কি খাওয়ালে কবুতর তাড়াতাড়ি ডিম পারে বিস্তারিত জানুন

প্রিয় বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম,আপনারা নিশ্চয় আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন। আজ এই পোষ্টে লেখা হয়েছে যে, কি খাওয়ালে কবুতর তাড়াতড়ি ডিম পারে। আসলে অনেক ভাইয়েরা আছে যারা কবুতর পালে কিন্তু কবুতর ডিম দেয় না বা দেরী করে দেয়। তাদের জানা ‍উচিত যে কবুতরকে কিছু খাবার আছে যেগুলো খাওয়ালে কবুতর ঘন ঘন ডিম পারবে।
কি খাওয়ালে কবুতর তাড়াতাড়ি ডিম পারে
কি খাওয়ালে কোন জাতের কবুতর বেশী বাচ্চা দেয় বা ডিম দিয়ে থাকে এই সম্পর্কে জানার আগ্রহী  যারা কবুতর পালন করছে।

ভৃমিকা

সাধারনত যখন একটি কবুতরের ডিম পারার সময় হয় তখন সেই কবুতরের জন্য কিছু পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন হয়। পুষ্টিকর খাবার খাবান খাওয়ালে কবুতর তাড়াতাড়ি এবং পুষ্ট ডিম দিবে। যার ফলে বাচ্চা টাও রোগমুক্ত ও পুষ্টি সম্পন্ন বাচ্চা হবে। কি খাওয়ালে কবুতর তাড়াতাড়ি ডিম পারে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

কবুতরের মিক্সার খাবার তৈরীর নিয়ম

কবুতরের পুষ্টিকর খাবারের প্রতি খেয়াল রেখে কিছু খাবার মিক্স করতে হবে।যেমন,
১. কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার ৬০ % মিশাতে হবে ।কার্বোহাইড্রেট খাবারে মধ্যে রয়েছে যেমন, পপকন, ধান, চাল, গম ইত্যাদি।
২. প্রেটিন জাতীয় খাবার ৩০ % মেশাতে হবে। প্রেটিন জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে মসুরডাল, সবুজ মটর, কালি মটর এবং ছোট ছোলা। এবং
৩. তেল জাতীয় খাবার ১০ % মেশাতে হবে। তেল জাতীয় খাবার গুলো হলো, বাদাম, তিসি,তেল,কুসুম ফুলের বিচি, সরিষা,চিনা, সূর্য মুখির বীচি। এরকম আরো কিছু ফুলের বিচি আছে যা মেশাতে পারবেন।কবুতরের খাবার গুলো সুষম খাবার উপাদান দিয়ে তৈরী করতে হবে। এই সবগুলো খাবার একসাথে একটি পাত্রে নিয়ে মেশোতে হবে।

কবুতরের খাবার দেওয়ার নিয়ম

কবুতরকে আপনি দিনে ৩-৪ বার খাবার দিতে পারেন। তবে কবুতরকে বার বার খাবার না দেওয়াটাই ভালো। এই জন্য আপনি সকালে একবার এবং বিকালে একবার খাবার দিলে সবচেয়ে ভালো হয়। বেশী খাবার দিলে যারা ছেলে কবুতর পালন করে সে ছেলে কবুতর গুলোর গায়ে বেশী চর্বি লেগে মোটা হয়ে যায়।
 যার জন্য উড়তে পারে না এবং অস্থির হয়ে পরে। আপনি সব সময় খেয়াল করবেন যে ছেলে কবুতর গুলোর ওজন বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা। ওজন বাড়লে খাবারের পরিমান কমিয়ে দিতে হবে। আমার পরামর্শ হলো আপনার কবুতর কে ২ বেলা খাবার দিবেন। সকালে কবুতরকে আপনি ছারবেন। ছারার পর কবুতর গুলো একটু উড়ে বেরাবে ।
উড়া হয়ে গেলে কবুতর গুলো নিচে নেমে আসবে তার পর খেতে দিবেন। আর খাবার খাওয়ানোর পরে কখনোই উরাবেন না। আবার বিকালে একটু উড়াউরির পর যখন ছাদে পরবে তখন একবার খাবার দিবেন। আর অবশ্যই খাবারের সাথে পানি দিয়ে রাখবেন।

কি খাওয়ালে কবুতর তাড়াতড়ি ডিম পারে

আমরা অনেক সময় কবুতর সখের বশত পালি বা কর্মসংস্থানের জন্য পালে থাকি। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে আপনি কবুতরের সঠিক যত্ন নিচ্ছেন সঠিক খাবার ও দিচ্ছেন তার পরেও ডিম দিচ্ছেনা বা দেরী করে ডিম দিচ্ছে। বন্ধুরা আমার কাছে এমন একটা উপায় আছে যা আপনাদের কাছে সেয়ার করছি। সেটা আপনারা একবার ফলো করে দেখুন কবুতর ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ডিম পারবে। ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ডিম পারার জন্য আপনাকে একটি ঔষুধ কবুতরকে খাওয়াতে হবে।সেটা হলো ভিটামিন ইক্যাপ ক্যাপসুল। এটা মুলত ভিটামিনেরি ক্যাপসুল।
যে ভাবে ক্যাপসুলটি কবুতরকে খাওয়াবেনঃ একটা ক্যাপসুল ২০০ গ্রাম খাবারের সাথে মেশাতে হবে। ক্যাপসুল মেশানো খাবারগুলো প্যাকেট করে রাখতে হবে। এবং প্রতি একরজোরা কবুতরকে ক্যাপসুল মেশানো খাবার ১০ গ্রাম নিয়ে অন্য খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এই ক্যাপসুল টি খাওয়ানোর পর কবুতরের শরীর গরম হয়ে যায়। এবং কবুতর গুলো ব্রিডিং মুডে চলে আসে। ঔষুধ টি খাওয়ানোর ১৫-২০ দিনের মধ্যে কবুতর গুলো ডিম পারে।
এছারাও আরো কিছু খাবার আছে যেগুলো খাওয়ালে কবুতর ডিম পারে। সাধারনত একটা কবুতর যখন ডিম পারার সময় হয় তখন সেই কবুতরের জন্য কিছু পুস্টি কর খাবারের প্রয়োজন হয়। যেগুলো খাওয়ালে কবুতর খুব সহজেই স্ট্রং ডিম পারে।যে খাবারে কবুতর তাড়াতাড়ি ডিম পারে সেগুলো হলো-শীতের মৌসুমে গমের সাথে সরিষা মিশিয়ে খাওয়াবেন এবং গরমের সময় গমের সাথে ধান মিশিয়ে খাওয়াবেন। কবুতরের ডিম পারার জন্য গম বেশী কার্যকর ভৃমিকা পালন করে।

কবুতরের ডিম কতদিনে ফোটে

কবুতর সাধারনত একটা ডিম পারার ৪৮-৫০ ঘন্টার মধ্যে আরেক টা ডিম পারে। এভাবে কবুতর একটার পর আরেকটা ডিম দেয়। কবুতরের ডিম গুলো সাধানরত ১৭ -১৮ দিনের মধ্যে ফুটে থাকে। আবার অনেক সময় দেখা যায় কবুতর অসুস্থ্য থাকতে পারে বা ডিমে ঠিকমতো তাপ দিতে পারছে না সেক্ষেত্রে ২০-২১ দিন ও লাগতে পারে বাচ্চা ফুটাতে। কবুতর ডিম পারার ১৭-২০ দিনের মধ্যে মোটামুটি ডিম ফোটে।

কবুতরের বাচ্চা কত দিনে খাবার খায়

কবুতরের বাচ্চা কতদিনে খাবার খায় এটার নির্দিষ্ট কোন বয়স নেই। এটা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তবে কবুতরের বাচ্চা ডিম থেকে ফুটে বের হওয়ার ১ মাস বা তার বেশি বয়স না হওয়া পর্যন্ত নিজে নিজে খাবার খেতে পারে না। আর যদি নিচে মাটিতে বা অন্য জায়গায় খেতে দেন তাহলে যতদিন পর্যন্ত উড়তে না পারবে বা মাটিতে নামতে না পারবে তত দিন নিজে থেকে খাবার খেতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগবে।

বাচ্চা কবুতরের খাবার কি

কবুতর যখন তার ছোট বাচ্চাকে উঠায় তখন কবুতর তার বাচ্চাকে এক দিন পর খাবার খাওয়ানো শুরু করেন।যেহেতু মা বাচ্চাকে খাবার খাওয়াবে সেহেতু মা কবুতরকে ছোট সাইজের যে খাবার গুলো বা একটু সর্ফট বা নরম খাবার সেগুলো দিতে হবে। তাহলে মা কবুতর খাবার গুলো খেয়ে তার বাচ্চাকে খাওয়াবে। 
সেক্ষেত্রে বাচ্চার খাবার গুলো সহজেই হজম করতে পারবে। যেমন সরিষা, গম, চাল, তিসি ইত্যাদি ছোটা দানার খাবার। তার পর একটু বড় সাইজের হলে সব ধরনের খাবার মিক্স করে দিতে পারবেন।

কোন জাতের কবুতর বেশী বাচ্চা দেয়

গোটা পৃথিবী জুরে প্রায় ৭০০ জাতের কবুতর আছে। তার মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ৩০ জাতের কবুতর পাওয়া যায়। এই ৩০ জাতের কবুতরের মধ্যে গিরিবাজ কবুতর বেশী ডিম দেয় এবং বাচ্চা ফোটায়। এই গিরিবাজের জাতের মধ্যে আবার অনেক জাত আছে । যেগুলো এই জাতের চেয়ে আবার বেশী স্ট্রং হয়ে থাকে। 
গবেষনায় দেখা গেছে যে এই গিরিবাজ কবুতর একমাসের মধ্যে একজোরা ডিম ও এক জোরা বাচ্চা দেয়। এই গিরিবাজ কবুতরের উরার ক্ষমতাও বেশী। এই কবুতর আকাশের অনেক উপরে উঠতে পারে। গিরিবাজ কবুতরের শরীরে বেশী শক্তি থাকার কারনে বেশী বাচ্চা ও ডিম দিয়ে থাকে। এরা বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক পুষ্টিকর খাবার এনে বাচ্চাদের খাইয়ে থাকে।

ভালো জাতের কবুতর চেনার উপায় কি

কবুতর খামারি ভাইয়েরা আগে আপনাদের কবুতরের জাত ভালো চিনেতে হবে। ভালো জাতের কবুতর যদি না কেনেন তাহলে কবুতর ডিম ঠিক ভাবে দিবে না আবার বাচ্চা ফুটাবেও না। এই জন্য কবুতরের সুস্থ্যতা – অসুস্থ্যতা এবং জাত দেখে কিনতে হবে।

  • একটা ভালো কবুতরের পালক অবশ্যই উজ্জল হবে।
  • ভালো জাতের কবুতরের চোখগুলো উজ্জল হবে।
  • নাকের জায়গায় শুকনো থাকবে এবং সর্দিলাগা কবুতর কিনবেন না।
  • সুস্থ্য এবং ভালো জাতের কবুতরের ডানাগুলো শরীরের উপরিভাগে থাকবে।
  • কবুতর কেনার সময় দেখতে হবে কবুতরের শরীরে কোন আঘাতের চিহৃ আছে কিনা। পাখা গুলো এলোমেলো আছে কিনা থাকলে ঐধরনের কবুতর কিনবেন না।
  • কবুতরের ঠোট খেয়াল করতে হবে যে ঠোটের অবস্থা ভালো আছে কি না।
  • কবুতরের পা দেখতে হবে যে ঠিক ভাবে হাটতে পারছে কিনা।
  • একটি ভালো জাতের কবুতর নিজেকে অনেক পরিষ্কার রাখে। লেজের দিকে বা মলদ্বারে কোন ময়লা থাকবে না।
  • যে কবুতর গুলো ঘন ঘন নিঃশ্বাস নেয় সেগুলো ক্রয় করবেনা।
  • সুস্থ্য কবুতর ছুটাছুটি করবে। এবং অসুস্থ্য কবুতর খাচার কোনায় ঝাপটি মেরে বসে থাকবে। সহজেই ধরা দিবে।কবুতর কিনার সময় হাতে নিয়ে কবুতর ধরে উড়িয়ে উড়িয়ে দেখবেন।
  • ভালো এবং সুস্থ্য কবুতর সুন্দর ভাবে ডাকতে থাকবে।
উপরোক্ত বিষয় গুলো মাথায় নিয়ে আপনি যদি কবুতর ক্রয় করতে পারেন তাহলে আশাা করা যায় আপনি কবুতর কিনলে ঠকবেন না। আর আপনি যদি এসব কিছু বুঝতে না পারেন তাহলে কোন অভিজ্ঞ লোককে নিয়ে কবুতর কিনতে যাবেন।

কবুতরের জাতের নাম

বাংলাদেশে প্রায় ৩০ জাতের কবুতর পাওয়া যায়। তার মধ্যে বেশী প্রচালিত হলো
  • গোলা
  • দেশী গিরি বাজ
  • জালালী
গিরি বাজ জাতের কবুতর দুই ধরনের হয়ে থাকে যেমন
  1. সাধারন জাত
  2. হাইফ্লায়ার জাত
1. সাধারন গিরি বাজ জাতের নাম
  • কালো গলা
  • খয়রা গলা
  • লাল পেটি
  • বাঘা
  • চুইনা
  • কাগজি
  • দোবাজ
  • লাল সুল্লি
  • খাকি
  • সুরমা খাকি
  • রাজশাহী গিরিবাজ ইত্যাদি
2. হাইফ্লায়ার গিরিবাজ জাতের নাম
  • কালদম
  • জিরা গলা
  • গোল্ডেন
  • রামপুরি
  • বাতেরী
  • চাপরায়
  • ফকির গুল
  • ফিরোজপুরী
এছারাও আরো অনেক জাতের কবুতর রয়েছে। তবে সব গুলো আমাদের বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি কবুতরের নাম

ভিক্টোরিয়া ক্রাউনঃ এক জোরা কবুতরের দাম সারে আট লক্ষ টাকা।
নিকোবারঃ এই কবুতরের এক জোরার দাম সারে তিন লক্ষ টাকা।
মুন্ডিয়াণঃ একজোরা কবুতরের দাম প্রায় তিন হাজার মার্কিন ডলার। এই কবুতরের ওজন প্রায় ১ কেজির উপরে হয়।

জ্যাকবিনঃ জ্যাকবিন একজোরা কবুতরের দাম প্রায় ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার মতো।

ফেন্টেলঃ এই কবুতর দেখতে ময়ূরের মতো। ফেন্টেল কবুতরের জোরার দাম ৮০ হাজার থেকে ২ লক্ষ পর্যন্ত। এই কবুতর গুলো মানুষ শখ করে পালন করে। মাংস খাওয়ার জন্য না বন্ধুরা।

লেখকের মন্তব্য

মানুষ সাধারনত দুটি উপায়ের জন্য কবুতর পালন করে। একটি হলো শখের বসে আরেকটি হলো মাংস খাওয়ার জন্য।শুধু মাংস খাওয়ার জন্যই নয় বিশ্বে এমন কিছু কবুতর আছে যেগুলোর দাম লাখ লাখ টাকা। যেগুলো শখ করে পালন করা হয়। আবার শখ বললে ভুল হবে কারো কারো কাছ নেশার মতো হয়ে গেছে এই কবুতর পোষা।
আমার পোস্টটি পরে ভালো লেগে থাকলে পরিচিতদের মধ্যে সেয়ার করবেন । তারা ও পরে কিছুটা কবুতর সম্পর্কে জানতে পারবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *