অর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা ও অপকারিতা (বিস্তারিত জানুন)

রোগ প্রতিরোধে গাজর ও মূলা খাওয়ার উপকারিতাঅর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা ও অপকারিতা- আসসালামু আলাইকুম প্রিয়…

আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা গুলো বিস্তারিত জানুন

আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা- আসসালামু আলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা। নিশ্চয় আপনারা আল্লাহর রহমতে সকলেই ভালো আছেন। আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা গুলো এবং আমলকির ক্ষতিকর দিক, কাঁচা আমলকি খাওয়ার নিয়ম , প্রতিদিন আমলকি খেলে কি হয়, হরিতকি খাওয়ার নিয়ম, হরতকি খেলে কী হয়, ইত্যাদি বিষয় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো। জানার জন্য আরর্টিকেল টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো।
আমলকি-হরিতকি-বহেরার-উপকারিতা 
আমলকি, হরিতকি, বহেরার এই তিনটি ফল সব রোগের আশ্চর্য মহৌষধ হিসাবে কাজ করে। আমলকি হরতকি এবং বহেরা এই তিন ফলের মিশ্রন কে ত্রিফলা হয়ে থাকে। এই তিনটি ফল দিয়ে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরী করা হয়। এই ত্রিফলার ঔষধ গুলো খেয়ে বিভিন্ন রোগ ভালো হয়। আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা গুলো কি কি?

আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা?

আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা- আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে বিভিন্ন রোগ এবং ব্যাধিকে ভালো করে এই তিনটি ফলের আয়ুর্বেদিক ঔষধ। নিয়ম করে যদি ত্রিফলা গুলো খাওয়া হয় তাহলে শরীরের অনেক ‍উপকার মিলবে। আমলকি, হরিতকি এবং বহেরা এই তিনটি ফল  খাওয়া যায়। এই ফল গুলো শুকিয়ে চুর্ণ করে ত্রিফলার মিশ্রন করে খাওয়া যায়। এই তিনটি ফল মানুষের শরীরের জন্য কতটা উপকারি তা আগে জেনে নেওয়া যাক।

আমলকি খাওয়ার উপকারিতা?

আমলকি খাওয়ার উপকারিতা- আমলকি একটি ছোট ফল এবং বিশেষ গুন সম্পন্ন একটি ফল। যদি পারেন প্রতিদিন একটি করে আমলকি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই জন্য  আমলকি মানুষের স্বাস্থ্যর জন্য খুবই উপকারি। কাচা আমলকি খেতে না পাড়লে আমলকির মোরব্বা অথবা আচার করে খাবেন। প্রতিদিন নিয়মিত আমলকি খেলে আপনার শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার নিশ্চয়তা দিবে। দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক আমলকি খাওয়ার উপকারিতা গুলো কি?
  • দিনে দুই বার এক গ্লাস দুধের সাথে আমলকির গুড়া এবং এক চামুচ চিনি মিশিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করবে।
  • আমলকির রস পেটের কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দুর করতে সাহায্য করে এবং পেটের বদ হজম নিয়ত্রন করতে সাহায্য করে।
  • রাতে আমলকি থেতো করে এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে রাখবেন সকালে সেই পানি খাবেন তাহলে খাবার হজমে সাহায্য করবে এবং ভাতের সাথে আমলকির আচার খেলে হজম করতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন নিয়মিত আমলকি খেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং চোখের বিভিন্ন দরনে সমস্যা যেমন, চোখের চুলকানি, পানি পড়া ইত্যাদি ভালো হয়ে যায়।
  • এক কাপ আমলকির রসের সাথে এক চামুচ মধু মিশিয়ে খেলে ত্বকের কালো দাগ দুর হবে এবং ত্বকের উজ্জলতা বাড়তে থাকবে।
  • মাথায় খুসকি হলে আমলকি খেলে খুসকির সমস্যা দুর হবে এবং চুল পাকা সমস্য থাকলে প্রতি রোধ করবে।
  • আমলকি চুল পরিচর্যায় গুরুত্বপূর্ন কাজ করে। আমলকির রস চুলে ব্যাবহার করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুল বাড়াতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন একটি করে আমলকি খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দুর হয়ে যাবে এবং দাঁত শক্ত ও মজবুত হবে।
  • ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার রোগী প্রতিদিন আমলকির জুস করে খেলে বেশ উপকার পাবে।
  • আমলকির টক এবং আচার মুখের রুচি বাড়ায় এবং খিদে বাড়ায়।
  • শরীরের চর্বি এবং অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।
  • বমি বমি ভাব, শরীর ব্যাথা, কফ, অনিদ্রা ইত্যাদিতে আমলকি অনেক উপকার করে।
  • নিয়মিত আমলকি খাওয়ার ফলে শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং পেশি মজবুত করে।
  • শরীরের লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা দিনে দিনে বাড়িয়ে তোলে। এবং হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুসকে মজবুত রাখে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ত্রনে সাহায্য করে এবং ব্লাড সুগার নিয়ত্রন করে।
  • নিয়মিত আমলকি খাওয়া হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং মানসিক চাপ কমাবে।

প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত?

প্রতিদিন কয়টা আমলকি খাওয়া উচিত- আমলকী ফলে রয়েছে ঔষধী গুন। আমলকী গাছের ফল এবং পাতা দুটোই ঔষধ রুপে ব্যাবহার হয়। এই ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। বিভিন্ন পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, লেবু এবং পেয়ারার থেকে ৩-১০ গুন বেশি ভিটামিন সি আছে। আমলকীতে কমলার চেয়ে ১৫ গুন বেশি ভিটামিন সি এবং আপেলের চেয়ে ১২০ গুন বেশি এবং কলার চেয়ে ৬০ গুন বেশি ভিটামিন সি আছে আমলকিতে। 
ডাক্তারদের মতে একজন পূর্ণবয়স্ক লোকদের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি দরকার। এইজন্য দিনে দুটো করে আমলকী খেলে ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি শরীরে প্রবেশ করবে। বিভিন্ন দন্ত রোগ সারাতে আমলকীর কোন তুলনা হয় না। আমলকী আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী একটি ফল। প্রতিদিন ২টি করে আমলকি খাওয়ার চেষ্টা করবো। ‍

কাঁচা আমলকি খাওয়ার নিয়ম? 

কাঁচা আমলকি খাওয়ার নিয়ম – কাঁচা আমলকী কিভাবে খেতে হয় তা নিচে দেওয়া হলো-
  • কাঁচা আমলকি টুকরো করে কেটে নিয়ে রাতে গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন। সকালে সেই পনি খাবেন এবং পানি খাওয়া হয়ে গেলে টুকরো আমলকি গুলো খেয়ে নিবেন।
  • শুকনো মরিচ লবণ দিয়ে চাটনি করে কাচা আমলকি খাওয়া যাবে। দিনে দুইটা খেতে পারবেন।
  • আমলকির রস করে এক চামুচ মধু বা মিশ্রি মিশেয়ে খেয়ে নিতে পারবেন।
  • সকালে খালি পেটে আমলকির রস খেতে পারবেন। তবে বয়স অল্প হলে ১০ মিলিগ্রামের বেশি খাওয়া যাবে না।
  • কাঁচা আমলকি ভাতের সাথে খাওয়া যাবে।
  • আমলকিতে শুকনো মরিচের গুড়া এবং সামান্য লবণ দিয়ে রোদে শুকিয়ে কাচের বয়ামে সংরক্ষিত করে রেখে খাওয়া যায়।
উপরের যে কোন নিয়মেই খান না কেন কোন সমস্যা নেই। আমলকি কাঁচা চিবিয়ে খান অথবা থেতো করে রস বের করে খান দুটোতেই সমান উপকার পাবেন।

প্রতিদিন আমলকি খেলে কি হয়?

প্রতিদিন আমলকি খেলে কি হয়- প্রতিদিন আমলকি খেলে ত্বকের উজ্জলতা বাড়ে, মাথার খুসকি দুর হয়, দ্রুত চুল লম্বা হয়, চুলের গোড়া মজবুত হয়, পেটের বিভিন্ন সমস্যা দুর হয় যেমন, বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটি, কোষ্টকাঠিন্য ইত্যাদি। পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা, আপেল এর চেয়ে আমলকিতে রয়েছে বেশি ভিটামিন সি। এই ভিটামিন সি শরীরের আন্টি-অক্সিডেন্ট বিপাকের হার বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন আমলকি খেলে সর্দি-কাশিভালো করে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ত্রন করে এবং 
পেটের সমস্যা দুর করে।আমলকি কাঁচা অথবা আচার, মোরাব্বা করে খেতে পারবেন। অন্যান্য ফলের চেয়ে আমলকীতে প্রচুর ভিটামনি সি আছে। এই ফল নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং শরীরের ব্যাথা বেদনা সহজেই দুর করে দেয়। প্রতিদিন ২ টা আমলকি ভালো করে বেটে একটু মধু মিশিয়ে খাবেন এতে ভালো উপকার পাবেন। প্রতিদিন আমলকী খেলে কি হয় আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক অতিরোক্ত আমলকি খেলে কি ক্ষতি হয়?

আমলকির ক্ষতিকর দিক?

আমলকির ক্ষতিকর দিক- শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এবং ত্বক, চুল সব কিছুতেই আমলকির উপকারিতা অনেক। ১ টি আমলকিতে রয়েছি ১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ফাইবার। এইজন্য ডাক্তাররা নিয়মিত আমলকী খেতে বলেন। কিন্তু এতো উপকারি ফলটি অতিরোক্ত খাওয়ার ফলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি ও হতে পারে। চলুন জেনে নিই অতিরোক্ত আমলকি খেলে কি ক্ষতি হতে পারে।
রক্ত পাতলা হয়ে যায়ঃ
আমলকিতে রয়েছে আন্টিপ্লেটলেট বৈশিষ্ট, যা অতিরোক্ত খাওয়ার ফলে শরীরের রক্ত পাতলা হয়ে যায় এবং রক্ত জমাট বাধতে বাধা দেয়। যাদের রক্ত পাতলা হওয়ার আশঙ্কা আছে তাদের আমলকি না খাওয়াটাই ভালো হবে। যাদের রক্ত পাতলা আমলকি খেলে আরো বেশি রক্ত পাতলা হয়ে যাবে। রক্ত পাতলা হলে কেটে বা ছিরে গেলে রক্তপাত বন্ধ করতে সমস্যা হবে।
কিডনিতে পাথরঃ
আমলকিতে রয়েছে আক্সালেট। অতিরোক্ত আমলকি খেলে আমলকির আক্সালেটের কারনে কিডনিতে পাথর জমে যাবে। এই জন্য অতিরোক্ত আমলকী খাওয়া যাবে না।
দাঁতের সমস্যা হবেঃ
আমলকি ফল প্রচুর টক যা অতিরোক্ত খাওয়ার ফরে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যাবে।যার ফলে ক্যাভিটি এবং টুথ সেনসিটিভিটির মতো দাঁতের অনেক সমস্যা হবে। আমলকি ১ টা বা ২ টা যাই খান না কেন, খাওয়ার পরে দাঁত ভালো করে পরিষ্কার করে নিবেন অথবা আমলকি রোদে শুকিয়ে নিলে টক ভাব কমে যাবে। তখন খেলে দাঁতের কোন সমস্যা হবে না।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হবেঃ
আমলকিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি এবং ফাইবার থাকায় অতিরোক্ত খেলে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হবে। তাছারাও বেশি আমলকী খেলে প্রস্রাবের দুর্গন্ধ বেশি হবে। এই জন্য অতিরোক্ত আমলকি খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির উপর প্রভাবিত করবেঃ
যাদের কিডনি সমস্যা এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তারা আমলকি থেকে ১০০ হাত দুরে থাকবেন। অতিরোক্ত আমলকি খাওয়ার ফলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমান বেড়ে যায়, যার ফলে কিডনি সমস্যা এবং রক্ত চাপকে প্রবাবিত করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারেঃ
অতিরোক্ত আমলকি খাওয়াতে পেটের মল শক্ত হয়ে যায়। আপনার যদি প্রতিদিন আমলকি খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে আমলকি খাওয়ার পরে বেশি করে পানি পান করুন। তাহলে এরকম সমস্যা হবে না।
অ্যাসিডিটি বাড়ায়ঃ
আমলকি যেহেতু টক ফল সেহেতু অতিরোক্ত খাওয়ার ফলে অ্যাসিডিটি সমস্যা বাড়িয়ে দিবে। যাদের অ্যাসিডিটি সমস্যা আছে তারা সকালে খালি পেটে আমলকি বা আমলকির রস খাবেন না। কিছু খাওয়ার পরে খাবেন তাতে ভালো হবে।

হরিতকির উপকারিতা?

হরিতকির উপকারিতা- সবুজ তিতা স্বাদের এই হরিতকি ফলের অনেক গুন আছে। হরিতকি ফল অন্যতম এবং মহৌষধ বলা হয়। এই ফলের ঔষধ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যাবহত হয় তেমনি রান্নাতেও হরিতকির নানা রকমের ব্যাবহার হয়। এই তিতা স্বাদের ফলে রয়েছে ট্যানিন, অ্যামাইন এসিড এবং ফ্রুকটোজ ও বিটা সাইটোস্টেবল। এই ফল এবং ফলের ঔষধ বিভিন্ন উপকার করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক হরিতকি ফলের উপকারিতা কি কি?