পাতিলেবুর গুনগুনআমাদের দেশে প্রায় সবজায়গাতে বা সব এলাকায় পেঁপে কম বেশি পাওয়া যায়।কাঁচা এবং পাকা পেঁপে খুবই উপকারী একটা ফল। যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন পষ্টির অভাব পূরন করে থাকে।আমার এই পোষ্টটিতে কাাঁচা পেঁপের গুনাগুন সম্পর্কে অলোচনা করা হয়েছে। পেঁপে যখন পাকে তখন তাকে বলা হয় ফল আর যখন কাঁচা থাকে তখন বলা হয় সবজি।
বাজারে অন্যসব সবজির তুলনায় কাঁচা পেপের দাম খুব কম হয়ে থাকে। আবার পরিবেশ পরিস্থিতে দাম বৃদ্ধি ও পায়।কিন্তু পাকা পেঁপের দাম একটু বেশী এজন্য মানুষ সেরকম খায় না।
ভৃমিকা
পেঁপে হার্টের সুস্থায় খুব উপকারি একটি সবজি বা ফল।ডায়াবেটিস, মল পরিস্কার আরো বিভিন্ন ধরনের রোগের জন্য পেঁপে খুব উপকারি সবজি বা ফল।স্বস্থ্যকর খাবারের তালিকায় পেঁপে খুব দামি একটি খাবার।পেঁপেতে রয়েছে অ্যান্টি অক্যিটেড। যেমন, ক্যারোটিন,ভিটামিন-বি,ফ্ল্যাভনয়েভ।ত বন্ধুরা এবার জানা যাক পেঁপের গুনাগুন সম্পর্কে।
কাঁচা পেঁপের গুনাগুন
১. দশ ফোঁটা করে কাঁচা পেঁপের দুধ বা আঠা প্রতিদিন অল্প পানিতে মিশিয়ে খেলে দাদ ও চর্মরোগ সারে। কৃমিনাশ হয়।
২. প্রতিদিন দুপুরে ভাত খাওয়ার পর এবং রাতে ভাত বা রুটি খাওয়ার পর এক টুকরো কাঁচা পেঁপে ভালো করে চিবিয়ে খেয়ে এক গ্লাস পানি খেলে সকালে পেট পরিষ্কার হয় অম্বল ও বদহজমের কষ্ট দূর হয়।
৩. ২ চা চামচ কাঁচা পেঁপের আঠায় ২ চা চামচ চিনি মিশিয়ে কিছুদিন ধরে দিনে তিনবার করে খেলে পিলের আয়তন ক্রমশ কমে যায়।
৪. ২ চা চামচ পেঁপের আঠায় ১ চা চামচ চিনি মিশিয়ে দুধের সঙ্গে খেলে অম্বল ও অর জিন্ন রোগে উপকার হয়।
৫. যেসব মেয়েদের সদ্য বাচ্চা হয়েছে কাঁচা পেঁপের তরকারি নিয়মিত খেলে তাদের স্থানের দুধ বাড়বে।
৬.পিলে ও লিভার বেড়ে যাওয়া, তার সঙ্গে জ্বর ও দুর্বলতার ঔষধ হিসেবে দিনেও রাতে খাওয়া-দাওয়া পর নিয়মিত পাঁচ থেকে দশ ফোটা করে পেপের আঠা খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৭. ঔষধ হিসেবে কাঁচা পেঁপের গুন পাকা পেঁপের চেয়ে বেশি। পেপটিন বা পেঁপের আঠার গুণ অশেষ।
৮. বড় কাঁচা পেঁপে চিরে নিয়ে তার নিচে একটি কাপ বা ডিশ রাখুন। এইভাবে দুধ/আঠা বের করে নিন ।এই দুধ বা আঠা তৎক্ষণাৎ রোদে শুকিয়ে নিন। এই আঠা গুঁড়ো করে শিশিতে ঢাকনা বন্ধ করে রাখুন। গ্যাস্ট্রিক আলসার বা গ্যাস্টিকের অসুখের জন্য আশ্চর্য ভালো ফল। দেই পাকস্থলীর দাহ, বায়ু ,গোলক, ব্রণ, অল্পপিত্ত, বদহজম, প্রভৃতি অসুখ ও এই চুর্ন নিয়মিত খেলে সেরে যায়।
৯. আধ চামচ পেপের দুধ চিনি মিশিয়ে খেলে অর্জীনতা সাড়ে।
১০. কাঁচা পেঁপের বীজ কৃমিনাশক।
১১. এই বিজ খেলে মেয়েদের মাসিক নিয়মিত হয় এবং বেশি পরিমাণে খেলে গর্ভপাত হয়।
১২. পেঁপের পাতা পানিতে সেদ্ধ করে চা এর মত তৈরি করে খাওয়ালে হৃদরোগে লাভ দেই।
১৩. উচ্চরক্ত চাপ থেকে মুক্তি দেয়।
১৪. জয়েন্টের ব্যাথার সমস্যা দুর করে।
১৫. ডায়াবেটিস নিয়ত্রন করতে সাহায্য করে।
পেঁপে খাওয়ার অপকারিতা
পেঁপে কারো শরীরের জন্য উপকার করে থাকলেও কারো কারো জন্য পেঁপে খাওয়া ক্ষতির সম্ভাবনা থাকতে পারে।কিছু সমস্যায় আক্রান্ত তাদের জন্য পেঁপে খাওয়া ক্ষতি কর। যেমন-
গর্ভবতী মেয়েঃ গর্ভবতী মহিলাদের এবং যাদের মাসিক বেশী হয় তাদের পেঁপে খাওয়া উচিত না। কারন পেঁপে রজঃ ( রক্ত ) ভ্রুন নিঃসারক।
এলার্জির সমস্যায়ঃ যাদের শরীরে এলার্জি আছে তাদের কে পেঁপে খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে যাদের পেঁপেতে এলার্জি আছে।
কিডনির পাথরঃ পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্যিডেন্ট। এই জন্য ভিটামিন সি যুক্ত খাবার অধিক পরিমানে খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
বুক ধরফরানির সমস্যাঃ পেঁপে খেলে হার্টের সমস্যার ঝুকি কমাতে পারে।আপনের যদি অতিরোক্ত হৃদস্পন্দনের সমস্যা থাকে তাহলে পেঁপে খাওয়া থেকে দুরে থাকবেন। আপনের শরীরের জন্য ভালো হবে।পেঁপেতে রয়েছে সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড,অ্যামিনো অ্যাসিড । যা মানুষের পচনতন্ত্রের হাইড্রোজেন সায়ানাইডে তৈরী করে।
লেখকের মতামত
পাকা পেঁপেতে রয়েছে ফাইবার যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষাকরে থাকে। তাছারাও যারা শরীরের ওজন কমাতে ডায়েট করে খাবার খেয়ে থাকেন তাদের জন্য পাকা পেঁপে ভালো। বিভিন্ন ভিটামিন থাকায় পেঁপে চোখের জন্যও উপকারি।প্রতিদিন সকালে পাকা পেঁপে খেলে হার্টকে সুস্থ্য রাখে এবং চেহারার জেল্লা দুর করে। পেঁপেতে থাকে ভিটামিন সি যা ত্বকের কোষ মেরামতে সাহায্য করে থাকে।