মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায় বিস্তারিত জানুন

 ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার ক্রিম ক্লোভেট

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা। নিশ্চয় আল্লাহর রহমতে সবাই ভালোই আছেন। মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায় তা নিয়ে আজ আমরা এই আরর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করবো। সাধারনত মেয়ে ছেলেদের ১৪ বছর বয়স হলেই মুখে ব্রণের দেখা মিলে। মুখে ব্রণ হলে মুখের উজ্জলতা এবং মসৃনতা নষ্ট হয়ে যায়। ত্বকের তৈলগ্রান্থি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে ব্রণের আকৃতি দিনে দিনে বৃদ্ধি পায়।
মুখে-ব্রণ-হলে-কি-মাখা-উচিত-ঘরোয়া-উপায়
যার ফলে ব্রণের ভিতরে পুজ জমতে থাকে। যা আস্তে আস্তে গোটা মুখমন্ডল ব্যাথা হয়ে যায়। এবং মুখমন্ডল দেখতে খুব খারাপ লাগে। ব্রণ থেকে বাচার জন্য এমন কিছু ঘরোয়া উপায় আছে যা আপনারা ফলো করলে ব্রণের কবল থেকে মুক্তি পাবেন। তাহলে আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়। মুখের ব্রণের জন্য দামি কসমেটিক্স এর পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদান গুলো সবচেয়ে নিরাপদ হবে।

কোন ভিটামিনের অভাবে মুখে ব্রণ হয়?

কোন ভিটামিনের অভাবে মুখে ব্রণ হয়? উজ্জল এবং মসৃন ত্বক সবারই কাম্য। কিন্ত আমাদের ত্বকে, মুখে অনেক সময় ব্রণ দিয়ে ভরে যায়। তখন খুব খারাপ লাগে। কিন্তু আমাদের কে জানতে হবে কিসের জন্য মুখে ব্রণ বের হচ্ছে এবং কোন ভিটামিনের জন্য মুখে ব্রণ বের হচ্ছে তা জনাটা আগে প্রয়োজন। বিভিন্ন কারনে ব্রণ বের হতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো ভিটামিনের অভাব। সাধারনত ৪ টি ভিটামিনের অভাবে মুখের ত্বকে ব্রণ বের হয়। কোন ভিটামিনের অভাবে মুখে ব্রণ হয়?
ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-৩, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, এর অভাবে মুখের ত্বকে ব্রণ বের হয়। এই জন্য প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে এবং ভিটামিন ,এ, বি-৩, ডি, এবং ভিটামিন ই জাতীয় খাবার গুলো বেশি খেতে হবে। এগুলো ভিটামিনের ঘারতি পূরন হলে দেখবেন মুখের ত্বকে দিনে দিনে ব্রণ বেড়োনো কমে যাবে। শুধু যে ভিটামিনের অভাবে ব্রণ বের হয় তা নয় আরো বিভিন্ন কারন আছে ব্রণ বের হওয়ার। সে গুলো কারন নিচে দেওয়া আছে।

মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়?

মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়? প্রত্যেকদিন ব্যাস্ততার মধ্যে মুখের যত্ন প্রায় কেও নিতে পারে না। আবার পরিবেশ দূষণ এবং অস্বাস্থ্যকর খদ্যর জন্যও আমাদের ত্বকের উপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলে। আমরা যদি বাজারের দামি কসমেটিক্স ব্যাবহার না করে ঘরোয়া উপায়ে মুখের ব্রণ দূর করি তাহলে ত্বকের জন্য খুব নিরাপদ হবে। এবং কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও থাকবে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়?
লেবুর রস দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়
একটা লেবু চিপে রস বের করে যেখানে ব্রণ বের হয়েছে সেখানে লেবুর রস লাগিয়ে দিবেন। লেবুর রস শুকিয়ে গেলে তার উপর ডিমের সাদা অংশ ভালো করে গুলিয়ে নিয়ে মুখে মাস্কের মতো করে লাগিয়ে ৮-১০ মিনিট রাখুন। তার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত কয়েকদিন এভাবে লেবুর রস এবং ডিমের সাদা অংশ মুখে ব্যাবহার করলে মুখের ব্রণ দ্রুত ভালো হয়ে যাবে। এতে মুখের কালো দাগ ও দুর হয়ে যাবে।
সরিষার গুড়ো দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়
সরিষার গুড়ো তে প্রচুর পরিমানে স্যালিসিলিক এসিড আছে। যা মুখে ব্যাবহার করলে ব্রণের জীবাণু কে দ্রুত ধংস করবে। এক চামুচ সরিষার গুড়ো ও এক চামুচ মধু ভালো করে পেষ্ট করে নিতে হবে। তার পর মুখে প্রায় ১০-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। তার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই উপায় ব্যাবহার করলে মুখের ব্রণ দূর হবে এবং ব্রণের যে কালো দাগ থাকে তা ও সহজেই উঠে যাবে।
নিমপাতা ও বরফ দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়
কাচা নিমপাতা ভালো করে বেটে নিতে হবে। তার পর ফ্রিজে সেই বাটা পাতা কোন বাটিতে রেখে দিলে জমাট বাধলে গোসলের আগে ৫-১০ মিনিট জমাট বাধা নিমপাতা গোটা মুখমন্ডলে ঘুষুন তাহলে দেখবেন কয়েক দিনে ব্রণ ভালো হয়ে যাবে। মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়।
শসার রস দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়
শসার রস মুখে ব্যাবহার করলে মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করবে এবং ব্রণ ভালো করবে দ্রুত। শসার রস ফ্রিজে বাটিতে জমিয়ে রেখে মুখে ব্যাবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। রোদ থেকে বাড়িতে আসার পর শসার রস মুখে দিয়ে কিছুক্ষণ রাখলে ত্বকের ভালো উপকার হয়। মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়।
চন্দন কাঠের গুড়ো এবং কাঁচা হলুদ দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়
চন্দন কাঠের গুড়ো এবং কাঁচা হলুদ দিয়ে ব্রণ সহজেই দূর করা যায়। চন্দন কাঠের গুড়ো এবং কাঁচা হলুদ বাটা একটি বাটিতে নিয়ে তাতে সামান্য পরিমান পানি দিয়ে ভালো করে পেষ্ট তৈরী করুন। তারপর ব্রণ আক্রান্ত স্থানে পেষ্ট গুলো লাগিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট তার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত কয়েকদিনে আপনার মুখের ব্রণ সহজেই দূর হয়ে যাবে।

তুলসি পাতার রস দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়
তুলসি পাতা ভালো করে বেটে রস বের করে নিতে হবে। তার পর যেখানে যেখানে ব্রণ বেড় হয়েছে সেখানে লাগিয়ে রাখতে হবে ১০-১৫ মিনিট ।তার পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তুলসি পাতার রস ব্যাবহার করে ব্রণ দূর করা যায়। মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়।
মুলতানি মাটি দিয়ে ব্রণের দাগ দূর করার উপায়
যাদের মুখে তেল তেলে ভাব বেশি তাদের ব্রণ বেশি বের হয়। ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মুলতানি মাটির পেষ্ট তৈরী করে মুখে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট।এতে মুখের তেল ভাব কমে যাবে এবং ব্রণ ও ভালো হয়ে যাবে।
গোলাপ জল ও চন্দন কাঠের গুড়ো দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়
গোলাপ জল ও চন্দন কাঠের গুড়ো দিয়ে পেষ্ট তৈরী করুন তারপর মুখে মাস্কের মতো লাগিয়ে রাখুন শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। তার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ৭-৮ দিন গোলাপ জল ও চন্দন কাঠের গুড়ো পেষ্ট ব্যাবহার করলে ব্রণ সহজে ভালো হয়ে যাবে।
স্পেশাল প্যাক দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়
সাধারনত স্পেশাল প্যাকে রক্ত চন্দন পাউডার থাকে। রক্ত চন্দন পাউডারের সাথে আনারের খোসার গুড়ো এবং এবং এক চামুচ টক দই মিশিয়ে ভালো করে পেষ্ট তৈরী করুন। তার পর গোটা মুখে ভালো করে লাগিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট ধরে শুকিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কয়েকদিন ব্যাবহার করলে ব্রণ ভালো হয়ে যাবে এবং ব্রণের কালো দাগ ও দূর হয়ে যাবে।
মুখের ব্রণ দূর করার জন্য উপরোক্ত উপায় গুলোর যে কোন একটা উপায় ব্যাবহার করলে মুখের ব্রণ সহজেই ভালো হয়ে যাবে। তবে নিয়মিত কয়েকদিন ধরে ব্যাবহার করতে হবে। আর খেয়াল রাখতে হবে ত্বকে যেন ময়লা না বসে। তৈলাক্ত ত্বকে ধুলোবালি বসে ব্রণের উৎপত্তি হয়। সব সময় মুখমন্ডল পরিষ্কার করে রাখতে হবে। তাহলে ব্রণ সহজে বের হবে না। মুখে ব্রণ হলে উপরের দেওয়া নিয়ম গুলো অনুসরন করুন।

ছেলেদের মুখের ব্রণ ও কালো দাগ দূর করার ক্রিম?

ছেলেদের মুখের ব্রণ ও কালো দাগ দূর করার ক্রিম? মুখে কালো দাগ বা ব্রণ থাকলে সকলেরই অস্বস্তিকর লাগে। বাইরে কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করে না। শুধু মেয়েরা এই ব্রণ নিয়ে ভুগে না বরং ছেলে মেয়ে দুজনেই ব্রণের সমস্যায় ভুগে। ছেলেদের মুখের ব্রণ ও কালো দাগ দূর করার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের ক্রিম পাওয়া যায়। ছেলে ও মেয়েদের ত্বকের পার্থ্যকের জন্য আলাদা আলাদা ক্রিম ব্যাবহার করতে হয়। জেনে নেওয়া যাক ছেলেদের মুখের ব্রণ ও কালো দাগ দূর করার ক্রিম?
  • ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার পিম্পল ক্লিয়ারিং ফেস ওয়াশ (Clean & Clear Pimple Clearing Face Wash). এই ক্রিমের দাম ৭০-৮০ টাকা হবে।
  • গার্নিয়ার একনো ফাইট সিক্স ইন ওয়ান পিম্পল ক্লিয়ারিং ফেস ওয়াশ(Garnier Acno Fight 6 in1 Pimple Clearing Face Wash) এই ক্রিম পুুদিনা পাতা ও লেবুর নির্যাস দিয়ে তৈরী। এই ক্রিমের দাম ২২০ টাকা।
  • দ্যা বডি শপ টি ট্রি স্কিন ক্লিয়ারিং ফেস ওয়াশ (The Body Shop Tea Tree Skin Clearing Face Wash).এই ফেসওয়াস টার দাম একটু বেশি। এটি চায়ের নির্যাস থেকে তৈরী। দাম প্রায় ৮৮০ টাকা।
  • গার্নিয়ার ম্যান অয়েল ক্লিয়ার ফেয়ারনেস ক্রীম (Garnier Men Oil Clear Fairness cream). মুখের কালো দাগ ব্রণ দুটোই ভালো করে। এই ক্রিমের দাম প্রায় ২২০ টাকা।
  • নিভিয়া ম্যান ডার্ক স্পট রিডাকশন ফেস ওয়াশ) (Nivea Men Dark Spot Reduction Face Wash). এই ক্রিমের দাম অনেক কম কিন্তু কাজ করে বেশি। এই ক্রিমের দাম ১২০ টাকা।
  • পন্ডস ম্যান অয়েল কন্ট্রোল ফেস ওয়াশ (Pond’s Men Oil Control Face Wash)
  • নিভিয়া হোয়াইটেনিং অয়েল কন্ট্রোল ময়েশ্চারাইজার ফর ম্যান (Nivea Whitening Oil Control Moisturizer for Men) . এই ক্রিম টা ছেলে মেয়ে উভয়েই ব্যাবহার করতে পারবে। এই ক্রিমটার দাম ১২০ টাকা।
  • ম্যানকাইন্ড অ্যাকনেস্টার রিমুভাল জেল (Mankind Acnestar removal gel). এই ক্রিম ব্যাবহারে ত্বকের ক্ষত ভালো করে দেয় এবং ব্রণ দূর করে। এই ক্রিমের দাম ৯৫ টাকা। এখন আমরা এই পোষ্টে বিস্তারিত জানাবো মেয়েদের ব্রণ দূর করার ক্রিম? জানতে হলে পড়তে থাকুন-

মেয়েদের ব্রণ দূর করার ক্রিম?

মেয়েদের ব্রণ দূর করার ক্রিম? মেয়েদের ব্রণ দূর করার বিভিন্ন ধরনের ক্রিম বাজারে পাওয়া যায়। তবে ব্রণ দূর করার জন্য ক্রিম ব্যাবহার না করে উপরের ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ দূর করাটাই ভালো হবে। এতে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে না। আর ক্রিম ব্যাবহার করে ব্রণ দূর করতে গেলে কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।নিচে মেয়েদের ব্রণ ভালো করার কার্যকরী কিছু ক্রিমের নাম দেওয়া হলো। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যাবহার করবেন। 
  • ফ্রেশলুক জেল ক্রিম
  • বায়লেড
  • একনিজেল
  • নোমার্ক জেল
  • এডাবেন ডুও জেল
  • আ্যকলিন জেল
  • বারবেরিস একো ডি থ্রি
  • ডারমোছ- মেয়েদের ব্রণ দূর করার ক্রিম?
উপরে যেগুলো ক্রিমের নাম দেওয়া আছে সেগুলো কোন ফেসওয়াস বা স্নো না। এর প্রত্যেকটিই ক্রিম। এই ক্রিম গুলো প্রতিদিন নিয়মিত ব্যাবহার করলে ব্রণের সমস্যা সহজেই দূর হয়ে যাবে। সকালে এবং রাতে সোয়ার আগে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে ব্রণ আক্রান্ত জায়গাতে ক্রিম লাগাতে হবে সকালে ঘুম থেকে উঠে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই ক্রিম গুলো ব্যাবহারের সময় মুখে কিংবা চোখে যেন না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

এলোভেরা দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়?

এলোভেরা দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়? এলোভেরা জেল মশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্যর জন্য পরিচিত। এবং সময়ের সাথে সাথে ব্রণ এবং ব্রণের কালো দাগ কমাতে সাহায্য করে। এলোভেরাতে আছে প্রচুর পরিমানে আন্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন সি যা ব্রণ দূর করার পাশাপাশি ব্রণের কালো দাগ দূর এবং ত্বকের মসৃনতা বাড়িয়ে তোলে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এলোভেরা দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়।
  • মুখের ত্বক ভালো করে পরিস্কার করে এলোভেরা থেকে জেল বের করে ভালো করে বেটে নিবেন তার পর মুখে লাগিয়ে রাখুন ২০-৩০ মিনিট ধরে। এভাবে কয়েক দিন নিয়ম করে এলোভেরা জেল ত্বকে ব্যবাহার করলে ত্বকের উপরে যে ব্রণ হয় তা দ্রুত ভালো হয়ে যাবে। এলোভেরা দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়?
  • এক চামুচ মধু এবং এক চামুচ এলোভেরা জেল ভালো করে পেষ্ট করুন এবং ব্রণের উপর লাগিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন দেখবেন দিনে দিনে ব্রণ শুকিয়ে মুখ থেকে খসে পড়ে যাবে। এলোভেরা দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়?
  • হলুদের গুড়ো নিয়ে তাতে এক চামুচ এলোভেরা জেল নিন, কয়েক ফোটা লেবুর রস দিয়ে ভালো করে পেষ্ট করে মুখে লাগিয়ে দিন। এভাবে ও কয়েক দিন ব্যাবহার করুন দেখবেন ব্রণ সহজেই ভালো হয়ে গেছে এবং চেহারাও উজ্জল হয়ে যাবে। এলোভেরা দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়?

বেসন দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়?

বেসন দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়? বাস্ততার কারনে অনেকেই ত্বকের যত্ন নিতে পারে না যার কারনে মুখের ত্বকে ধুলোবালি পরে ব্রণ হয় এবং মুখের ত্বক কালো হয়ে যায়, মুখের ত্বক খসখসে হয়ে যায়। এসব সমস্যা থেকে ‍মুক্তির উপায় হলো বেসন। বেসন দিয়ে আদি কাল থেকে মেয়েরা মুখের পরিচর্যা করে আসছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বেসন ‍দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়?
  • হাপ কাপ দুধের সাথে এক চামুচ বেসন, এক চামুচ চন্দন গুড়া, এবং আধা চামুচ হলুদ( কাচা হলুদ হলে ভালো হবে) দিয়ে পেস্ট করুন ভালো করে। তার পর মুখে প্রলেপ দেন এবং ১৫-২০ মিনিট রেখে ভালো করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন। এই বেসন দিয়া পেস্ট গুলো ফ্রিজে সংরক্ষন করে ২-৩ দিন ব্যাবহার করতে পারবেন।
  • যারা বাইরে রোদে কাজ করেন তাদের জন্য বেসন বেশ উপকারি। এক চামুচ বেসন, এক চামুচ লেবুর রস, একটু হলুদ গুড়ো দিয়ে তাতে এক চামুচ টকদই দিয়ে পেস্ট তৈরী করুন এবং মুখে নিয়মিত লাগাবেন দেখবেন ব্রণ দূর হয়ে যাবে এবং দিনে দিনে মুখের উজ্জলতা বেড়ে যাবে। বেসন দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়?
  • যার মুখ অধিক তেলতেলে তাদের ব্রণ বেশি বের হয়। আর ত্বকের তেল দূর করতে বেসন বেশ কার্যকর ভৃমিকা পালন করে। এক চামুচ বেসন এবং দুই চামুচ গোলাপ জল ভালো করে পেস্ট করে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। দেখবেন কয়েক দিনেই ব্রণ দূর হয়ে গেছে। বেসন দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়?

ব্রণ হওয়ার বিভিন্ন কারণ?

ব্রণ হওয়ার বিভিন্ন কারণ? মুখের ত্বকে ব্রণ বিভিন্ন কারনে হয়ে থাকে। কি কারনে ব্রণ হয় তা আমাদের কে অবশ্যই জানতে হবে। ব্রণ ভালো করার জন্য চিকিৎসা করার আগে আমাদের কে জানতে হবে কি কি কারনে আমাদের মুখে ব্রণ বের হচ্ছে। তা জনা থাকলে সর্তক হতে পারবেন এবং চিকিৎসা ও ভালো করে নিতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্রণ হওয়ার বিভিন্ন কারণ গুলো কি?
জিনগত কারনে ব্রণ হয়
যদি কারো বংশতে ব্রণ থাকে মানে মা অথবা বাবা কারো যদি ব্রণ থাকে তাহলে ও তাদের সন্তানের ১৪-১৫ বছর বয়স হওয়ার সাথে সাথে মুখের ত্বকে ব্রণ দেখা দিবে।
হরমোনের কারনে ব্রণ হয়
বয়সের সাথে সাথে মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। শরীর গরম হতে থাকে। যার ফলে মুখে, বুকে ব্রণ বেড় হয়।
মানসিক চাপের কারনে ব্রণ হয়
ব্রণ হওয়ার অন্যতম এবং প্রধান কারন হলো মানসিক চাপ। যে মানসিক চাপে বেশি থাকে তার চেহারাতে বেশি ব্রণ হয়। যতই কিছু মেখে সে ব্রণ ভালো করুক না কেন সে যদি মানসিক চাপে থাকে তাহলে তার ব্রণ সহজে ভালো হবে না। এবং অল্প বয়সেই চেহারাই বয়সের ছাপ, বলিরেখা পরে যাবে।
প্রসাধনী সামগ্রীর জন্য ব্রণ হয়
অনেক সময় মহিলা বা পুরুষেরা তৈলাক্ত প্রসাধনী সামগ্রী ব্যাবহার করে থাকে। যার ফলে মুখে প্রচুর ব্রণ হয়। এখন আমরা এই পোষ্টে বিস্তারিত জানাবো ব্রণ বের হলে যা করবেন আর যা করবেন না?

ব্রণ বের হলে যা করবেন, আর যা করবেন না?

ব্রণ বের হলে যা করবেন আর যা করবেন না? মুখে ব্রণ বের হওয়াটা স্বাভিক বিষয় না। ব্রণ হলে আমাদের কে অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। ব্রণে যদি বেশি জরাজরি বা ঘোষাঘোষি করা হয় তাহলে ব্রণের আকার দিনে দিনে বেড়েই যাবে তো কমবে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্রণ বের হলে যা করবেন আর যা করবেন না।
ব্রণ বের হলে যা করবেন
  • দিনে তিন বার সাবান বা ফেসওয়াস দিয়ে ভালো করে মুখ ধুবেন। এবং বাইরে থেকে এসেই ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলবেন।
  • প্রচুর পরিমানে পানি খাবেন। শরীর ঠান্ডা থাকবে। আর শরীর ঠান্ডা থাকলে ব্রণ বের হবে না।
  • তেল ছারা মেকআপ ব্যাবহার করবেন।
  • মাথা পরিষ্কার রাখবেন এবং খুসকি মুক্ত রাখবেন। সব সময় গলা, ঘার,মাথা, মুখমন্ডল সহ গোটা শরীর পরিষ্কার রাখুন।
  • রাতের বেলা পর্যাপ্ত ঘুম পারতে হবে। মানসিক চাপ রাাখা যাবে না।
  • ভিটামিন যুক্ত খাবার খেতে হবে। পেটের কোষ্টকোঠিন্য রাখা যাবে না।
ব্রণ বের হলে যা করবেন না
  • অবশ্যই রোদে এরিয়ে চলতে হবে। মুখের ত্বকে রোদ লাগানো যাবেনা ।
  • তেল যুক্ত স্নো বা ফাউন্ডেশন ব্যাবহার করা যাবে না।
  • ব্রণ হলে হাতের নখ দিয়ে গলানো যাবে না। আরো বেশি হয়ে যাবে।
  • তেল যুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। পরিমানে কম খেতে হবে।

আমাদের শেষ কথাঃ মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়

প্রিয় পাঠক আজ আমরা এই পোষ্ট থেকে জানতে পারলাম মুখের ত্বকের ব্রণ সম্পর্কে। যেমন, কোন ভিটামিনের অভাবে মুখে ব্রণ হয়?, মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়, ছেলেদের মুখের ব্রণ ও কালো দাগ দূর করার ক্রিম, মেয়েদের ব্রণ দূর করার ক্রিম, এলোভেরা দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়, বেসন দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়, ব্রণ হওয়ার বিভিন্ন কারণ?,
ব্রণ বের হলে যা করবেন আর যা করবেন না?, ইত্যাদি বিষয় গুলো আমারা ভালো করে জানতে পারলাম। প্রিয় পাঠক আরো ত্বকের যত্নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে হলে এই ওয়েবসাইডটি ভিজিট করুন। সকলেই ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *