মায়ের গর্ভে বাচ্চা কিভাবে তৈরি হয়- ভ্রুন ও ফিটাসের বিকাশ

প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের বীর্য যা সন্তান জন্ম দিতে অংশগ্রহন করে। এবং প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর জনন কোষ যা সন্তান জন্মদানে অংশগ্রহন করে। মেয়েদের (জরায়ু) একটা অঙ্গ যেখানে ভ্রুন ও ফিটাসের বিকাশ হয়। যার ফলে স্বামী এবং স্ত্রীর যৌন মিলনের ফলে মাতৃগর্ভে শিশুর তৈরী হয়। ত যাই হোক বন্ধুরা মায়ের গর্ভে বাচ্চা কিভাবে তৈরী হয় তা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো-
মায়ের গর্ভে বাচ্চা কিভাবে তৈরী হয়।
গর্ভধারনের ৭ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে শিশুর ছোট ছোট চোখ, কান, হাত, নখ তৈরী হতে শুরু করে।সে সময় শিশুটি ২ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। ‍মুখ ও তৈরী হতে শুরু করে সে সময়।

ভৃমিকা

মায়ের জরায়ুতে ভ্রুন সংস্থাপিত হওয়ার পর থেকে গর্ভকালীন ৮ সপ্তাহের শিশুকে ভ্রুন এবং এরপর থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শিশুকে ফিটাস বলে। মাতৃগর্ভে শিশু প্রায় ৯ মাস (৩৬ – ৪০) সপ্তাহ থাকে। এবং ধারাবাহিকভাবে বিকাশিত হয়। এ সময় যেসব পরিবর্তন ঘটে বা পেটে বাচ্চা কিভাবে তৈরী হয় তা নিচে দেওয়া হলো-

মায়ের গর্ভে বাচ্চা কিভাবে তৈরী হয়

সপ্তাহ অনুযায়ী বাচ্চা বৃদ্ধি


১ম সপ্তাহঃ নিষেক ক্লিভেজের ফলে নিষেকের ৪ থেকে ৫ দিন পর ব্লাস্টোসিসটের উৎপত্তি। কোষ সংখ্যা ১০০ এর অধিক। ৬ থেকে ৯ দিন পর এম প্ল্যান্টেশন।
২য় সপ্তাহঃ এক্টোডার্ম , এন্ডোডার্ম , ও মেসোডার্ম গঠন। এ পর্যায়ের পর মানব ভ্রুন নিয়ে গবেষণা নিষিদ্ধ।
৩য় সপ্তাহঃ গর্ভবতীর মাসিক বন্ধ। গর্ভ অবস্থায় এটিই প্রথম লক্ষণ। মেরুদন্ড মস্তিষ্ক এবং সুষুম্না স্নায়ুর উৎপত্তি শুরু। ভ্রুন দুই মিলিমিটার।
৪র্থ সপ্তাহঃ হৃদপিণ্ড, রক্তনালী, রক্ত, এবং অন্তরের উৎপত্তি শুরু। অ্যামিবিলিক্যাল কর্ড বৃদ্ধিরত। ভ্রুন ৫ মিলিমিটার।
৫ম সপ্তাহঃ মস্তিষ্ক বৃদ্ধিরত।পদকুরি এর উৎপত্তি যা থেকে হাত এবং পা তৈরি হবে।
৬ষ্ঠ সপ্তাহঃ চোখ এবং কান গঠনের সূত্রপাত।
৭ম সপ্তাহঃ মুখমণ্ডল তৈরি হয়। চোখে রং দেখা যায়।
১২তম সপ্তাহঃ সকল অঙ্গ, পেশি, হার, হাত ও পায়ের আঙ্গুল সহ পরিণত ভ্রুন। জনন অঙ্গ সুগঠিত।
২০তম সপ্তাহঃ ভ্রু এবং অক্ষিপক্ষ (চোখের পাতার লোম) সহ লোমের উৎপত্তি শুরু। হাতের আঙ্গুলের রেখার বিকাশ।
২৪তম সপ্তাহঃ চোখের পাতা খুলতে পারে।
২৬তম সপ্তাহঃ অপ্রাপ্তকালে জন্ম হলে বেচে থাকার যতেষ্ট সম্ভবনা।
২৮তম সপ্তাহঃ বলিষ্ঠভাবে নাড়াচারায় সক্ষম। স্পর্শ ও অতিশব্দ অনুভব করে এবং মুত্র ত্যাগ করে।

৩০ তম সপ্তাহঃ মাথা নিচের দিকে চলে আসে । জন্মের জন্য প্রস্তুত।
৩৮তম সপ্তাহঃ সাধারনত ৯ মাসে শিশু জন্মগ্রহণ করে

কত সপ্তাহে বাচ্চা প্রসব হয়

নিষেকের পর ৯ থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে বাহিকভাবে ভ্রুন কে মানুষ হিসাবে শনাক্ত করা যায়। ভ্রুনের এ অবস্থা কে ফিটাস বলে। জরায়ুতে ফিটাস প্রায় ৩৮ সপ্তাহ অবস্থান করে। এই সময় কালকে গর্ভধারণকাল বলে। গর্ভধারণকালের প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যেঅঙ্গসমূহের অধিকাংশ তৈরি হয়ে যায়।
শিশু প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের জন্য ৩৮ সপ্তাহের সাথে দুই সপ্তাহ যোগ করে ।অর্থাৎ সর্ব শেষ প্রথম দিনের সাথে ৪০ সপ্তাহ যোগ করে সম্ভব প্রসব দিন নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রসব পাঁচ দিন পূর্বে বা পরে হতে পারে।

স্বাভিক সন্তান প্রসব কি ভাবে হয়।

মানুষের গর্ভ অবস্থা কাল ৩৮ থেকে ৪০ সপ্তাহ। গর্ভ অবস্থায় ১২ তম সপ্তাহে আমরা নিঃসৃত প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রভাবে জরায়ুর সংকোচন বন্ধ থাকে। গর্ভ অবস্থায় রক্তে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বাড়তে থাকে। তবে ৩৮ তম সপ্তাহে রক্তে প্রোজেস্টরনের মাত্রা হঠাৎ করেই কমে যায়।ফলে জরায়ু সংকোচনের প্রতিবন্ধতা দুর হয়।
একই সাথে মাতার পশ্চাৎপিটুইটারি গ্রন্থি থেকে অকসিটোসিন এবং প্লাসেন্টা থেকে প্রোস্টাগ্লান্ডিন হরমোন ক্ষরণ ‍শুরু হয়। ৪০ তম সপ্তাহে জরায়ুর মুখ খুলে যায়। জরায়ুর মুখ খোলার জন্য শিশু সহজেই বাইরে আসতে পারে। এ পক্রিয়া তিনটি ধাপে সংঘটিত হয় যেমন,
১. জরায়ুর মুখ ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়
২. ফিটাস জরায়ু থেকে বাইরে আসে।
৩. অমরা ও নাভীরজ্জু বা আমবিলিক্যাল কর্ড ফিটাস থেকে অমরা পর্যন্ত আমবিলিক্যাল ধমনি ও শিরা বহনকারি অঙ্গকে নাভীরজ্জু বলে জরায়ুর অভ্যন্তর থেকে বাইরে বের হয়।

জমজ শিশুর জন্ম কিভাবে হয়

কখনো কখনো একসাথে দুটি বা তার বেশী শিশু জন্মগ্রহন করে। এদের জমজ শিশু বলে। জমজ দু ধরনের যেমন-
১. অভিন্ন জমজ
২. ভিন্ন জমজ
১. অভিন্ন জমজঃ একটি জাইগোট ১ম বিভাজনের সময় দুটি পৃথক কোষে পরিনত হলে পরবর্তীতে উক্ত দুটি কোষ থেকে শিশুর জন্ম হয়। এরা একই লিঙ্গ বিশিষ্ট হয়। অর্থাৎ দুটি ছেলে বা দুটি মেয়ে হয় এবং উত্তরধিকার সুত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট বলি এবং চেহারা প্রায় একই রকম হয়।

২. ভিন্ন জমজঃ দুটি পৃথক ডিম্বানু নিষিক্ত হয়ে দুটি জাইগোট উৎপন্ন হলে- এ দুটি জাইগোট থেকে দুটি শিশুর জন্ম হয়। এরা একই লিঙ্গের বা ভিন্ন লিঙ্গের হতে পারে।

শেষ কথা

প্রিয় বন্ধুরা আমর এই পোস্টে মায়ের পেটে বাচ্চা কিভাবে বড় হয় এবং বাচ্চা কত সপ্তাহের মধ্যে হয় তা আমরা জানতে পারলাম।আমার পোষ্টটি পড়ে আপনাদের ভালো লাগলে কমেন্ট বকসে জানিয়ে দিবেন। সাথে থাকুন ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *