স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ঘরোয়া ঔষধ – মাথার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান

পেঁয়াজের রসের উপকারিতাস্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ঘরোয়া ঔষুধ কি তা আমাদের হয়তো অনেকেরই জানা নেই। মস্তিস্ক, পেশি এবং কোষের নানান অসুখে তাজা এবং শুকনো ফল খুবই উপকারি। বিশেষ করে বাদাম দুর্বলতা দুর করে এবং সঙ্গে সঙ্গে মস্তিস্কের শক্তি বাড়িয়ে তুলে। কাজেই বাদাম খেলে স্নায়ুর রোগের উপশম হয়এবং স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তোলে।
স্মৃতিশক্তি বৃ্দ্ধির ঘরোয়া ঔষুধ - মাথা ব্যাথার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান
বাদাম খাওয়ার অভ্যাস চালাতে থাকলে মস্তিস্ক বা ব্রেনের নানান অসুখ কমে যায়। এমন কিছু ‍কিছু ফল আছে যা আমাদের মস্তিস্কের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তোলে।তা যাই হোক এখন শুরু করা যাক ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে আমরা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে পারি এবং মাথার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান কিভাবে করতে পারি।

ভৃমিকা

মোট কথা যে সব ফল ফসফরিক উপাদান আছে যেমন বাদাম, ডুমুর, আঙ্গুর, খেজুর, আপেল, কমলালেবু ইত্যাদি ফল ব্রেনের কোষ ও টিস্যু আরো শক্তিশালি করে তোলে।প্রাচীন ও নবীন ডাক্তারের মতে এই সব তাজা ও শুকনো ফলে ফসফরাস বেশী আছে। বিশেষ করে আপেল ও বাদাম ব্রেনের উর্বরতা কে বাড়িয়ে তোলে।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ঘরোয়া ঔষুধ

ঘরোয়া উপায়ে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির তিনটি পদ্ধতি আছে যেমন,
প্রথম পদ্ধতিঃ দশটি বাদাম, দুটি ছোট এলাচ, দুটি শুকনো খেজুর (ছোহারা ) একটি মাটির পাত্রে আগের দিন রাত্রে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকাল বেলা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে, এলাচের দানা বেড় করে শুকনো খেজুর বা ছোহারার বিচি বের করে এক সঙ্গে তিরিশ গ্রাম চিনির সঙ্গে মিশিয়ে মিহি করে বেটে নিতে হবে।
এই মিশ্রন পেস্ট পঁচিশগ্রাম মাখনের সঙ্গে খুব ভালো করে মিশিয়ে যদি প্রতিদিন খাওয়া যায় তাহলে ব্রেন খুবই তরতাজা থাকে এবং স্মৃতিশক্তি বেড়ে যায়। ‍খুব দামি ঔষুধ ও কার্যকারিতায় এই মিশ্রনের তুল্য নয়। অল্প কয়েকদিনে চেহারার মধ্যে লালিত্য ফুটে বেরোয়।
দ্রষ্টব্যঃ যদি কারো হজম শক্তি কম থাকে সেক্ষেত্রে সব মাপটাই অর্ধেক করে নিতে হবে।
দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ টাটকা পাকা আমের রস দুশো গ্রাম, গরুর টাটকা দুধ ৫০ গ্রাম,এক চা চামুচ আদার রস এক সঙ্গে মিশিয়ে, একটা গ্লাসে ঢেলে ,প্রয়োজন হলে একটু চিনি ‍দিয়ে আস্তে আস্তে চুমুক দিয়ে খাবেন। দুই থেকে তিন সপ্তাহ নিয়ম করে প্রতিদিন খেলে ব্রেন বেশ মজবুত হয়ে ওঠে এবং নানা বিধ ব্রেনের জটিলতা যেমন, একটানা মাথাধরা, মাথা ভার, সময়ে সময়ে চোখ অন্ধকার দেখা -যা ব্রেনের দুর্বলতা থেকে হয় তা সব সেরে যাবে। এতেও যদি ওই সব উপসর্গ না কমে কিছুদিন বাদ দিয়ে আবার দুতিন সপ্তাহ খেয়ে দেখতে হবে। এই সঙ্গে লিভারের উপকার ও হবে এবং শারীরিক দুর্বলতা ও কমবে।
তৃতীয় পদ্ধতিঃ দশটি বাদাম আগের দিন মাটির পাত্রে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে খোসা ছারিয়ে পিষে নিয়ে প্রায় আধা লিটার দুধের সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ৈ নিতে হবে। ফুটানো দুধ ঠান্ডা হলে প্রয়োজন মতো খাটি মধু মিশিয়ে নিয়মিত যদি খাওয়া যায় তাহলে ব্রেন ও শরীর বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। শীতের দিনে একটা ছোট এলাচের গুরো মিশিয়ে দিলে আরও ভালো হয়।

ব্রেনের দুর্বলতা কমাতে আপেলের গুনাগুন

আপেলে আনেক ফসফরাস আছে। প্রতিদিন তিন / চারটি আপেল যদি খাওয়া যায় তাহলে ব্রেনের দুর্বলাতা দুর হয়ে যাবে। খেয়াল রাখতে হবে যে আপেলের ভেতরের শক্ত জায়গাটা যেন না খাওয়া হয়। এছারা সকালে খালি পেটে একটা করে ভালো জাতের পাকা আপেল খোসা ছারিয়ে এবং ভেতরের বিচির অংশ বাদ দিয়ে একটু লবণ মিশিয়ে যদি পাঁচ থেকে সাত দিন পর পর খাওয়া যায় তাহলে অত্যান্ত ক্রনিক ধরনের মাথা ধরাও সেরে যায়।

মাথার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ঘরোয়া উপায়ে

মাথা ধরায় প্রলেপঃ আমরা পাতিলেবু খেয়ে তার খোসা ফেলে দেয়। লেবুর এই খোসা শুকিয়ে ভালো করে হামান দিস্তায় মিহি করে চুর্ণ করে রেখে দিন। যখন গরম লেগে মাথা ধরে বা মাইগ্রেনের মাথা ধরায় প্রলেপ হিসাবে কপালে লাগালে খুবই উপকার পাওয়া যায়। এছারাও করলার বিচি শুকিয়ে রেখে গুরো করে তার প্রলেপ কপালে হালকা ভাবে লাগালে ও কয়েক মিনিটের মধ্যে মাথা ধরা কমে যায়।
অম্বল বা গ্যাসের জন্য মাথা ধরাঃ এক কাপ লিকার চা-ও তিন টুকরো লেবুর রস নিংড়ে খেলে এই মাথা ধরা খুব তাড়াতাড়ি সেরে যায়। ঠিক সেই রকমই এক কাপ কড়া কফিতে এক চামুচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলে মাথা ধরা অনেক টা আরাম হয়।
মাইগ্রেনের ব্যাথাঃ আধ কপালে মাথা ধরা, চোখ ভুরুর উপর মাথা ধরা, কপালের সামনের দিকে মাথা ধরা এছারও মাথা ধরার জন্য নাক – কান সব কিছুর মধ্যে দিয়েই মনে হয় কেউ যেন কিছু বিধিয়ে দিচ্ছে, যন্ত্রনায় ছটফট করতে হয়। এই ধরনের মাথা ধরার ডাক্তারি নাম হলো মাইগ্রেন বা হেমিক্রেনিয়া ।এই অসুখে পাকা আঙ্গুরের রস হলো অব্যার্থ ঔষুধ।
মাইগ্রেন সম্পর্কে মজার গল্প
এই মাইগ্রেন সম্পর্কে একটা মজার গল্প প্রচলিত আছে। রাজা জামশেদ আঙ্গুর খেতে খুব ভালবাসতেন। তিনি একসময় বোতল বোতল আঙ্গুরের রস তৈরি করিয়ে যত্ন করে রেখেছিলেন যাতে এই আঙ্গুরের রস কেউ খেয়ে না নেই সেই জন্য সকলকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এতে বিষ আছে কেউ যেন হাত না দেয় বোতল গুলোর উপর করা বিষ এই লেভেল লাগানো ছিল।
দৈবাৎ রানীর এই মাইগ্রেন অসুখ আরম্ভ হয় এবং সব চিকিৎসা ব্যর্থ হয়। মাথার যন্ত্রনা এত ভীষণ আকার নিয়েছিল যে, তিনি আত্মহত্যা করবার চেষ্টায় রাজার রক্ষা ‘করা বিষ’ লেখা বোতলের রস পান করে নেন। মজার ব্যাপার হলো তার মৃত্যু তো হলো না কিন্তু তার মাথা ধরা কমেতে আরম্ভ করল এবং তিনি রাজাকে লুকিয়ে অল্প অল্প করে কয়েকদিন ওই রস পান করলেন। 
এভাবে তার মাথা ধরার সম্পূর্ণভাবে সেরে গেল। পরে রানী যখন রাজাকে এই ঘটনার কথা বললেন, তখন রাজা হাসলেন এবং অন্যান্য মাথা ধরার রোগীদের উপর এই রস খাওয়ানোর পরীক্ষা চালিয়ে এর সত্যতা যাচাই করে নিলেন। তার থেকেই ইউনানী ডাক্তারেরা মাথা ধরার রোগীদের জন্য এই ওষুধ বা রস খাওয়ার নির্দেশ দিতে লাগলেন।
ব্রেনের দুর্বলতার জন্য অনিদ্রাঃ অনিদ্রার ডাক্তারি নাম ইনসোমনিয়া। নানা কারণে অনিদ্রা হতে পারে। কিন্তু মানসিক চিন্তা ছাড়া অন্যান্য শারীরিক কারণে বিশেষ করে ব্রেনের দুর্বলতার কারণে যে অনিদ্রা ঘটে তা সারানো যায় নিয়মিত আম খেয়ে তারপর দুধ খেলে।
পাগলামি সারানোঃ এই অসুখের চিকিৎসা অনেক সময় রাজকীয় হয়ে পড়ে। হাজার হাজার টাকা খরচ না করে অনেক সময় ফলের এই চিকিৎসাটা করে দেখা যেতে পারে।৪০ টা সবুজ ধরনের মিষ্টি কিসমিস ১০০ গ্রাম গোলাপ পানির মধ্যে ভিজিয়ে একটা কাচের গ্লাসে ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে সারারাত ।প্রয়োজন হলে এতে একটু চিনি মেশানো যেতে পারে।
পরের দিন সকালবেলা একটা একটা করে কিসমিস ও একটু একটু করে গোলাপ পানি খেতে হবে। এই চিকিৎসা ২১ থেকে ৩১ দিন চালাতে পারলে রোগ সেরে যায় এমন নজির আছে। আঙ্গুর ও কিসমিস খেলে এ রোগ সারতে পারে।
সর্দি-কাশি বা শ্লোমাজনিত মাথা ধরাঃ নাক থেকে অনবরত সর্দি পড়া এবং তার থেকে প্রচন্ড মাথা ধরা হয়। তা প্রায় একদিনেই বন্ধ করা যায় যদি পাতি লেবু দিয়ে এই চিকিৎসাটা করা যায়।
পদ্ধতিঃ একটা মোটা কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে তার মধ্যে একটা পাতি লেবু জড়িয়ে নিয়ে কাপড়টার উপর বেশ সমান করে কাঁদার প্রলেপ লাগাতে হবে। তারপর ওই লেবুটা ছাই এর মধ্যে ঢুকিয়ে রাখুন। যাতে লেবুর ভেতরটা বেশ ভালোভাবে ঝলসে যায়। তারপর কাপড়ের মধ্যে থেকে ওই লেবুটা বের করে গরম গরম সঙ্গে সঙ্গে খেতে হবে। একটু মধু মিশিয়ে খেলে আরো তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যাবে।

শেষ কথা

যখন ব্রেনে রক্ত চলাচল কমে যায় তখন ব্রেন দুর্বল হতে থাকে। তার দরুন কানে কম শোনা, চোখে কম দেখা, মাথা ঘোরা, কোন কোন সময় চোখে একেবারে অন্ধকার দেখা। অনবরত সর্দি কাশি, থেকে থেকে মাথা ধরা, ঠান্ডা লাগা, ঝিমিয়ে থাকা ইত্যাদির সবাই হতে পারে। প্রাচীন ও নবীন ডাক্তারের মতে এইসব তাজা ও শুকনো ফল যাতে ফসফরাস বেশি আছে -বিশেষ করে আপেল এবং বাদাম ব্রেনের উর্বরতা বাড়িয়ে তোলে।
নাশপাতি,কলা,ডুমুর, বিশেষ করে টাটকা টক আপেল ব্রেনের জন্য খুবই উপকারি। ফসফরাস ছাড়াও এইসব ফলে শর্করা থাকায় এগুলি শরীরের শক্তি যোগায় এবংঝিমিয়ে থাকা মস্তিষ্ক বা ব্রেনকে তাজা করে তোলে।পোষ্টটি পড়ে কেউ উপকৃত হলে কমেন্ট বক্রে জানিয়ে দিবেন প্লিজ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *