করলার জুস বানানোর নিয়মসজনের পাতা ও ডাটার গুনের কমতি নেই। সজনে গাছের নানান অংশ যেমন, পাতা, ডাটা, ফুল, গাছের ছাল, ইত্যাদি বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন রোগের ঔষুধ হিসাবে টনিকের মতো কাজ করে থাকে। ম্যালেরিয়া জ্বর ,উচ্চ রক্তচাপ, ও ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কাঁচা সজনে পাতা ও ডাটার উপকারিতার শেষ নেই।
নিয়মিত কাঁচা সজনে পাতা বা সজনে শাক খেলে বিভিন্ন ধরনের অসুখের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। সজনে শাক, সজনে ডাটা , সজনে ফুল ইত্যাদি বিশেষ ঔষিধি গুনে পরিপূর্ণ।
ভৃমিকা
গবেষকেরা বিভিন্ন পরিক্ষা করে দেখেছেন যে,সজনে পাতায় ভিটামিন,আয়রন,এবং ক্যালসিয়াম এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে।এগুলো ভিটামিনের বিভিন্ন রকমের স্বস্থ্য উপকারিতা আছে। নিয়মিত ভাবে আমরা যদি সজনে ডাটা বা সজনে শাক খাওয়ার অভ্যাস করি তাহলে আমরা বিভন্ন অসুখের হাত থেকে রেহাই পাবো।
সজনে পাতা খাওয়ার নিয়ম
সজনে পাতা আমাদের দেশে সারা বছরই পাওয়া যায়। সজনে পাত কিভাবে ক্ষেতে হবে তা নিচে দেওয়া হলো-
টাটকা সজনে পাতা কিছু নেন। তারপরে ভালো করে বেছে,ধুয়ে পরিস্কার করে তার সঙ্গে একটু লবণ, জিরা, এক টুকরা আদা,দিয়ে বিলিনডারে অথবা পাটায় বেটে নিতে হবে। বাটা সজনে পাতা পাতলা কাপরে ছেকে রস বের করে নিতে হবে। সেই রসের স্বাদের জন্য একটু মধু মশিয়ে জুস বানিয়ে দিনে এক গ্লাস করে খেতে পারেন।
আপনার যদি জুস বানাতে ঝামেলা হয় তাহলে আপনি সজনে পাতার শাক, ভর্তা করে খেতে পারবেন।সজনের ফুল, ভেঝে খেতে পারবেন। ডাটার ঝোল, ভাজি, চরচরি রান্না করে খেতে পারবেন।তবে সজনে পাতা রান্না করে খাওয়ার চেয়ে কাচা খেলে বেশী উপকার পাওয়া যায়।
ডায়বেটিস রোগীর জন্য কাঁচা সজনে পাতার উপকারিতা
সজনে পাতায় রয়েছে একের অধিক বৈশিষ্ট। এর পাতা, ডাটা, ফুল সবই রোরে ঔষুধ হিসাবে কাজ করে।বিশেষ করে জটিল রোগ ডায়াবেটিস রোগের জন্য খুবই উপকারি। প্রত্যেকদিন নিয়ম করে কাচা সজনে পাতার রস পানির সঙ্গে মিশিয়ে এক গ্লাস করে খেলে ডায়াবেটিস রোগীর সুগারের মাত্রা কমতে থাকে।এর পাতাতে রয়েছে অ্যান্টি ডায়াবেটিক বৈশিষ্টি।
তবে আপনেরা যদি সরাসরি কাচা পাতা খেতে না পারেন তাহলে পাতা শুকিয়ে পাতার ট্যাবলেট বানিয়ে ও খেতে পারবেন। তা না হলেও সজনে পাতা শুকিয়ে গুরো করে গরম ভাতের সাথে বা তরকারি রান্না হওয়ার পরে তরকারির উপর একচামুচ করে সজনে গুরো ছিটিয়ে দিয়ে খেতে পারেন। অথবা সজনে পাত শাক রান্না করে খেতে পারবেন। এভাবে নিয়ম করে খেতে থাকুন দেখুন অল্প কয়েক দিনে অনেক সুস্থ্যতার লক্ষন দেখতে পারবেন।
সজনে পাতার উপকারিতা
বাজারে আমরা চড়া দাম দিয়ে ডাটা কিনে অথচ অধিক পুষ্টিকর পাতার কথা কেউ মাথায় রাখি না।
এই পাতা শাক হিসেবে গ্রামগঞ্জে লোকেরা খায়। এটি গরীব লোকদের কাছে ভিটামিন বলে পরিচিত। পাতার শাক খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায় প্রেসারের রোগীদের কাছে এটি হলো মহা ঔষধ। ফাল্গুন -চৈত্র মাসে হাম -বসন্তের মতো রোগ দেখা যায়।
আর ঠিক এই সময়ে পাওয়া যায় সজনের ফুল ও ডাটা। কবিরাজ মহাশয়েরা বলেন, সজনে ফুল সবজি হিসাবে খেলে হাম বসন্ত হবে না। আবার ইউনানী ডাক্তাররা বলেন সজনে ফুল সর্দি কাশি প্লিহা ঝুঁকৃতের দোষ এবং কৃমির মতো রোগে কাজ করে।পাতা শাক খেলে সর্দি -কাশি জ্বর সারে। খাবারে অরুচি দূর হয় এবং খিদে বাড়ায়।
আমাশয়, বাত এবং পেটের গন্ডগোলে, পাতার শাকের ঝোল বেশ কার্যকারী। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ পাতা ও ডাটা খেলে শিশুদের হার ও দাঁতের গঠন মজবুত হয়। প্রচুর পরিমাণে লোহা থাকায় শিশু ও গর্ভবতী মায়ের দেহে লোহার ঘাটতি মিটাই। এবং রক্তস্বল্পতার মত সমস্যায় দারুন কাজ দেই। এজন্য নিয়মিত আহারে সজনের শাক রাখুন, সজনে শাক খুবই উপকারী শাক।
সজনে পাতা গুড়া করার নিয়ম
আপনার বাড়ির আশেপাশে সজনে গাছ থাকলে গাছ থেকে সজনে পাতা পেরে পাতা গুলো ভালো করে বাছাই করতে হবে।বিশেষ করে সজনের আগা ডোগা গুলো বা শক্ত জাতীয় কোন কিছু যেন না থাকে।তার পরে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ঝাকায় তুলতে হবে। পানি নিংড়ানো হয়ে গেলে রোদে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে।
আরো পড়ুনঃ স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ঘরোয়া ঔষধ জেনে নিন
আধা কাচা বা ভালো করে না শুকালে কিন্তু বেশী দিন ধরে সংরক্ষন করা যাবে না।সজনে পাতা কাচা অবস্থাই যেমন পুষ্টিকর থাকে তেমন সজনে পাতা গুড়া করার পরও তেমনি পুষ্টিগুন থাকে।শুকনো সজনে পাতা পাটাতে বা বিলিনডারে গুড়া করে বোতলে বা কাচের বয়ামে সংরক্ষন করুন।তবে গুরো টা মিহি করে করতে হবে।
সজনে পাতা গুড়ো খাওয়ার নিয়ম
সজনে পাতা বা ডাটা একটি অ্যান্টি অক্রিটেড যুক্ত খাবার। যা আমাদের দেশে একটি জনপ্রিয় খাবার। কিন্তু অনেকের কাছে সজনে পাতা পছন্দ না। যে খাবে না সে তো অবশ্যই ভুল করছে। শরীরে বিভিন্ন ধরনের হরমোন আছে যেমন,ইনসুলেন হরমোন,থায়ারেড হরমোন,। এই হরমোন গুলোকে ব্যালেন্স করার জন্য সজনে পাতা বা গুড়া হেল্প করে থাকে।
সজনের গুড়ো একচা চামুচ পানিতে মিশেয়ে আমরা খেতে পারব। বা গরম ভাতের সাথে নিয়ে খেতে পারব। তরকারির ভিতর দিয়ে খেতে পারব।তবে রাতের বেলা একচামুচ সজনে গুড়ো পানিতে ভিজিয়ে সকারে খালি পেটে খেলে উপকার বেশী পাওয়া যায়।
সজনের পাতা গুড়া খাওয়ার উপকারিতা
- সজনে পাতা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
- শরীরের হরমোনের ভারসম্যতা সঠিক রাখে এবং পুরুষদের হরমোন বাড়াতে সাহায়ক।
- সজনে পাতায় প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে যা হাড় ও দাঁতের সুরক্ষা বজায় রাখে।
- পেটের কোষ্টকাঠিন্য ভালো করে।
- শরীরের বিভিন্ন বাথ ব্যাথা ভালো করে।
- খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং পেটের অতিরোক্ত গ্যাস কমাতে সাহায্য করে।
- ত্বক পরিষ্কার করে এবং চেহারায় বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে।
- শরীরে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়াই করে সমস্যা দুর করে দেয়।
সজনে ডাটা ও পাতার পুষ্টিগুনের তালিকা
সজনের পাতা,ফুল, ডাটা -এই তিনটি অংশ হলো পুষ্টি গুনে ভরপুর। পুষ্টি বিজ্ঞানীরা দেখেছেন প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী পাতা ও ডাটায় পাওয়া যায়-
লেখকের মতামত
শুকানো সজনে পাতা গুড়োতে প্রচুর পরিমানে পুষ্টি থাকে। যেমন,অ্যান্টি অক্যিডেন্ট, প্রেটিন, আয়রন, পটশিয়াম ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। সজনে পাতার গুড়ো আর দুধের ভিটামিন প্রায় কাছাকাছি। কেউ প্রত্যেকদিন দুধ খেতে না পারলে এক চা চামুচ করে সজনে গুড়ো পানির সাথে মিশিয়ে খেতে থাকেন।
সজনে গুড়ো খেলে শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ বের করে ফেলে। রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ত্রন রাখতে সাহায্য করে। ত বন্ধুরা আমার লেখা পোস্টটি পড়ে আপনেদের ভালো লাগলে অন্যদের কাছ সেয়ার করবেন প্লিজ। তারা ও পোষ্টটি পড়ে উপকৃত হবে ইনশাল্লাহ।