পাকা টমেটো মুখে মাখার উপকারিতা ও টমেটোর পুষ্টিগুন

মেয়েদের শারিরিক সমস্যায় ফলের চিকিৎসাপ্রিয় পাঠক আমাদের হয়তো অনেকেরই জানা নেই যে, পাকা টমেটো মুখে মাখার উপকারিতা সম্পর্কে।উজ্জল,চকচকে,ও মসৃন ত্বক পেতে ব্যাবহার করতে পারেন পাকা টমেটো।এই টমেটো খেলে আমাদের শরীরের যেমন নানান পুষ্টি যোগায় তেমনি মুখে মাখলে ও মুখের ত্বক মসৃন এবং চকচকে হয়।
পাকা টমেটো মুখে মাখার উপকারিতা টমেটোর পুষ্টিগুন
পাকা টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি,এবং পটশিয়াম যা ‍উজ্জল এবং প্রানবন্ত ত্বক তৈরী করতে সাহায্য করে।টমেটোর রস মুখে লাগালে মুখের সকল ধরনের দাগ তুলতে সাহায্য করে।

ভৃমিকা

টমেটো হলো একটি শীতকালীন সবজি। বাজারে টকটকে লাল রঙ্গের টমেটো সকলেরই নজর কারে।এটি যেমন পুষ্টিকর তেমনি খেতেও সুস্বাদু। পাকা টমেটো দিয়ে যেমন ত্বকের পরিচর্যা করা যায় তেমনি বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরীতে টমেটোর দরকার হয়। তো বন্ধুরা কথা না বাড়িয়ে আলোচনা করা যাক পাকা টমেটো মুখে মাখার উপকারিতা কি।

টমেটোর পুষ্টিগুন

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের কথায় প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যউপযোগী অংশে আছে-

কার্বোহাইড্রেট-                            ৩.৬ গ্রাম

লোহা-                                             ১.৮ মিগ্রা.

প্রোটিন-                                       ১.৯গ্রাম

ক্যালসিয়াম-                                    ২০ মিগ্রা.

ফ্যাটি-                                         ০.১গ্রাম 

ফসফরাস-                                      ৩৬ মিগ্রা.

আশ-                                          ০.৭ গ্রাম

পটশিয়াম-                                      ১১৪ মিগ্রা.

ভিটামিন-এ-                                ৩২০ আই.ইউ

ভিটামিন -সি-                                  ৩১ মিগ্রা.

থায়ামিন-                                     ০৭ মিগ্রা.

নিকোটিনিক অ্যাসিড-                      ০.৪ মিগ্রা.

রিবোফ্ল্যাবিন-                               ০১ মিগ্রা.

একটি বড় মাপের পাকা টমেটো থেকে আপনি ১২ ক্যালোরি শক্তি পেতে পারেন।

পাকা টমেটো খাওয়ার উপকারিতা

  • একটি করে টাটকা পাকা টমেটো দুপুরে ভাত খাওয়ার আগে খোসা ও বীজ সহ কামড়ে খেলে এবং রাতে শোয়ার আগে ও এভাবে খেলে পুরনো কুষ্ঠুকাঠিন্য কয়েক দিনের মধ্যে দূর হয়ে যাবে।
  • যাদের ওজন কম তারা যদি খাওয়া দাওয়ার সঙ্গে প্রতিদিন নিম করে একটি পাকা টমেটো খান ওজন নিশ্চয়ই বাড়বে।
  • ফ্যাকাসে রক্তাহীন চেহারার ব্যক্তিদের প্রতিদিন নিয়মিত একটি পাকা টমেটো খাওয়া উচিত এতে রঙ্গে জৌলুশ আসবে ও রক্তকণিকা বাড়বে।
  • অর্জুন গাছের ছাল আর চিনি মিশিয়ে টমেটো রসের (জ্যামের মতো ঘন থকথকে) তৈরি করে নিয়মিত খেলে বুকের ব্যথা ও হাড়ের ব্যথা হাটে অসুখে উপকার পাওয়া যায়।
  • পাকা টমেটোর রস মধু মিশিয়ে খেলে রক্তপিত্ত এবং রক্ত বিকের রক্তের দোষ সেরে যায়।
  • পাকা টমেটোর এক কাপ রস প্রতিদিন নিয়ম করে খেলে অন্তরের ভেতরের আটকে থাকা মল নিষ্কাশিত হয় যায় এবং এইভাবে পুরনো কুষ্ঠ কাঠিন্য সেরে যায়।
  • টমেটো দু ১ চামচ রস বাচ্চাদের খাবার খাওয়ানোর আগে খাইয়ে দিলে দুধ তোলা বন্ধ হয়।
  • এক কাপ ভালো নারিকেল তেল এবং আদা কাপ টমেটো রস একসঙ্গে মিশিয়ে শরীরে মালিশ করলে এবং তার একটু পরে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের চুলকানি সারে।
  • মাথার খুশকিতে আধা কাপ ভালো নারিকেল তেল ১/৪ কাপ টমেটোর রস মিশিয়ে মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়।
  • টমেটোর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম। যা আমাদের হারের জন্য উপকারি। প্রতিদিন একটা থেকে দুইটা পাকা টমেটো খেলে হারের ক্যালসিয়াম বাড়তে থাকে।
  • প্রতিদিন একটি করে পাকা টমেটো খেলে ত্বক সুস্থ্য থাকে। এবং সূর্যের তাপমাত্রা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে না।
  • চর্মরোগে ও টমেটো রস বেশ কার্যকরি।

পাকা টমেটো মুখে মাখার উপকারিতা

  • মুখের তেলতেলে ভাব কমায়
  • মুখের আদ্রতা ধরে রাখে
  • মুখের ছোপ ছোপ দাগ দুর করে
  • বিভিন্ন ধরনের ফুসকুরি,চর্মরোগ,ব্রন ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে।
  • সূর্যেগরম তাপে মুখের সমস্যা হয় না।
  • বয়সের ছাপ কমায়।
  • মুখের ত্বক টানটানে রাখে।

টমেটো মুখে মাখার নিয়ম

  • একটা পাকা টমেটো টুকরা করে কেটে নিতে হবে। সেই টুকরা ‍গুলো মুখে মালিশ করতে হবে ১/২ মিনিট। তার পর ৭/৮ মিনিট অপেক্ষা করে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • পাকা টমেটোর রসের সঙ্গে কাচা দুধ, বাদাম বেটে মিশেয়ে মুখে লাগিয়ে রাখলে বেশ উপকার পাওয়া যাবে।
  • টেমেটোর রস এবং শসার রস মিশেয়ে মুখে ব্যাবহার করতে পারেন। মিশ্রনটা ফ্রিজে ৩ থেকে ৪ দিন রেখে ব্যাবহার করতে পারবেন।

টমেটো খাওয়ার অপকারিতা

টমেটো খুবই পরিচিত একটা সবজি।টমেটোর সিজিনে প্রায় সবাই টমেটো খেয়ে থাকেন। তরকারিতে,স্যালত,এবং সস বানিয়ে টমেটো খাওয়ার প্রচলন আছে।টমেটো খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকর ও বটে। টমেটোতে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন,ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, ফসফরাস,যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকার করে।আবার কিছু কিছু অসুখের ক্ষেত্রে টমেটো খুবই ক্ষতিকর।এমন কিছু অসুখ আছে যে টমেটো খেলে শরীর আরোও ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়। ত বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক কোন রোগে টমেটো খাওয়া যাবে না।
কিডনিতে পাথরঃ এই রোগে একে বারেই টমেটো খাওয়া যাবে না। কারন টমেটোতে আছে অক্যালেট, যা কিডনিতে পাথর বাড়াতে সাহায্য করে।

ডায়রিয়া জনিত অসুখেঃ ডায়রিয়া হলে টমেটো একে বারেই খাবেন না। কারন টমেটোতে আছে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া যা ডায়রিয়া বারিয়ে দেয়। এই রোগ হলে টমেটো না খাওয়া উচিত।

অ্যালার্জিঃ টমেটো খাওয়ার জন্য কারো আবার অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দেয়। টমেটোর রস ত্বকে মাখলে বা খেলে অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে।

গাঁটে ব্যাথাঃ যাদের গাঁটে ব্যাথা বা জয়েন্টের ব্যাথায় ভুগছেন তাদের টমেটো না খাওয়াই ভালো।
গ্যাসের সমস্যাঃ অনেকের গ্যাসের বা অম্বলের সমস্যা আছে। তার টমেটো খেলে সাথে সাথে গ্যাস শুরু হয় । তাদের কে টমেটো না খাওয়া টাই ভালো। খেলেও অতিরোক্ত খাওয়া যাবে না।

টমেটো খেলে কি ওজন কমে

অনেক গবেষকেরা গবেষনা করে দেখেছেন যে, টমেটো খেলে শরীরের বাড়তি ওজন কমে যায়। দেহের অতিরোক্ত ওজন বা মেদ ‍ভুরি কমানোর জন্য প্রত্যেক দিনের খাবারের তালিকায় টমেটো রাখতেই হবে। কারন টমেটোর মধ্যে আছে অ্যামিনো অ্যাসিড যা মেদভুরি কমাতে সাহায্য করে।

গর্ভবস্থায় টমেটো খেলে কি হয়

টমেটো খেতে অনেক সুস্বাদু। গর্ভবস্থায় টমেটো খাওয়ার ইচ্ছা আপনার জাগতেই পারে।গভবস্থায় টমেটো খাওয়া সাস্থ্যর জন্য ভালো আবার সাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর ও বটে।
  • গর্ভবস্থায় টমেটো খেলে আপনার শরীরে শক্তির বোস্টার হিসাবে কাজ করে।
  • গর্ভবস্থায় টমেটো খেলে শরীরের অলসতা ও দুর হয়।
  • এটি হজম শক্তিতে সবোত্তম কার্যকর রাখতে সহায়তা করে।
  • গর্ভবস্থায় টমেটো খেলে শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে।
  • প্রসবের পরে টিস্যুর মেরামত কে উৎসাহিত করে থাকে টমেটো।
  • রক্তক্ষয় রোধ হয়।
  • রক্তপাত হওয়ার ঝুকি কমায়।
  • নিয়মিত গভবতী নারীরা টমেটো খেতে পারে হজম শক্তির উন্নতি হয়।
  • গর্ভবতী নারী যদি নিয়ম মেনে টমেটো খেতে পারে তাহলে সন্তানের বিকলঙ্গ বা ক্ষতির সম্ভবনা কম থাকে।
  • হার্টএ্যাটাকের ঝুকি কমে যায়।
  • গর্ভবস্থায় টমেটো খেলে রক্ত ভালো ভাবে সন্তানের কাছে পৌছায়।
ত মোট কথা গর্ভবস্থায় টমেটো খাওয়া যাবে, কিন্তু পরিমান মতো। যে কোন খাবারই বেশী খাওয়া যাবে না। যা শরীরের জন্য ক্ষতির কারন ও হয়।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা জানলাম টমেটো খাওয়া, ত্বকে মাখা, এবং উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে।প্রতিদিনি আমাদের কে কোন না কোন কাজে ঘরের বাইরে যেতে হয়। কাজের মাঝেও সময় বের করে আমাদের কে নিজের যত্ন নিতে হবে। নিজের পরিচর্যা নিজেকেই করতে হবে। শুধু প্রয়োজন নিজের প্রতি ভালোবাসা। আশা করি সবার ভালো লাগবে আমার লেখা এই পোষ্টটি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *