বিদেশে যাওয়ার কিছু প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রিয় পাঠক বিদেশে কর্মিদের অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো করে পড়তে থাকুন। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে মানবধিকারের সার্বজনীন ঘোষনাটি গ্রহন করা হয়। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশে এই ঘোষনাটি কার্যকর করার পরামর্শ দেওয়া হয়া।
যারা বিদেশে অনেক কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করেন তারা নিজের জীবন,পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জীবন সর্বপরি নিজ দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনেন। বিদেশে কর্মিদের জীবন ব্যাবস্থা, চলাফেরা, খাওয়া দাওয়া ইত্যদি বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করে আইনটি চালু করেছেন।
ভৃমিকা
বিদেশে থাকা অবস্থাই অনেক ধরনের বিপদ-আপদ হতে পারে। নিজের সমস্যা নিজেই সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।আশে পাশে যারা অভিজ্ঞ ব্যক্তি,বন্ধু বা সহকর্মি আছেন তার নিশ্চয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে পারেন। বিদেশে কর্মিদের অধিকারের যে ঘোষনা দিয়েছে,উক্ত ঘোষনা থেকে বিশেষ কয়েকটি অনুচ্ছেদ নিচে তুলে ধরা হলো।
বিদেশে কর্মিদের অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সনদ
শ্রমিকের অধিকার সর্বজননী মানবধিকার ঘোষণাঃ
অনুচ্ছেদ ৩:
প্রতিটি মানুষের জীবন,ব্যক্তিগত এবং নিরাপত্তার অধিকার আছে;
অনুচ্ছেদ ৪:
কোন ব্যক্তিকে দাসত্ব বা গোলামির শৃঙ্খলে ধরে রাখা যাবে না। সকল প্রকার দাসত্ব বা দাস বাতিল করা হলো;
অনুচ্ছেদ ৫:
কোন ব্যক্তি সেচ্ছাকোন ব্যক্তি অত্যাচার, নিষ্ঠুর,অমানবিক, অথবা মর্যাদা হানিকর ব্যাবহার বা শাস্তির অধিনে থাকবে না;
অনুচ্ছেদ ৯:
কোন ব্যক্তি সেচ্ছাচারি, গ্রেফতার, অটক অথবা বন্দীত্বের স্বীকার হবে না;
অনুচ্ছেদ ১১:
১. ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত সকল ব্যক্তি নিরপরাধ গণ্য হওয়ার অধিকার রাখেন। যতক্ষন পর্যন্ত আইনের দ্বারা সাধরন আদালতে তিনি অপরাধি প্রমানিত না হবে, সেখানে তিনি নিজের পক্ষে লড়াই করার সকল সুযোগের আশ্বাস পাবেন;
আরো পড়ুনঃ মেয়েদের ঘরে বসে আয় ১৫,০০০-২০,০০০ টাকা
২. কোন কর্মকান্ড বা কর্তব্য অবহেলার দায়ে ফৌজদারি অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা যাবে না। যদি সেই অপরাধটি ঘটার সময় কোন জাতিয় বা আন্তর্জাতিক আইনের আওত্তায় ফৌজদারি অভিযোগ বা অভিযুক্ত হয় অথবা যে সময় অপরাধটি সংঘটিত হয় সেই সময়ে প্রয়োগ কৃত শাস্তির চেয়ে অধিক শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ ১৮:
প্রত্যেকে তার নিজ চিন্তা, নীতি এবং ধর্মকে লালন করার অধিকার রাখেন। নিজ ধর্ম বা বিশ্বাসের পরিবর্তনের স্বাধীনতা, একা বা সমাজের অন্যান্যদের সাথে অথবা ব্যক্তিগত ভাবে বা প্রকাশ্যে তার ধর্ম বা বিশ্বাস শিক্ষা দেয়া, চর্চা করা, প্রার্থনা করা, এবং পালন করার স্বাধীনতা এই অধিকারের আওতাভুক্ত।
অনুচ্ছেদ ২৩:
প্রতিটি ব্যক্তির কাজ করার ও জীবিকা বাছাই করার স্বাধীনতা আছে। এবং কাজ করার সুষ্ঠু পরিবেশে এবং বেকারত্ব থেকে নিজেকে রক্ষা করার অধিকার সংরক্ষণ করে।
সকল অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অধিকার সংরক্ষন সংক্রান্ত
- অভিবাসী শ্রমিক দের অবস্থার কথা বিবেচনা করে জাতিসংঘের এই কনভেশন ১৯৯০ সালে প্রনয়ন করা হয়। ২০০৩ সালের ১ জুলাই কনভেনশনিটি কার্যকর করা হয়।
- এই কনভেশনের উল্লেখ্যযোগ্য বেশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে
- অভিবাসী শ্রমিকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
- জাতি,ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, নির্বিশেষে সকল অভিবাসী শ্রমিকের সাথে বৈষম্যহীন/ সমান আচরন করা;
- দেশ ত্যাগের আগে থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে অভিবাসী শ্রমিককের অধিকার নিশ্চিত করা;
- অনিয়মিত/অ-নথিভুক্ত অভিবাসী শ্রমিকের মানবধিকার রক্ষা করা;
- জাতিসংঘ অভিবাসি শ্রমিক এবং পরিবারের সদস্যদের অধিকার রক্ষার জন্য কনভেনশন গ্রহনের তারিখ ১৮ ডিসেম্বরকে অন্তজার্তিক অভিবাসি দিবস” হিসেবে ঘোষনা করেছেন। বর্তমানে সারা বিশ্বের অভিবাসী শ্রমিকগন প্রতিবছর ১৮ ডিসেম্বর এ দিবস পালন করে;
- অভিবাসী শ্রমিকদের সুবিধার্থে অন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ( আইওএম) এবং এ্যাকশান এইড বাংলাদেশর সহায়তায় বাংলাদেশ মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভল পেমেন্ট ফোরামের উদ্যেগে এই কনভেশনের একটি বাংলা সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে
বিদেশে যাওয়ার জন্য কি কি করতে হবে
- দালাল বা মধ্যস্বত্বভাগেীদের সাথে যোগাযোগ করবেন না;
- রিক্রুটিং এজেন্সিকে চাহিদা পত্র নিয়োগের ক্ষমতাপত্র দেখাতে বলতে হবে;
- চাকুরীর চুক্তিপত্র বিস্তারিত ভাবে পরিক্ষা করতে হবে;
- সরকার নির্ধরিত অভিভাসন ফির বেশী অর্থ প্রদান করবেন না;
- পাসপোর্টের ফটোকপি সংরক্ষন করতে হবে। কখনো পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে সাথে সাথে বিস্তারিত তথ্যসহ দুতাবাসে জানাবেন;
- চুক্তিপত্রের কপি নিজের কাছে রাখবেন। নিয়োগ কর্তার নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার, ইত্যাদি অবশ্যই সাথে রাখবেন ;
- যে নিয়োগকর্তার কাছে চাকুরি নিয়ে যাচ্ছেন সেখান থেকে অন্য চাকুরী নিবেন না। এতে আপনি অবৈধ্য হয়ে যাবেন;
- পাসাপোর্ট, ভিসা, এবং চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের ব্যাবস্থা করবেন অথবা মেয়াদ শেষে দেশে ফেরত আসবেন।
- সবসময় ইকামা/ বাতাকা মাদানীয়া/ ওয়ার্ক পারমিট সাথে রাখবেন। না হলে পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে পারে;
- বেতন না পেলে বা কম বেতন দিলে বা অনেক দেরিতে বেতন দিলেে এবং অতিরোক্ত অন্য কাজে নিয়োজিত করলে দূতাবাসে অভিযোগ পেশ করতে হবে;
- নিয়োগ কর্তা পরিবর্তন করা বেআইনি;
- ভিসা ও চুক্তিপত্র পরীক্ষা করার জন্য জনশক্তি ব্যুরো অথবা সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করা যেতে পারে;
- নতুন কোন চুক্তিপত্র বা সাদা কাগজে স্বাক্ষর করবেন না;
চুক্তিপত্রে যে বিষয়গুলো পরিক্ষা করে নিবেন
যাওয়ার কমপক্ষে দুই দিন আগে এজেন্সির কাছ থেকে চুক্তিপত্র নিতে হবে। চুক্তিপত্রে যা যা পরিক্ষা করে নিবেন তা নিচে দেয়া হলো
চুক্তির মেয়াদ
বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি
খাবার ও আহার ভাতা
বাসস্থান
কর্মঘন্টা, ওভারটাইম ভাতা ও অন্যান্য শর্তাদি
ছুটি ও সামাজিক নিরাপত্তা
যাওয়া আসার বিমান ভাড়া
বিদেশ যেতে কি কি কাগজ লাগে
বিদেশ যাওয়ার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে নিম্নবর্নিত কাগজপত্র আপনার কাছে আছে কি
লেখকের মতামত
প্রবাস জীবনে পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী থাকতে হয় া তাই মানসিক কষ্ট থাকা স্বাভাবিক। ভিন্ন পরিবেশ ও ভিন্ন সাংস্কৃতিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এই জন্য বিদেশ যাওয়ার পূর্বে প্রবাসে দৈনন্দিন জীবন এবং প্রবাসে কর্মিদের অধিকার সম্পর্কে কিছুটা ধারনা নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।