হার্টঅ্যাটাক থেকে বাচার উপায়, প্রতিরোধ ও প্রতিকার, ধনী এবং শিক্ষিত স্ত্রী- পুরুষদের মধ্যেই হার্টের অসুখের প্রবনতা বেশী দেখা যায়। নিজেদের মধ্য কারো হার্টঅ্যাটাক হলে তখন কারো মাথায় ঠিক থাকে না। কিন্তু ঐ সময়টাই আমাদের কে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।ঠান্ডা মাথায় রোগীকে দ্রুত চিচিৎসকের কাছে নিতে হবে এবং চিকিৎসা করতে হবে।
বয়স বেশী হলেই যে হার্টের সমস্যা হয় এমন না। যেকোন বয়সের মানুষের হার্টের সমস্যা হতে পারে। তবে বেশী হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা হয় মধ্য বয়সের পুরুষদের ।আমার প্রিয় পাঠক, নিচে হার্ট অ্যাটাকের প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিচে দেওয়া হলো-
ভৃমিকা
হঠাৎ করে কারো হার্টঅ্যাটাকে মৃত্যু। এরকম হার্টঅ্যাটাকের মৃ্ত্যু আশেপাশে প্রায়ই শোনা যায়। হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়াকে বলা হয় মুভি হার্ট অ্যাটাক। তবে যাদের হার্টঅ্যাটাক হয় তাদের শরীরে আগেই কিছু না কিছু সংকেত দিয়ে থাকে। প্রথমে বুকে অল্প ব্যাথা হয় এবং শরীর অস্বিস্তি লাগে। বেশীভাগ সময় হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে বুকের মাঝখানে চাপ ধরে থাকে।
হার্টঅ্যাটাক অসুখটি কি
হৃৎপিন্ডের সুস্থ্যতার জন্য ক্রমাগত ভাবে অকিসিজেন -সমৃদ্ধ রক্ত সরাবরাহ জরুরি। করোনারি ধমনির মাধ্যমে অকিসিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পেশিতে পৌছায়। চর্বি জাতিয় পদার্থ, ক্যালসিয়াম,প্রেটিন প্রভৃতি করোনারি ধমনির অন্তগাত্রে জমা হয়ে বিভিন্ন আকৃতির প্লাক গঠন করে। একে করোনারি অ্যাথেরোমা বলে। প্লাকের বাহির ভাগ ক্রমশ শক্ত হয়ে উঠে।
এভবে প্লাক শক্ত হয়। অনুচক্রিকা জমা হয়ে প্লাকের চারিদিকে তখন রক্ত জমাট বাধতে শুরু করে। রক্ত জমাট বাধার কারনে করোনারি ধমনির লুমেন (গহব্বর) সম্পর্ন বন্ধ হয়ে গেলে হৃৎপেশিতে পুষ্টি ও অকসিজেন – সমৃদ্ধ রক্তের সরবারহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হৃৎপেশি ধংস হয় বা মরে যায় এবং মারাত্বক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রচালিত ভাষায় একে হার্টঅ্যাটাক বলে।
প্রকৃত পক্ষে হার্টঅ্যাটাক বলতে কিছুই নাই। এটি আসলে ‘মায়োকার্ডিয়াল ‘ ইনফার্কশন’। মায়োকার্ডিয়াল অর্থ হৃপেশি , আর ইনফার্কশন ‘ অর্থ অপর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহের কারনে টিস্যুর মৃত্যু।
হার্টঅ্যাটাকের লক্ষণ
করোনারি ধমনিতে কোলেস্টেরল জাতীয় পদার্থ জমা হওয়া থেকে হার্টঅ্যাটাকে পরিসমাপ্তি হওয়া পর্যন্ত অনেক দিন অতিবাহিত হয়। এ সময়ের ভিতর বিভিন্ন লক্ষনের মধ্যে নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।
১. বুকে ব্যাথাঃ বুকের ঠিক মাঝখানে অস্বস্তি হওয়া যা কয়েক মিনিট থাকে, চলে যায় আবার ফিরে আসে। বুকে অসহ্য চাপ, মোচড়ানো, আছড়ানো, বা ব্যাথা অনুভৃতি হয়।
২. উর্ধ্বাঙ্গের অন্যান্য অংশ অস্বস্থিঃ এক বা উভয় বাহু, পিঠ, গলা, চোয়াল বা পাকস্থলির উপরের অংশে অস্বস্তি বা ব্যাথা অনুভব।
ঘন ঘন নিঃশ্বাস – প্রশ্বাসঃ বুকে অস্বস্থির সময় ঘন ঘন নিঃশ্বাস প্রশ্বাস ঘটে। অনেক সময় বুকে অস্বস্তি হওয়ায় আগেও এমন অবস্থা দেখা দিতে পারে।
বমি বমি ভাবঃ পাকস্থলিতে অস্বস্তির জন্য বমি -বমি ভাব, বমি হওয়া, হঠাৎ মাথা ঝিম ঝিম করা অথবা ঠান্ডা ঘাম বেরিয়ে যাওয়া।
ঘুমে ব্যাঘাতঃ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটা, নিজেকে শক্তিহীন বা শ্রান্ত রোধ করা।।
হার্টঅ্যাটাক প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়
- ঋতু কালীন টাটকা ফল ও সবজি খেতে হবে।
- চর্বি ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে।
- বডি -মাস ইন্ডেক্স ( Body mass index, BMI) মেনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।
- সঠিক ওজন, রক্তে কোলেস্টেরেল মাত্রা ও রক্ত চাপ নিয়ত্রন রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম ( যেমন, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাটা ইত্যাদি) করতে হবে।
- ধুমপায়ী হলে অবশ্যই ধুমপান ত্যাগ করতে হবে। অধুমপায়ী হলে ধমপান না করার প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
- জীবনাভ্যাসে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ রাখতে হবে।
- কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
- চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ চালিয়ে যেতে হবে বা বন্ধ করতে হবে।
- বছরে অন্তত একবার (সম্ভব হলে দুবার )সমগ্র দেহ চেকআপের ব্যবস্থা করতে হব।
হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক এর পার্থক্য
সাধারণ মানুষের মধ্য হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই। অনেক সময় দুটোকে এক করে দেখা হয়। নিচে এদের মধ্য পার্থক্য দেখানো হলো-
শীত কালে হার্টঅ্যাটাক কেন বেশী হয়
বিশেষ করে শীতকালে মানুষের হার্টঅ্যাটাক বেশী হয়ে থাকে। এর কিছু কারন আছে।এমনিতে শীতকালে শরীরের তাপমাত্রা শরীরের ভিতর বজায় রাখার জন্য হৃদপিন্ডকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। হৃদযন্ত্র দুর্বল থাকলে বেশী পরিশ্রম করতে লাগলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়ে হতে পারে হাইপোথার্মিয়া।
এর জন্য হৃদপেশির সমস্যা হয় যার ফলে হার্টঅ্যাটাকের ঝুকি বাড়ে। আবার অতিরোক্ত ঠান্ডায় শরীরের রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় । শরীরের রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে হৃদপেশিতে অকসিজেন সরবারাহ কম হয় । সেক্ষেত্রে হৃপেশি ঠিক রকম করে কাজ না করলে হার্টঅ্যাটাক হয়।
শেষ কথা
মানুষের শরীর গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। একটু অসাবধানতার কারনে বা সুষ্ঠু চিকিৎসা না দেওয়ার কারনে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হার্ট অ্যাটাক অসুখ একটা বড় ধরনের অসুখ। এই অসুখের লক্ষণ দেখতে পারলে বা বুঝতে পারলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা নিতে হবে। না হলে জীবনের ঝুকি হয়ে যাবে।