হার্টঅ্যাটাক থেকে বাচার উপায়,লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধহৃদরোগ টি জটিল রোগ গুলোর মধ্য একটি। এই রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য এবং খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য হার্টফেলিউর হয়। প্রিয় বন্ধুরা আপনাদের উপকারের উদ্দেশে হার্ট ফেইলিউর এর লক্ষণ, কারন ও প্রতিকার সম্পর্কে আমার এই পোষ্টটি লেখা।
হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা অর্থাৎ রক্ত পাম্প করে পুরো শরীরে রক্তের সাহায্যে অকসিজেন ও খাবার পৌছে দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকাংশে হ্রস পেলে আমরা তাকে হার্ট ফেইলিউর বলি।
ভৃমিকা
হৃদপিণ্ড যখন দেহের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রক্তের যোগান দিতে পারে না তখন এ অবস্থায় কে হার্ট ফেলিওর বলে। অনেক সময় হৃদপিণ্ড রক্তে পরিপূর্ণ হতে না পারায় কখনো ও বা হৃদপ্রাচীর যথেষ্ট শক্তি না থাকায় এমনটি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে উভয়ই সমস্যায় একসঙ্গে দেখা যায় অতএব হার্ট ফেলি ওর মানে হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে বা থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে তা নয়। তবে হার্ট ফেলিওর কে হৃদপিন্ডের একটি মারাত্মক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।
হার্ট ফেইলিউরের কারন
বিভিন্ন কারণে হাট ফেলি ওর হতে পারে। যেমন,
- হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফেকশন এর জন্য।
- উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপার টেনশনের জন্য।
- হৃদপিন্ডের কপাটিকার রোগ হলে।
- ইস্কিমিক হৃদরোগ হলে অর্থাৎ করোনারী ধমনীতে ব্লক হলে।
- অতিমাত্রায় রক্তশূন্যতার জন্য।
- ধুমপান ও মদ্যপানের জন্য।
- অত্যধিক মানসিক চাপ, বার্ধক্যজনিত কারণে, জেনেটিক কারণে ইত্যাদি।
হার্টফেইলিউরের লক্ষণ
- সক্রিয়, নিষ্ক্রিয় এমনকি ঘুমের মধ্যেও শ্বাসকষ্টে ভোগা এবং ঘুমের সময় মাথা নিচে দুটি বালিশ না দিলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়।
- সাদা বা গোলাপি রঙের রক্ত মাখানো মিউকাসসহ স্থায়ী কাশি বা ফুসফুস করে শ্বাস -প্রশ্বাস।
- শরীরের বিভিন্ন জায়গাযর টিস্যুতে তরল জমে ফুলে ওঠা।
- পা, গোড়ালি, পায়ের পাতা, ও উদর বা যকৃত স্ফীত হয়ে যায়। জুতা পরতে গেলে হঠাৎ আটসাট মনে হয়।
- প্রতিদিন সব কাজে সব সময় ক্লান্তি ভাব। বাজার সদাই করা, সিঁড়ি দিয়ে উঠা, কিছু বহন করা বা হাটা সবকিছুতেই ক্লান্তি ভাব।
- পাকস্থলী সব সময় ভরা মনে হয় কিংবা বমি ভাব থাকে।
- হৃৎস্পন্দন এত দ্রুত হয় মনে হবে যে হৃদপিণ্ড এক প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
- কাজ -কর্ম চলনে অসামঞ্জস্যতা এবং স্মৃতি হীনতা প্রকাশ পায়।
হার্টফেইলিউরের প্রতিকার
- হার্ট ফেলি ওর থেকে মুক্তি পেতে হলে স্বাস্থ্য সচেতন ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে হবে। কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ।যেমন,
- হৃদ রোগ সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল,ডায়াবেটিস ও স্থুলতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
- অতিরিক্ত কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার বর্জন করা। স্বল্প আহারের অভ্যাস করা ও খাদ্যে লবণ কম খাওয়া।
- নিয়মিত ব্যায়াম ও কায়িক পরিশ্রম করা।
- ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করা।
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করা।
- প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে চিকিৎসকের পরামর্শ ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে হার্ট ফেলিওর সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। পরীক্ষাগুলো যেমন, ইকোকার্ডিওগ্রাম, বুকের এক্সরে, ইলেকট্রফিজিওলজি, এনজিওগ্রাফি, বিভিন্ন প্রকার রক্ত পরীক্ষা, দেহের তরলের ভারসাম্য ও দেহের ওজন পর্যবেক্ষণ।
- প্রয়োজনে চিকিৎসক হার্ট ফেলিওর এর কবল থেকে রক্ষা পেতে সার্জারি বা শূণ্য চিকিৎসার নির্দেশ দিয়ে থাকেন। যেমন করুণারি বাইপাস, সার্জারি হৃদপিন্ডের কপাটিকা মেরামত, বা রিং বসানো, পেসমেকার বসানো ইত্যাদি
শেষকথা
শরীরের যেকোন রোগকে কখনো ও বাড়তে দেয়া যাবে না। এতে পরবর্তিতে জীবননাশের আশঙ্কা থাকে।সঠিক সময়ে সঠিক রোগের চিকিৎসা নিতে হবে। হার্টফেইলিউর রোগীদের ভবিষ্যতে কিডনি সমস্যা, মাথা ঘোরা ও পরে যাওয়া, অন্ত্রের সমস্যা, হঠাৎ মৃত্যু বরন, হাত বা পা প্যারালাইসিসি ব অবশ হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। সবাই সুস্থ্য থাকুন ভালো থাকুন।