ওলট কম্বল গাছের হাজারো গুনাগুনবৈজ্ঞানিক মতে, লেবুর টক রসে আছে সাইট্রিক অ্যাসিড। লেবুর রস পেটের সব জীবাণু ধংস করে। বিশেষ করে প্রত্যেকটা মানুষের জন্য পাতি লেবুর গুনাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে থাকা দরকার। পাতি লেবু রক্ত শুদ্ধ করে। এতে আছে প্রটিন,চর্বি, প্রাকৃতিক লবণ, শর্করা, ক্যালশিয়াম, পটাশ, ফসফরাস আর লোহা।তাই লেবুকে ভিটামিনের ভান্ডার বলা হয়ে থাকে।
প্রত্যেক দিন খাবারের সময় খাবারের পাতে এক টুকরো করে লেবু থাকা দরকার। লেবু খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতোরোধ করে। প্রচুন্ড গরমে লেবুর রস ঠান্ডা পানিতে মিশেয়েখেলে আমাদের শরীর টা ঠান্ডা হয়ে যায় এবং তাড়াতাড়ি ক্লান্তি দুর করে দেয়।
ভৃমিকা
আমাদের বাংলাদেশে বাঙালি খাবারের টেবিলি পাতি লেবু একটি অন্যতম সবজি তালিকার মধ্যে পরে।পাতি লেবু যেমন স্বাদ বৃদ্ধির ভৃমিকা পালন করে তেমনি আছে বিশেষ খাদ্যগুন।এই লেবু খেয়ে বিভিন্ন শারিরিক উপকার পাবেন। আপনাদের লেবু খেয়ে যদি কোন সমস্যা না হয়ে থাকে তাহলে প্রত্যেক দিন একটুকরা করে লেবু খাবেন এতে শরীরের উপকার হবে।পাতি লেবুতে কি কি গুন আছে তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
পাতিলেবুর কয়েকটি গুনাবলি
লেবুতে ভিটামিন সি বেশী মাত্রায় আছে। আতএব স্কার্ভি ও রক্তপিত্ত রোগে খুব উপকারি। দাঁত থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে। এতে ভিটামিন বি-ও আছে। পাতি লেবুর গুনাবলি গুলো নিচে দেওয়া হলোঃ
সকাল বেলা খাওয়ার আগে খালি পেটে একটা পাতি লেবুর রস গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে লিভারের দোষ ও পিত্তের দোষ সারে এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
১। এক পেয়ালা করা চা-এ একটা পাতি লেবুর রস মিশিয়ে খেলে মাথা ধরা সারে ও মন চাঙ্গা হয়ে উঠে।
পাতি লেবুর রস বহু মুত্র রোগে উপকারি।
২। স্কার্ভি ও অস্থিসংক্রান্ত রোগে টাটকা লেবুর রসই মহৌষধি।
আরো পড়ুনঃ
রোগ প্রতিরোধে গাজর ও মূলা খাওয়ার উপকারিতা
৩। কয়েক ফোটা পাতি লেবুর রস পানিতে মিশিয়ে পান করলে চোখের জ্যোতি বাড়ে।
৪। শীতকালে হাত পা জ্বালা করলে ত্বক ও চামরা ফেটে গেলে গ্লিসারিনের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে মাখলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
৫। চুলকানিতে,গাঁয়ে সূর্যের বেশী তাপ লাগলে যে কষ্ট হয় তাতে লেবুর রস বিশেষ উপকারি।
৬। বিছে বা বিশাক্ত পোকা যে জায়গায় কামরেছে লেবু ঘষলে সেই জায়গায় জ্বালা কমে যায়।
৭। শরীরে কোন জায়গা কেটে গেলে এক টুকরা কাপর লেবুর রস ভিজিয়ে রাখলে সেখানে জরিয়ে রাখলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।
৮। লেবু টক হলেও অস্নজনক নয়। অল্প পরিমানে লেবুর রস খেলে অস্নত্ব নষ্ট হয়ে যায় এবং ক্ষার গুন বৃদ্ধি পায়।
পাতি লেবুর অনেক গুণ
৯। দুই চা চামুচ লেবুর রস ও দুই চা-চামুচ আদার রস মিশিয়ে তাতে একটু চিনি মিশিয়ে খেলে বদহজমজনিত সব রকম পেটের ব্যাথা সারে।
১০। লেবু আর পেয়াজের রস ঠান্ডা পানিতে গুলিয়ে খেলে বদ হজমের জন্য যে পেটের অসুখ হয় তাতে উপকার হয় -এমনকি কলেরাতে ও উপকার পাওয়া যায়।
১১। সোয়ার সময় গরম পানিতে লেবুর রস গুলিয়ে খেলে সর্দি সারে। কিছুদিন ধরে এইভাবে খেলে পুরোনে সর্দি ও সেরে যায়।
১২। অল্প লেবুর রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে চেটে খেলে ও প্রবল কাশিও ভালো হয়।হাপানির আক্রমন তৎক্ষানাৎ থেমে যায় এবং আরাম পাওয়া যায়।
১৩। লেবুর রস আঙ্গুলে লাগিয়ে দাঁতের মাড়িতে মালিশ করলে দাঁত থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।
১৪। লেবুর রসে মধু মিশিয়ে বাচ্চাদের চাটিয়ে খাওয়ালে বাচ্চাদের দুধ তোলা বন্ধ হয় ।
১৫। লেবুর রসে চিনি ও পানি মিশেয়ে এক মাস ধরে রাতে শোয়ার আগে খেলে বহু কোষ্ট কাঠিন্য সেরে যায়।
১৬। একটি পাকা পাতি লেবুর রসে অল্প মধু মিশিয়ে চাটলে শরীরের স্থুলতা কমে ও স্ফর্তি আসে।
১৭। পাকা পাতিলেবুর রসে সমপরিমান মধু মিশিয়ে অল্প গরম পানি মিশিয়ে আহারের পর সঙ্গে সঙ্গেই পান করে নিলে এক-দু মাসের মধ্যেই মেদ ভুরি কমে যায় এবং শরীর বেড়ে যাওয়ার মেদ ও ঝরে যায়।
১৮। লেবুর রসে সর্ষের তেল মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন । ঠান্ডা হলে ছেকে শিশিতে ভরে রাখুন। কানে দু ফোটা করে দিলে -পুজ পরা, চুলকানি,কানের ব্যাথা এমনকি বধিরতার ও উপশম হবে।
১৯। লেবুর খোসা লেবুর রসে পিষে পুলটিস তৈরী করে গরম করে বাধলে বা লেবুর রস ঘষলে নানা কারনে ত্বকের যে দাগ পরে তা দুর হয়ে যায়।
২০। লেবু আর সর্ষের তেল সমপরিমান মাথায় লাগিয়ে তারপরে টক দই দিয়ে ঘষে মাথা ধুয়ে ফেললে মাথায় ছোট ছোট ফুসকরি হওয়া ও মাথার চামরা শক্ত হয়ে যাওয়ার উপকার পাওয়া যায়।
২১। লেবুর রস মাথায় ভালো করে ঘষে নিয়ে চুল ধুয়ে ফেললে চুলের ময়লা দুর হয় এবং মাথার চুলকানি সারে। চুল চকচকে আর পরিস্কার হয়।
২২। এক বালতি গরম পানি বা ঠান্ডা পানিতে একটি লেবুর রস দিয়ে সেই পানিতে গোসল করলে চামরা নরম ও উজ্জল হয়।
নিমপাতার গুনাবলি
নিম হলো বহুবর্ষজীবি গাছ। এর বিজ্ঞান সম্মত নাম হলো অ্যাজিডি র্যাকটা ইন্ডিকা। নিম গাছে ফাল্গুন মাসে কচি পাতা এলই এর কচি পাতা শাক হিসাবে বেগুনের সাথে ভেজে খাওয়া শুরু হয়। গরম ভাতের সাথে কচি নিম -বেগুন দারুন মানানসই। এছারাও কাচাকলা, পেঁপে, আলু, বেগুন, ও সজনে ডাটার সঙ্গে নিমপাতা মিশিয়ে শুক্তের ঝুল করেও খেতে পারেন।
কচি পাতায় তেতো স্বাদ থাকায় এটি শরীরের পক্ষে উপকারি। কচি পাতায় প্রচুর পরিমানে (প্রতি ১০০গ্রাম ২৫.৩ মিলিগ্রাম) লোহা থাকায় এটি রক্ত স্বল্পতার দারুন কাজ করে। নিমপাতায় একটি নিজস্ব জীবানুনাশক গুন আছে। হাম, বসন্ত ও চর্মরোগ সারাতে নিমপাতা দারুন কার্জকরি। নিমপাতার রক্ত পরিস্কারক গুন ও রয়েছে।
এছারাও কৃমি ও পাকস্থলির সমস্যা এবং ডায়বেটিসের মতো রোগে নিয়মিত নিমপাতা শাক হিসাবে আপনারা খাওয়ার অভ্যাস করুন। এত আপনাদের প্রচুর উপকার হবে। আপনাদের উপকারের জন্য নিমপাতার কয়েক টি গুনাবলি নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ
- বসন্তকালে নিমপাতা ভেজে খেলে হাম বসন্ত ইত্যাদি হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে।
- পাকস্থলি গন্ডগোলের জন্য বদ হজম হলে অল্প পরিমানে নিম গাছের ছাল গরম পানিতে ভিজিয়ে সকালে খালি পেটে সেই পানিটা ছেকে খেলে দারুন উপকার পাবেন।
- মাঘ মাসের শেষের দিকে সাতটি নিমপাতা এবং সাতটি মসুর ডাল একত্রে চিবিয়ে খেলে বসন্ত রোগ হয় না।
- নিমপাতা ও কাচা হলুদ বেটে নিয়মিত গায়ে মাখলে শরীরের চুলকানি সারে এবং শরীরের উজ্জলতা বারে।
- যারা ডায়বেটিসে ভুগছেন তারা প্রতিদিন সকালে আট-দশটা নিমপাতা চার-পাঁচটা গোল মরিচ সহ চিবিয়ে খেলে এবং খাওয়া দাওয়া সংক্রান্ত সব নিয়ম মেনে চললে রক্ত সর্করার মাত্রা কমবে।
- অল্প পরিমানে( প্রায় ৬ ফোটা ) নিমপাতার রস একটু দুধে মিশিয়ে খেলে দৃষ্টি শক্তির উন্নতি হবে- অস্পষ্ট বা আবছা দেখা চোখে উপকার পাওয়া যায়।
শেষ কথা
শারিরক যে কোন সমস্যা হলেই যে ঔষুধ খেতে হবে তার কোন মানে নেই। আমরা দৈনন্দিন যে সমস্ত খাবার গুলো খাই সেগুলো আমাদের শরীরে রোগ প্রতিষেধন করে। আমাদের চারপাশে যে সমস্ত গাছপালা বা আগাছা রয়েছে এবং তার ফলফলাদি প্রত্যেকটাই আমাদের দেহের জন্য কোন না কোন প্রয়োজন হয়ই। আল্লাহ যেমন জীবজগতের সৃষ্টি কর্তা তেমন রক্ষাকর্তা ও বটে। আমার এই পোস্টের পাতিলেবুর গুনাবলি ও নিমপাতার গুনাবলি পড়ে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে পরিচিতদের মধ্যে শেয়ার করে দেন । কারন তারাও পরে উপকৃত হবে ইনশাল্লাহ। পোস্টটি পরে আপনাদের ভালো লেগে থাকলে কমেন্ট বক্সএ কমেন্ট করে জানিয়ে দান। প্লিজ।