মেসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস – মিসওয়াকের হুকুম

ইসলামিক শর্ট প্রশ্ন ও উত্তরমেসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস? আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা। নিশ্চয় আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন। হাদিস মোতাবেক মেসওয়াক দ্বারা বুঝা যায়, মুখ ও দাঁত পরিষ্কার করা। গাছের শক্ত ডাল বা গাছের শিকর দিয়ে প্রত্যেক নামাজের অজুর সময় দাঁত পরিষ্কার করাকে ইসলামে মেসওয়াক বলা হয়।
মেসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস
প্রিয় বন্ধুরা সব গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা যায় না। যে সকল গাছের স্বাদ তিতা হয় সে সকল গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা মুস্তাহাব। মেসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস এবং মেসওয়াকের ৭০ টি ফজিলত সম্পর্কে এই পোষ্টে বিস্তারিত দেওয়া হলো। এবং মেসওয়াক সম্পর্কে আরো ভালো কিছু জানার জন্য এই পোষ্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো।
মেসওয়াক আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর একটি প্রিয় সুন্নত। প্রত্যেক মুসলিম বান্দার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মেসওয়াক মুখের পবিত্রতা ,মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির মাধ্যম। – (সুনানে ইবনে মাজাহ,হাদিস ২৮৯: সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ১০৬৭)

মেসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস

মেসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস। প্রত্যেক নামাজের আগে অযুতে মেসওয়াক করা সুন্নত। অন্য সময় মেসওয়াক মুস্তাহাব। মুখের পবিত্রতা রক্ষা, দাঁত এবং পেটের পীড়া থেকে বাঁচার জন্য দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার রাখা খুবই প্রয়োজন। মেসওয়াক করার উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিতা গাছের ডালের মেসওয়াক উত্তম। 
শাহাদাত আঙ্গুলের মত মোটা এবং লম্বায় এক বিগত হওয়া বঞ্চনীয়। পবিত্র লোমের ব্রাশ এবং পাক বস্তুর টুথপেস্ট বা পাউডার ব্যবহারেও কোন দোষ নেই। মেসওয়াক সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের উপরে মাত্রাতিরিক্ত কষ্ট চাপিয়ে দেয়ার নিয়ত যদি আমার না হত তাহলে আমি তাদেরকে নির্দেশ দিতাম, এশার নামাজ বিলম্ব করে পড়ার এবং প্রতি ওয়াক্ত নামাজে মেসওয়াক করার। (বুখারী মুসলিম)
আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা মিসওয়াক করো। কেননা মিসওয়াক মুখ পবিত্র ও পরিষ্কার করে এবং মহান প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়। আমার কাছে যখনই জিবরীল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসেছেন তখনই আমাকে মিসওয়াক করার উপদেশ দিয়েছেন। 
শেষে আমার আশঙ্কা হয় যে, তা আমার ও আমার উম্মাতের জন্য ফরয করা হবে। আমি যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদের জন্য তা ফরয করে দিতাম। আমি এত বেশি মিসওয়াক করি যে, আমার মাড়িতে ঘা হওয়ার আশঙ্কা হয়। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২৮৯]
হযরত শুরাইহ বিন হানি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহুকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে ঢুকে প্রথম কোন কাজটি করতেন ।হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহ উত্তর দিলেন যে তিনি প্রথম মেসওয়াক করতেন। (মুসলিম)
হযরত হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই তাহাজ্জতের জন্য রাত্রে জাগতেন। তখন প্রথমেই তিনি মেসওয়াক দ্বারা মুখ পরিষ্কার করে নিতেন। (বুখারী মুসলিম)
ইবনে আব্বাস ( রাঃ) বলেন, মেসওয়াকের ১০ টি বৈশিষ্ট আছে।
  1. ওযুর আগে মেসওয়াক করলে মহান আল্লাহ তা’আলা সন্তুষ্টি হন।
  2. ওযুর আগে মেসওয়াক করলে শয়তান অসন্তুষ্টি হন।
  3. ওযুর আগে মেসওয়াক করলে ফেরেশতারাও খুশি হন। কারন আমরা যখন নামাজ পরি তখন আমাদের আশে পাশে অনেক ফেরাস্তা থাকেন। আর সেই সময় মুখ দিয়ে দুরগন্ধ বের হলে ফেরেস্তারা কষ্ট পান।
  4. আলজিভের সৌন্দর্য বারে
  5. দাঁতের উপরের হলুদ, লাল, কালচে আবরন দুর করে।
  6. মুখকে পবিত্র এবং দুর্গন্ধ মুক্ত রাখে।
  7. চোখকে জ্যেতিময় করে।
  8. কফ হরাস করে।
  9. এটি সুন্নাতের অন্তভুক্ত।
  10. আমলনামায় ছোট ছোট নেকি বৃদ্ধি করে।
মেসওয়াক সম্পর্কে আয়াত
পবিত্রতা দুই ধরনের। ১. আত্মিক পবিত্রতা ও ২. বাহ্যিক পবিত্রতা। দুই ধরনের পবিত্রতা অর্জনের জন্য ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে। মেসওয়াক বাহ্যিক পবিত্রতার মধ্যে পড়ে। বাহ্যিক পবিত্রতা হল দেহ, পোশাক, স্থান, ময়লা, আবর্জনা, মলমূত্র ইত্যাদি থেকে পবিত্রতা। -মেসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস। মেসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনগন যখন তোমরা সালাতের উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হও তখন সালাতের আগে তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর এবং হাতগুলোকে কোনই পর্যন্ত ধুয়ে নাও। আর মাথা মাসেহ করো এবং পা গুলোকে টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো। যদি তোমরা অপবিত্র হও তাহলে গোসল করে সমস্ত শরীর পবিত্র হয় নাও। 
কিন্তু যদি রোগগ্রস্ত হও কিংবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা হতে ফিরে আসো কিংবা তোমরা স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করো (স্ত্রী সহবাস কর) অতঃপর পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও। তখন তোমরা তা দ্বারা তোমাদের মুখমন্ডল ও হাতরমাসেহ করো। 
আল্লাহ তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা আনয়ন করতে চান না বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে ও তোমাদের উপর স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান। যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সূরা আল মায়েদা: ৬)
এ আয়াতে মুখ ধৌত করার কথা বলা হয়েছে। দাঁত মুখের অংশ। দাঁত পরিষ্কার না হলে দুর্গন্ধ হবে অন্য নামাযীরা কষ্ট পাবে। এছাড়া মেসওয়াকের দ্বারা অনেক রোগ (দাঁতরও মুখগহ্বর) নিরাময় হয়ে যায়। বর্তমানে এসব বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
প্রত্যেক মুসলিম ভাই ও বোনেরা তোমরা আল্লাহকে খুশি এবং সন্তুষ্ট করার জন্য নামাজ কায়েম করো। কারন নামাজ জান্নাতের চাবি কাঠি। নামাজ যেমন জান্নাতের চাবি তেমনি নামাজের চাবি হলো সঠিক ওযু। সঠিক ওযু ছারা নামাজ বিশুদ্ধ হয় না। ওযু করার আগে দয়া করে আপনারা মহানবীর (সাঃ) এর মেসওয়াকের সুন্নত টি পালন করার চেষ্টা করবেন প্লিজ। 
ভালো থাকেন। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে কোরআন – হাদিস মোতাবেক নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন। বন্ধরা এখন আমরা জানবো মেসওয়াক করার সঠিক সুন্নতি নিয়মগুলো।

মেসওয়াকের সুন্নত কয়টি

মেসওয়াকের সুন্নত কয়টি? প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের আগে মেসওয়াক করা সুন্নত। অন্য সময় মেসওয়াক করা মুস্তাহাব। মেসওয়াক করার উপর রসুল (সাঃ) অত্যাধিক গুরুত্ব অরোপ করেছেন। প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা আমাদের কে যে ভাবে মেসওয়াক করলে রাসুল( সাঃ) এর সুন্নত আদায় হবে তার সঠিক সুন্নতি নিয়ম নিচে দেওয়া হলো। মেসওয়াকের সুন্নত কয়টি?
  • শরিয়ত মতে , ওজুর আগে মেসওয়াক করা সুন্নত।
  • মেসওয়াক জয়তুনের ডাল বা তিতা গাছের ডাল দিয়ে করা উত্তম।
  • মেসওয়াক মোটায় শাহাদাত আঙ্গুলের মতো এবং লম্বায় এক বিগত হওয়া বঞ্চনীয়।
  • মেসওয়াক টি কাঁচা এবং নরম ডালের হলে ভালো হয়।
  • ডান হাত দিয়ে ধরে মেসওয়াক করতে হবে। কারন ডান হাতে মেসওয়াক করা মুস্তাহাব।
  • রাসুল (সাঃ) বিসমিল্লাহ বলে মেসওয়াক শুরু করতেন। এই জন্য তার প্রত্যেক ‍উম্মতকে বিসমিল্লাহ বলে মেসওয়াক শুরু করতে হবে।বিসমিল্লাহ বলে যে কোন কাজ শুরু করা উত্তম।
  • মেসওয়াক করার আগে মেসওয়াক টি ভালো করে ভিজিয়ে নিতে হবে।
  • মেসওয়াক করার সময় অবশ্যই ডান হাতে মেসওয়াক নিয়ে দাঁতের ডান দিক থেকে মেসওয়াক শুরু এবং দাঁতের প্রন্থে ও জিহ্বায় লম্বালম্বি মেসওয়াক করা সুন্নত।মেসওয়াকের সুন্নত কয়টি? বন্ধুরা আমাদের কে জানতে হবে মেসওয়াক করার সঠিক সময় কখন। চলুন জেনে নেওয়া যাক সময় গুলো। পড়তে থাকুন-

মেসওয়াক করার সময়

মেসওয়াক করার সময়? অবশ্যই প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের আগে মেসওয়াক করে নামাজ পড়া সুন্নত। এছারাও অন্যান্য সময় মেসওয়াক করা মুস্তাহাব। যে সকল সময় মেসওয়াক করা মুস্তাহব সে সকল সময় গুলো নিচে বিস্তারিত জানানো হলো। বন্ধুরা পড়তে থাকুন এবং নিয়ম মানার চেষ্টা করুন। কারন নবীজির সুন্নত প্রত্যেক মুসলমানকে মেনে চলতে হবেই।
  • অবশ্যই প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের আগে মেসওয়াক করতে হবে। ৫ ওয়াক্ত নামাজের মেসওয়াক করা সুন্নত।
  • রাতে ঘুমানো আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করতে হবে। রাতে ঘুমানো আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করা মুস্তাহাব।
  • কোরআন এবং হাদিস পড়ার আগে মেসওয়াক করতে হবে। কোরআন এবং হাদিস পড়ার আগে মেসওয়াক করা মুস্তাহাব।
  • কোন মজলিস বা মাদ্রাসায় যাওয়ার আগে মেসওয়াক করতে হবে। মজলিস মাদ্রাসায় যাওয়ার আগে মেসওয়াক করা মুস্তাহাব।
  • যে কোন মানুষের সাথে দেখা করার আগে অবশ্যই মেসওয়াক করতে হবে। কারন সেই মানুষের সাথে কথা বলতে গেলে মুখের দুর্গন্ধ বের হলে সেই মানুষটি কষ্ট পাবে।
  • দাঁতের উপরে হলুদ আবরন বা ময়লা যুক্ত হলে মেসওয়াক করতে হবে। দাঁতের ময়লা তুলে মেসওয়াক করা মুস্তাহাব।
  • মুখের গন্ধ হলে মেসওয়াক করতে হবে। মুখের গন্ধ হলে দিনে ১ বার,২ বার,৩ বার যাই হোক না কেন মেসওয়াক করতে হবে। মুখের গন্ধ হলে মেসওয়াক করা মুস্তাহাব।
  • অসুস্থ অবস্থায় পরে থাকলে মেসওয়াক করতে হবে। কারন অসুস্থ হয়ে পরে থাকলে যে কোন সময় মূত্যু হতে পারে। এই জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছিন্ন থাকাই উত্তম।
পবিত্রতা দুই ধরনের যেমন, আত্তিক পবিত্রতা এবং বাহ্যিক পবিত্রতা। দুই ধরনের পবিত্রতা অর্জনে ইসলাম বিশেষ গুরত্ব দিয়েছেন। মেসওয়াক বাহ্যিক পবিত্রতার মধ্যে পরে। বাহ্যিক পবিত্রতা গুলো হলো দেহ, পোষাক, স্থান, ময়লা-আবর্জনা, মল-মুত্র ইত্যাদি থেকে পবিত্রতা

মেসওয়াকের হুকুম

মেসওয়াকের হুকুম। মেসওয়াক আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একটি মাধ্যম। মেসওয়াক এর পরিমান এক বিঘত হতে হবে এর কোন ধরা বাধা নিয়ম নেই। তবে এক বিঘত পরিমান লম্বা হওয়া মুস্তা হাব। তবে জরুরি নয়। মেসওয়াক লম্বা বা ছোট আকারের হলে কোন সমস্যা নেই।
মেসওয়াকের হুকুম গুলোঃ
  • রাসুল (সাঃ) প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের আগে এবং রাতে তাহাজ্জতের জন্য জাগতেন তখনই প্রথমে তিনি মেসওয়াক দ্বারা মুখ পরিষ্কার করে নিতেন। (বুখারি,মুসলিম)
  • নবীজি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, মুমিন মুসলমানের প্রত্যেকদিনের কাজ সমূহের একটি অংশ হলো মেসওয়াক করার মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার রাখা। (মুসলিম,মিশকাত)
  • রাসুল (সাঃ) বলেছেন, জুম্মার দিন গোসল করা এবং মেসওয়াক করা উত্তম। পরিষ্কার পোশাক পরে আতর ব্যাবহার করা একান্ত কর্তব্য। (মুসনাদে আহমদ, বুখারি, আবু দাউদ)
  • রাসুল (সাঃ) বলেন,জিবরিল (আঃ) আমাকে এতবেশি মেসওয়াক করার আদেশ করেছেন, যাতে আমি আমার দাঁত ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।
  • রাসুল (সাঃ) আরো বলেন, আমার ভয় হয় যে মেসওয়াক করা আমার উপর ফরজ করে দেওয়া হবে। (জামে)
  • রাসুল (সাঃ) বলেন, আমি বাড়িতে প্রবেশ করেই যে কাজ করতেন তা হলো মেসওয়াক করতেন।(মুসলিম)
রাসুল (সাঃ) আরো বলেন, তিনি যখন রাতে অন্যান্য সময়ে জেগে ওঠতেন তখন তিনি মেসওয়াক করতেন। এই জন্য তিনি মাথার কাছে (শিথানে) মেসওয়াক রেখে দিতেন। (জামে) । প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা জেনে নেওয়া যাক মেসওয়াক করার ইহকালিন এবং পরকালীন উপকার গুলো।

মেসওয়াক করার উপকারিতা

মেসওয়াক করার উপকারিতা। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন। রাসুল সাঃ বলেছেন মেসওয়াক করে যে নামাজ আদায় করা হয়, সে নামাজে মেসওয়াক বীহিন নামাজের তুলনায় ৭০ গুন বেশি সোয়াব পাওয়া যাবে।( বায়হাকি)
মেসওয়াক করার জন্য পৃথিবীতে যে উপকার পাবে
নিশ্চয় যারা রাসুলের হাদিস মেনে প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজে এবং অন্যান্য সময়গুলোতে মেসওয়াক করবে তারা অবশ্যই পার্থিব জীবনে অনেক উপকার পাবে ইনশাল্লাহ। উপকার গুলো হলো-

  • মেসওয়াক করার ফলে দাঁত জীবানুমুক্ত হয় এবং দুর্গন্ধ দুর হয়।
  • নিয়মিত মেসওয়াক করার ফলে মস্তিষ্ক সজীব থাকে।
  • দাঁতের ক্যালসিয়াম পূরন হয় এবং দাঁতে রোগ জীবানু বাসা বাধতে পারে না।
  • মেসওয়াক করার ফলে দাঁতের গোরা মজবুত হয়।
  • মেসওয়াক করার ফলে পাকস্থলী রোগ মুক্তি হয়।
  • মেসওয়াক করার ফলে স্মৃতি শক্তি বেড়ে যায় এবং ইবাদাতে বিশেষ এক স্বাদ পাওয়া যায়।
মেসওয়াক করার জন্য পরকালের উপকারিতা
মেসওয়াক করার জন্য যেমন দুনিয়াতে উপকার পাওয়া যায় তেমনি পরকালে ও এর উপকার আছে। আসলে মেসওয়াক করার জন্য পরকালে যে উপকার পাওয়া যাবে তা আপনারা ভালো করে জেনে নিন। এবং জানার পরে আমি আশা করি আপনারা অন্তত প্রতিদিন সকালে, তাহাজ্জতে এবং ৫ওয়াক্তে নামাজের আগে মেসওয়াক করার চেষ্টা করবেন। ইনশাল্লাহ। পড়তে থাকুন-
  • ফেরেস্তারা প্রত্যেক মেসওয়াককারির সাথে পরকালে মুসাফাহা করবেন।
  • আরশ বহনকারি ফেরেস্তারা তার জন্য ইস্তেগফার করেন।
  • বিজলির মতো পুলসিরাত পার হবেন।
  • ইবাদাতে আনন্দ পাবেন।
  • মৃত্যুর সময় কালেমা পড়তে পড়তে মৃত্যু হবে।
  • গুনাহ মুক্ত মৃত্যু বরন করবেন।
  • আল্লাহতায়ালা মেসওয়াক কারির উপর সন্তুষ্ট হবেন।
  • ইবাদাতে ৭০ গুন সওয়াব বেশি পাবেন। এবং
  • সুন্নত পালন করার সওয়াব প্রাপ্ত হবে। মেসওয়াক করার উপকারিতা।
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুসলিম বান্দাহকে সুন্নত তরিকা অনুযায়ি মেসওয়াক করে ইহকালিন এবং পরকালিন সওয়াব হাসিল করার তৌফিক দান করুন। আমিন। তো বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক মেসওয়াক করার দোয়া কি। দোয়া টা সবাই কে জানতে হবে। এবং দুয়া পরে মেসওয়াক করার চেষ্টা করতে হবে।

মেসওয়াক করে নামাজ পড়ার ফজিলত

মেসওয়াক করে নামাজ পড়ার ফজিলত। মুসলমানের জন্য নামাজ সবচেয়ে বড় ইবাদাত। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করা যায়। মেসওয়াক আমাদের প্রিয় রাসুল (সাঃ) এর একটি সুন্নত। আমাদের রাসুল (সাঃ) প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের আগে মেসওয়াক করে নামাজ পড়তেন। আমাদের নামাজ পড়ার জন্য যেরকম প্রথমে ওজু করতে হয়। 
আর ওজু করার আগে মেসওয়াক করতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছিন্ন হয়ে ওজু করা উত্তম। আর মেসওয়াকের মাধ্যমে আমাদের মুখ পরিষ্কার হয় এবং মুখের দুর্গন্ধ দুর হয়। এই জন্য অজুর আগে আমাদেরকে মেসওয়াক করা জরুরি।
মেসওয়াক করে নামাজ পড়ার ফজিলত
মেসওয়াক করে নামাজ পড়লে অবশ্যই মহান আল্লাহতায়ালা খুব খুশি হবেন। এবং নামাজের মূল্য বাড়িয়ে দিবেন। যে ওজুর আগে মেসওয়াক করে ওজু করা হয় এবং নামাজ পড়া হয় সেই নামাজে আল্লাহ তায়ালা ৭০ গুন সোয়াব বাড়িয়ে দেন। অনেক হাদিসে বার্নিত আছে, মেসওয়াক করে ১ রাকাত নামাজ পড়লে ৭০ রাকাত নামাজের সওয়াব পাওয়া যায়।
রাসুল (সাঃ) তার উম্মতের জন্য মেসওয়াক করা কষ্টদায়ক মনে না করতেন, তাহলে উম্মতের উপর ৫ ওয়াক্ত নামাজের আগে মেসওয়াক করা ফরজ করে দিতেন। (বুখারি শরিফ: ৮৮৭)
মেসওয়াক করে নামাজ পড়ার মাধ্যমে ৭০ টি ফায়দা পাওয়া যায়। তার মধ্যে একটি ছোট ফায়দা হলো মৃত্যুর সময় কালেমা নসিব হবে। ইনশাল্লাহ।
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা তাহলে আপনারা ভালো করে বুঝতে পেরেছেন যে, মেসওয়াক করে নামাজ পড়ার ফজিলত। অবশ্যেই ভালো কাজের প্রতিদান আল্লাহ আমাদের কে দিবেন। এই জন্য যে কোন ছোট ছোট সোয়াব গুলো কে এড়িয়ে যাবেন না। প্রায়স আপনারা চেষ্টা করবেন আল্লাহর হুকুম গুলো মানার। ভালো থাকবেন।

কোন গাছের মেসওয়াক ভালো

কোন গাছের মেসওয়াক ভালো? কোন গাছের মেসওয়াক ভালো বা কোন কোন গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা যায় সে বিষয়ে আজ আমরা এই পোষ্টে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বন্ধুরা জয়তুন গাছের ডাল বা শিকর দিয়ে মেসওয়াক করা উত্তম। কিন্তু আমাদের দেশে সে গাছের মেসওয়াক সহজে না পাওয়া গেলে আপনি যে সব গাছের স্বাদ তিতা হয় সে গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করতে পারেন। ডালটি হবে হাতের আঙ্গুলের মতো মোটা এবং লম্বায় এক বিঘত হলে উত্তম হয়।
যে সব গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা ভালো বা মেসওয়াক করা যাবে
নিমগাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক
আমরা প্রায় সকলেই জানি নিম গাছ ঔষধি গাছ। যা মানব শরীরের জন্য বেশ উপকারি। নিম গাছের মেসওয়াকের উপকারিতা সকলেই জানেন। নিম গাছের ডাল দিয়ে আমাদের দেশে প্রায় মানুষিই মেসওয়াক করে থাকে। নিম গাছের পাতা,ছাল, ডাল সবকিছুই উপকারি। খোসা, পচরা, চুলকানি, এলার্জি, পেটের কৃমি নাশ করতে, বহুমুত্র, কুষ্ঠ, ব্রণ, রক্তের বিকৃতি ইত্যাদি অসুখে এই গাছের ছাল পাতা কাজে লাগে। 
যারা নিমগাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করেননি তারা এক সপ্তাহ মেসওয়াক করে দেখবেন। হাতে নাতে ফল পাবেন। নিমগাছের থাকা তিতা রস দাঁত দিয়ে চিবালে মুখের ভিতরে জীবাণু সহজেই ধংস হয়ে যায়।
জয়তুন গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক
জয়তুনের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা উত্তম। এই গাছের ডাল যে কোন শহরে বা গ্রামের বাজারে মেসওয়াক আকারে বিক্রি করা হয়। জয়তুন গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করলে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। তার মধ্যে দুটি সুবিধা হলো-
  1. জয়তুন গাছের ডাল দিয়ে নিয়মিত মেসওয়াক করলে মুখের ভিতরের ঘা, ফুসরি সহজে ভালো হয়ে যায়।
  2. জয়দতুন গাছের ডাল দিয়ে নিয়মিত মেসওয়াক করলে মুখের কঠিন দুর্গন্ধ থাকলে দুর হয়ে যাবে।
অর্জন গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক
অর্জুন গাছটি বাংলাদেশর সকল জায়গাতে পাওয়া যায়। এই গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করলে বেশ কিছু উপকার পাওয়া যায়। যেমন, রক্ত আমাশায়,যাক্ষা কাশ, প্রসাব বন্ধ হলে, রক্ত পিত্তে, লো ব্লাড পেসারে বেশ কার্যকরী। অর্জুন গাছের মেসওয়াক ব্যাবহার করলে হৃদরোগের বেশ উপকার পাওয়া যায়। যাদের হজমে সমস্যা আছে তারা এই গাছের রস খেতে পারবে না। তবে মেসওয়াক করলে কোন অসুবিধা নেই।
বাবলা গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক
বাবলা গাছ বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় একটি গাছ। এই গাছের ডাল দিয়ে মানুষ মেসওয়াক করে না কিন্তু দাঁতের ফাকে জমাট বাধা ময়লা সহজেই তুলা যায়।
কানীর গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক
কানীর গাছের ডাল পাতা শিকর সবগুলোই অত্যান্ত তিতা হয়। এই গাছের ডাল দিয়ে মানুষ খুব সুন্দর মেসওয়াক করতে পারে। তবে এই গাছ গ্রামের রাস্তার ধারে বেশি দেখা যায়। এই গাছের ডাল তিতা হওয়ায় মুখের ভিতরের জীবানুকে খুব তাড়াতাড়ি ধংস করে মুখ পরিষ্কার করে। হাদিসে ও উল্লেখ করা আছে যে তিতা গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা ‍উত্তম।
আকন্দ গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক
আকন্দ গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করলেও বেশ উপাকার পাওয়া যায়। আকন্দ গাছ ব্যাবহারে দাঁতের ব্যাথা, চর্মরোগ, সর্দি-কাশি, জন্ডিস ইত্যাদি রোগের জন্য বেশ উপকারি।
আটেশ্বরী গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক
আটেশ্বরী গাছ দেখতে বেশ ছোট আকারের। এই গাছ বাদের ধারে বা রস্তার ধারে বেশি দেখা যায়। বা জঙ্গলেও দেখা যায়। এই গাছের ডাল নিম পাতার মতো তিতা হয়। গ্রামের প্রায় মানুষই এই গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করে । এই গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা শরীরের জন্য বেশ উপকারি।
আপনাদের কারো এলাকায় আটেশ্বরী গাছ থাকলে মেসওয়াক করে দেখতে পারেন। এই গাছের ফুল গুলো সাদা বা গোলাপি রঙ্গের হয় এবং ফুল গুলো ছোট ছোট আকারের। এবং থোকা থোকা ধরে।

পাঠকদের কিছু প্রশ্ন

মেসওয়াকের সুন্নত কয়টি?
মেসওয়াকের সুন্নত প্রতিদিন ৫ ওয়াক্তে নামাজের আগে মেসওয়াক করা সুন্নত। তবে অন্যান্য সময় মেসওয়াক করা মুস্তাহাব।
কোন গাছের মেসওয়াক ভালো?
জয়তুন বা নিমগাছের মেসওয়াক খুব ভালো হয়। এগুলো গাছ ছারাও আপনারা অর্জুন গাছ, আটেশ্বরী গাছ, আকন্দ গাছ কানীর গাছ ইত্যাদি গাছের ডাল দিয়েও মেসওয়াক করাতে পারেন কোন সমস্যা নেই।
মেসওয়াকের হুকুম কি?
রাসুল (সাঃ) এর গুরুত্ব পূর্ন সুন্নত হলো মেসওয়াক করা। অজু বা নামাজের সময় মেসওয়াক করা সুন্নত। গাছের ডাল বা ব্রাস দিয়ে মেসওয়াক করলে সুন্নত আদায় হয়।
মেসওয়াক ব্যাবহারের পর কিভাবে সংরক্ষন করবো?
মেসওয়াক সতেজ রাখার জন্য আপনি মেসওয়াক করার পরে মেসওয়াক টি ঠান্ডা স্থানে রাখবেন। যে কোন রোদের তাপ না পরে। এছারা ও আপনি মেসওয়াকটি একটি পাত্রে পানি নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখতে পারেন।

লেখকের শেষ কথা

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা। আপনারা যাদের মেসওয়াক সম্পর্কে ভালো জ্ঞান নেই বা ধারনা নেই তাদের জন্য পোষ্ট বেশ গুরুত্বপূর্ন। যেহেতু আমাদের রাসুল (সাঃ) মেসওয়াক করে নামাজ আদায় করেছেন সেহেতু আমরা তার উম্মত তার আদেশ পালন করতে হবে। আর মেসওয়াক করে নামাজ পড়লে বেশ ভালো লাগে। 
মেসওয়াক না করে নামাজ পড়লে গুনাহ তো হয়ই আবার নিজের শরীর ও সঠিক পবিত্র হয় না। আমাদের প্রত্যেক মুসলিম বান্দার উচিত মেসওয়াক করে নামাজ আদায় করা। এতে আল্লাহ তায়ালা বেশ খুশি হবেন। প্রিয় বন্ধরা আমার পোস্টটি পরে যদি আপনারা উপকৃত হন বা অজানা কিছু জানতে পারেন তাহলে পোষ্টটি পরিচিতদের মধ্যে সেয়ার করে দিবেন। আর কোন ভুল ভ্রান্তি থাকলে মাফ করে দিবেন। আসসালামু আলাইকুম।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *