আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা,আপনেরা ভালো আছেন। আপনাদের জন্য আজ আমি কাঁচা ডুমুরের উপাকারিতা কি তা নিয়ে লেখলাম। ত বন্ধুরা ডুমুরের তুলনা জগতে মেলেনা। আমরা অনেক ফল এবং সবজি কে অবহেলা করি। যে গুলো আমাদের শরীরের জন্য এতই পুষ্টিকর এবং বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধ হিসাবে কাজ করে।যা আমরা সহজেই বাড়ির আশেপাশে বা হাতের কাছেই পেয়ে থাকি।
কাঁচা ডুমুর আপনেরা খেতে পারেন কিংবা রান্না করেও খেতে পারবেন। আবার অতিরোক্ত উপকারিতার জন্য পানিতে ভিজিয়ে ও খেতে পারেন।
ভৃমিকা
আমাদের শরীর কে সুস্থ্য রাখার জন্য আমরা কতই কি না খাবার খেয়ে থাকি। কিন্তু কোন খাবার শরীরের জন্য বেশী উপকার করবে তা আমাদের জানা অবশ্যক। জেনে বুঝে খাবার খেলে হয়তো শরীরে আমাদের কোন অসুখি হবে না। যেমন ডুমুর খাওয়া অনেক উপকারিতা। এই অবহেলিত ডুমুরে আছে ভিটামিন এবং খনিজ পর্দার্থে পরিপূর্ণ। যা স্বাস্থ্যর জন্য আশ্চর্য কাজ করে।
কাঁচা ডুমুরের উপকারিতা কি
১. ভিটামিন এবং পুষ্টিতে ভরা ডুমুরের বিভন্ন উপকারিতা গুলো নিচে দেওয়া হলো-
২. ডুমুর পিত্ত ও আমাশয় অসুখ সারিয়ে দেয়।
৩. ডুমুরে যতেষ্ট লোহা থাকায় রক্তপিত (স্কার্ভি) রক্তপ্রদর, রক্ত পড়া, অর্শ, রক্ত প্রস্রাব ও রক্ত হীনতা রোগে উপকারী।
৪. কচি ডুমুরের রসে মিশ্রি মিশিয়ে দিনে দুবার, (এক চা চামচ ডুমুরের রস অর্ধ চা চামুচ মিশ্রি গুড়া) খেলে মুখ থেকে রক্ত ওঠা বন্ধ হয়। তিন দিন এইভাবে ডুমুরের রস খেতে হবে।
৫. আমারশায় রোগে ডুমুর পাতার একটি কুড়ি কয়েকটি আতব চালের সাথে চিবিয়ে খেলে রোগের উপশম হয়। এইভাবে তিনদিন খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৬. ডুমুর গাছের ছাল থেঁতো করে মিশ্রির পানায় মিশিয়ে ভালো করে চটকে চেটে খেতে হবে। প্রতিদিন দুই বেলা ২ চা চামচ করে একটু চিনি মিশিয়ে খেলে সাদা আমাশা ও রক্ত আমাশা সারবে।
৭. যদি মাথা ঘুরে তাহলে ভাতের পাতে প্রথমে ১ চা চামচ দুর্বা ঘাস ভাজা খেয়ে, তারপরে বীজ বাদ দিয়ে ডুমুর ভাজা খেলে উপকার হয়।
৮. জগ ডুমুরের রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে মেয়েদের প্রদর রোগ সারে।
৯. ডুমুর খেলে অনেক সময় পেট ভরিয়ে রাখে। ঘন ঘন এই জন্য আপনাকে ঘন ঘন খাবার খেতে হয় না
যার ফলে শরীরের ওজন দ্রুত কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
১০. আমাদের শরীরের হাড় মজবুত করতে ডুমুরের তুলনা নেই। কারনে ডুমুরে আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, এবং ফসফরাস য হাড়ের যে সমস্যা হয় তা থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে।
১১. ডায়াবেটিস রোগীরা প্রত্যেকদিন সকালে একটি করে কচি ডুমুর ভালো করে ধুয়ে নিয়ে চিবিয়ে খেলে ডায়াবেটিস অনেক নিয়ত্রনে আসে।
১২. রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে ডুমুর বেশ উপকারি। ডুমুরে এমন উপাদান রয়েছে যা রক্তে শর্করাকে নিয়ত্রন করতে এবং ইনসুলিন নিঃসরন বাড়াতে সাহয্য করে। ডুমুরের ফাইবার রক্তে মিশিয়ে রক্তের শর্করার ভালো উপকার করে।
১৩, কিডনির পাথর প্রতিরোধ করে।
১৪. ৩ থেকে ৪ টি ডুমুর রাতের বেলা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পানি সহ ডুমুর খেয়ে ফেলুন। স্বাদ বাড়ানোর জন্য চিনি বা মধু মেশাতে পারেন। দৈনন্দি খাবারে পাতে একটু করে ডুমুর রাখুন। এতে শরীরের সুস্থ্যতা বজায় থাকবে।
ডুমুরের অপকারিতা
ডুমুর ফল খেলে শরীরে জন্য অনেক উপকার হয় ঠিক আছে, কিন্তু অতিরোক্ত ডুমুর ফল খাওয়া শরীরের ক্ষতির কারন ও হয়। এই জন্য যে কোন খাবার অতিরোক্ত খাওয়া যাবে না। সেটা যতই দামি খাবার হোক না কেন। ডুমুরের অপকারিতা নিচে দেওয়া হলো-
১. অনেকের ডুমুর খেলে বা ডুমুরের আঠা শরীরে লাগলে এলার্জি দেখা দেয়।
২. মাত্রাতিরোক্ত ডুমুর খেলে পেট খারাপ হয় এবং ডায়রিয়া হয়।
৩. পেটের হজম শক্তি কমে যায়।
৪. ডুমুর খেলে যেমন ওজন কমে যায় তেমনি অতিরোক্ত ডুমুর খাওয়ার ফলে ওজন বাড়তে থাকে।
শরীরের তাপ বাড়াতে সাহয্য করে। যা ফলে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা হয়।
৫. ডুমুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকায় অতিরোক্ত খেলে শরীরের ক্ষতি হয়।
৬. অতিরোক্ত ডুমুর খাওয়ার ফলে শরীরের রক্ত পাতলা করে ফেলতে পারে
ডুমুর ফল রান্নার পদ্ধতি
ডুমুরকে আমরা ফল ও বলতে পারি আবার সবজি ও বলতে পারি। কারন ফল হিসাবে কাচা , পাকা শুকিয়ে এবং আচার করে খাওয়া যায়। আবার বিভিন্ন পদে রান্না করেও খাওয়া যায়। ডুমুর ও বিভিন্ন ভাবে রান্না করে খাওয়া যায় যেমন-
- ডুমুর সুন্দর করে কেটে নিয়ে ভাজি করে রান্না করা হয়।
- ডুমুরের ভর্তা করে খাওয়া যায়।
- চিংড়ি দিয়ে ডুমুরের ভাজি করা যায়।
- ডুমুরের বড়া করা যায়।
- ডুমুরের কোপ্তা করা হয়।
- ডুমুর দিয়ে আলুর ডাল তৈরী করা হয়।
উপরের পদ্ধতি গুলো ছারাও ডুমুরকে আরো বিভিন্ন পদে রান্না করা যায়। যার যে রকম পছন্দ হয় সে রকম করে রান্না করে খায়। আশা করি আপনেরা যারা পোষ্টটি পড়বেন তারাও, (বিশেষ করে যারা ডুমুর কিভাবে রান্না করে তা জানে না তারা) উপরের পদ্ধতিতে রান্ন করে খাবেন অনেক ভালো লাগবে।
ডুমুর কাটার নিয়ম
প্রথমে গাছ থেকে ডুমুর ফল পেরে একটা একটা করে ডাটা থেকে ছুটাতে হবে। তার পর ডুমুরের চার সাইড দিয়ে পাতলা করে বটি দিয়ে কেটে নিকে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন, ভিতরের বিচি সহকারে না কাটে। কারন বিচি সহকারে কাটলে রান্না করার পরে তেতো লাগবে।এই জন্য বিচি বাদ দিয়ে ডুমুর কাটতে হবে। শুধু সবুজ অংশ টুকু নিতে হবে। অবশ্য ডুমুর কাটতে আনেক সময় লাগে।
ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম
আমাদের দেশে হয়তো ডুমুর ফলকে অনেকেই আজও পর্যন্ত চেনেই না। অনেকেই খেয়েছে কিন্তু নাম জানেই না। যারা ডুমুর ফলকে চেনে বা চেনেনা তাদের জন্য ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে লেখা হলো-
- কাঁচা ডুমুর (যেগুলো কচি) চিবিয়ে খাওয়া যায়।
- ডুমুরের সালাত করে ভাতের সাথে খাওয়া যায়।
- ডুমুরের সাথে মধু বা চিনি মিশেয়ে খাওয়া যায়।
- ডুমুর ফল দিয়ে মিষ্টি জাতীয় খাবার বানানো যায়।
- ডুমুর ফল শুকিয়ে রাতে পানিতে ভিজিয়ে সকালে সেই পানি খাওয়া যায়।
ডুমুর ফলিটি খাওয়ার কোন ধরা বাধা নিয়ম নেই। যে যেরকম খুশি খেতে পারবে। তবে ডুমুর ফলটি কাঁচা খাওয়া ও উপকার তেমনি রান্না করে খাওয়াও উপকার। এই ফল টি বেশির ভাগ মানুষই ঔষুধি ফল হিসাবে খেয়ে থাকে।
ত্বীন ফল কি ডুমুর
আমাদের পবিত্র কোরাআনে যে ত্বীন ফলের কথা বলা আছে বা উল্লেখ করা আছে তা আমাদের দেশে নেই । বাংলাদেশর মানুষের কাছে অচেনা একটি ফল।আথচ ডুমুর ফল আমাদের দেশের বনে জঙ্গলে, বাড়ির উঠানে রাস্তার ধারে যেখানে সেখানে এগাছ আছে। ত্বীন ফল ও ডুমুর ফল যে এক ফল নয় তা আমরা অনেকেই জানি না।
আরো পড়ুনঃ করলার জুস বানানো নিয়ম জেনে নিন
আমাদের দেশে যে ডুমুর দেখা মিলে তার বৈঙ্গানিক নাম ফাইকাস হিসপিডা। এই গাছ টি ঝোপের মতো, পাতা সিরিসের মতো খসখসে। পাখিরাই শুধুমাত্র এই ডুমুর ফল বেশী করে খেয়ে থাকে। এবং পাখির বিষ্ঠার মাধ্যমে বীজের বিস্তার ঘটে। মানুষের খাওয়ার মনোযোগ একদমই নেই। কিন্তু অনেকেই জানে না ডুমুর ফলটি কত উপকারি একটা ফল।
এই ফলের গাছ চাষ করা লাগে না বরং অযত্নে অবহেলায় বড় হয়ে উঠে। সুতরাং ত্বীন সুরা তেলওয়াত করার সময় ডুমরের কল্পনা মাথায় নিলে কিন্তু অর্থচ্যুতি ঘটবে নিশ্চিত। যারা ত্বিন ফল কে ডুমুর নামে চেনে তাদের কে এখন থেকে এ ধারনা বাদ দিতে হবে। কারন ত্বীন ফল এবং ডুমর ফল এক নয়।
শেষ কথা
বাংলাদেশের ডুমুর ফলের উপকারিতা অনেক। ডুমুরে থাকা প্রত্যেকটি প্রাকৃতিক উপাদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ফলটি বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায়। তবে শারিরীক সমস্যার দিকে লক্ষ রেখে ডুমুর ফল টি খেতে হবে। কিন্তু ডুমুরে ক্ষতির চেয়ে উপকারের পরিমান বেশী। প্রিয় পাঠক আপনারা আমার লেখা পোষ্টটি পড়ে উপকৃত হয়ে থাকলে কমেন্ট বকসে জানিয়ে যাবেন। আরো নতুন নতুন পোষ্ট পড়তে msta2z.com এ ক্লিক করুন।