়েদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই সময় যে সাধারন সমস্যা গুলো হয় তা থেকে কোন গর্ভবতী মেয়েই রক্ষা পায় না। গর্ভকালীন সময়ের সাধারন সমস্যা গুলো প্রত্যেক গর্ভবতী মেয়েকেই ভোগ করতে হয়। এই সমস্যা গুলো কিছু নিয়ম মেনে চললে হয়তোবা সামায়িক সময়ের জন্য গর্ভবতী মেয়ে শারিরিক দিক থেকে একটু আরাম পায়। জেনে নিই গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা সমূহের বিস্তারিত বর্ণনা এবং সমস্যা গুলো সমাধানের উপায়।
  • বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরা
  • বুক ব্যাথা( ব্রেস্ট ব্যাথা)
  • শরীর ক্লান্ত হওয়া
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
  • গ্যাস বা বদহজম
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • মাথা ব্যাথা
  • মাজা ও মেরুদন্ড ব্যাথা
  • শরীর অতিরোক্ত ঘামা
  • হাত-পা ফুলে যাওয়া
বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরা
গর্ভবতী হওয়ার প্রথম তিন মাস বমি বমি ভাব বা প্রচুর বমি করা ও মাথা ঘোরা প্রত্যেকটা গর্ভবতী মেয়েদের প্রথম সমস্যা। এই সমস্যা গুলোকে ডাক্তাররা বলে মর্নিং সিকনেস।  বমি বমি ভাব বা বমি করা এট কোন বড় সমস্যা নয়। এটার জন্য আতঙ্ক হওয়ার কোন কারন নেই। এই সমস্যাটা প্রায় ১২-১৪ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে। যার জন্য গর্ভবতী মেয়ে তেমন কিছুই খেতে পারে না। এই সমস্যা সমধানের হালকা কিছু নিয়ম আছে যা মেনে চললে কিছুটা আরাম পাবে।  নিচে বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরার কিছু সাধারন প্রতিকার দেওয়া হলো-
প্রতিকারঃ
  • ঘুম ভেঙ্গে গেলে বিছানায় ৫-৬ মিনিট বসে রেস্ট নিবেন। তার পরে আস্তে আস্তে বিছানা থেকে নিচে নামার চেষ্টা করবেন।
  • এক জায়গাতে বেশি ক্ষন বসে থাকলে সেখান থেকে উঠার সময় আস্তে করে উঠবেন।
  • তিন বেলার খাবার গুলো একটু একটু করে খাওয়ার চেষ্টা করবেন।একে বারে পেট পুরে খেলে বমি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গর্ভবতী অবস্থায় হরমোনের উঠানামা করে এই জন্য গর্ভবতী হওয়ার প্রথম তিন মাস হালকা খাবার গুলো খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
  • বারে বারে বমি হওয়ার কারনে শরীরে পানিশুন্যতা দেখা দিতে পারে । এই জন্য বারে বারে অল্প করে প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে।
  • যে সব খাবারে গ্যাস হবে না এরকম জাতীয় খাবার গুলো খাওয়ার চেষ্টা করবেন। কারন প্রথম তিন মাস বমি করেই সব তুলে দিবে এই জন্য এই সময় দুধ, মাখন বা অন্যান্য খাবার গুলো অল্প করে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। যে খাবার গুলো সহজেই হজম হয় যেমন, ভাত, কলা, আপেল, বিস্কুট ইত্যাদি।
  • যখন শরীর ভালো থাকবে বা বমি বমি ভাব থাকবে না তখন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
  • প্রচুর পরিমানে বিশ্রাম নিতে হবে।
  • অতিরোক্ত বমি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করবেন। গর্ভবতী অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছারা কোন ঔষধ সেবন করার চেষ্টাও করবেন না।
বুক ব্যাথা (ব্রেস্ট ব্যাথা)
গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন সময়ে ব্রেস্ট ব্যাথা হয় এবং ব্রেস্ট ভারি হয়ে যায়। কারো কারো আবার শক্ত হয়ে অনেক ব্যাথা হয়। এরকমটা হয় এটা স্বাভিক। এরকম হলে ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই। বাচ্চা প্রসবের ৩-৪ মাস পরে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। বুক বা ব্রেস্ট ব্যাথার প্রতিকার নেই বললেই চলে। তবে হালকা সুতি জামা পরে থাকবেন। দুই স্তনকে সার্পোট দিয়ে রাখবেন নরম কাপরের ব্রা দিয়ে। কারন বুক যত নরাচরা করবে তত ব্যাথা বেশি হবে। বেশি ব্যাথা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করবেন।
শরীর ক্লান্ত হওয়া
গর্ভকালীন সময়ে গর্ভবতী মেয়েদের হরমোন ওঠানামা করে যার জন্য মানসিক এবং শারিরীক পরিবর্তন দেখা যায়। যেহেতু একটি মানুষের দেহে আরেকটি মানুষ দিনে দিনে বড় হয় শরীর ভারি হবে এবং শরীর ক্লান্ত হয়ে থাকবে। এরকম সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু উপায় আছে তা নিচে দেওয়া হলো।
প্রতিকারঃ
  • গর্ভবতী সময়ে রাত ৯ টার মধ্যে ঘুমিয়ে যেতে হবে। বেশি রাত জাগা যাবে না।
  • সকাল ৬-৭টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে যেতে হবে।
  • হালকা পাতলা কিছু সাংসারিক কাজ করতে হবে। তাহলে শরীর ক্লান্ত হবে না।
  • বাড়িতে কোন কাজ না থাকলে হালকা ব্যায়াম করার চেষ্টা করতে হবে।
  • দুপুরে ২-৩ ঘন্টার মতো ঘুমিয়ে নিতে হবে।
  • বাড়ির সকলকে সাহায্য করতে হবে।
  • বদহজম বা গ্যাস হবে এরকম খাবার খাওয়া যাবে না। কারন বুক জ্বালাপোড়া করলে শরীর আরো খারাপ হয়ে যাবে। সহজে ঘুম আসবে না।
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
গর্ভকালীন সময়ে বেশি বেশ পানি পান করার জন্য প্রসাবের চাপ আসে। দিনে দিনে বাচ্চা পেটের ভিতরে বড় হবে মুত্র থলির উপরে চাপ পরে প্রস্রাব ঘন ঘন হবে। এই রকমটা হলে ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই। যত বেশি প্রস্রাব হবে তত বেশি করে পানি পান করবেন। আর রাতের বেলা পানি কম খাবেন। প্রস্রাবের চাপ দেওয়ার সাথে সাথে প্রস্রাব করে নিবেন এবং প্রস্রাব ধরে রাখার চেষ্টা করবেন না। যত বেশিই প্রস্রাব হোক না কেন দিনের বেলা প্রচুর পরিমানে পানি পান করবেন।
গ্যাস বা বদহজম 
সাধারন সময়ের চেয়ে গর্ভকালীন সময়ে বেশি গ্যাস এবং বদহজম হয়। এর জন্য কোন ভাজা পোরা জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। এবং সহজে হজম হবে এরকম খাবার গুলো খেতে হবে। ভাত, ফলের রস জাতীয় খাবার গুলো খাবেন এবং ঝোলের তরকারি বেশি করে খাবেন। আর খাবার একটু একটু করে বারে বারে খেতে হবে। খাবার পরে আস্তে আস্তে হাটা চলা করবেন। খাবার খাওয়ার সাথে সাথে শুয়ে পরবেন না। বেশি গ্যাস হলে সেকলো বা অ্যান্টাসিট খাওয়া যেতে পারে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
কোষ্ঠকাঠিন্য
গর্ভকালীন সময়ে যে কোন খাবার হজম হতে সময় লাগে। গর্ভের প্রায় ১ সপ্তাহ পর থেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। বাচ্চা পেটের ভিতর যত বড় হতে থাকবে কোষ্ঠ কাঠিন্য তত বাড়তে থাকবে। এরকম সমস্যা হলে কিছু প্রতিকারের নিয়ম আছে তা নিচে দেওয়া হলো-
প্রতিকারঃ
  • তরল খাবার গুলো বেশি পরিমানে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
  • আশ যুক্ত খাবার যেমন, সবজি ও ফল বেশি করে খেতে হবে। তার সাথে যে কোন শাক খেলে ভালো হবে।
  • খাবার পরে হালকা ব্যায়াম করে নিতে হবে। কারন হালকা ব্যায়ামে খাবার দ্রুত হজমে সাহায্য করবে। ব্যায়াম না করলেও হাটাচলা করতে হবে।
  • উপরোক্ত বিষয় গুলো মানার পরে ও উপকার না পেলে ডাক্তারের পরামর্শে কোষ্ঠকাঠিন্যর ঔষধ সেবন করতে হবে।
মাথা ব্যাথা
সাধারনত গর্ভকালীন সময়ে গর্ভবতী মেয়েদের হরমোন, আবসাদ, রক্তে শর্করা, স্ট্রেস এবং ক্যাফেইনের অভাব হয়। যার কারনে বার বার মাথা ব্যাথা হতে পারে। মাথা ব্যাথা বেশি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ সেবন করতে হবে। ঔষধ সেবন ছারাও কিছু সাধারন নিয়ম আছে যেগুলো মানলে হয়তো বা মাথা ব্যাথা কমে যেতে পারে। সেগুলো হলো-
প্রতিকারঃ
  • গর্ভবতী অবস্থায় ঘুমিয়ে গেলে ঘুম থেকে ডাকা যাবে না। পুরো ঘুমিয়ে তারপরে উঠতে হবে।
  • গর্ভবতী মেয়েদের কে মাঝে মাঝে ডাক্তারের কাছে চেকাবে নিয়ে যেতে হবে। এবং রক্তে শর্করার পরিমান কমে যাচ্ছে কি না তা লক্ষ রাখতে হবে।
  • শরীর অতিরোক্ত দুর্বল হলে মাথা ব্যাথা বেশি হবে। এই জন্য পুষ্টি কর খাবার খাওয়াতে হবে।
  • যে সব খাবারে রক্ত বেশি হবে সে খাবার গুলো খাওয়াতে হবে।
  • মাথা ব্যাথা যদি অতিরোক্ত হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ সেবন করতে হবে।
মাজা ও মেরুদন্ড ব্যাথা
এই সময় মাজা ও মেরুদন্ড ব্যাথা করতেই পারে। ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। শরীরের ওজন দিনে দিনে বেড়ে যাওয়ার জন্য এই সমস্য হয়ে থাকে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কিছু কৌশল আছে তা নিচে দেওয়া হলো-
প্রতিকারঃ
  • এক ঘেয়ামি ভাবে বসে কাজ বা দাড়িয়ে কাজ করা যাবে না।
  • কাজ করার ফাকে ফাকে একটু করে হাটাচলা করতে হবে।
  • ভারী জাতীয় কোন কাজ করা যাবে না এবং ভারী জাতীয় কোন জিনিষ বহন করবেন না।
  • বেশি ব্যাথা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কোমরে বেল্ড ব্যাবহার করতে হবে।
  • ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার গুলো বেশি করে খাবেন।
শরীর অতিরোক্ত ঘামা
গর্ভকালীন সময়ে শরীরের ওজন বেড়ে যায় এবং হরমোনের ওঠানামা করে এবং দেহেরে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। যার ফলে সামান্য গরমেই ঘামতে থাকে। এরকম সমস্যা হলে কিছু প্রতিকার আছে তা নিচে দেওয়া হলো-
প্রতিকারঃ
  • ঢিলাঢালা জামা কাপর পড়তে হবে। এবং অবশ্যই সুতি কাপর পড়তে হবে।
  • চা, কফি ইত্যাদি ক্যাফেইন জাতীয় খাবার গুলো বর্জন করতে হবে। খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও পরিমান মতো খেতে হবে।
  • অতিরোক্ত ঘামের জন্য ডিহাইড্রেশন হতে পারে এই জন্য দিনের বেলা প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে।
  • অবশ্যই ঠান্ডা জায়গাতে থাকার চেষ্টা করতে হবে।
হাত-পা ফুলে যাওয়া
গর্ভকালীন সময়ে গর্ভবতী মা ঠিকমতো খাইতে পারে না। কারন বমি হয়ে যায়। এই সময় শরীর দুর্বল থাকে এবং শরীরে রক্ত স্বল্প থাকে। শরীরে রক্ত স্বল্প থাকার কারনে হাত- পা ফুলে যায়। হাত- পা ফোলা থেকে রক্ষা পেতে হলে কিছু নিয়ম মানতে হবে সেগুলো হলো-
প্রতিকারঃ
  • অবশ্যই যে খাবার গুলো খেলে শরীরে রক্ত বেশি হবে সে খাবার গুলো খেতে হবে। যেমন, মাংস, ফল, সামদ্রিক মাছ, কলাই বা শুটিজাতীয় খাবার, ডিম, বাদাম, শুকনো ফল ইত্যাদি।
  • খাবারের রুচি না থাকলে রক্তের সিরাপ পাওয়া যায় সেগুলো খেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শে।
  • আর যেখানে বসবেন মাটিতে পা ঠেকিয়ে বসবেন। বেশিক্ষন পা ঝুলিয়ে বসে থাকা যাবে না।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা আশা করি আরর্টিকেলটি পড়ে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন. গর্ভকালীন সাধারন সমস্যা গুলো এবং গর্ভকালীন সময়ে এমন কিছু গুরুতর সমস্যা হয় তা হলে অবশ্যই সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং চিকিৎসা করতে হবে। সমস্যা গুলো হলো-
  • রক্তপাত হলে
  • বেশি পেট ব্যাথা হলে
  • প্রসাবের সময় ব্যাথা বা জ্বালাপোড়া হলে
  • শ্বাসকষ্ট, জ্বর এবং মাথাব্যাথা হলে
  • খাওয়ার সাথে সাথে বমি করে দিলে
  • পেটে শিশুর নরাচরা অস্বাভিক হলে
  • হাত-পা অস্বাভিক ফুলে গেলে
  • চোখ দিয়ে ঝাপসা দেখলে।
উপরোক্ত সমস্যা গুলো কোন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে দেখা দিলে সাথে সাথে ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে হবে । কোন প্রকার অবহেলা করা যাবে না। একটু অবহেলার জন্য হয়তো বা সুন্দর জীবন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সকলেই ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।

সুস্থ প্রেগন্যান্সির লক্ষণ?

সুস্থ প্রেগন্যান্সির লক্ষণ- প্রত্যেকটা গর্ভবতী মা আশা করে একটি সুস্থ্য বাচ্চার জন্ম দেওয়া। এর জন্য অবশ্যই আগে গর্ভবতী মায়ের সঠিক যত্ন নিতে হবে তারপরে সুস্থ্য বাচ্চার আশা করতে হবে। সুস্থ্য প্রেগন্যান্সির কিছু লক্ষণ সমূহ তুলে ধরা হলো-
সুস্থ্য-প্রেগনান্সির-লক্ষণ?
  • পর্যাপ্ত খাবারে রুচি থাকবে। এবং শরীর সুস্থ থাকবে।
  • মায়ের ওজন বৃদ্ধি এবং তার সাথে পেটের বৃদ্ধি।
  • ৫-৬ মাসের মধ্যে পেটের ভেতরে বাচ্চা হালকা নরাচরা করবে।
  • গর্ভবস্থার ৫ সপ্তাহের পর থেকে ভ্রনের হার্টবিট শোনা যাবে প্রতি মিনিটে ১০০-১৬০ বিট শোনা যাবে।
  • গর্ভবতী হওয়ার ৮ মাসের পর থেকেই বাচ্চার মাথা নিচের দিকে নামতে থাকবে।
  • স্তন গুলো বড় হতে লাগবে, স্তনের বোটা গুলো মোটা হবে এবং কালো হয়ে যাবে।
  • জরায়ুর আকার বড় হতে থাকবে এবং ঘন ঘন প্রস্রাব হতে থাকবে। এবং বাচ্চা নিচের দিকে নেমে আসার চেষ্টা করবে।
উপরোক্ত বিষয় গুলো একটি গর্ভবতী মেয়ের ভিতরে ‍যদি প্রকাশ পায় তাহলে বুঝবেন মা এবং শিশু দুজনেই সুস্থ্য আছে এবং স্বাভিক আছে। তবে বাচ্চা প্রসবের সময় হলে সাথে সাথে নিকটস্থ ডাক্তার বা হাসপাতালে নিবেন। বাড়িতে কোন রকম চেষ্টা করবেন না। এতে হিতে বীপরীত হতে পারে। ধন্যবাদ

অসুস্থ প্রেগন্যান্সির লক্ষণ?

অসুস্থ প্রেগন্যান্সির লক্ষণ-অসুস্থ্য প্রেগন্যান্সির কিছু লক্ষন নিচে দেওয়া হলো। এসব লক্ষণ গুলো কোন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে প্রকাশ হলে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে এবং চিকিৎসা করতে হবে।
  • খাবার সাথে সাথেই বমি করা।
  • শরীর, হাত-পা অস্বাভিক ফুলে যাওয়া।
  • গায়ে জ্বর হওয়া বা শীত শীত লাগা।
  • স্তন নরম হয়ে যাওয়া।
  • মেরুদন্ড বা মাজাতে প্রচুর ব্যাথা হওয়া।
  • ওজন বৃদ্ধি ও কমে যাওয়া।
  • শরীর সব সময় ক্লান্ত থাকা।
  • রক্তপাত হওয়া।
  • গন্ধযুক্ত সাদা স্রাব হওয়া
  • মাথা ব্যাথা হওয়া।
  • বাচ্চার নরাচরা স্বাভিক না থাকা।
  • বাচ্চার মাথা উপরের দিকে থাকা।

গর্ভাবস্থায় কি কি কাজ করা নিষেধ?

গর্ভাবস্থায় কি কি কাজ করা নিষেধ- সুস্থ্য মা এবং সুস্থ্য বাচ্চা পেতে হলে একজন গর্ভবতী মাকে গর্ভকালীন সময়ে অনেক কাজ থেকে দুরে রাখতে হবে। গায়ের জোরে কোন ভারি কাজ করলে তা মারাত্বক ক্ষতির কারন হয়ে যাবে। তবে হালকা পাতলা কাজ গুলো অবশ্যই করতে পারবে। চলুন জেনে নিই গর্ভবস্থায় কি কি কাজ করা নিষেধ?
  • ভারি কাপর ধোয়া যাবে না।
  • ভারি জিনিষ তোলা যাবে না। যেমন, ৫ কেজির বেশি কোন জিনিষ।
  • ঢেকিতে ধান ভানা যাবে না। এবং
  • টিউবয়েল চিপে পানি তোলা যাবে না।
  • উপুর হয়ে নিচের দিকে ঝুকে কাজ করা যাবে না।
  • শরীরে ঝুকি লাগবে এরকম কোন যানবাহনে চরে দুরবর্তী জায়গাতে যাতায়াত করা যাবে না।
  • উচু হিল পরে হাটা যাবে না।
একজন গর্ভবতী মাকে উপরোক্ত কাজ গুলো কখনোই করা যাবে না। এই সব কাজ থেকে ১০০ হাত দুরে থাকতে হবে। সামান্য অসর্তকতার কারনে মারাত্বক ক্ষতির কারন হতে পারে। নিজেকে রক্ষা করুন এবং আপনার গর্ভের সন্তানকে রক্ষা করুন। ভালো থাকবেন।

গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয়?

গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয়- গর্ভবতী মাকে দিনে ৩-৪ ঘন্টার বেশি ঘুমানো যাবে না। অতিরোক্ত ঘুম বা শুয়ে থাকা সন্তানের ঝুকির কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। এই সময় এমনিতেই শারিরীক এবং মানসিক পরিবর্তন আসে। এবং শরীর ক্লান্ত হয়ে থাকে। এই জন্য চেষ্টা করতে হবে কম ঘুমানোর। গর্ভবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে পাকস্থলির উপরে চাপ পরে যায়, তার কারনে অতিরোক্ত গ্যাস, বদহজম এবং অ্যাসিডিটি হতে পারে এবং সুগার লেভেল বেরে যেতে পারে। আসলে অতিরোক্ত কোন কিছুই ভালো না।

গর্ভাবস্থায় ভারী জিনিস তুললে কি হয়?

গর্ভাবস্থায় ভারী জিনিস তুললে কি হয়- গর্ভবস্থায় এমনিতেই একটি মায়ের ওজন বেড়ে যায়। এই সময় যদি কোন ভারি জিনিষ তোলে তাহলে তার পা, হাটু , কোমরের হার এবং মাংপেশির উপর মারাত্বক চাপ পড়ে যায়। যার ফলে মায়ের জন্য অসুস্থ্যতা ডেকে আনতে পারে। আর মায়ের যে কোন অসুস্থতা বাচ্চার উপর প্রভাব ফেলে। যার ফলে বাচ্চা ঝুকির মধ্যে থাকে। গর্ভবতী মেয়েদের জরায়ু ফুলে উঠে থাকে। ভারি জিনিষ তুলতে গিয়ে যদি পড়ে যায় বা আঘাত লাগে তাহলে জরায়ু ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর ফেটে গেলে বাচ্চার মারাত্বক ক্ষতি হয়ে যাবে।

গর্ভাবস্থায় বাচ্চা পেটের কোন পাশে থাকে?

গর্ভাবস্থায় বাচ্চা পেটের কোন পাশে থাকে- ডাক্তারদের মতে, গর্ভের বাচ্চা পেটের যেকোন দিকে থাকতে পারে। গর্ভের প্রথম দিকে বাচ্চা পেটের মাঝখানে থাকে। তারপরে বড় হলে পেটের ডান এবং বাম দুই দিকেই নরাচরা করে। আর গর্ভবস্থার শেষ সময়ে বাচ্চা পেটের নিচের দিকে নেমে আসে। অনেকেই বলেন বাচ্চা পেটের ডান পাশে থাকে। আসলে এটা সঠিক ভাবে বলা সম্ভব নয় যে, বাচ্চা পেটের কোন দিকে নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। পেটের মধ্য বাচ্চা যখন বড় হয় তখন বাচ্চা গোটা পেটেই ঘুরে বেরাই। নির্দিষ্ঠ ভাবে ডান দিকে বা বাম দিকে থাকে না।

গর্ভকালীন সময়ে ৫ টি মারাত্বক ঝুকি কি?

গর্ভকালীন সময়ে ৫ টি মারাত্বক ঝুকি কি- গর্ভকালীন সময়ে ৫ টি ঝুকিসমূহর লক্ষণ দেখলে সাথে সাথে ডাক্তারে কাছে নিতে হবে এবং চিকিৎসা করতে হবে। চলুন জেনে নিই গর্ভকালীন সময়ে ৫ টি মারাত্বক ঝুকি কি?
রক্তস্রাবঃ প্রসবের পরে বা প্রসবের সময় অতিরোক্ত রক্তস্রাব এবং গর্ভফুল না পড়লে মারাত্বক সমস্যা হয়ে যাবে।
মাথা ব্যাথা ও চোখে ঝাপসা দেখাঃ বেশি মাথা ব্যাথা এবং চোখে ঝাপসা দেখা।
অতিরোক্ত জ্বরঃ গর্ভবতী সময়ে বা প্রসব পরবর্তি কালীন সময়ে ৩ দিনের বেশি জ্বর এবং সাদা দুর্গন্ধ যুক্ত চাপ ভাঙ্গা।
বিলম্বিত প্রসবঃ প্রসব ব্যাথা ওঠার ১২ ঘন্টা অতিক্রম হলে বা বাচ্চার মাথা ছারা অন্য অঙ্গ আগে বের হয়ে আসলে।
খিঁচুনিঃ গর্ভবস্থায় প্রসব কালে বা প্রসবের পরবর্তি সময়ে খিঁচুনি হলে।
এই ৫ টি বিপদচিহ্ন জেনে এবং চিনে রাখব এর একটি কোন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। এই রকম সমস্যা হলে ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই চিকিৎসা করলেই রোগী ভালো হয়ে যাবে।

গর্ভকালীন সময়ে কি কি খাবার খেতে হবে?

গর্ভকালীন সময়ে কি কি খাবার খেতে হবে- গর্ভকালীন সময়ে একজন গর্ভবতী মাকে স্বাভিকের তুলনায় বেশি খাবার দিতে হবে। এই সময় বাড়তি ক্ষয় পূরনকারী, শক্তিদায়ক এবং রোগপ্রতিরোধক খাবার গুলো দিতে হবে। চলুন জেনে নিই গর্ভকালীন সময়ে কি কি খাবার খেতে হবে।
গর্ভকালীন-সময়ে-কি-কি-খেতে-হবে?
গর্ভবতী মায়ের শক্তিদায়ক খাবারঃ ভাত, রুটি, গুর, চিনি, আলু, সুজি, সয়াবিন তেল, বাদাম, কলিজা, ঘি, চর্বি, ডিমের কুসুম ইত্যাদি।
গর্ভবতী মায়ের ক্ষয়পূরন কারী খাবারঃ মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুটি, বাদাম, সিমের বিচি, তিল ইত্যাদি।
গর্ভবতী মায়ের রোগ প্রতিরোধক খাবারঃ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, সকল ফল, গুলো গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় রাখতে হবে প্রতিদিন।

লেখকের শেষ কথাঃ গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা সমূহের বিস্তারিত বর্ণনা?

প্রিয় পাঠক এই আরর্টিকেল থেকে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ন বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলাম। সেই গুরুত্বপূর্ন বিষয় গুলো হলো- গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা সমূহের বিস্তারিত বর্ণনা, সুস্থ প্রেগন্যান্সির লক্ষণ, অসুস্থ প্রেগন্যান্সির লক্ষণ, গর্ভাবস্থায় কি কি কাজ করা নিষেধ, গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয়, গর্ভাবস্থায় ভারী জিনিস তুললে কি হয়, গর্ভাবস্থায় বাচ্চা পেটের কোন পাশে থাকে, গর্ভকালীন সময়ে ৫ টি মারাত্বক ঝুকি কি? 
গর্ভকালীন সময়ে কি কি খাবার খেতে হবে? ইত্যাদি। গর্ভকালীন সময়ে কি ফল খেতে হবে, কিভাবে প্রেগনান্সি টেস্ট করতে হবে ইত্যাদি আরো বিষয়ে জানতে হলে msta2z.com ওয়েবসাইডটি ভিজিট করুন। গর্ভকালীন সাধারন সমস্যা সমূহের বিস্তারিত জানার জন্য আপনাদের কে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন সকলেই।

পোষ্ট ট্যাগঃ

কি কি কারণে গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ হয়?, গর্ভাবস্থায় পানি কম খেলে কি হয়?, পেগনেট অবস্থায় কি কি সমস্যা হয়?, গর্ভাবস্থায় কোন সবজি ভালো?, গর্ভাবস্থায় দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত?, গর্ভাবস্থায় ঠান্ডা পানি খাওয়া যাবে কি?, গর্ভাবস্থায় গরম পানি খাওয়া যাবে কি?, গর্ভের বাচ্চারা কি ঠান্ডা পানি অনুভব করে?, গর্ভাবস্থায় কোন পানীয় খাওয়া যাবে না?, বাংলাদেশের মাতৃস্বাস্থ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত?, প্রসব পরবর্তী সেবা কি এবং এর গুরুত্ব?, মাতৃস্বাস্থ্য সেবা গ্রহনে তিনটি বিলম্ব?, গর্ভকালীন সময়ে করণীয়?,

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *