আমাদের দেশে প্রতি বছর অনেক মানুষ সাপের কামড়ে প্রাণ হারায়। প্রিয় বন্ধুরা আপনেরা হয়তো অনেকেই জানেন না সাপে কামড়ালে প্রাথমিক অবস্থাই কি চিকিৎসা করতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসা না করে দুরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে যেতে হয়তো প্রান টাই বের হয়ে যায়। কিন্তু সব দুর্ঘটনারি প্রথম অবস্থাতে প্রাথমিক চিকিৎসা থাকে। তা আমাদের জানা প্রয়োজন।
এখনো অনেক গ্রাম অঞ্চলে কুসংস্কার আছে, ওঝা বা বেদের কাছে নিয়ে যাওয়া। বিষধর সাপে কামড়ালে সচেতনতার অভাবে বা সঠিক চিকিৎসার অভাবে রোগী মৃত্যু বরন করে।
ভৃমিকা
অনেকেই জানেন না সাপে কাটলে কিভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হবে এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে চিকিৎসা নিতে হবে বা করনীয় কি তা জানেন না ফলে অনেক সময় রোগীর বেচে যাওয়ার সম্ভবনা থকলে ও সঠিক জ্ঞানের অভাবে মারা যায়। বন্ধুরা আপনেদের জন্য আমার এই পোষ্টটি লেখা। সাপে কাটা রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা ও কি ইনজেকশান দিবেন তা নিচে লেখা হলো-
সাপে কাটা রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা
১.আমরা যা করব
- সাপ এরিয়ে চলতে হবে।
- সাপের রং এবং গড়ন মনে রাখতে হবে।
- যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে।
২.প্রাথমিক চিকিৎসা
- রোগীকে যথাসম্ভব স্থির অবস্থায় রাখতে হবে।
- শরীরের যে অংশে সাপে কেটেছে তা বুকের অবস্থান থেকে যথেষ্ঠ নিচে রাখতে হবে।
- কাটা স্থানে একটু উপরে দড়ি বা কাপর দিয়ে শক্ত করে বাধতে হবে।
৩.সাপে কাটলে যেগুলো করা যাবে না
- বিষ বের করার জন্য ক্ষতস্থানে মুখ দিয়ে চোষা যাবে না।
- ক্ষতস্থানের চারপাশে ত্বক কাটা যাবে না।
- ক্ষতস্থানে বরফ লাগানো যাবে না।
- প্রয়োজন না হলে রোগীকে নরা চরা করা যাবে না।
- সাপটি ধরার চেষ্টা করা যাবে না।
- ওঝা বা সাপুরের কাছে চিকিৎসার জন্য যাওয়া যাবে না।
সাপ কামড়ানো কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়
- আমাদের দেশে সাধারনত গ্রামঞ্চলের মানুষ সাধারনত বেশী সাপে কাটার শিকার হয়। সাপ বনজঙ্গল ছারাও বাড়িঘরের আশে পাশে থাকে। আমরা বিভিন্ন উপায়ে সাপে কাটা প্রতিরোধ করতে পারি।যেমন-
- সাপ নিয়ে নারাচারা বা খেলাধুলা করা যাবে না।
- সাপ থাকতে পারে এমন জায়গা, যেমন- ঘন ঘাস বা ঝোপ ঝার, ইট বা পাথরের ফাক, গর্ত ইত্যাদি এরিয়ে চলতে হবে।
- জঙ্গল বা ঝোপঝারে যেতে হলে লম্বা লাঠি নিয়ে যেতে হবে।
- রাতের চলা ফেরার সময় টর্চ লাইট বা বাতি ব্যাবহার করতে হবে।
- বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছিন্ন রাখতে হবে, যাতে সাপ লুকিয়ে না থাকতে পারে।
সাপে কামড়ালে কি ইনজেকশান দিব
সাধারনত বিষধর সাপ কামরালে দ্রুত চিকিৎসা না নিলে রোগীর মৃত্য হতে পারে। গোখরো সাপ কামরানোর প্রায় ৭ ঘন্টা পর, কেউটে সাপ কামরালে প্রায় ১৭ ঘন্টা পরে, চন্দ্রাবোড়া সাপ কামরালে প্রায় ৭২ বা তিন দিন পর রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এইজন্য রোগীকে সময়সীমার মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা জরুরি।
সাপ কামরানো রোগীকে দ্রুত অ্যান্টিভেনম ইনজেকশান দিলে অ্যান্টিভেনমের অ্যান্টিবডি গুলি বিষকে নিষ্ক্রিয় করে । যার জন্য সাপে কামরানো রোগীর জীবন এবং অঙ্গ- প্রতঙ্গ বেচে যায়।
বিশাক্ত সাপ দংশনের পর, রোগীকে ১০ টি করে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশান অবশ্যই দিতে হবে। ১০ টি ভয়াল মিলে ১ টি ডোজ হয়।
বিষের মাত্রা বেশী হলে রোগীকে ১ বা ১ এর অধিক ডোজ অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করতে হবে।
চিকিৎসার ধরনঃ সাপে কামারানো রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা বিভিন্ন লক্ষণ পর্যবেক্ষন করে থাকে।এসব লক্ষন গুলো হলো –
- বুক ধরফর করা,
- শরীর আসার হয়ে যাওয়া
- মাথা ঘোরানো
- বমি হওয়া
- অসংগত ব্যাবহার
- দ্রুত গতিতে রক্তচাপ কমা
বিষধর সাপের অ্যান্টিভেনম সাপ ভেদে যেমন ভিন্ন হয় তেমনি একই অ্যান্টি ভনমে কয়েক ধরনের বিষধর সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করা যায়।
অ্যান্টিভেনম ইনজেকশান দুই ধরনের হয়ে থাকে।
১. মনোভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনম । যে অ্যান্টিভেনম শুধু নিদিষ্ট একটি বিষধর সাপের বিষে বিরুদ্ধে কাজ করে।
২. পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনম। যা একাধিক সাপের বিষের বিরেুদ্ধে কাজ করে।
চিকিৎসকরা মূলত সাপের কামরের চিনহ দেখে বা রক্ত পরিক্ষা করে বুঝতে পারে যে বিষধর সাপ কামরিয়েছে না বিষহীন সাপ কাপরিয়েছে।
সাপে কামড়ানোর লক্ষণ
অনেক সময় সাপকে দেখতে না পেলেও রোগীর কিছু লক্ষণ দেখে বুঝা যায় যে কোন সাপে কাপড়িয়েছে। লক্ষণ গুলো নিচে দেওয়া হলো-
- ঢোক গিলতে অসুবিধা হবে
- গলা আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে আসবে
- চোখ দিয়ে ঝাপসা দেখতে শুরু করবে।
- চোখের দু পাতা বন্ধ হয়ে আসবে।
- ক্ষত স্থানে বা কামড়ানোর স্থানে অনেক জ্বালা যন্ত্রনা শুরু হবে।
- শরীর আস্তে আস্তে ফুলতে শুরু করবে।
- বিষ শরীরি ছরিয়ে পরলে গোটা শরীর জ্বলতে থাকবে।
লেখকের মতামত
বিশেষ করে গ্রামের মানুষ জন সাপে কামড়ালে সাপুরের বাড়ি বা ওঝার বাড়ি ছুটেন । যার জন্য আরো বেশী বিপদ ডেকে আনেন রোগীর জন্য। আপনেরা কেউ এধরনের কুসংস্কারের দিকে যাবেন না। সাপে কামড়ালে প্রাথমিক চিকিৎসা করে দ্রুত গতিতে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান রোগীেকে। সুষ্ঠু চিকিৎসা করলে সুস্থ্য হয়ে উঠবেন রোগী।
ত বন্ধুরা আমার লেখা পোষ্টটি পড়ে আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বকসে জানিয়ে যাবেন। এবং পরিচিতদের মধ্যে সেয়ার করবেন।তারাও পরে উপকৃত হবে। সকলেই অপনেরা সুস্থ্য থাকুন, ভালো থাকুন এবং সর্বদা সর্তক থাকুন।