কচুতে হাত চুলকালে করণীয় ও কচুশাকের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

কচু ও কচুশাক অনেকের খুব পছন্দের একটি খাবার। আাবার অনেকেই পছন্দ করেন না। যাইহোক একেক জনের রুচি একেক রকম হয়ে থাকে। অনেকের আবার কচু কাটতে গিয়ে হাত চুলকায়, আবার অনেকেই কচু শাকের উপকারিতা সম্পর্কে জানেন না। কচুতে যতেষ্ট পুষ্টি গুন রয়েছে। ত যাই হোক কচুতে হাত চুলকালে করনীয় ও কচুশাকের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা নিচে করা হলো।
কচুতে হাত চুলকালে করনীয় ও কচুশাকের উপকারিতা
আগেকার দিন থেকেই চলে আসছে কচু শাক রান্ন করে খাওয়ার প্রচলন।আমাদের দেশে কিছু মানুষের মধ্যে খুব জনপ্রিয় এই শাক।বিশেষ করে গ্রামে এই কচুশাক বেশী পাওয়া যায়।

ভৃমিকা

কচু বা কচু শাক যেমন খুশি তেমন করে রান্না করা যায়। এই শাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন রযেছে। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। কচুশাকে রয়েছে পটশিয়াম ও আয়রন। যা আমাদের শরীরের হৃদরোগর ঝুকি কমায়। এবং শরীরে রক্ত কমে গেলে কচুশাক নিয়মিত খেলে শরীরে রক্তের ঘাটতি পুরণ করে।

কচুতে হাত চুলকালে করনীয় ও কচুশাকের উপকারিতা

কচুশাক সুন্দর করে রান্ন করলে যেমন খাওয়ার মজা হয় তেমনি রান্না করতে খুব ঝামেলা হয়।কারন কচু শাক কাটতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পরতে হয়।
কচুতে হাত চুলকালে করনীয়
  • এই শাক কাটার সময় শাক পানিতে ভেজানো যাবেনা।
  • শাক কেটে ঝাঝরিতে বা চালনিতে ধুুয়ে রান্না করতে হবে
  • কচুশাক কাটার পর হাত চুলকালে হাতে লবণ মাখিয়ে ভালো করে ধুতে হবে
  • তার পর হাতে নারিকেল তেল বা পেট্রলিয়াম জেলি মাখতে হবে
  • তা না হলে কয়েকটা তুলসি পাতা বেটে হাতে লাগালে তাড়াতাড়ি চুলকানো ভালো হবে
  • তারপরও যদি কারো বেশী চুলকানি হয় সে ক্ষেত্রে তারা হাতে গ্লাভস পরে কচু কাটাই ভালো হবে
কচুশাকের উপকারিতা
  • কচুপাতা বা কচুশাক খেলে স্তনের দুধ বাড়ে।
  • কচুপাতা সেদ্ধ করে বা ভাতে দিয়ে ভাতের সঙ্গে মেখে পর পর তিন দিন খেলে প্রসাবের জ্বালা দুর হয়ে যায়।
  • কচু শাক পুরিয়ে ছাই তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ফোড়ায় লাগালে ফোড়া ফেটে যায়।
  • শরীরের কোন স্থানে কেটে গেলে সেখানে কচুর ডাটা আঠা লাগালে রক্ত পড়া বন্ধ হয় এবং ক্ষতও তাড়াতাড়ি সারে।
  • কচুর ডাটা চেচে নিয়ে তার প্রলেপ অর্শ বা যে জায়গায় আঘাতের জন্য রক্ত জমে আছে সেই খানে লাগালে আরাম পাওয়া যায়।
  • কচুর ডাটার রস একটু নুন মিশিয়ে শরীরের ‍যে জায়গায় ফুলে আছে সেখানে লাগালে ফুলা তাড়াতাড়ি কমে যায়।
  • কানে পুচ হলে কচুর আঠা দিলে উপকার হয়। তবে কুষ্ট,দাদ, পেটের অসুখ, আমাশায়, রক্তপিত্ত, প্রভৃতি অসুখে কচু খাওয়া একেবারেই বারন। অজীর্ণ রোগে কচু খাওয়া উচিত নয়।
  • দু চা চামুচ মান কচুর গুরো অল্প দুধে গুলে খেলে জ্বর, পেটের অসুখ, ও পিলের রোগ কমে যায়।
  • মান কচুর শুঁঠ, চালের গুরোতে কিছু দুধ, পানি ও আন্দাচ মতো চিনি দিয়ে পায়েস তৈরী করে খেলে পেটের অসুখে উপকার হয়।
  • অল্প গরম দুধের সঙ্গে পুরোনো মান কচু শুঁঠ মিশিয়ে খেলে শোথ রোগ ও পিলের রোগ কমে।
  • মানকচুর ডাটা আগুনে সেকে নিয়ে তার রস কানে দিলে বাচ্চাদের কান পাকা রোগ উপকার পাওয়া যায়।
  • পুলটিস লাগিয়ে ফোড়ার মুখ না হলে মানকচু গাছের পচা ডাটা পানি না দিয়ে শুধুই কেটে নিয়ে তার প্রলেপ ফোড়ায় লাগালে ফোড়া ফেটে গিযে পুজ রক্ত ইত্যাদি বেরিয়ে যাবে এবং ফোড়া সেরে যাবে।
  • মুখের ভিতর ঘা হলে মান কচু পুরিয়ে তার ছাই মধুর সঙ্গে মিশিয়ে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

কচুশাক খেলে কি এলার্জি হয়

বিশেষ করে কোন খাবারে এলার্জি আছে এটা বাছাই করার উপায় নাই। তবে কিছু ‍ ‍কিছু কিছু খাবার আছে যা আমরা খেয়ে থাকলে সাথে সাথে এলার্জির আক্রমন শুরু হয়।আবার এই সব খাবার কারো কারো শরীরে এলার্জির সৃষ্টি করে না।এটা মানুষের শরীরের উপর নির্ভর করে।আমার জানা মতে কিছু খাবার আছে যা খাওয়ার সাথে সাথে এলার্জির প্রদুর্ভাব দেখা দেয় সেগুলো খাবার হলো
  • চিংড়ি মাছ
  • গরুর মাংস
  • কচুর শাক
  • মশুর ডাল
  • বেগুন
  • মিষ্টি কুমরা

কলার মোচা কি ?

মোচা হলো কলা জাতীয় সবজি। অন্য দুটি হলো থোড়া ও কাচা কলা। গাছে থাকা কলার কাদির একে বারে প্রান্তে থাকা না ফোটা ফুলের কুড়ি হলো ‘মোচা’। মোচার অগ্রভাগ সোচালো এবং দেখতে অনেকটা শঙ্কর মতো। মোচা বাইরে থেকে পর পর খোলার দ্বারা ঢাকা থাকে।

কলার গাছ আমাদের দেশের সব অনচলে পাওয়া যায়। এই কলার মোচা বলতে গেলে বারো মাসে সবজি। মোচার দাম এতই সস্তা যে গ্রামের মানুষ খেতে চায় না। কলার মোচায় অনেক পুষ্টিগুন আছে।তাই আজ থেকে কলার মোচা নিজে খান পরিবারের সদস্যদের খাওয়ানোর জন্য উৎসাহিত করুন।

কলার মোচার পুষ্টিগুন

মোচা সারা বছর বাজারে পাওয়া যায়। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকর ও বটে। তবে রান্নার কাজটি তুলুনামুলক ভাবে ঝামেলার। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে ১০০ গ্রাম মোচায় আছে-

কার্বোহাইড্রেট-           ৫.১ গ্রাম

ক্যালসিয়াম-                         ৩২ মিগ্রা,

প্রোটিন-                      ১.৭ গ্রাম

ফসফরাস-                            ৪২মিগ্র্রা,

ফ্যাট-                         ০.৭ গ্রাম

লোহা-                                   ১.৬ মিগ্রা,

আঁশ-                          ১.৩ গ্রাম

পটশিয়াম-                             ১৮৫ মিগ্রা,

ভিটামিন-এ-                ২৭ আই.ইউ

অকসালিক অ্যাসিড-              ৪২০ মিগ্রা,

রিবোফ্ল্যাবিন-               ০২ মিগ্রা.

থায়ামিন-                               ০৫ মিগ্রা,

কলার মোচার উপকারিতা

মোচা কার্বোহাইড্রেট ও প্রেটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় দেহ গঠনের কাজে সাহায্য করে। মোচায় লোহা থাকায় এটি খেলে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা রোগে দারুন উপকার পাবেন। আবার এতে যতেষ্ট পরিমান আশ থাকায় খাবার সহজে হজম হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দুর হয় এবং ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
মোচায় ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকায় এটি শিশুদের দাঁত ওহাড়ের গঠনকে মজবুত রাখতে সাহায্য করে। প্রচুর পরিমানে পটশিয়াম থাকায় মোচা খেলে হাই- ব্লাডপ্রেসার কমে। মোচা হলো বায়ু ও পিত্তনাশক।

লেখকের মতামত

যে সমস্ত শাক-সবজি বাজারে পাওয়া যায় এবং আমাদের আসেপাসে জন্মায় তার প্রত্যেকটিই আমাদের দেহ রক্ষায় এবং জীবন ধারনের জন্য অপরিহার্য। শরীর সুস্থ্য রাখতে শাক-সবজির গুনাগুনের তুলুনা হয় না। প্রত্যেকদিন খাবারের মেনুতে শাক-সবজি রাখুন শরীর কে রোগ মুক্ত করুন। আমার এই পোষ্টটি পড়ে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনাদের পরিচিতদের মধ্যে সেয়ার করে দেন। সবাই উপকৃত হবে। ইনশাল্লাহ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *