সহবাসের পর সেহরি খাওয়া যাবে কি? জানুন সত্য হাদিস

রমজানে ফিতরা দেওয়ার নিয়ম জানুনসহবাসের পর সেহরি খাওয়া যাবে কি? রোজা রাখার নিয়তে সেহরি খাওয়া সুন্নত। সেহেরির আগে যদি স্বপ্নদোষ বা স্বামী -স্ত্রীর সহবাস হয় তাহলে সেই নাপাক অবস্থায় কি সেহরি খাওয়া যাবে, নাকি যাবে না। সেহরির সময় এমন পরিস্থিতিই অনেকেই পরে থাকে। তখন তাদের মনে প্রশ্ন জাগে যে নাপাক অবস্থায় সেহরি খাওয়া ঠিক হবে, না হবে না। 
সহবাস করে সেহরি খাওয়া যাবে কি?
ইসলামি শরিয়াহ মতে বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জনের জন্য ওযু ও গোসল বাধ্যতামুলক করেছে। ইসলামি শরিয়াহ মতে, সহবাসের পর খাওয়া দাওয়া বা অন্যান্য কাজের আগে পাক- পবিত্র হওয়া ফরজ। তবে এমন সময় এমন পরিস্থিতি যদি আসে সে অবস্থায় বিকল্প কিছু আছে। তো প্রিয় ভাইয়া, মা ও বোনেরা সহবাসের পর সেহরি খাওয়া যাবে কি? এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুরো পোষ্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো। পড়তে থাকুন-
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যখন কেউ স্ত্রীলোকের চারটি শাখার মুখোমুখি বসে এবং প্রায়স পায় ( মহিলাদের যৌনাঙ্গের মধ্যে পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ প্রবেশ করবে তখন সে অবস্থায় বীর্যপাত না হলেও গোসল করা ফরজ হয়। (বুখারি,মুসলিম)

ফরজ গোসল দেরিতে করা যাবে কি না?

ফরজ গোসল দেরিতে করা যাবে কি না? প্রসাব-পায়খানার পর ওজু করে নিলেই পবিত্র হওয়া যায় কিন্তু স্বামী-স্ত্রী সহবাস, মেয়েদের ঋতুবর্তী হওয়ার পর এবং বীর্যপাতের পর গোসল করা ফরজ হয়ে যায়। এই ফরজ গোসল না করলে পবিত্র হওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন হলো ফরজ গোসল দেরিতে করা যাবে, না কি সঙ্গে সঙ্গেই করে নিতে হয়? গোসল ফরজ অবস্থায় এরকম প্রশ্ন অনেকেরই মনে জাগে। 
অনেকেই বলেন, নাপাক অবস্থায় মাটিতে পা দিলে মাটি অভিশাপ দেয়। আবার অনেকেই বলেন,যতক্ষন ফরজ গোসল না করে পবিত্রতা অর্জন করবে না ততক্ষন ফেরেস্তারা গোনাহ লিখতে থাকে। তো বন্ধুরা আমরা আজ ফরজ গোসল নিয়ে আসল এবং সত্য কথা গুলো জেনে নিই। পড়তে থাকুন-
  • ফরজ গোসল তাড়াতাড়ি করা মুস্তাহাব  কিন্তু ওয়াজিব না।
  • গোসল আপনার উপরে ফরজ হলে পরবর্তি নামাজের ওয়াক্তের আগে গোসল করে নিতে হবে। গোসল না করে নামাজের ওয়াক্ত চলে নিঃসন্দেহে কবিরা গুনাহ হবে। গোসল না করার অজুহাতে নামাজ আদায় না করলে প্রচুর গোনাহ হবে।
  • ফরজ গোসল কোনো অবস্থাতে করতে না পারলে আপনি অজু করে নিতে পারেন পরে নামাজের ওয়াক্তের আগে গোসল করেন। এ বিষয়ে হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, রাসুল (সাঃ) এর গোসল ফরজ হলে তিনি যদি পরে গোসল করতে চাইতেন বা কিছু খেতে চাইতেন বা ঘুমাতে চাইতেন সেক্ষেত্রে তিনি নামাজের অজুর মতো করে অজু করে নিতেন।(মুসলিম শরিফ,হাদিস নং ৩০৫)
  • ফরজ গোসল দেরি হলে আপনাদের আমাদের মনে যে চিন্তা আসে, বিশেষ করে মনে হয় এটা ঠিক হচ্ছে না, মনে হয় গুনাহ হচ্ছে বা কোন কিছু খাওয়া যাবে না বা অন্যান্য কাজ করা যাবে না । আসলে এটা ঠিক না।
  • গোসল ফরজ হওয়ার পর বা অপবিত্র থাকা অবস্থায় মাটিতে পা দিলে মাটি অভিশাপ দেয় বা ফেরেস্তারা গুনাহ লেখেন আসলে এই কথাটা কোরআন বা কোন হাদিসে আপ পর্যন্ত পাওযা যায়নি।
  • অনেকেই মনে করেন যে, গোসল ফরজ অবস্থায় মৃত্যু হলে ভয়ংকর আজাব হবে বা কঠিন গুনাহ হবে এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনে কোন কিছু পাওয়া যায়নি।
  • গোসলের ব্যাবস্থা না থাকলে বা পানির ব্যাবস্থাও না থাকলে আপনি তায়াম্মুম করে পবিত্র হতে পারবেন।
  • পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইন্নাল্লাহা ইউহিব্বুত তাওয়াবিনা ওয়াইউহিববুল মুতাতাহরিন। যত তাড়াতাড়ি পবিত্র হতে পারবে তত তাড়াতাড়ি আল্লহর ভালোবাসা পাওয়া যাবে। কারন পরিষ্কার পরিচ্ছিন্নতা ঈমানের অঙ্গ। আল্লাহ পবিত্র বান্দা এবং তওবা কারিকে খুব ভালো বাসেন।

সহবাসের পর গোসল না করে নামাজ পড়া যাবে কি

সহবাসের পর গোসল না করে নামাজ পড়া যাবে কি? নামাজ এমন এক ইবাদাত। যা সারাবছর প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ সকল মুসলমানের জন্য বাধ্যতামুলক। কারন প্রত্যেক মুসলমানের উপর নামাজ ফরজ। মৃত্য ছারা আর কোন অবস্থাতেই নামাজের মাফ নেই। মহান রব্বুল আলামিন তার মুসলিম বান্দার ‍উপর দয়া করে সালাত দিনে ৫ ওয়াক্ত করেছেন। তাই অবশ্যই সালাতের প্রতি আমাদেরকে যত্ন বান হবে হবে। সহবাসের পর গোসল না করে নামাজ পড়া যাবে কি?
স্ত্রী সহবাসের পর নামাজ আদায়ের জন্য প্রথমে গোসল করে পবিত্র হতে হবে। তার পরে অজু করে নামাজ আদায় করতে হবে। নাপাক অবস্থায় নামাজ আদয় করা বা নাপাক জায়গায় নামাজ আদায় করার কোন সুযোগ নেই। মাত্র অজু ছাড়াই নামাজ হবে না আর গোসল ফরজ হওয়ার পর গোসল না করে কি করে নামাজ হবে। 
আগে অবশ্যই গোসল করে নাপাকি দুর করে নামাজ আদায় করবেন। আর কোন অবস্থাতে গোসল করে নামাজ পড়তে দেড়ি হলে আল্লাহর কাছে তওবা পরে ক্ষমা চেয়ে নিবেন। আমার মনে হয় এমন কোন মুসলিম বান্দাহ নেই যে, কোন ভয়ানক অবস্থা ছারা ফরজ গোসল না করে নামাজ আদায় করে। মহান আল্লাহ তায়ালা সকল মুসলিম কে বেশি বেশি হেদায়াত দান করুন আমিন।

সহবাসের পর সেহরি খাওয়া যাবে কি?

সহবাসের পর সেহরি খাওয়া যাবে কি? মহান আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করার উদ্দেশে আমরা রোজা রাখি। কারন রোজার মাধ্যমে আমরা জান্নাত লাভ করতে পারবো। রোজা মুসলিমের উপর ফরজ। কিন্তু রোজার সেহরি খাওয়া নিয়ে কিছু কিছু মানুষের মধ্যে কিছু ভুল ধারনা আছে। যার ফলে তাদের অনেক রোজা বাতিল হয়ে যায়। 
যেমন,সহবাসের পর সেহরি খাওয়া যাবে কি? এটা একটা গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন? অনেক মা বোনেরা এবং ভাইয়ারা এই প্রশ্ন নিয়ে চিন্তিত থাকেন। এবং বিভিন্ন মুসলমানের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সহবাসের পর সেহরি খাওয়া যাবে কি? এই বিষয়ে নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো পড়তে থাকুন-
ইসলামি শরিয়ত মতে প্রত্যেক নর-নারীকে সহবাসের পর গোসল করে পাক পবিত্র হতে হবে। কারন সহবাসের পরে গোসল ফরজ হয়ে যায়। গোসল করা ছারাও কাজ- কর্ম, খাওয়া-দাওয়া, হাট-বাজার, ঘুমানো যায়। সেহরি খাওয়ার জন্য পবিত্রা ফরজ নয় বরং সুন্নত। আমাদের নবীজি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) থেকে দুই ভাবেই বর্ণিত আছে, আপনি গোসল করে ও সেহরি খেতে পারবেন আবার গোসল না করে ও সেহরি খেতে পারবেন।
কারো যদি গোসল ফরজ হয় এমন অবস্থায় দেখা যাচ্ছে যে, সেহরি খাওয়ার সময় হয়ে গেছে, গোসল করতে করতে সেহরির সময় শেষ হয়ে যাবে বা গোসল করার কোন রকম অবস্থা নেই সেই দৃষ্টিতে আপনি আপনার লজ্জাস্থান ভালো ধুয়ে, সুন্দর করে ওজু করে সেহরি খেতে পারবেন। পরে আপনি ফরজ নামাজের ওয়াক্তের আগে গোসল করে নিবেন। 
তবে মনে রাখবেন গোসল ফরজ হলে যত দ্রুত সম্ভব পবিত্র হতে হবে। কারন পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। তাহলে আপনারা বুঝতে পারলেন বন্ধুরা সহবাসের পরে সেহরি খাওয়া যাবে। এইটা কোন বানানো কথা না। এইটি হাদিসে স্পষ্ট রুপে দেওয়া আছে। এইটা নিয়ে কারো মনে ইতস্ত রাখার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তাই বলে এই কাজ প্রত্যেকদিন ইচ্ছে করে করা যাবে না।

সহবাসের পর চারটি কাজ হারাম

সহবাসের পর চারটি কাজ হারাম। আজকে আমি এই পোস্টে এমন একটি মাসআলা বলল মনে রাখতে হবে স্বামী-স্ত্রী মিলন করার পর সহবাসের পরে সার্টি কাজ করা হারাম অনেক মহিলারা এই কাজগুলো করে এবং অনেক পুরুষ এ বিষয়ে মার্শালা না জানার জন্য এই কাজগুলো করে থাকেন আজকে জানার পর থেকে এই কাজগুলো আর কেউ করবেন না।

সহবাসের পর চারটি কাজ করা হারাম

১. সহবাসের পর গোসল না করা পর্যন্ত এবং তায়াম্মুম না করা পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার কোরআন শরীফ পড়তে বা স্পর্শ করতে পারবেন না। আপনি সহবাস করার পরে ফুল পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়তে পারবেন না কারণ তোমরা স্ত্রীর সহবাস করেছ এবং তোমাদের শরীর নাপাক হয়ে আছে। আল্লাহ পাক কোরয়ানুল কারিমে বলেছেন, 
তুমি মহিলাকে স্পর্শ করেছে তার জন্য তুমি নাপাক হয়ে গোছো।তাফসিরে কিতাবের মধ্যে লিখেছেন যখন তোমরা সহবাস করবে তখন তোমরা পাক পবিত্র হয়ে আল্লাহর ইবাদাত করবে। আর যদি পানি না থাকে তাহলে তোমরা তায়াম্মুম করবে। তায়াম্মুম করে ইবাদাত করবে।
২. স্বামী-স্ত্রী মেলামেসা করে মসজিদে প্রবেশ করা যাবে না। কারন বিশ্ব নবী বলেছেন, নাপাকি লোক মসজিদে প্রবেশ করা হারাম। হাদিসের মধ্যে এসেছে, কোন নারী- বা কোন পুরুষ গোসল না করে যেন মসজিদে প্রবেশ করতে না পারে। কারন তাদের শরীর নাপাক। তারা স্বামী স্ত্রী সহবাস করেছে তারা মেলামেশা করেছে। তারা পবিত্রতা অর্জন করে মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে।
৩.সহবাস করার পরে তাওয়াফ করা যাবে না। সহবাস করার পরে আপনি যদি সোনার মদিনা তাওয়াফ করেন তাহলে সেটা হারাম। আমাদের জরুরি মাসায়ালা গুলো জানা অত্যান্ত প্রয়োজন।
৪. পবিত্র কোরআনে আল্লহ তায়ালা বলেছেন, যতক্ষন পর্যন্ত তোমরা নাপাক থেকে পবিত্রা অর্জন না করবে ততক্ষন পর্যন্ত তোমরা কোরআনকে স্পর্শ করতে পারবে না। এই বিষয় গুলো জানা আমাদের অত্যন্ত জরুরি। কারন অনেক মহিলারা এগুলো জানে না । তারা না জেনে নাপাক অবস্থাতে কোরআন শরিফ স্পর্শ করে, মসজিদে উঠে এসব করা যাবেনা। 
কারন এগুলো করা হারাম। নিজে জানুন এবং অন্যকে জানানোর চেষ্টা করুন। কারন এসব মাসায়ালা প্রত্যেকটি মুসলিম ভাই বোনের জানা প্রয়োজন। না জনা অবস্থায় আমরা অনেক পাপ কাজ করে থাকি। আমরা উপরের যে ৪ টি বিষয়ে জানলাম তা জানার পর আমরা কোন দিন এধরনের কাজ করবো না। কারন কোরআন-হাদিস মেনে দুনিয়াতে চলাই আল্লাহর ইবাদাত। ভালো থাকবেন সবাই। ধন্যবাদ। সহবাসের পর চারটি কাজ হারাম।

সহবাসের পর ফরজ গোসলের নিয়ম

সহবাসের পর ফরজ গোসলের নিয়ম। প্রিয় বন্ধুরা বিভিন্ন কারনে নর -নারীদের গোসল ফরজ হয় ।আর ফরজ গোসল ইসলামী জীববিধানের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারো উপর গোসল ফরজ হলে সঠিক শুদ্ধ পদ্ধতিতে গোসল না করা পর্যন্ত শরীর পাক পবিত্র হবে না। শরীর নাপাক হয়ে থাকবে। সুতরাং আমাদেরকে সঠিকভাবে গোসল করার পদ্ধতি জানতে হবে।
স্ত্রী সহবাস ফরজ গোসলের নিয়ম
স্ত্রী সহবাস করার দ্বারা গোসল ফরজ হয়। সহবাসের পরে আপনি খাওয়া-দাওয়া, কাজকর্ম, ঘুমানো, হাটবাজার, এসব কাজ করতে পারবেন। তবে নামাজের ওয়াক্তের আগে গোসল করে নিতে হবে। সঠিকভাবে গোসল করতে হবে ।সহবাসের পরে প্রত্যেকটি নর নারীকে তাদের লজ্জা স্থান ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। তারপরে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে গোসল করতে হবে এবং গোসলের পরে সুন্দর ভাবে ওযু করে নিতে হবে। তাহলে আপনি সম্পূর্ণ পাক-পবিত্র হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। স্ত্রী সহবাস ফরজ গোসলের নিয়ম।
হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) যখন জানাবাতের (অপবিত্রতা দূর করার অর্থে )গোসল করতেন, প্রথমে তিনি দুই হাত ধুতেন এবং নামাজের ওজুর মতো ওজু করতেন। অতঃপর তিনি নিম্ন রূপে গোসল করতেন। দুই হাত দ্বারা চুলগুলোকে খেলাল করতেন এবং যখন তিনি মনে করতেন মাথার চামড়া ভিজে গেছে তখন তিনি মাথার উপরে তিনবার পানি ঢালতেন। অতঃপর তিনি সমস্ত শরীর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু একই পাত্র হতে গোসল করতাম এবং দুহাত দ্বারা পানি নিয়ে নিজ নিজ শরীরে ঢালতাম। ( বুখারী মুসলিম)
মেয়েদের হায়েজ ও নেফাস এ ফরজ গোসলের নিয়ম
কোন ঋতুবতি মেয়েদের হায়েজ এবং নেফাসের রক্ত বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে উত্তম রুপে গোসল করে পবিত্র হতে হবে। এই গোসল ও ফরজের অন্তভুক্ত। নর- ও নারীকে হায়েজ অবস্থায় সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। কারন এটাকে আল্লাহ তায়ালা হারাম করেছেন। যতক্ষন পর্যন্ত মেয়েদের হায়েজের রক্ত বন্ধ না হবে এবং যতক্ষন পর্যন্ত তারা উত্তম রুপে গোসল না করে পাক পবিত্র হবে না তক্ষন তোমরা স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকো। হায়েজ নেফাসের গোসল ও আপনারা উপরের উল্লেখিত বিষয়ের মতো করে করবেন তাহলে পাক পবিত্র হয়ে যাবেন।
বীর্যপাত হলে ফরজ গোসলের নিয়ম
কোন নর অথবা নারি যে কারো হোক না কেন জাগ্রত অবস্থায় বা নিদ্রা অবস্থায় যে ভাবেই হোক না কেন কারো যদি বীর্যপাত হয় তখন তাদের উপর গোসল ফরজ হয়ে যায়। এই অবস্থায় নামাজ হবে না। কারন আপনার শরীর বীর্যপাত হয়ে নাপাক হয়ে গেছে। এই উপরোক্ত বিষয় অবলম্বন করে আপনি ফরজ গোসল করবেন তাহলে পাক পবিত্র হয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।

ফরজ গোসল না করতে পারলে করণীয়

ফরজ গোসল না করতে পারলে করণীয়? কোন অবস্থাতে যদি আপনার গোসল ফরজ হয়ে যায় , তখন দেখা যাচ্ছে গোসল করার মতো কোন পানি নাই বা কোন অবস্থা নেই সে সময় আপনি গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করে নিবেন। কেউ যদি অসুস্থ হয় পানি ব্যাবহার না করতে পারে তাহলে সে তায়াম্মুম করে পাক পবিত্র হয়ে নামাজ পড়তে পারবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَإِن كُنتُم مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ مَا يُرِيدُ اللَّـهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَـكِن يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
অর্থঃ যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা সফরে থাকো, অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব পায়খানা সেরে আসে, অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও তাহলে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও। ফরজ গোসল না করতে পারলে করণীয়?
আল্লাহ তোমাদের অসুবিধায় ফেলতে চান না। কিন্তু তোমাদের পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নিয়ামত পূর্ণ করতে চান যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।( সূরা: মায়েদা ৬)
সবাইকে সব সময় একটা কথা মনে রাখবেন গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও বিনা অজুরে গোসল না করে অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া মারাত্মক গুনাহের কাজ। এক্ষেত্রে তীব্র লজ্জা কিংবা গোসলের পরিবেশ নাই মনে করা শরীয়ত সম্পর্ন ওজুর নয়।(বাদায়েউস সানায়ে : ১/১৫১)

মেয়েদের ফরজ গোসলে চুল ভেজানো নিয়ম

মেয়েদের ফরজ গোসলে চুল ভেজানো নিয়ম? হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি হুজুরকে (সাঃ) প্রশ্ন করলাম হে আল্লাহর রাসূল, আমি আমার মাথার চুলে শক্ত বেনী বাধি ফরজ গোসলের জন্য। আমি কি তা খুলে ফেলব, রাসূল বললেন না তুমি তোমার মাথার উপরে তিন অন্জল পানি ঢালবে এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট অথবা তুমি তোমার সারা শরীর ভালোভাবে পানি ঢালে পাক পবিত্রতা অর্জন করবে।( মুসলিম)
হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) যখন জানাবাতের (অপবিত্রতা দূর করার অর্থে )গোসল করতেন, প্রথমে তিনি দুই হাত ধুতেন এবং নামাজের ওজুর মতো ওজু করতেন। অতঃপর তিনি নিম্ন রূপে গোসল করতেন। দুই হাত দ্বারা চুলগুলোকে খেলাল করতেন এবং যখন তিনি মনে করতেন মাথার চামড়া ভিজে গেছে তখন তিনি মাথার উপরে তিনবার পানি ঢালতেন। 
অতঃপর তিনি সমস্ত শরীর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু একই পাত্র হতে গোসল করতাম এবং দুহাত দ্বারা পানি নিয়ে নিজ নিজ শরীরে ঢালতাম। ( বুখারী মুসলিম)

চুল না ভিজিয়ে ফরজ গোসল

চুল না ভিজিয়ে ফরজ গোসল। শুধু মাথা নয়, অবশ্যই পরিপূর্ণরূপে সারা শরীর ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। শরিয়া অনুযায়ী গোসলের যে রুকুন রয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে পুরা শরীর ভেজানো। সে ক্ষেত্রে মাথায় পানি ঢালতেই হবে, পরিপূর্ণরূপে ভেজাতে হবে। এটা রুকনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তাই মাথা না ভেজালে গোসল হবে না।তবে ওজরের মাসালা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই যদি কারো ওজর থাকে, তার ক্ষেত্রে মাসালা সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। মাথা পরিপূর্ণরূপে না ধুলেও তার গোসল হয়ে যাবে।

ফরজ গোসল না করার শাস্তি

ফরজ গোসল না করার শাস্তি কি? আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, তোমরা যদি নাপাক হয়ে থাক তাহলে গোসল করে পবিত্র হও। প্রত্যেক টা নর এবং নারীকে ফরজ গোসল অবশ্যই করতে হবে। কেউ যদি ইচ্ছে করে বা অবহেলা করে ফরজ গোসল না করে তাহলে তার প্রচুর গুনাহ হবে। তবে গোসলের ব্যাবস্থা ভালো নাই বা 
কোন কাজের জন্য গোসল করতে দেরি হচ্ছে সেক্ষেত্রে অবশ্যেই নামাজের ওয়াক্তের আগে গোসল করে নিতে হবে। ফরজ গোসল না করে নামাজ হবে না। আর নামাজ তো মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ছারা যাবেনা।এইজন্য ফরজ গোসল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যারা অবহেলায় ফরজ গোসল দেরিতে করেন তাদের স্থান হবে জাহান্নামে। 
আর জাহান্নাম মানে কি তা অবশ্যই সবাই জানেন। তাই যাদের এ রকম অভ্যাস আছে তারা অবশ্যই মাহান আল্লাহর কাছে তওবা করে ফরজ গোসল কোন কারন ছারাই সঠিক সময়ে আাদায় করার চেষ্টা করবেন। আল্লাহ আপনার সকল গোনাহমাফ করে দিবেন। ইনশাল্লাহ।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমি আমার এক প্রতিবেশীর জানাযাতে যোগদান করি। তার লাশ কবরে নামানোর সময় বিড়ালের ন্যায় একটি অদ্ভুত জানোয়ার কবরের ভিতরে বাইরে লম্বঝম্প করে লাশ কবরে নামাতে বাধার সৃষ্টি করতে লাগল।সেটিকে তাড়াবার জন্য সকলে মিলে চেষ্টা করলাম। 
কিন্তু কোন প্রকারই দুর করা গেল না। ব্যর্থ হয়ে অন্যত্র গিয়ে কবর খনন করা হল। সেখানে গিয়ে জন্তুটি ভয়ানক উৎপাত করতে লাগল। সেটিকে মারতে গিয়েও সর্ব প্রকার চেষ্টা ব্যর্থ হল।অগত্য বাধ্য, হয়ে অন্যত্র গিয়ে তৃতীয় কবর খনন করা হল। সেখানে গিয়েও জন্তুটি আরও বেশী উপদ্রব শুরু করল। অনন্যোপায় হয়ে আমরা তাড়াতাড়ি তৃতীয় কবরেই তাকে দাফন করে সভয়ে দ্রুতপদে 
সেখানে হতে প্রস্থান করলাম। দফনান্তে কবর হতে বজ্রবৎ ভীষণ এক আওয়াজ বের হয়েছিল। আমি জানার জন্য তার স্ত্রীর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, তার স্ত্রী উত্তর দিল, সহবাসের পর তিনি ফরয গোসল অবহেলা করতেন।এতে তার ফজরের নামাজ কাযা হয়ে যেত। এছাড়া তার অন্য কোন পাপ আমি কখনো দেখি নাই।

লেখকের মন্তব্য

আমার প্রিয় বন্ধুরা আপনারা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন যে, সহবাসের পর সেহরি খাওয়া যাবে। এবং আরো অনেক বিষয় নিয়ে এই পোষ্টে আলোচনা করা হয়েছে তা আপনারা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। দুনিয়াতে ভালো কাজ করে গেলে নিশ্চয় আপন পরকালে ভালো ফলাফল পাবেন। কোন ছোট পাপ কে অবহেলায় ভাসিয়ে দিবেন না। আপনি স্বপনেও জানবেন না এই ছোট কাজ আপনাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। এই জন্য সকলেই সর্তক হয়ে চলাফেরা করবেন। আল্লাহ এবং নবী রাসুলের হুকুম মেনে কাজ করার চেষ্টা করবেন। আল্লাহ আমাদের সবাই কে হেদায়াত দান করুন। আমিন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *