খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে জেনে নিন

স্মৃতিশক্তি বৃ্দ্ধির ঘরোয়া উপায়খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ, সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকটা মানুষেরই জেনে থাকা প্রয়োজন। কারন বেচে থাকার জন্য আমাদের খাদ্যর প্রয়োজন। আর খাদ্য থেকেই আমরা পুষ্টি পাই। কোন পুষ্টির অভাবে কোন রোগ হয় তা আমাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন আছে। তা বন্ধুরা এখন জানা যাক পুষ্টি সংক্রান্ত রোগ কি কি।
খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ
বেশির ভাগ খাদ্য আমরা উদ্ধিদ থেকে পেয়ে থাকি। উদ্ধিদ থেকে পাওয়া যায় এমন খাদ্য হলো- শাক- সবজি, ফল, খাদ্যশস্য ইত্যাদি। আর কিছু খাদ্য প্রানী থেকে ও পেয়ে থাকি। যেমন, মাছ, মাংস, ডিম, এবং দুগ্ধজাত খাদ্য দ্রব্য।

ভৃমিকা

রোগ হলে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ করা টা ভালো। আর রোগ হলে রোগীর খুব কষ্ট হয়। ডাক্তার দেখাতে হয়,ঔষুধ খেতে হয়। আমাদের দেশে এলোপাতি ঔষুধ, কবিরাজি ঔষুধ, হোমিও ঔষুধ তৈরী হয় শাক-সবজি, ফলমুল, ভেষস এগুলো থেকে। এগুলো ঔষুধের কোন ক্ষতিকারক দিক নেই। খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

পুষ্টি উপাদান কয়টি ও কি কি

খাদ্য থেকে আমরা বিভিন্ন পুস্টি উপাদান পেয়ে থাকি। পুষ্টি উপাদান পাঁচ ধরনের রয়েছে। যেমন-
১. শর্করা
২. আমিষ
৩. চর্বি
৪. ভিটামিন
৫. খনিজ লবণ
এসকল পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি পানিও আমাদের দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।পরিমান মতো পানি খেলে ও বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ হয়।

ভিটামিন এর উপকারিতা

ভিটামিন আমাদের দেহ কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে থাকে। ভিটামিন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এবং দেহের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। চোখ ও হাড় সহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ সম্পাদনে সহায়তা করে থাকে। এটাই হলো ভিটামিন এর উপকারিতা। সাধারনত ভিটামিন ছয় প্রকার। যথাঃ
১. ভিটামিন এ
২. ভিটামিন বি
৩. ভিটামিন সি
৪. ভিটামিন ডি
৫. ভিটামিন ই
৬. ভিটামিন কে
ভিটামিন বি বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন নিয়ে গঠিত। তাই ভিটামিন বি কে, ভিটামিন বি কমপ্লেক্য বলা হয়।
বিশেষ করে, শাক-সবজি, ফল, মাছ, মাংস, এবং দুগ্ধজাত খাবারে ভিটামিন বি কমপ্লেক্য পাওয়া যায়।

আমিষ এর কাজ কি

আমিষ দেহের গঠন, ক্ষয়পূরণ এবং বৃদ্ধি সাধন করে থাকে। প্রানী ও উদ্ধিদ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ধরনের খাদ্য থেকে আমরা আমিষ পেয়ে থাকি। উদ্ধিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তাকে উদ্ধিদ আমিষ বলা হয়। উদ্ধিদ থেকে পাওয়া আমিষ গুলো হলো- মটরশুটি, ডাল, বাদাম, শিমের বিচি, ইত্যাদি। আবার প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তাকে প্রানিজ আমিষ বলা হয়। প্রানীজ থেকে পাওয়া আমিষ গুলো হলো- মাছ, মাংস, ডিম, দুগধজাত খাদ্য ইত্যাদি।

খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ

আমাদের দেহের জন্য পুষ্টি উপাদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিনের অভাব হলে বিভিন্ন রোগ হতে পারে। যেমন- রাতকানা, মুখের ঘা, রিকেটস, বেরিবেরি রোগ ইত্যাদি।আবার আমিষের অভাব হলে বৃ্দ্ধি ব্যাহত হয় এবং পেশির ক্ষয় প্রাপ্ত হয়। আয়োডিনের অভাবে গলগন্ড রোগ হয়। পর্যাপ্ত পরিমানে পুষ্টি উপাদান পাওয়ার জন্য বিভিন্ন খাদ্যর সমন্বয় করে সুষম খাদ্য গ্রহন করতে হবে। খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ তালিকা নিচে দেওয়া হলো

  ভিটামিন

                    খাদ্য

      খাদ্যের কাজ

            রোগ

ভিটামিন -এ

গাজর, পালংশাক, মিষ্টিকুমরা, ছোট মাছ, দুধ, ডিমের কুসুম, ইত্যাদি

স্বাভিক দৃষ্টি শক্তি বজায় রাখে। সুস্থ্য ত্বক ও দাত গঠন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

রাতকানা

ভিটামিন- বি

দানাশষ্য, দুদ্ধজাত খাবার, মাছ, কলিজা, সবুজ শাক-সবজি, মটরশুটি ইত্যাদি।

দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।

বেরিবেরি, মুখে ও জিভে ঘা,অ্যানিমিয়াবা রক্তশূন্যতা।

ভিটামিন -সি

বিভিন্ন ফল, যেমন, পেয়ারা, আমলকি, কমলা, লেবু, এবং শাকসবজি যেমন, টমেটো, বাঁধাকপি, ব্রেকলি ইত্যাদি।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দেহের বৃদ্ধি সাধন করে এবং দেহকে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে।

স্কার্ভি, মাড়ির রোগ

বিটামিন -ডি

ডিমের কুসুম, মাছের তেল, সূর্যরশ্মি, ডিম ইত্যাদি।

হাড়ের বৃদ্ধি ও গঠনে সহয়াতা করে।

রিকেটস বা হাড় বেকে যাওয়া্

ভিটামিন- ই

উদ্ভিজ তেল, বাদাম, কলিজা, ইত্যাদি।

রক্ত কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে।

দুর্বল পেশি, বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া।

ভিটামিন -কে

পাতা বিশিষ্ট সবুজ শাকসবজি, ঢ়েরস, সয়াবিন তেল ইত্যাদি।

কেটে যাওয়া স্থানে রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।

যকৃতের রোগ, রক্ত জমাট বাধার ক্ষমতা কমে যাওয়।

সুষম খাদ্য কাকে বলে

আমাদের শরীর কে সুস্থ্য রাখার জন্য সুষম খাদ্য অবশ্যই খেতে হবে। সুষম খাদ্যে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের সবগুলোই পরিমান মতো থাকে। সুস্থ্য থাকার জন্য প্রতিদিন সুষম খাদ্য খেতে হবে। আমাদের প্রতি বেলার খাবারে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান রয়েছে কি না ত নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি বেলার খাবারের প্রায় অর্ধে শাক সবজি ও ফর খেতে হবে। অল্প পরিমানে তেল ও চর্বি জাতিয় খাবার খেতে হবে। এর সাথে পর্যপ্ত পরিমানে নিরাপদ পানি পান করতে হবে।

খাদ্য ও পুষ্টি তালিকা

সুস্থ্য ভাবে বেচে থাকার জন্য প্রতিদিন দেহের চাহিদা অনুযায়ী খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। খাদ্যে সকল প্রকার পুষ্টি উপাদান পরিমান মত থাকে। আমরা সহজেই স্বল্পমূল্যের সহজলাভ্যতা বিভিন্ন ধরনের খাবার থেকে সুষম খাদ্য বাছাই করে একটা তালিকা তৈরী করতে পারি। খাদ্য ও পুষ্টি তালিকা নিচে দেওয়া হলো-

                খাদ্যর নাম

              খাদ্যদ্রব্য

            পুষ্টি উপাদান

খাদ্যশস্য 

চাল, গম, আলু, ভুট্টা ইত্যাদি

শর্করা

শাক-সবজি

ফুলকপি, শাক-সবজি, গাজর, পেয়াজ, টমেটো, ঢ়েড়স, মিষ্টি কুমরা ইত্যাদি।

ভিটামিন, খনিজ পদার্থ

ফল

আম, জাম, কাঠাল, কলা, আপেল, কমালা, আঙ্গুর ইত্যাদি।

ভিটামিন, খনিজ পদার্থ

মাছ, মাংস এবং ডাল

মাছ, মাংস, ডিম, বাদাম, মটরশুটি ইত্যাদি।

আমিষ

দুগ্ধজাত খাদ্য

দুধ, পনির এবং দই ইত্যাদি

ক্যালসিয়াম ,ভিটামিন

তেল এবং চর্বি

ঘি, মাখন, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি।

চর্বি

শেষ কথা

সুস্থ্য এবং সুন্দর জীবনের জন্য আমাদের কে রোগরে বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য শরীর কে শক্তি শালী করে গড়ে তুলতে হবে। এবং রোগ প্রতিরোধের ব্যাবস্থা নিতে হবে। তাই সঠিক ও সুস্থ্য জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলে শরীরকে নিরোগ রাখতে হবে। প্রিয় পাঠক আমার পোষ্টটি পড়ে আপনাদের ভালো লেগে থাকলে কমেন্ট বকসে জানিয়ে দিবেন। এবং পরিচিত দের মধ্যে সেয়ার করবেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *