ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে – ফিতরা দেওয়ার নিয়ম বিস্তারিত জানুন

রমজানের পোষ্ট ভিজিট করুনফিতরা কাকে দেওয়া যাবে? আসসালামু আলাইকুম মুসলিম ভাই ও বোনেরা। ফিতরা পৃকৃত পক্ষে রোজার যাকাত। অর্থাৎ যাকাত যেমন মালকে পবিত্র করে তেমনি ফিতরাও রোজাকে পবিত্র করে। বিশেষ করে রোজার ভিতরে যে ত্রুতট- বিচ্যুতি ঘটে ফিতরা দ্বারা তা পূরণ হয়ে যায়। ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে আর কাকে ফিতরা দেওয়া যাবে না এই বিষয়ে সঠিক তথ্য এই পোষ্টে লেখা হয়েছে।
ফিতরা কাকে দিয়া যাবে
প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোজাদার মুসলিম বান্দাহ অভাবি লোকদের ফিতরা দিয়ে থাকেন। রমজান মাসে ফিতরা আদায় করার উত্তম সময় হলো ঈদের নামাজে বের হওয়ার আগে। অর্থাাৎ ফিতরা দিয়ে মুসলমানদের নামাজ পড়তে যেতে হবে। বন্ধুরা ফিতরা কি এবং ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে, এবং ফিতরা দেওয়ার নিয়ম কি এই সকল বিষয়ে জানতে হলে আমাদের পুরো পোষ্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ থাকলো। পড়তে থাকুন সম্পর্ন সঠিক এবং হাদিস থেকে নেওয়া।
প্রিয় মুসলমান ভাই ও বোনেরা ফিতরা দেওয়ার আগে ভালো করে জানতে হবে ফিতরা দেওয়ার নিয়ম। আপনারা একটা কথা মাথায় রাখবেন যে, যাকে তাকে ফিতরা দেওয়া যাবেনা। আপনারা কাকে ফিতরা দিতে পারবেন সে বিষয়ে হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। অর্থাৎ যারা অভাবি, সঠিক ভাবে চলতে পারেনা এবং পরিবারের সকল সদস্যকে সঠিক ভাবে ভরন পোষন দিতে পারে না। এবং যেসব পরিবার অভাবি কিন্তু কারো কাছে লজ্জায় হাত পাতায় না সে সব লোকেরা ফিতরার হকদার। তবে আরেকটা কথা নিজেদের আত্নীয়দের মধ্যে সে রকম কোন অভাবি মানুষ থাকলে তারা প্রথম হকদার হবে। তার পর নিজের বাড়ির আশে পাশের প্রতিবেশি এবং তারপর দুরের মানুষ।

সাদকাতুল ফিতরা সম্পর্কে হাদিস

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর( রাঃ) বলেন, নবী করীম (সাঃ) প্রতিটি মুসলমান, ক্রীতদাস, আজাদ, নারী-পুরুষ, ছোট বড়, নির্বিশেষে সকলের জন্য সদকায়ে ফিতর এক সা‘ পরিমাণ খেজুর কিংবা জব নির্ধারণ করেছেন। আর ঈদগাহে রওনার আগেই তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী মুসলিম)
  • ফিতরা প্রকৃতপক্ষে রোজার যাকাত। অর্থাৎ যাকাত যেমন মালকে পবিত্র করে, তেমনি ফিতরা ও রোজা কে পবিত্র করে। অর্থাৎ রোজার ভেতরে যেসব ত্রুটি- বিচ্যুতি ঘটে ফিতরা দ্বারা তা পূরণ হয়ে যায়।
  • ফিতরা ওয়াজিব তাই প্রতিটি মালদার ব্যক্তি তার ও তার পোষ্যদের পক্ষ থেকে ঈদের দিন নামাজে রওনা হওয়ার আগেই তা আদায় করবে। যাকাতের জন্য যেমন নিশাব পরিমাণ মালের পুরা এক বৎসর মালিক থাকা প্রয়োজন ফিতরার জন্য তা নয়। বরং ঈদের দিন সকালে নিসাব পরিমান মালের মালিক হলেই তাকে অবশ্যই ফিতরা আদায় করতে হবে।
  • ইসলামে যেসব পর্ব বা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা আছে তা সর্বজনীন অর্থাৎ অনুষ্ঠান পালন ও তার আনন্দ উৎসব গরিব ধনী নির্বিশেষে যাতে সকলেই উপভোগ করতে পারে ইসলাম তার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে। ফলে ঈদের আনন্দ যাতে সচ্ছল ঘরেই সীমাবদ্ধ না থাকে সেই জন্য রাসূল (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন যে ঈদের নামাজে রওনা হওয়ার আগেই যেন সচ্ছল লোকেরা প্রত্যেকে নিজ ও তার পোষ্যদের পক্ষ হতে অবশ্যই গরিব- মিসকিন কে আদায় করে দেই ।যাতে করে ঈদের আনন্দ শুধু ধনীদের ঘরে সীমাবদ্ধ না থাকে। গরিব-মিসকিনরা ও যেন আনন্দ করতে পারে।
  • ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সাঃ) বাজে কথা ও অশ্লীলতা হতে রোজা কে পবিত্র করার ও মিসকীনদেরকে অন্নদানের উদ্দেশ্যে সাদাকায়ে ফিতর নির্ধারণ করেছেন। (আবু দাউদ)

ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে

ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে? ইসলামে ফিতরা আদায় করা রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদাত। এই ফিতরা দান করা যাকাতের একটি অংশ।ফিতরা আরবী শব্দ। যা ইসলামে যাকাতুল ফিতর বা সাদাকাতুল ফিতর নামে পরিচিত।ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরীব দুস্তদের মাঝে যে অর্থ দান করা হয় বা বিতরন করা হয় তাকে সাদাকাতুল ফিতর বলা হয়। 
রমজান মাস শেষে এই দানকে সাদকাতুল ফিতর বা সকলের আহারের যাকাত বলা হয়। যে ব্যক্তি পবিত্রতা অবলম্বন করেছে সে সফলকাম হয়েছে। (সূরা আলা: ১৪) এ আয়াতটি সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে নাযিল হয়েছে বলে তাফসীরে পাওয়া যায়। এতে ঈমান ও চরিত্রগত অশুদ্ধি এবং আত্মিক যাকাত প্রদান সবাই অন্তর্ভুক্ত ।
ফিতরা দেওয়া ক্ষেত্রে হাদিস কোরানের কিছু স্পষ্ট বিধান রয়েছে। ফিতরা সাধারণত গরিব দুঃখী এবং মিসকিন দেরি পাওয়া উচিত। কারণ যারা যাকাত পাওয়ার অধিকার রাখে তারাই ফিতরার আসল হকদার। এক্ষেত্রে নিজ পরিবার পরিজনের মধ্যে গরিব অসহায় ফিতরার প্রথম হকদার। প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে ফিতরের টাকার অংশ যদি একজনকে দেওয়া হয় তাহলে সে ব্যক্তির অনেক উপকার হবে। ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে এবং ফিতরার আসল হকদার কে এই সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো
ফিতরা যাকে দেওয়া যাবে
ইসলামী শরীয়াহ মতে, যাকে তাকে ফিতরা দেওয়া যাবে না। নিজের সমর্থ্য অনুযায়ী আপনি আটা, খেজুর, চাল, ডাল যেকোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসাবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা যায়। কিন্তু এসব পণ্য গরিবদের তেমন কোন উপকারে আসে না। এজন্য যদি আপনি পারেন এসব পণ্য না দিয়ে পণ্যের সমমূল্য টাকা দিলে তারা বেশি উপকৃত হবে। 
কারণ অসহায় মানুষদের দামি খাবারের চেয়ে টাকার খুবই প্রয়োজন বেশি। টাকা পেলে তারা হয়তো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধান করতে পারবে। প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা জেনে নেয়া যাক ফিতরা কাদের উপর আবশ্যিক-
গরিব মানুষেরা ফিতরার হকদার
গরিব মানুষ বিশেষ করে কোন মধ্যবিত্ত বা গরীব মানুষ যারা অন্যের কাছে হাতপাতাতে লজ্জা বোধ করে বা চাইতে পারে না এরকম মানুষের উপর ফিতরা আবশ্যিক। যদি পারেন আপনারা নিজের এলাকায় বা নিজেদের আত্নীয়দের মধ্যে একটু ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন কাদের পরিবারে অভাব-অনাটন আছে লজ্জায় অন্যের কাছে বলতে পারছে না এরকম পরিবারকে ফিতরা দিলে তারা খুবই উপকৃত হবে।
ফকির ব্যাক্তিরা ফিতরার হকদার
প্রয়োজন পূরন করতে পারে না এবং অর্থ উপার্জন করতে পারে না।এরকম ব্যক্তিদের ফকির বলা হয়। আপনার এলাকায় যদি ফকির থাকে তাহলে তাদের কে ফিতরা দিতে হবে। কারন তাদের উপর ফিতরা আবশ্যিক।
মিসকিনরা ফিতরার হকদার
কোন মানুষের কাছে থাকা সম্পদ দিয়ে তার উপর নির্ভর শীল রোকদের অভাব বা প্রয়োজন পূরন যতেষ্ট না হলে তাকে মিসকিন বলা হয়। প্রিয় দ্বিনি মুসলিম ভাই ও বোনেরা আপনাদেরকে অবশ্যই ঐসব মিসকিনদের কে ফিতরা দিতে হবে। কারন তাদের উপর ফিতরা আবশ্যিক ।
ঋণগ্রস্ত মানুষেরা ফিতরার হকদার
সমাজে এমন লোক আছে যারা ঋণে জর্জরিত হয়ে আছে। ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না বা ঋণ পরিশোধ করতে করথে সংসারে চালাতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে এরকম মানুষেদের কে ফিতরা দিতে হবে।
দাস মুক্ত
যে ক্রীতদাস তার মুক্তিলাভের জন্য অর্থ দেয়ার বিনিময়ে চুক্তিবন্ধ হয়েছে কিংবা কোনো মুসলিম যুদ্ধবন্দিও এ খাতের আওতায় পড়বে।
মুসাফিরদের ফিতরা দেওয়া যাবে
এমন মুসাফির আছে যারা সফরে গিয়ে বিপদে পড়ে বা আহারে সমস্যা হয় তাদের কে ফিতরা দেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে তাদের নিজ আবাসস্থলে সম্পদ থাকতেই পারে। সেটা দেখার বা জানার প্রয়োজন নেই। মূল কথা সে সফরে এসে বিপদে পরেছে বা নিঃস্ব হয়ে গেছে। এরকম মুসাফিরদের আপনারা অবশ্যই ফিতরা দিতে পারবেন।
আল্লাহর পথে খরচ
আল্লাহর পথ বলতে আকিদা বিশ্বাস ও কাজের দিক দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয় যে পথ।
নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ, ছোট-বড় ,স্বাধীন – পরাধীন সকল মুসলিমের জন্য সদকায়ে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব।সদকায়ে ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার সাথে সাথেই আদাই করা উত্তম।(আল বাহরুর রায়েক-২/২৫১পৃষ্টা) যাকাত, ফিতরা, দানখয়রাত আল্লাহর বিধান। 
যে ব্যক্তি যাকাত, ফিতরা দান-খয়রাত করেন, আল্লহ তাদের পাহাড় পরিমান গুনাহ গলো মাফ করে দিবেন। যাকাত, ফিতরা, দান খয়রাত কখনে আগুনে ও খায় না এবং পানিতে ও ডুবে না। এই জন্য আপনি আপনার সামর্থ অনুযায়ি দান করার চেষ্টা করবেন।

ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে না

ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে না? প্রিয় বন্ধুরা আপনারা নিশ্চয় জানেন যে, যাকাত,ফিতরা, দান- খয়রাত দেওয়া হয় গরিব লোকদের । কোন মালদ্বার ব্যক্তিদের নয়। ফিতরা ওয়াজিব তাই প্রতিটি মালদার ব্যক্তি তার ও তার পোষ্যদের পক্ষ থেকে ঈদের দিন নামাজে রওনা হওয়ার আগেই তা আদায় করবে।যাকাতের জন্য যেমন নিসাব পরিমাণ মালের পুরা এক বৎসর মালিক থাকা প্রয়োজন ফিতরার জন্য তা নয়।
বরং ঈদের দিন সকালে নিসাব পরিমান মালের মালিক হলেই তাকে অবশ্যই ফিতরা আদায় করতে হবে। গরিব মানুষ, ফকির, মিসকিন, মুসাফির, ঋণগ্রস্তরা হলো ফিতরার আসল হকদার। এই শ্রেণীর মানুষ ছারা আর অন্য কাউকে ফিতরা দেওয়া যাবে না। মসজিদ মাদ্রাসার নির্মান কাজ, রাস্তাঘাট নির্মান কাজ,দ্বীনের দাওয়াতের কাজে, লাইব্রেরী নির্মান কাজে ফিতরার টাকা দেওয়া বৈধ নয়। 
এই ফিতরার টাকা শুধু গরিব -মিসকিনদের জন্য। তাহলে বন্ধুরা আপনারা অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন কাদেরকে ফিতরা দেওয়া যাবে না। ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে না।

ফিতরা কখন দিতে হয়

ফিতরা কখন দিতে হয়? সাদকাতুল ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের দিন সকালে নিসাব পরিমান টাকার মালিক হলে তাকে ফিতরা আদায় করতে হবে। আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ) বলেন, আমাদের দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত যে পরিমান খাবার উঠে সে পরিমান খাদ্য অথবা এক সা পরিমান গম অথবা এক সা পরিমান খেজুর অথবা এক সা পরিমান পনির অথবা এক সা পরিমান কিশমিশ দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতেন।( বুখারি হাদিস: পৃষ্টা ১৫০৬)
বিঃ দ্রষ্টব্যঃ প্রিয় সকল মুসলিম ভাই বোনদের কে বলা হচ্ছে, আমাদের সবার দায়িত্ব ফিতরা আদায় করা এবং সঠিক সময়ে ফিতরার টাকা বা খাদ্যদ্রব্য হকদারের কাছে পৌছে দিয়া। কোন গরিব বা মিসকিন যেন কষ্ট করে দ্বারে দ্বারে ঘুরে টাকা আদায় করতে না হয়। এতে তাদের খুব কষ্ট হয়। এই জন্য এই সব বিষয়ে আমাদের সকলকে লক্ষ রাখতে হবে। কারন ফিতরা তাদের হক। তাদের হক তাদের বাড়িতে সময় মতো পৌছে দিয়ার চেষ্টা করবো। সকল মুসলিম ভাই ও বোনদের কে আল্লহতায়ালা হেদায়েত দান করুন। আমিন। ফিতরা কখন দিতে হয়?

ফিতরা আদায়ের সঠিক সময়

ফিতরা আদায়ের সঠিক সময়? সাদাকাতুল ফিতরা আদায়ের সময় সাধারনত দুই ধরনের-
  • ১. ফজিলত পূর্ণ সময়
  • ২. সাধারন সময়
১.ফজিলত পূর্ণ সময়ঃ সাদকাতুল ফিতর আদায়ের ফজিলত পূর্ন সময় হলো ঈদের দিন সকালে ঈদের নামাজের আগে। হজরত ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুল (সাঃ) ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার পূর্বে সদাকাতুল ফিতর আদায় করার আদেশ দিয়েছেন। ঈদুর ফিতরের নামাজ একটু দেরিতে পরাই উত্তম। যাতে মানুষ সদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারে। এবং তারাও ঈদের দিনের অভাব মুক্ত খুশি উপভোগ করতে পারে। ফিতরা আদায়ের সঠিক সময়?
২. সাধারন সময় বা জায়েজ সময়ঃ এখানে বলা হয়েছে ঈদুল ফিতরের ঈদের একদিন আগে বা দুই দিন আগে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা। তখন তা ওয়াজিব হিসাবে আদায় হয়ে যাবে। তবে ঈদের দিন বা ঈদের নামাজের আগে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা মোস্তাহাব। কোন কারনে ঈদের নামাজের আগে ফিতর আদায় করতে না পারেন তাহলে পরে হলেও আদায় করতে পারবেন। তাও ওয়াজিব হবে। এটা কখনো নফলে পরিনত হবে না।(হেদায়া:১/২০৮)
বিঃ দ্রষ্টব্যঃ প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা রমজানের আগে ফিতরা আদায় করলে ফিতরা আদায় হবে এবং কয়েক বছরের ফিতরা একসাথে আদায় করলেও ফিতরা আদায় হবে। তবে যদি ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে কোন বড় বাধা থাকে সেক্ষেত্রে।তাই বলে ইচ্ছাকৃত হবে না।

ফিতরা কত টাকা দিতে হয়

ফিতরা কত টাকা দিতে হয়? ফিতরার সঠিক পরিমান হলো প্রতিটি এলাকার প্রধান খাদ্য অর্থাৎ আটা কিংবা চালের জন প্রতি এক সের সারে বারো ছটাক। আর ফিতরার টাকা হিসাব করলে গত বছর ঈদুল ফিতরে ফিতরার সর্বনিম্ন পরিমান ছিল, জন প্রতি ৭৫ টাকা। আর সর্বোচ্চ ফিতরার পরিমান জন প্রতি ছিল ২,৩১০। 
আর এ বছরে ঈদুল ফিতরে ফিতরার সর্বনিম্ন পরিমান জন প্রতি ১১৫ টাকা। আর সর্বোচ্চ ফিতরা হবে ২,৬৪০ টাকা জন প্রতি।গতবছরের চেয়ে এ বছর ফিতরার নূন্যতম হার ৫৩ শতাংশ বেশি । ইসলামি শরিয়াহ মতে চাল, আটা, গম, কিশমিশ, খেজুর ও পনির ইত্যাদি পণ্যগুলো যোকোন একটি দ্বারা ফিতরা দেওয়া যাবে।
  • আপনি যদি গম কিংবা আটা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে চান তাহলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম দিতে হবে যার বাজার মূল্য ১১৫ টাকা হবে।আর টাকা দিলে ১১৫ টাকা দিতে হবে।
  • কিশমিশ দ্বারা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ১ হাজার ৬৫০ টাকা
  • খেজুর দ্বারা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ১ হাজার ৯৮০ টাকা
  • যব দ্বারা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ৩৯৬ টাকা
  • পনির দ্বারা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ২ হাজার ৬৪০ টাকা ফিতরা প্রদান করতে হবে।
বন্ধুরা দেশের সকল বিভাগ থেকে সংগৃহিত আটা, যব, খেজুর, ও কিশমিশ বাজারমূল্যর উপর খেয়াল রেখে ফিতরা নির্ধারন করেছেন বাংলাদেশ সরকার। মুসলমান ভাই ও বোনেরা আপনাদের যার যার সামর্থ্য অনুযায়ি ‍উপরোক্ত পণ্য গুলোর যে কোন একটি পণ্য বা বাজার মূল্য দ্বারা সাদকাতুল ফিতর আদায় করতে পারেন। যদি আপনাদের সামর্থ ভালো থাকে তাহলে ফিতরার টাকা একটু বেশি করে দিলে কোন ক্ষতি নেই।

কত টাকা হলে ফিতরা দিতে হবে

কত টাকা হলে ফিতরা দিতে হবে? যাকাতের জন্য যেমন নিসাব পরিমান (৪৫ হাজার টাকা) মালের পুরা একবছর মালিক থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ফিতরার জন্য তা নয়।বরং ঈদের দিন সকালে নিসাব পরিমান মালের মালিক হলেই তাকে অবশ্যই ফিতরা আদায় করতে হবে। মুসলিম ভাই ও বোনেরা নিজ সামর্থ্য অনুযায়ি বেশি মূল্যের খাদ্যবস্তুকে মাপকাঠিতে ধরে ফিতরা আদায় করা উত্তম। কারন সদকার ক্ষেত্রে গরিবদের প্রয়োজন পূরণ ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষন হলো গুরুত্বপূর্ণ।

ফিতরা কি টাকা দিয়ে আদায় হবে

ফিতরা কি টাকা দিয়ে আদায় হবে? আমরা খাদ্য দ্রব্য বা টাকা উভয় দিয়েই ফিতরা আদায় করতে পারি। এটা নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ির কোন প্রয়োজন নেই বা তর্ক করার ও প্রয়োজন নেই। কারন সাহাবী (রাঃ) রা খাদ্যর পরিবর্তে টাকা দিয়ে ফিতর আদায় করতেন। এ থেকে বুঝা যায় যে টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। 
যে বিষয় টি সাহাবি (রাঃ) আমল করে গিয়েছেন, সে বিষয়টিকে অবৈধ্য নাযাজেয বলা যাবে না বা কোন তর্ক করা যাবে না। তাহলে বন্ধুরা আপনারা বুঝতে পেরেছেন ফিতরা টাকা দিয়ে আদায় করা যায়।ফিতরা কি টাকা দিয়ে আদায় হবে

কারা ফিতরা দিবেন এবং কাকে দিতে হবে

কারা ফিতরা দিবে এবং কাকে দিতে হবে? ঈদের দিন সকাল বেলায় যিনি সাহেবে নিসাব থাকবেন, তাঁর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। ছোট-বড় সবারই ফিতরা দিতে হবে। যাঁরা সাহিবে নিসাব নন, তাঁদের জন্যও ফিতরা আদায় করা সুন্নত ও নফল ইবাদত। অসহায় গরিব, ফকির, মিসকিন যারা জাকাত পাওয়ার যোগ্য, তারাই ফিতরার হকদার। ফিতরা নির্ধারিত খাদ্যসামগ্রী বা তার মূল্যে টাকায়ও আদায় করা যায় এবং অন্য কোনো বস্তু কিনেও দেওয়া যায়।

পাঠকদের কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

ঈদের দিন যাকাত ফিতর দেওয়া যাবে কি?
উত্তরঃ ঈদের দিন ঈদের নামাজ পরার আগে যাকাত ফিতর পরিশোধ করতে হবে।
ফিতর কারা কারা দিতে পারবে?
উত্তরঃ প্রত্যেক স্বাধিন ব্যক্তির উপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। যে ব্যক্তিরা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রাব্য, কাপর চোপর, বাড়ি, গারি কেনার মতো সামর্থা আছে তাদের কে ফিতর দিতে হবে।
এবারের সদকাতুল ফিতর কত টাকা?
উত্তরঃ এবারের সাদকাতুল ফিতরের টাকা সর্বনিম্ন জন প্রতি ১১৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৬৪০ টাকা নির্ধারন করেছেন বাংলাদেশ সরকার।ইসলামে ফিতরা কি?উত্তরঃ মানুষের সহজাত প্রকৃতি যা আল্লাহর একাত্বকে স্বীকৃতি দেয় (তাওহিদ) । ইসলামে ফিতরা হলো, ফিতর হলো রোজার যাকাত। রোজার ভিতরে যেসব ত্রুটি -বিচ্যুতি ঘটে ফিতরা দ্বারা তা পূরন হয়ে যায়।
যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ যাকাত হলো প্রতিবছর বাধ্যতামূলক যা মুসলমানদের প্রদান করা হয়। যারা সম্পদের সীমানা পূরন করে। আর ফিতর হলো একটি নির্দিষ্ট ধরনের দাতব্য যা রমজানের শেষে দেওয়া হয়।
চাউল দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে কি?
উত্তরঃ জ্বি হ্যা, চাউল দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে।

শেষ কথা

বন্ধুরা আমরা এই পোষ্টে জানতে পারলাম ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে, ফিতরা দেওয়ার নিয়ম, ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে না, ফিতরা কখন দিতে হয়, ফিতরা কারা কারা দিতে পারবে ইত্যাদি প্রত্যেকটি কি ওয়ার্ড নিয়ে আমরা সঠিক তথ্য জানতে পারলাম। 
আশা করি মুসলিম ভাই ও বোনেরা গরীব দুঃখি মানুষদের কে কষ্ট করে দ্বারে দ্বারে ফিতরার জন্য না ঘুরিয়ে বরং তাদের দরজায় সঠিক সময়ে গিয়ে ফিতরার টাকা হোক বা পণ্য হোক পৌছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো।ইনশাল্লাহ। সকলে ভালো থাকবেন। এবং রমজান মাসের ৩০ টি ফরজ রোজা আদায় করার চেষ্টা করবেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *