তেলাপিয়া মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা বিস্তারিত জানুন

তেলাপিয়া মাছ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা হয়। এ মাছে ব্যাপক উৎপাদনশীলতার জন্য এ মাছ যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছে। তেলাপিয়া মাছ যে কোন ধরনের পুকুরে বা পরিবেশে চাষ করা সম্ভব।প্রিয় পাঠক এই আরর্টিকেলে আলোচনা করা হলো তেলাপিয়া মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা । নিচে বিস্তারিত জানানো হলো।
তেলাপিয়া মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা
তেলাপিয়া মাছটি বাইরে দেশের মাছ অর্থাৎ বিদেশী মাছ। যার বৈজ্ঞানিক নাম oreochomis mossumicus  এই মাছটি নোংরা পানিতে ও চাষ করা যায়।

ভৃমিকা

বাংলাদেশের আবহাওয়া নীতিশিতোষ্ক হওয়ার কারনে তেলাপিয়া মাছ যেকোন জায়গায় চাষ করা যায়। তেলাপিয়া ডিম পেরে সেই ডিম বাচ্চা ফুটানোর জন্য মুখের ভেতর রেখে দেই। বাংলাদেশের মানুষের চাহিদার যোগানের বিষয়টি সহজসাধ্য করেছে এই মাছ চাষ। আজকে আমরা এই পোস্টে জানাবো তেলাপিয়া মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা।

তেলাপিয়া মাছ চাষে লাভ কেমন

তেলাপিয়া মাছ চাষ ভালো করে জেনে সঠিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে সহজেই ভালো লাভবান হওয়া সম্ভব।এই তেলাপিয়া মাছটি অল্প সময়ে অধিক উৎপাদন করা সম্ভব। এই জন্য বাজারে এর চাহিদাও বেশী এবং এই মাছ চাষে বেশ লাভবান হওয়া যায়। এই মাছ অধিক ঘনত্বেও তিন থেকে চার মাসে এক একটি মাছ প্রায় ২৪০-৩৫০গ্রাম পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে।
মানোসেক্স তেলাপিয়া মাছ চাষে সাফ্যলোর পূর্বশর্ত হলো সুস্থ্য সবল এবং উন্নজাতের ১০০% পুরুষ পোনা সংগ্রহ করা ও সঠিক পদ্ধতিতে লালন পালন করা। বিশেষ করে নার্সরীর বিষয়ে অত্যান্ত যত্নের সাথে পরিচর্যা করতে হবে।বর্তমানে বাজারে তেলাপিয়া মাছের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ১০০ গ্রাম ওজনের তেলাপিয়া কম করে হলেও পাইকারি হিসেবে পুকুর থেকে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারবেন। 
তার বেশি ওজনের হলে আনুপাতিক হারের দাম বাড়বে। আর সরাসরি বাজারে বিক্রি করলে কম করে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা সম্ভব হয়। এই মাছ যেহেতু খুব অল্প সময়ে বড় হয় তাই বছরে তিন থেকে চার বার মাছ তুলে বিক্রি করা সম্ভব। ফলে নিয়ম মেনে তেলাপিয়া মাছের চাষ করলে ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে এই তেলাপিয়া মাছের ব্যবসায়।

তেলাপিয়া মাছ চাষের খরচ

মাছ চাষ করা খুবই লাভবান একটি পেশা। এই জন্য আপনাদের উন্নতজাতের পোনা এবং সুস্থ্য পোনা সংগ্রহ করতে হবে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের তেলাপিয়া মাছের চাহিদা অনেক বেশি। এই মাছটি মানুষের শরীরের প্রোটিন পূরণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে সাধারণত তেলাপিয়া মাছ দুই ভাগে চাষ করা যায়, ও এককভাবে ও চাষ করা যায়, মিশ্র চাষের ক্ষেত্রেও তেলাপোয়া মাছ খুবই উপযোগী ।
এই মাছ অন্যান্য মাছের সাথে চাষ করা যায়। তেলাপিয়া মাছ চাষে শতাংশ প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ পিস মাছ মজুদ করতে হবে। অনেক চাষিরা রয়েছে এর থেকেও বেশি পোনা মজুদ করে ফেলে যার কারণে লাভের থেকে লস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তো এই বিষয়টি বন্ধুরা অবশ্যই অবগত থাকবেন কোন প্রকারে বেশি মাছ ছাড়া যাবে না। আপনি কি পরিমান মাছ মজুদ করবেন আর কত বিঘা পুকুরে মাছ চাষ করবেন তার উপর খরচ নির্ভর করবে।

তেলাপিয়া মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা

তেলাপিয়া মাছের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ অনেক রয়েছে। আমাদের অতি পরিচিত এই স্বল্পমূল্যের মাছ। তেলাপিয়া মাছের দাম একটু সস্তা হওয়ার এটি অনেকের কাছে অনেক পছন্দের একটি মাছ। তাছাড়া ও তেলাপিয়া মাছ রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। এই মাছটা খেতে যথেষ্ট সুস্বাদু। তেলাপিয়া মাছের কাঁটা কম থাকায় এ মাছটাকে বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। 
যেমন ভাজা করে, রান্না করে, ভুনা করে, ফিস কাটলি তৈরি করে, এ মাছ খাওয়া যায়।বাংলাদেশের নিম্ন আয়ের মানুষ এই মাছ এই মাছটি সহজে ক্রয় করতে পারে। তেলাপিয়া মাছের যথেষ্ট প্রোটিন রয়েছে। নিচে তেলাপিয়া মাছের কয়টা উপকারিতা দেওয়া হল তেলাপিয়া মাছের উপকারিতা।
  • সুস্বাদু এই তেলাপিয়া মাছটি কম ক্যালরি যুক্ত হলেও এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি।
  • এ মাছটি উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ এবং শরীরের সব ধরনের বৃদ্ধির জন্য রয়েছে অ্যামনো এসিড।
  • এই মাছের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন বি ১২, ফসফরাস, পটাশিয়াম,সেলেনিয়াম. নায়াসিন,ক্যালোরি, কার্বস,চর্বি । তাছারাও আরো বেশ কিছু উপাদান রয়েছে।
  • তেলাপিয়া মাছ সহজলভ্য এবং দামেও সাশ্রয়।
  • তেলাপিয়া মাছে অনেক উপকার রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।
  • শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশের সহায়তা করে।
  • তেলাপিয়া মাছ শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে।
  • হাটের গঠনে সাহায্য করে।
  • হৃদপিন্ডের সুস্থতা নিশ্চিত করে।
  • অকালবদ্ধতা রোধে সহায়তা করে।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও থাইরিয়াট গ্রন্থির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

তেলাপিয়া মাছের অপকারিতা

গবেষকরা কিছু গবেষনা করে দেখতে পায় যে তেলাপিয়া মাছে বেশ কিছু মানুষের শরীরের জন্য অপকারিতা রয়েছে।
  • তেলাপিয়া মাছ খেলে মানুষের শরীরে মরনব্যাধি ক্যান্সারের ঝুকি প্রয় ১০ শতাংস বেড়ে যেতে পারে।
  • গবেষক রা গবেষনা করে তেলাপিয়া মাছে কিছু ক্ষতিকর বিষ খুজে পায়।
  • বিভিন্ন পরিক্ষা নিরীক্ষা করে জানা গেছে তেলাপিয়া মাছের মধ্যে ডিবিউটিলিন এবং ডাইঅক্সিন নামের মারাত্বক রাসায়নিক উপস্থিতি আছে এই মাছের মধ্যে। ডিবিউটিলিন হলো একটি রাসায়নিক যা প্লাস্টিকের বিভিন্ন জিনিষ পত্র তৈরীতে কাজে লাগে। এই বিষ মানব দেহে প্রবেশ করলে হাপানি, অ্যালার্জি, স্থুলতা, সহ নানা ধরনের বিপাকীয় রোগ হতে পারে।
  • একটি জলশায়ে তেলাপিয়ার মতো মাছগুলোকে বিপুল পরিমানে চাষ করা হয়। এসব মাছ রোগ প্রবন হয়। এগুলো মাছকে বাচিয়ে বা জিয়ে রাখতে কীটনাশকের প্রয়োজন হয়। এই জাতীয় মাছ খেলে ক্ষতির উপাদান গুলো শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তা থেকে হতে পারে প্রানঘাতি রোগ।

তেলাপিয়া মাছে কি এলার্জি আছে

তেলাপিয়া মাছে কোন রকমের এলার্জি নাই বললেই চলে। তবে সামুদ্রিক মাছগুলো যেমন ইলিশ ও পুটি মাছ এগুলোতে প্রচুর পরিমাণেএলার্জি আছে। আপনার যদি এই মাছ খাওয়ার পর বুছতে পারেন যে আপনার শরীরে এলার্জির মতো দেখা যাচ্ছে তাহলে বুঝবেন এই মাছে আপনার এলার্জি আছে। তবে কারো কারো এলার্জির ধরন অনুযায়ী এই মাছ খাওয়ার পরে এলার্জি হতে পারে।

তেলাপিয়া মাছের খাবার

পুকুরে পর্যপ্ত পরিমানে মাছ বড় করার জন্য মাছের পুস্টিকর খাবার দেওয়া অবশ্যই জরুরি। কারন খাদ্যর মাধ্যমেই মাছ পর্যপ্ত বড় এবং স্বস্থ্যবান হবে।পুকুর প্রস্তুতির পরে আপনাকে পোনা মাছ ছারতে হবে এবং তারপরে খাবার সরবরাহ করতে হবে।তেলাপিয়া মাছ চাষে লাভবান হতে হলে আপনাকে দুই নিয়মে খাবার দিতে হবে। যেমন,
১. ভাসমান খাবার পদ্ধতি
২.ডুবন্ত খাবার পদ্ধতি
প্রত্যেকদিন আপনাকে এই দুই পদ্ধতিতে খাবার দিতে হবে। তাহলে মাছ চাষে ভালো সফলতা পাবেন।
ভাসমান খাবার তৈরী করার নিয়ম-
তেলাপিয়া মাছের ১০০ গ্রাম খাবার তৈরীকরার নিয়ম
  • এ্যাংকারের ডাল মিলে ভাঙ্গানো- ৪৫%
  • সয়ামিল মিলে ভাঙ্গানো- ৪০%
  • রাইস ব্রান -২৫%
উপরের উপাদান গুলো মিলে পিশে আনতে হবে মানে আটা ভাঙ্গানো মেশিনে ভাঙ্গাতে হবে। তারপর সবগুলো উপাদান একসাথে মিশিয়ে মাছের অনুপাতে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।এই ভাসমান খাবারগুলো বিকেলের দিকে পুকুরে দিতে হবে। এই পদ্ধতিতে মাছকে খাবার খাওয়ালে রেজাল্ট খুব ভালো আসে।
ডুবন্ত খাবার তৈরীর নিয়ম-
তেলাপিয়া মাছের ১০০ গ্রাম খাবার তৈরী করার নিয়ম
  • ফিসমিল-২৫%
  • রাইস ব্রান-২৫%
  • এ্যাংকার বেসন-১৫%
  • সয়ামিল -২৫%
  • ১ কেজি লবন-
  • ৫০০ গ্রাম ভিটামিন প্রিমিক্স
  • ১ কেজি চিটাগুরা
উপরের উল্লেখিত খাবার গুলো একসাথে মিশিয়ে ডুবন্ত খাবার ট্রেতে পুকুরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় প্রয়োগ করতে হবে।



উপরের নিয়ম মেনে মাছ চাষি তেলাপিয়া মাছকে খাবার খাওয়ালে বেশ ভালো মানের মাছ উৎপাদন করতে পারবেন। তেলাপিয়া মাছ চাষে আপনাকে নিয়মিত উপযুক্ত খাবার প্রয়োগ করতে হবে। তেলাপিয়া মাছ স্বাভাবিকভাবে প্রাকৃতিক ক্ষেত্র হিসেবে সেওলা খেয়ে থাকে। এছাড়াও তেলাপিয়া মাছ সব ধরনের খাবার খেয়ে থাকে ।

লেখকের মন্তব্য

আশা করি বন্ধুরা আপনারা সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে তেলাপোয়া মাছের উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন এবং বুঝতে পেরেছেন। এরকম তথ্য তথ্য বহল আর্টিকেল পেতে আপনারা msta2z.com ব্লগ ভিজিট করুন। বন্ধুরা সব খাবারের উপকারিতা এবং অপকারিতা আছে। কোন খবারই বর্তমান বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সম্মত নয় আবার সব খাবারই ভালো। বন্ধুরা ভালো থাকবেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *