msta2z.com ব্লগের সাথে থাকুনমানুষের জন্য পাতলা পায়খানা একটি সাধারন স্বাস্থ্য সমস্যা। একটু খাবারের সমস্যা হলেই পাতলা পায়খানা দেখা দেয়। পাতলা পায়খানা বিভিন্ন কারনে হতে পারে। তবে পাতলা পায়খানায় কিছু কিছু খাবার খাওয়া যায় আবার কিছু কিছু খাবারা খাওয়া যায় না।এই জন্য বলা হয়েছে পাতলা পায়খানায় গরুর মাংস খাওয়া যাবে কি তা নিয়ে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
যে কারনে পাতলা পায়খানা হয় সেগুলো হলো – ভাইরাসে, ব্যাকটেরিয়া, খাদ্যে বিষক্রিয়া,অন্ত্রের রোগ, ছত্রাক, এবং ঔষুধের পাশ্বপ্রতিক্রিয়ার কারনে পাতলা পায়খান হয়।
ভৃমিকা
পাতলা পায়খানা হলে মানুষের শরীরের পানি বেড়িয়ে যায়। যার ফলে শরীরে পানিশুন্যতা দেখা দেয়। এই পানিশুন্যতা পূরন করতে না পারলে অনেক সময় রোগী মারাও যেতে পারে। এই রোগ টা অতি সামান্য কিন্তু শরীরকে অনেক সময় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। এজন্য খাবার খাওয়া টা বুঝেশুনে খেতে হবে।
পাতলা পায়খানায় গরুর মাংস খাওয়া যাবে কি
পাতলা পায়খানা হলে মানুষের পাকস্থলির পানি ক্ষরন বেড়ে যায়।যা হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।তাছারাও পাতলা পায়খানা হলে শরীরের পানিশুন্যতা হয়ে যায় এবং ইলেকট্রেলাইটস বেরিয়ে যায়। যা শরীরের জন্য মারাত্বক ক্ষতি হয়ে যায়।
গরুর মাংস প্রচুর প্রটিন যুক্ত খাবার। গরুর মাংসে রয়েছে প্রেটিন, আয়রন, জিঙ্ক এবং ভিটামিন বি১২ ।
এই প্রটিন হজম করতে শরীরে প্রচুর পরিমানে পানি ও ইলেকট্রোলাইটস প্রয়োজন হয়। তাই পাতলা পায়খানায় গরুর মাংস খাওয়ায় হজমে সমস্যা হয়ে যাবে। রোগীর আরো সমস্যা বেরে যাবে। কারন গরুর মাংসে চর্বিও বেশী থাকে।
গরুর মাংসে থাকা চর্বি ও কোলেস্টেরল পাকস্থলির সমস্যাকে আরো বেরে তুলতে পারে। পাতলা পায়খানায় শুধু গরুর মাংসই নয় অন্য কোন চর্বি জাতিয় মাংস খাওয়া যাবে না। এ সময় মাংস খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলতে হবে। চর্বি হজম করতে বেশী সময় লাগে যার জন্য পাকস্থলীতে ব্যাথা ও জ্বালাপোরা শুরু হয়।
ত বন্ধুরা এবার বুঝতে পেরেছেন যে পাতলা পায়খানায় গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পাতলা পায়খানা ভালো না হওয়া পর্যন্ত হালকা খাবার যেমন, নরম ভাত, ভাতের মার, চিরা ভেজানো পানি,চিরা, ফলের রস, ডাবের পানি পাকা কলা, কাঁচা কলা সেদ্ধ, এবং অল্প মশলার তরকারি খেতে হবে।
পাতলা পায়খানায় মাছ খাওয়া যাবে কি
পাতলা পায়খানায় মাছ খাওয়াটা আপনার মুখের রুচি এবং পায়খানার ধরনের উপর নির্ভর করে। পায়খানা হলে মানুষের এমনিতেই শরীর দুর্বল হয়ে পরে। এসময় একটু পুষ্টির প্রয়েজন আছে। পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হলে মাছ খাওয়া টা কোন সমস্যা হতে পারে না। যদি আপনি খেতে পারেন। এটি আপনার খাদ্যে কিছু প্রেটিন পাওয়ার সর্বোত্তম বিকল্প।
এসময় মাছ খাবেন ভালে করে সেদ্ধ করে এবং কম মশলা দিয়ে রান্না করে। এবংতার সঙ্গে নরম ভাত, সবজি খেতে পারবেন। তবে দুধ, চা, কফি, এবং তেলুক জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকা টাই ভালো।
পাতলা পায়খানায় ডিম খাওয়া যাবে কি
ডিমে আছে ফাস্ট ক্লাস প্রেটিন। আর এই প্রেটিন শরীর খুব সহজেই গ্রহন করে নেয়। তবে মনে রাখতে হবে যে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সময় ডিম খেলে পেটে সহ্য করতে নাও পারে। আসলে প্রটিন কে ভাঙ্গাতে শরীরকে একটু বেশী পরিশ্রম করতে হয়। এত বহু এনজাইম লাগে। এটা একটা জটিল প্রক্রিয়া। তাই জন্য বন্ধুরা ডায়রিয়া হলে প্রেটিন যুক্ত খাবার এরিয়ে চলতে হবে।
খাওয়ার ইচ্ছে হলে ও খাওয়া যাবে না। আর সেক্ষেত্রে ডিম না খাওয়াটাই ভালো। এ বিষয় টা মাথায় রাখতে হবে পায়খানার রোগীর। এবার থেকে অপনি অবশ্যই পায়খানার সমস্যায় ডিম খাবেন না। ডিম খেলে আবার পায়খানা বেশী হতে পারে।
পাতলা পায়খানায় চিরা খাওয়া যাবে কি
পাতলা পায়খানা একটি সাধারন পেটের সমস্যা । এসময় রোগীকে তেল , চর্বি, দুধ, বা দুগ্ধজাতীয় কোন খাবার খাওয়ানো যাবে না। এসয় অবশ্যই নরম খাবার যা সহজে হজম হবে তা খাওয়াতে হবে। যেমন, চিরা, চিরার পানি, ভাত, ভাতের মার, পাতলা ডাল,( ছোট মটর), পাকা কলা, কাঁচা সেদ্ধ কলা ও ডাবের পানি খাওয়াতে হবে এবং এগুলো পাশাপাশি স্যালাইন পানি খাওয়াতে হবে।
তা বন্ধুরা আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে পাতলা পায়খানয় চিরা খাওয়ানো যাবে।
পাতলা পায়খানায় কি কি ফল খেতে পারবে
যেসব ফলে পটাসিয়াম বেশী সেগুলো ফল রোগীকে খাওয়াতে হবে। কারন পাতলা পায়খানায় শরীর থেকে পটাসিয়াম বেরিয়ে যায়। পটাসিয়াম যুক্ত ফল খাওয়ানোর ফলে শরীরের পটাসিয়াম পূর্ন হয়। পাতলা পায়খানায় যেসব ফল খাওয়া যাবে সেগুলো হলো-
- আপেল
- ডাবের পানি
- নাসপতি
- কাঁচা কলা
- পাঁকা কলা
- আনারস
- আম
- পেঁপে
- পেঁয়ারা ইত্যাদি ফল খেতে পারবেন।
পাতলা পায়খানা হলে কি কি খাবার খাওয়া যাবে না
শরীরের পানি এবং লবণের পরিমান কমে গেলে পাতলা পায়খানা ভয়াবহ অবস্থা ধারন করতে পারে। ডাক্তারদের মতে, পাতলা পায়খানার শুরুতেই পানি এবং পানি জাতীয় খাবার বেশী করে খেতে হবে। যে গুলো খেলে পায়খানার পরিমান বেড়ে যাব সেগুলো না খাওয়া টাই শরীরের পক্ষে ভালো হবে। যেগুলো খাওয়া যাবে না-
- দুধ এবং দুধের তৈরী খাবার
- তেলুক এবং চর্বি জাতীয় খাবার
- বেশী মশলা যুক্ত ও ঝাল খাবার
- প্রটিন যুক্ত খাবার
- কাঁচা বা আধা সিদ্ধ শাক-সবজি
- চা বা কফি
- সিগারেট বা মদ্যপান করা যাবে না।
কি খেলে পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়ে যাবে
পাতলা পায়খানায় একটি বিশেষ প্রচালিত খাবার হচ্ছে কাঁচা কলা বা কাঁচা কলার তরকারি।যে খাবার গুলো খাবেন সেগুলো হলো-
- স্যালাইন পানি( ওরস্যালাইন)
- ডাবের পানি
- চিরার পানি বা ভেজানো চিরা
- লবণ ও গুর পনি মিশিয়ে
- নরম ভাত বা ভাতের মার
- পাকা কলা বা কাঁচা কলা সেদ্ধ
- ফলের রস (বেদেনা বা ডালিম ফল)
পাতলা পায়খানা হলে কোন ঔষুধ খেতে হবে
পাতলা পায়খানায় এলাপ্যাথি বা হোমিও প্যাথি অনেক ঔষুধ আছে। এটা নির্বচন করতে হবে আপনার পায়খানার ধরনের উপর। সুতরাং আপনার অবস্থার বিস্তারিত না জেনে কোন ঔষুধ খাবেন তা বলা টা ঠিক নয়। তবে পাতলা পায়খানার কয়েক টা ঔষুধের নাম নিচে দেওয়া হলো-
আপনে যেকোন ফার্মেসিতে গেলে পাবেন
- অ্যামোডিস
- ফ্লাজিল
- মেট্রিল
- আনেকে আবার সিপ্রোফ্লাক্সাসিন বা আজিথ্রোমাইসিন আন্টিবায়োটিক খেয়ে থাকেন।
শেষ কথা
পাতলা পায়খানা হলো পেটের সমস্যা। এসময় আপনাকে খাবার বিষয়ে সাবধান হতে হবে। পাতলা পায়খানা এবং পেটের গন্ডগল হলেই বাধাকপি, মেথি, গাঁদাল, থানকুনি, কাঁচা পেঁপে, ও প্রভৃতি সবজি সেদ্ধ অথবা পাতলা ঝোল করে খাবেন। সজনে পাতার ঝোল এই রোগে বেশ কার্যকরী।