আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা গুলো বিস্তারিত জানুন

আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা- আসসালামু আলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা। নিশ্চয় আপনারা আল্লাহর রহমতে সকলেই ভালো আছেন। আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা গুলো এবং আমলকির ক্ষতিকর দিক, কাঁচা আমলকি খাওয়ার নিয়ম , প্রতিদিন আমলকি খেলে কি হয়, হরিতকি খাওয়ার নিয়ম, হরতকি খেলে কী হয়, ইত্যাদি বিষয় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো। জানার জন্য আরর্টিকেল টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো।
আমলকি-হরিতকি-বহেরার-উপকারিতা 
আমলকি, হরিতকি, বহেরার এই তিনটি ফল সব রোগের আশ্চর্য মহৌষধ হিসাবে কাজ করে। আমলকি হরতকি এবং বহেরা এই তিন ফলের মিশ্রন কে ত্রিফলা হয়ে থাকে। এই তিনটি ফল দিয়ে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরী করা হয়। এই ত্রিফলার ঔষধ গুলো খেয়ে বিভিন্ন রোগ ভালো হয়। আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা গুলো কি কি?

আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা?

আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা- আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে বিভিন্ন রোগ এবং ব্যাধিকে ভালো করে এই তিনটি ফলের আয়ুর্বেদিক ঔষধ। নিয়ম করে যদি ত্রিফলা গুলো খাওয়া হয় তাহলে শরীরের অনেক ‍উপকার মিলবে। আমলকি, হরিতকি এবং বহেরা এই তিনটি ফল  খাওয়া যায়। এই ফল গুলো শুকিয়ে চুর্ণ করে ত্রিফলার মিশ্রন করে খাওয়া যায়। এই তিনটি ফল মানুষের শরীরের জন্য কতটা উপকারি তা আগে জেনে নেওয়া যাক।

আমলকি খাওয়ার উপকারিতা?

আমলকি খাওয়ার উপকারিতা- আমলকি একটি ছোট ফল এবং বিশেষ গুন সম্পন্ন একটি ফল। যদি পারেন প্রতিদিন একটি করে আমলকি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই জন্য  আমলকি মানুষের স্বাস্থ্যর জন্য খুবই উপকারি। কাচা আমলকি খেতে না পাড়লে আমলকির মোরব্বা অথবা আচার করে খাবেন। প্রতিদিন নিয়মিত আমলকি খেলে আপনার শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার নিশ্চয়তা দিবে। দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক আমলকি খাওয়ার উপকারিতা গুলো কি?
  • দিনে দুই বার এক গ্লাস দুধের সাথে আমলকির গুড়া এবং এক চামুচ চিনি মিশিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করবে।
  • আমলকির রস পেটের কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দুর করতে সাহায্য করে এবং পেটের বদ হজম নিয়ত্রন করতে সাহায্য করে।
  • রাতে আমলকি থেতো করে এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে রাখবেন সকালে সেই পানি খাবেন তাহলে খাবার হজমে সাহায্য করবে এবং ভাতের সাথে আমলকির আচার খেলে হজম করতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন নিয়মিত আমলকি খেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং চোখের বিভিন্ন দরনে সমস্যা যেমন, চোখের চুলকানি, পানি পড়া ইত্যাদি ভালো হয়ে যায়।
  • এক কাপ আমলকির রসের সাথে এক চামুচ মধু মিশিয়ে খেলে ত্বকের কালো দাগ দুর হবে এবং ত্বকের উজ্জলতা বাড়তে থাকবে।
  • মাথায় খুসকি হলে আমলকি খেলে খুসকির সমস্যা দুর হবে এবং চুল পাকা সমস্য থাকলে প্রতি রোধ করবে।
  • আমলকি চুল পরিচর্যায় গুরুত্বপূর্ন কাজ করে। আমলকির রস চুলে ব্যাবহার করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুল বাড়াতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন একটি করে আমলকি খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দুর হয়ে যাবে এবং দাঁত শক্ত ও মজবুত হবে।
  • ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার রোগী প্রতিদিন আমলকির জুস করে খেলে বেশ উপকার পাবে।
  • আমলকির টক এবং আচার মুখের রুচি বাড়ায় এবং খিদে বাড়ায়।
  • শরীরের চর্বি এবং অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।
  • বমি বমি ভাব, শরীর ব্যাথা, কফ, অনিদ্রা ইত্যাদিতে আমলকি অনেক উপকার করে।
  • নিয়মিত আমলকি খাওয়ার ফলে শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং পেশি মজবুত করে।
  • শরীরের লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা দিনে দিনে বাড়িয়ে তোলে। এবং হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুসকে মজবুত রাখে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ত্রনে সাহায্য করে এবং ব্লাড সুগার নিয়ত্রন করে।
  • নিয়মিত আমলকি খাওয়া হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং মানসিক চাপ কমাবে।

প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত?

প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত- আমলকী ফলে রয়েছে ঔষধী গুন। আমলকী গাছের ফল এবং পাতা দুটোই ঔষধ রুপে ব্যাবহার হয়। এই ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। বিভিন্ন পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, লেবু এবং পেয়ারার থেকে ৩-১০ গুন বেশি ভিটামিন সি আছে। আমলকীতে কমলার চেয়ে ১৫ গুন বেশি ভিটামিন সি এবং আপেলের চেয়ে ১২০ গুন বেশি এবং কলার চেয়ে ৬০ গুন বেশি ভিটামিন সি আছে আমলকিতে। 
ডাক্তারদের মতে একজন পূর্ণবয়স্ক লোকদের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি দরকার। এইজন্য দিনে দুটো করে আমলকী খেলে ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি শরীরে প্রবেশ করবে। বিভিন্ন দন্ত রোগ সারাতে আমলকীর কোন তুলনা হয় না। আমলকী আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী একটি ফল। প্রতিদিন ২টি করে আমলকি খাওয়ার চেষ্টা করবো। ‍

কাঁচা আমলকি খাওয়ার নিয়ম? 

কাঁচা আমলকি খাওয়ার নিয়ম – কাঁচা আমলকী কিভাবে খেতে হয় তা নিচে দেওয়া হলো-
  • কাঁচা আমলকি টুকরো করে কেটে নিয়ে রাতে গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন। সকালে সেই পনি খাবেন এবং পানি খাওয়া হয়ে গেলে টুকরো আমলকি গুলো খেয়ে নিবেন।
  • শুকনো মরিচ লবণ দিয়ে চাটনি করে কাচা আমলকি খাওয়া যাবে। দিনে দুইটা খেতে পারবেন।
  • আমলকির রস করে এক চামুচ মধু বা মিশ্রি মিশেয়ে খেয়ে নিতে পারবেন।
  • সকালে খালি পেটে আমলকির রস খেতে পারবেন। তবে বয়স অল্প হলে ১০ মিলিগ্রামের বেশি খাওয়া যাবে না।
  • কাঁচা আমলকি ভাতের সাথে খাওয়া যাবে।
  • আমলকিতে শুকনো মরিচের গুড়া এবং সামান্য লবণ দিয়ে রোদে শুকিয়ে কাচের বয়ামে সংরক্ষিত করে রেখে খাওয়া যায়।
উপরের যে কোন নিয়মেই খান না কেন কোন সমস্যা নেই। আমলকি কাঁচা চিবিয়ে খান অথবা থেতো করে রস বের করে খান দুটোতেই সমান উপকার পাবেন।

প্রতিদিন আমলকি খেলে কি হয়?

প্রতিদিন আমলকি খেলে কি হয়- প্রতিদিন আমলকি খেলে ত্বকের উজ্জলতা বাড়ে, মাথার খুসকি দুর হয়, দ্রুত চুল লম্বা হয়, চুলের গোড়া মজবুত হয়, পেটের বিভিন্ন সমস্যা দুর হয় যেমন, বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটি, কোষ্টকাঠিন্য ইত্যাদি। পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা, আপেল এর চেয়ে আমলকিতে রয়েছে বেশি ভিটামিন সি। এই ভিটামিন সি শরীরের আন্টি-অক্সিডেন্ট বিপাকের হার বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন আমলকি খেলে সর্দি-কাশিভালো করে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ত্রন করে এবং 
পেটের সমস্যা দুর করে।আমলকি কাঁচা অথবা আচার, মোরাব্বা করে খেতে পারবেন। অন্যান্য ফলের চেয়ে আমলকীতে প্রচুর ভিটামনি সি আছে। এই ফল নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং শরীরের ব্যাথা বেদনা সহজেই দুর করে দেয়। প্রতিদিন ২ টা আমলকি ভালো করে বেটে একটু মধু মিশিয়ে খাবেন এতে ভালো উপকার পাবেন। প্রতিদিন আমলকী খেলে কি হয় আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক অতিরোক্ত আমলকি খেলে কি ক্ষতি হয়?

আমলকির ক্ষতিকর দিক?

আমলকির ক্ষতিকর দিক- শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এবং ত্বক, চুল সব কিছুতেই আমলকির উপকারিতা অনেক। ১ টি আমলকিতে রয়েছি ১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ফাইবার। এইজন্য ডাক্তাররা নিয়মিত আমলকী খেতে বলেন। কিন্তু এতো উপকারি ফলটি অতিরোক্ত খাওয়ার ফলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি ও হতে পারে। চলুন জেনে নিই অতিরোক্ত আমলকি খেলে কি ক্ষতি হতে পারে।
রক্ত পাতলা হয়ে যায়ঃ
আমলকিতে রয়েছে আন্টিপ্লেটলেট বৈশিষ্ট, যা অতিরোক্ত খাওয়ার ফলে শরীরের রক্ত পাতলা হয়ে যায় এবং রক্ত জমাট বাধতে বাধা দেয়। যাদের রক্ত পাতলা হওয়ার আশঙ্কা আছে তাদের আমলকি না খাওয়াটাই ভালো হবে। যাদের রক্ত পাতলা আমলকি খেলে আরো বেশি রক্ত পাতলা হয়ে যাবে। রক্ত পাতলা হলে কেটে বা ছিরে গেলে রক্তপাত বন্ধ করতে সমস্যা হবে।
কিডনিতে পাথরঃ
আমলকিতে রয়েছে আক্সালেট। অতিরোক্ত আমলকি খেলে আমলকির আক্সালেটের কারনে কিডনিতে পাথর জমে যাবে। এই জন্য অতিরোক্ত আমলকী খাওয়া যাবে না।
দাঁতের সমস্যা হবেঃ
আমলকি ফল প্রচুর টক যা অতিরোক্ত খাওয়ার ফরে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যাবে।যার ফলে ক্যাভিটি এবং টুথ সেনসিটিভিটির মতো দাঁতের অনেক সমস্যা হবে। আমলকি ১ টা বা ২ টা যাই খান না কেন, খাওয়ার পরে দাঁত ভালো করে পরিষ্কার করে নিবেন অথবা আমলকি রোদে শুকিয়ে নিলে টক ভাব কমে যাবে। তখন খেলে দাঁতের কোন সমস্যা হবে না।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হবেঃ
আমলকিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি এবং ফাইবার থাকায় অতিরোক্ত খেলে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হবে। তাছারাও বেশি আমলকী খেলে প্রস্রাবের দুর্গন্ধ বেশি হবে। এই জন্য অতিরোক্ত আমলকি খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির উপর প্রভাবিত করবেঃ
যাদের কিডনি সমস্যা এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তারা আমলকি থেকে ১০০ হাত দুরে থাকবেন। অতিরোক্ত আমলকি খাওয়ার ফলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমান বেড়ে যায়, যার ফলে কিডনি সমস্যা এবং রক্ত চাপকে প্রবাবিত করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারেঃ
অতিরোক্ত আমলকি খাওয়াতে পেটের মল শক্ত হয়ে যায়। আপনার যদি প্রতিদিন আমলকি খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে আমলকি খাওয়ার পরে বেশি করে পানি পান করুন। তাহলে এরকম সমস্যা হবে না।
অ্যাসিডিটি বাড়ায়ঃ
আমলকি যেহেতু টক ফল সেহেতু অতিরোক্ত খাওয়ার ফলে অ্যাসিডিটি সমস্যা বাড়িয়ে দিবে। যাদের অ্যাসিডিটি সমস্যা আছে তারা সকালে খালি পেটে আমলকি বা আমলকির রস খাবেন না। কিছু খাওয়ার পরে খাবেন তাতে ভালো হবে।

হরিতকির উপকারিতা?

হরিতকির উপকারিতা- সবুজ তিতা স্বাদের এই হরিতকি ফলের অনেক গুন আছে। হরিতকি ফল অন্যতম এবং মহৌষধ বলা হয়। এই ফলের ঔষধ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যাবহত হয় তেমনি রান্নাতেও হরিতকির নানা রকমের ব্যাবহার হয়। এই তিতা স্বাদের ফলে রয়েছে ট্যানিন, অ্যামাইন এসিড এবং ফ্রুকটোজ ও বিটা সাইটোস্টেবল। এই ফল এবং ফলের ঔষধ বিভিন্ন উপকার করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক হরিতকি ফলের উপকারিতা কি কি?
হরিতকি-ফলের-উপকারিতা
  • হরিতকি কাঁচা ফল রেচক হিসাবে কাজ করে।
  • হরিতকি ফলের রস খেলে বাতরোগ, জ্বর, কাশি, হাপানি, জন্ডিস, আমাশয়,প্লীহা, ও মুত্রনলীর সমস্যার সমাধান করে।
  • বমি বমি ভাব কমাতে এবং ঘন ঘন পানির তৃষ্ণা কমাতে হরিতকি বেশ উপকারি।
  • প্রতিদিন দুইটা করে হরিতকি ফল পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে খেলে অ্যালার্জি সমস্যা কমে যাবে।
  • হরিতকি ফল শুকিয়ে গুড়া করে তেলের সাথে মিশিয়ে চুলে লাগালে চুল ভালো থাকে এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়।
  • গলা ব্যাথা করলে হরিতকি ফল পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে গর্গল করলে অনেক আরাম পাওয়া যাবে।
  • যদি দাঁত ব্যাথা করে তাহলে হরিতকি ফল গুড়া করে দাঁতে লাগিয়ে রাখুন অনেক আরাম পাবেন।
  • শুকনো হরিতকি ফল গুরা করে পানিতে মিশিয়ে খেলে ত্বক দিনে দিনে উজ্জল হয়ে উঠবে।
  • সামান্য বিট লবণ, দারুচিনি গুড়া এবং হরিতকির গুরা একসাথে মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন তাহলে সকালে পেট ভালো করে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
  • যাদের ঋতু স্রাবের ব্যাথা হয় তারা হরিতকি ফল নিয়মিত খান ব্যাথা ভালো হয়ে যাবে।
  • ফুসফুস,শ্বাসনালির রোগ, কাশি, ও শ্বাসকষ্ট রোগের জন্য হরিতকি বেশ উপকারি।
এই ফলটি কাচা থাকায় বেশ তিতা হয় কিন্তু শুকিয়ে গেলে তেমন তিতা লাগে না। এই ফলটি এমন একটি ফল যা মানুষের শরীরে গেলে কোন সমস্যা হয় না বরং অনেক উপকার হয়। হরিতকি ফল কাদের খাওয়া যাবে না তা এক নজরে দেখে নিন।

হরিতকি ফলের অপকারিতা?

হরিতকি ফলের অপকারিতা?- এই পোষ্ট থেকে আপনারা হরিতকি ফলের উপকারিতা গুলো জানতে পারলেন। এখন জানবেন হরিতকি ফল কাদের খাওয়া যাবে না। চলুন জেনে নেন হরিতকি ফলের অপকারিতা?
  • গর্ভবতী মহিলাদের এই ফল খাওয়া যাবে না।
  • যাদের শরীর খুবই ক্লান্ত, যাদের উচ্চপিত্ত রোগ আছে তাদের কে এই ফল খাওয়া যাবে না।
  • যারা বদহজমে ভুগছেন তাদের কে এই ফল খাওয়া যাবে না।
  • মদ্যপান, ক্ষধা, তৃষ্ণা ও গরমে ভুগছেন এ রকম মানুষের হরিতকি ফল খাওয়া ঠিক হবে না।
  • অতিরোক্ত হরিতকি ফলের গুড়া খেলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।
  • হরিতকি ফলের গুড়া খেলে সর্দি-কাশি অনেকাংশে বেড়ে যেতে পারে।
  • কোন ক্ষত স্থানে হরিতকির গুরা লাগানো যাবে না।

হরিতকি ফলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া?

হরিতকি ফলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া- হরিতকি ফল একটি নিরাপদ ভেষজ উপাদান। যা খাওয়ার পরে মানুষের শরীরের বিভিন্ন উপকার করে থাকে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দেয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হরিতকি খাওয়ার পরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। চলুন জেনে নিন হরিতকি ফলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া?
  • অনেক সময় হরিতকি গুরা বা ফল খাওয়ার পরে বমি বা বমি বমি ভাব হতে পারে।
  • ডায়রিয়া হতে পারে।
  • মাথা ব্যাথা করতে পারে।
  • পেট তীব্র থেকে হালকা ব্যাথা হতে পারে।
হরিতকি ফল খাওয়ার পরে যদি আপনার এধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো হয় তাহলে আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন এবং চিকিৎসা গ্রহন করবেন। যাদের এই ফল খাওয়া সহ্য হবে না তাদের কে এই ফল না খাওয়াই ভালো। এবার জানুন হরিতকি ফল খাওয়ার নিয়ম?

হরিতকি খাওয়ার নিয়ম?

হরিতকি খাওয়ার নিয়ম- হরিতকি ফল খাওয়ার সঠিক সময় হলো খাবার খাওয়ার আগে। আপনি যখন খাবার খাবেন তার ৫-১০ মিনিট আগে হরিতকি ফল খেলে খাবার হজমে সাহায্য করে এবং হজম সংক্রান্ত সমস্যা গুলো সমাধান করে। আবার হরিতকি খাওয়ার আরো একটি ভালো সময় হলো খাবারের পরে। খাবারের পরে হরিতকি ফল খেলে অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। হরিতকি ফল খাওয়ার কিছু নিয়ম আছে সেগুলো হলো-
  • হরিতকি ফল খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিবেন।
  • এই ফল আস্ত অথবা গুড়া করে খেতে পারবেন। দুটোতেই সমান উপকার।
  • হরিতকি আস্ত ফল রাতে ভিজিয়ে সকালে খাওয়া যাবে এবং সকালে ভিজিয়ে রাতে খাওয়া যাবে। খাওয়ার ১০ মিনিট আগে খাবেন অথবা খাওয়ার ১০ মিনিট পরে খাবেন।
  • হরিতকি গুঁড়া খাওয়ার জন্য আপনি এক কাপ গরম পানিতে এক চা চামচ হরিতকি গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • হরিতকি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল খাওয়ার জন্য আপনি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত খেতে পারেন।

হরতকি খেলে কী হয়?

হরতকি খেলে কী হয়- হরিতকি গাছের পাতা এবং ফল সব কিছু থেকেই প্রচুর উপকার পাওয়া যায়। এই ফল মানুষের রোগ প্রতিরোধ প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। এই ফলটি জীবাণু এবং ছত্রাকজনিত রোগের জন্য খুবই উপকারি। প্রতিদিন খাওয়ার আগে অথবা পরে হরিতকি গুরা খাওয়ার অভ্যাস করলে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হরিতকি গুরা ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে খেলে পিত্তশূল দুর হবে। তাছারাও, 
পাইলস, হাপানি, চর্মরোগ, কনজাংটিভাইটিস রোগে হরিতকি ফল বেশ উপকারি। এই ফল রক্তচাপ এবং অন্ত্রের খিচুনি হ্রাস করে। হৃৎপিন্ড এবং অন্ত্রের খিচুনি দুর করে। এই ফল নিয়ম করে খেলে পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়বিক দুর্বলতা, অবসাদ এবং অধিক ওজন কমাতে সাহায্য করে। ‍যদি বমি বমি ভাব হয় তাহলে একটুকরা হরিতকি ফলে মধু মিশিয়ে খেলে বমি বমি ভাব ভালো হয়ে যাবে।

বহেরা খাওয়ার উপকারিতা?

বহেরা খাওয়ার উপকারিতা- বহেড়া ফল অন্যতম ঔষধি গুনে ভরপুর একটি ফল। এই ফলের আরেক নাম বিভিতকি। কিন্তু আমাদের দেশে বহেরা নামেই বেশি পরিচিত। ত্রিফলা ঔষধের মধ্যে বহেড়া হলো অন্যতম এবং মহৌষধ। এর ফল, বাকল, বীজ সব কিছুই মানুষের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ব্যাবহত হয়ে আসছে প্রাচীন কাল থেকেই। বগুগুণে ভড়া বহেড়া ফল মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এই বহেড়া ফলের কিছু উপকারিতা আছে। জেনে নেই বহেড়া ফলের উপকারিতা গুলো কি কি?
বহেরা-ফলের-উপকারিতা
  • আধা চা-চামচ বহেড়া গুঁড়া, ঘি গরম করে তার সাথে মিশিয়ে আবার গরম করে মধু মিশিয়ে চেটে খেলে শ্লেস্মায় রোগে উপকার পাওয়া যায়।
  • রক্ত আমাশয় থাকলে প্রতিদিন এক গ্লাস পানি সাথে বহেড়ার গুরা ভালো করে মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।
  • মাথায় টাক পড়লে বহেড়ার বিচির শাস বেটে টাক জায়গাতে লাগালে মাথার টাকা ভালো হয়ে যাবে।
  • যাদের অকালে চুল পেকে যায় তারা বহেড়া ফল ভালো করে বেটে চুলে লাগিয়ে রাখবেন ২০-২৫ মিনিট। দেখবেন অকালে চুল পাক বন্ধ হয়ে যাবে।
  • পেটে কৃমি হলে নিয়মিত কয়েকদিন বহেড়া খান কৃমি দুর হয়ে যাবে।
  • হজমশক্তি বাড়ানোর জন্য বহেড়া ফলের খোসা গুরো করে নিন এবং প্রতিদিন সকালে এবং রাতে পানির সাথে মিশিয়ে খাবেন তাহলে হজম শক্তি বেড়ে যাবে।
  • রাতে যদি ঘুম না হয় তাহলে বহেরা নিয়মিত খেয়ে দেখুন ঘুম ভালো হবে।
  • শরীরের কোন জায়গাতে ফুলে গেলে বহেড়া খোসা বেটে লাগালে ফোলাভাব কমে যাবে।
  • বহেড়া হৃদপিন্ড এবং যকৃত রোগের আক্রমন কমায়।
  • সর্দি, কাশি, হাপানি এবং কুষ্টরোগ নিরাময় করে বহেরা।

লেখকের শেষ কথাঃ আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা

প্রিয় পাঠক এই আরর্টিকেল থেকে জানতে পারলাম, ত্রিফলার গুনাগুন/ উপকারিতা গুলো, আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা, প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত, আমলকি খাওয়ার উপকারিতা, কাঁচা আমলকি খাওয়ার নিয়ম, আমলকির ক্ষতিকর দিক, প্রতিদিন আমলকি খেলে কি হয়, হরিতকির উপকারিতা, হরিতকি খাওয়ার নিয়ম, হরতকি খেলে কী হয়, বহেরা খাওয়ার উপকারিতা ইত্যাদি।
আমাদের আরর্টিকেল টি পড়ে আপনাদের ভালো লেগে থাকলে পরিচিতদের মধ্যে সেয়ার করে দিবেন। এবং আরো ভালো ভালো আরর্টিকেল পেতে ভিজিট করুন msta2z.com এই ওয়েবসাইড। এই আরর্টিকেল টি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *