বসতবাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। আমাদের দেশের কৃষকেরা বিভিন্ন রকমের বারোমাসি সবজি চাষ করে থাকে। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হওয়ার কারনে কোন ধরনের সবজির অভাব নেই এদেশে। প্রিয় বন্ধুরা আপনাদের উদ্দেশে আমার লেখা এই পোষ্টটি। কোন কোন সবজি বারো মাস চাষ হয় তা এই পোষ্টটে আলোচনা করা হলো।
বারোমাসি সবজি
সব রকমের সবজি বারোমাস ধরে পাওয়া যায় না। কিছু কিছু সবজি আছে যা শুধু শীতের মৌসুম ছারা পাওয়া যায় না। আবার কিছু সবজি সব মৌসুমে পাওয়া যায়।

ভৃমিকা

বাংলাদেশে ফসল উৎপাদনের সময় তিনটি -খরিপ-১, খরিপ-২, ও রবি মৌসুম।এই তিন সময়ে কৃষকেরা ফসল উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিভিন্নতার কারনে এবং প্রয়োজনের তাগিদে সারা বছরই কিছু না কিছু কৃষি কাজ করতে হয় কৃষকদের কে। বারোমাসি সবজি গুলা নিচে দেওয়া হলো-

বারোমাসি সবজি

বাংলাদেশ যে সব সবজি বারো মাস পাওয়া যায় বা বারোমাস চাষ করা হয় তা নিচে দেওয়া হলো-
করলা,  বেগুন, মিষ্টিকুমরা, চালকুমরা, পেঁপে, ঢ়েড়স, পোটল, লাউ,টমেটো, ক্যাপসিক্যাম, সজনে ডাটা, মরিচ, লালশাক, কলমি শাক, পুইশাক ইত্যাদি বারোমাসি সবজি।

অল্প জায়গায় সবজি চাষ

সামান্য জমিতে ও অনেক ধরনের সবজির আবাদ করা যায়। সবজি লাগানোর পর অল্প সময়ে সবজি সংগ্রহ করা যায়। একেক মৌসুমে একেক রকেমের সবজি চাষ করা হয়ে থাকে। প্রায় সব শাক- সবজিতে উন্নত মানের পুষ্টি থাকে। যার ফলে পরামান মতো সবজি খেয়ে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিহীনতা দুর করা যায় এবং রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।বাড়ির অসে পাসে খালি জায়গা থাকলে বা মাঠে অল্প পরিমানে জায়গা থাকলে অনেক ধরনের সবাজ আবাদ করা সম্ভব।তা থেকে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আবার বার্তি আয়ের ব্যাবস্থা করা যায়।

বসত বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষের উপায়

আপনের বাড়ির যে জায়গায় রোদ বেশী থাকে এরকম জায়গায় সবজি চাষের জন্য বেশী উপযোগী। সবজি বাগান করলে বাড়ির আঙ্গিনায় বা ছাদে বড় কোন গাছের ডাল পালা থাকলে ছেটে দিতে হবে। তা না হলে গাছের ছায়ার জন্য সবজি ভালো হয় না বা সবজি চারা জন্মাতে দেয় না। এরকম রোদের জায়গায় সারা বছর কুষক কৃষানিরা সবজি চাষ করতে পারবে।
 
আর এজন্য অবশ্যই ভালোজাতের সবিজর বীজ সংগ্রহ করতে হবে। এবং কোন মৌসুমে কোন সবজি লাগাতে হয় তার একটা তালিকা তৈরী করে রাখতে হবে বা জ্ঞান রাখতে হবে বা দক্ষ কৃষকদের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।ঘরের ছাদে বা টিনের উপর লতা জাতীয সবজি যেমন, মিষ্টি কুমরা, লাউ, চাল কুমরা, পুইশাক , এধরনের সবজি লাগানো যায়। 
পেঁপে গাছ, নারিকেল গাছ, ডালিম গাছ, এধরনের গাছ বাড়ির আঙ্গিনায় বা গেটের কাছে ফাকা জায়গা থাকলে লাগানো যায় এছারাও বাড়ীর সীমানায় বেড়া থাকলে ধুন্দল, ঝিঙ্গা, চাষ করা যায়। বাড়ির আশে পাশে কলা গাছ, সজিনা গাছ, লেবুগাছ লাগনো যায়। কলের পাড়ে স্যাতস্যাতে জায়গায় কচু শাক, লতি কচু, মান কচু, ইত্যাদি লাগানো যায়। 
বাড়ির সামনে ফাকা জায়গা থাকলে হলুদ , আদা, ধনিয়া গাছের ছায়ার নিচে হলেও চাষ করা যায়।বাড়ির পাশে পুকুর পারে নারিকেল, সুপারি, পেঁপে, গাছ লাগানো যায় এবং পুকুরের পানির উপর মাচান দিয়ে ও মিষ্টি কুমরা, লাউ, তরমুজ, বাঙ্গি, শসা ইত্যাদি চাষ করা যায়।

সবজি গাছের পরিচর্যা

বেশী সবজি সংগ্রহ করতে চাইলে কৃষানিকে জমিতে সার ও কমপোস্ট প্রয়োগ করতে হবে। আগাছা পরিস্কার করতে হবে। সেচ প্রয়োগ করতে হবে। এবংরোগ বালাই দমনের ব্যাবস্থা করতে হবে। ভালো জাতের বীজ সংগ্রহ করতে হবে।

ছায়াযুক্ত স্থানে সবজি চাষ

অনেক জায়গা আছে সেখানে সারাদিনে প্রায় ২/৩ ঘন্টা রোদ পরে সেসব স্থানে অনেকেই মনে করে যে সবজি বা কোন গাছ হবে না বলে জায়গা ফেলে রাখে। ছায়াযুক্ত স্থানে কি কি সবজি চাষ হবে তা নিচে দেখনো হলো।
বাধাকপি, ফুলকপি,পালংশাক, লেটুস, গাজর, ব্রকলি, রসুন, মটরশুটি, মুলা, ওলকপি, আলু, মিষ্টি আলু, আদা, হলুদ ইত্যাদি সবজি চাষ করা যায়। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে যে এগুলোর সবজির উপর মিনিমাম ৩ থেকে ৪ ঘন্টা রোদ লাগে এরকম জায়গায় চাষ করতে হবে। একে বারে ছায়া যুক্ত স্থানে কোন ফসললি ভালো হয় না।

১০ টি বর্ষকালিন সবজির নাম

পুইশাক, লালশাক, ডাটাশাক, পাটশাক, কুমরা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা,বেগুন, ঢেড়স, করলা, পোটল, বরবটি ইত্যাদি বর্ষাকালিন সবজি।

সবজি বাগানের ছবি

কত মানুষ শহরে বসবাস করে। যারা চাকুরীজীবি তারা অনেকেই গ্রামের সবজি বাগান দেখেন না বা চেনে না তাদের জন্য এই সবাজি বাগানের ছবি তুলে ধরা হলো-
সবজি বাগান

শেষ কথা

যে সবজি ফসলি ফলান না কেন পরিশ্রম এবং যত্ন করলে সব ফসলি ভালোভাবে সংগ্রহ করা যায়। এই পোষ্টটে আমরা জানলাম, বারোমাসের সবজির নাম, অল্প জায়গায় সবজি চাষ, বসত বড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ , বর্ষকালীন সবজি, এবং একটি সবজি বাগানের ছবি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *