আসুন আমরা আজ জানবো কোন ভিটামিনের অভাবে গা ঘামে। গরমের সময় গা ঘামাটা খুবই একটা সাধারন বিষয়। কিন্তু অতিরোক্ত গা ঘামলে বা শীতের সময় গা ঘামা খুব একটা ভালো লক্ষণ নয়। সাধারনত শরীরে যদি কোন ভিটামিনের অভাব হয় তাহলে গা ঘামার পরিমান টা বেড়ে যায়। বন্ধুরা আজ আমরা সেই বিষয়েই জানবো যে, কোন ভিটামিনের অভাবে গা ঘামে। তাছারা ও অতিরোক্ত মাথা ঘামার কারন নিয়ে আমরা এই পোষ্টে আলোচনা করবো।
প্রায় মানুষই গরমের সময় অতিরোক্ত গা ঘামা নিয়ে ভোগেন। হাত পা মুখ দেহ সমস্ত শরীর কারো কারো অঝরে ঘামতে থাকে। আবার কারো কারো শরীর কম ঘামে। এই অতিরোক্ত ঘাম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারন অতিরোক্ত গা ঘামলে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায় এবং শরীরে লবণের পরিমান ও কমে যায়। তো বন্ধুরা আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক কোন ভিটামিনের অভাবে গা ঘামে।
পেজ সূচিপত্রঃ কোন ভিটামিনের অভাবে গা ঘামে – অতিরিক্ত মাথা ঘামার কারণ
ভৃমিকা
শরীর ঘামা একটি বিশিষ অসহ্য জনক ব্যাপার। অতিরোক্ত গা ঘামা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিশেজ্ঞরা ইনজেকশান, থেরাপি এবং ক্রিম দিয়ে থাকেন।ঘাম দুর করার জন্য। বন্ধুরা ঘাম সাধারনত শরীর দুর্বল থাকলে বেশি ঝরে। সেই জন্য পুস্টিকর খাবার, শাক-সবজি, ফলমূল বেশি পরিমানে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। আয়োডিন যুক্ত খাবার খেলে শরীর থেকে ঘাম কম ঝরে। অতিরোক্ত ঘাম ঝরলে শরীরে ক্লান্তি চলে আসে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ভিটামিনের অভাবে গা ঘামে।
কোন ভিটামিনের অভাবে গা ঘামে
কোন ভিটামিনের অভাবে গা ঘামে আজ আমরা এই পোষ্ট থেকে বিস্তারিত জানবো। অনেক মানুষ হয়তো জানেই না যে শরীরে যখন ভিটামিনের অভাব হয় তখন বেশি গা ঘামে। গরমে অতিরোক্ত গা ঘামলে শরীর দিয়ে দুর্গন্ধ বের হয় এবং মেজাজ খিটখিটে হয়। এবং একটু বেশি কাজ করলে শরীরে খুব ক্লান্ত হয়ে যায়। এই জন্য আমাদের আগে জানতে হবে যে কোন ভিটামিনের অভাবে গা ঘামে। ভিটামিন বি -১২ এর অভাবে আমাদের গা প্রচুর পরিমানে ঘামে। গা ঘামা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের কে
অবশ্যই ভিটামিন বি ১২ জাতীয় খাবার খেতে হবে। ভিটামিন বি পরিবার যেমন, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, ভিটামিন বি-৩, ভিটামিন বি- ৫ অথবা ভিটামিন বি ট্যাবলেট খাবেন। তাছারাও আয়োডিন যুক্ত খাবার গুলো যেমন, গরুর মাংস, খাসির মাংস,কাঁচা পেঁয়াজ, ব্রকলি, কাঁচা লবণ ইত্যাদি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। আর বেশি করে পানি পান করবেন। কিছুক্ষন পর পর ঠান্ডা পানি দিয়ে হাত মুখ ধুবেন। তাহলে আপনার শরীর থেকে কম ঘাম ঝরবে।
অতিরিক্ত মাথা ঘামার কারণ
অতিরিক্ত মাথা ঘামার কারণ? সাধারনত গরম কালে সকলেরই গা, মাথা ঘামে। এটি একটি সাধারন বিষয়। কিন্তু খেয়াল করতে হবে অনেকেরই অস্বাভিক ভাবে মাথা ঘামতে থাকে। অনেকেরই আছে মাথা ঘেমে কানের চিপ দিয়ে ঘাম টপ টপ করে ঝরে পরে। এমন অবস্থায় নিজেকে যেন খুব খারাপ লাগে। শরীর বা মাথা বেশি ঘামাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে ক্রেনিও ফেসিয়াল হাইপারহাইড্রেসিস বলে থাকে। আর বগল ঘামলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে এই কথাটা বলে।
আরো পড়ুনঃ খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত রোগ
এই মুখমন্ডল এবং মাথা ঘামে সাধারনত অতিরোক্ত টেনশান করলে বা উদ্বেগের কারনে। যাদের এই রকম হয় তাদের চেষ্টা করতে হবে টেনশান কমানো বা বেশী উদ্বেগ সৃষ্টি না করা। শরীর কে ঠান্ডা রাখতে হলে মেজাজ ঠান্ডা রাখতে হবে। অতিরিক্ত মাথা ঘামার সমস্যা যাদের আছে তাদের কে উদ্বেগ কমানোর ঔষধ সাইকোথেরাপির ব্যাবস্থা করবেন। যাদের হাইপার থাইরয়েডিজম রোগে ঘাম বেশি হয়। এবং তাদের একটু গরম বেশিই লাগে।
অতিরোক্ত মাথা ঘামা থেকে রেহাই পেতে হলে অবশ্যই আমাদের জীবন যাপনের কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন বেশি তেল যুক্ত খাবার, বেশি মশলা যুক্ত খাবার, যে খাবার খেলে শরীরে চর্বি জমার আশঙ্কা থাকে সে খাবার বন্ধ করতে হবে। আর গরমের সময় পাতলা কাপর পরে থাকার চেষ্টা করবেন।বেশি করে পানি পান করবেন। আর প্রতিদিন গোসল করার সময় মাথায় হাত দিয়ে ভালো করে মাথার চামরা পরিষ্কার করবেন। আর অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করবেন।
অতিরিক্ত ঘাম কোন রোগের লক্ষণ
অতিরিক্ত ঘাম কোন রোগের লক্ষণ আজ আমরা এই পোষ্ট থেকে বিস্তারিত জানবো। গরমের সময় একটু হাটাহাটি করলে বা কাজ করলে শরীর ঘামতেই পারে। এটা একটি খুব স্বাভিক বিষয়। অনেকের শরীর কম ঘামে আবার অনেকের শরীর একটু বেশিই ঘামে। এরকম ঘামার কারন হলো জেনেটিক কারণ। যাদের থাইরয়েডের অসুখ আছে বা নিউরোলজিক্যাল কিছু ডিজিজ ইত্যাদি কারনে শরীর অতিরোক্ত ঘামতে পারে।
কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় কোন কারন ছারাই শরীর থেকে টপ টপ করে ঘাম ঝরতে থাকছে। এটা অবশ্যই কোন রোগের লক্ষণ হতে পারে। অনেকেই এই ঘামাটাকে স্বাভিক ভাবে মনে করেন বলে হঠাৎ করে তাদের কোন বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। সকলকে মনে রাখতে হবে হঠাৎ করে অস্বাভিক ঘামাটা শরীরে জন্য ভালো লক্ষণ নয়। অতিরিক্ত ঘাম কোন রোগের লক্ষণ তা নিচে দেওয়া হলো- অতিরিক্ত ঘাম কোন রোগের লক্ষণ?
- হাই প্রেসার হলে শরীর অতিরোক্ত ঘামতে থাকে।
- হার্টের সমস্যা হলে শরীর ঘামতে থাকে।
- থায়রোয়েডের সমস্যায় শরীর ঘামতে থাকে।
- ডায়াবেটিস সমস্যায় শরীর ঘামতে থাকে।
- টেনশন বা ভয় এর কারনে শরীর অতিরোক্ত ঘামতে থাকে।
যখন দেখছেন শরীর অস্বাভিক ভাবে ঘামছে তখন মনে করবেন যে উপরের যেকোন একটি রোগ শরীরে আছে যার জন্য শরীর অস্বাভিক ভাবে ঘামতে পারে। হাইপার থাইরোয়েড থাকলে চিকিৎসকের পরমর্শ নিয়ে থায়রোয়েড কে নিয়ত্রন করে রাখলে শরীর অতিরোক্ত ঘামবে না। শরীর যখন বেশি ঘামে তখন শরীরের পটাশিয়াম ও সোডিয়াম ঘামের সাথে বের হয়ে যায়। তখন শরীর খুব ক্লান্ত ও দুর্বল লাগে।
তখন অবশ্যেই প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে তার সাথে সার্মথ্য অনুযায়ী ফলের রস সরবত খেলে শরীর ঠান্ডা থাকবে। এই ঘামাটাকে স্বাভিক মনে না করে ঘরে বসে থাকবেন না। এতে শরীরের যে কোন ক্ষতি হতে পারে। সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এখন আমরা এই পোষ্টে
জানবো শীতল ঘাম হওয়া কোন রোগের লক্ষণ? জানতে হলে ভালো করে পড়তে থাকুন-
শীতল ঘাম হওয়া কোন রোগের লক্ষণ
শীতল ঘাম হওয়া কোন রোগের লক্ষণ? গরমের সময় শরীর ঘামাটা স্বাভিক বিষয়। কিন্তু শীতের সময় শরীর অতিরোক্ত ঘামা স্বাভিক বিষয় না। শীতের সময় শরীর ঘামার সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই আপনাকে যথাশিগগিরীই ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। নইলে আপনি খুব বিপদের মুখে পরবেন। মনে রাখবেন শীতে শরীর ঘামতে থাকলে বা গরম বেশি লাগলে আপনার শরীরে জটিল কোন রোগর লক্ষণ হতে পারে। শীতল ঘাম হওয়া কোন রোগের লক্ষণ তা নিচে দেওয়া হলো-
রক্তে ইনফেকশানঃ রক্তে ইনফেকশান থাকলে শীত গরম যে কোন সময় আপনার শরীরে গরম লাগবে এবং শরীর অস্বাভিক ভাবে ঘামতে থাকবে। শীতল ঘাম হওয়া কোন রোগের লক্ষণ ?
ডায়াবেটিসঃ ডায়াবেটিস রোগীদের শীত কি গরম কি যে কোন সময় গা ঘামতে পারে। এই রোগীদের শরীরের ব্লাড সুগার কমে গেলে শরীর অস্বাভিক ভাবে ঘামতে থাকবে এবং প্রচুর গরম লাগবে। শীতল ঘাম হওয়া কোন রোগের লক্ষণ ?
থাইরোয়েডঃ ডাক্তারদের মতে, শরীরে হাইপার থাইরোয়েডের জন্য মানুষের শরীরের হরমোনের ক্ষরন বেশি হয়। যার ফলে রোগীর শরীরের ওজন কমে যায়। তার সঙ্গে অতিরোক্ত ঘামতে থাকে। আবার ঠান্ডা ও লাগতে পারে। শীতল ঘাম হওয়া কোন রোগের লক্ষণ ?
আরো পড়ুনঃ পায়ের কুনি পাকা সমস্যার সমাধান
হৃদরোগঃ আপনারা প্রায় অনেকেই জানেন যে হার্টের রোগীদের সমস্যা হলে অতিরোক্ত ঘামতে থাকে। আর ঘামার সাথে সাথে বুকে ব্যাথা, বুক ধরফর আবার কোন কোন সময় রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়। হার্ট ব্লক হলে অস্বাভিক ঘামতে থাকে অথবা রোগী মারা ও যেতে পারে।
হাই প্রেসারঃ হাই প্রেসার রোগী শীত গরম সব সময় ঘামতে থাকে। এই রোগীরা অতিরোক্ত ঘামলে অবশ্যই চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। শীতল ঘাম হওয়া কোন রোগের লক্ষণ ?
স্ট্রোকঃ আপনার শরীরে যে কোন হাত পা প্যারালাইসিস এর মতো অবশ হতে পারে।তার সঙ্গে মাথা প্রচুর ব্যাথা করে। স্ট্রোক এর আগে প্রচুর পরিমানে ঘামতে থাকে। শীতে এ ধরনের সমস্যা হলে হালকা গরম অনুভব হবে।
ভয় এবং টেনশানঃ ভয় এবং টেনশানের কারনেও শীতে গা ঘামতে পারে। এই জন্য টেনশান থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। ভয় এবং টেনশান থেকে ও মানুষের মারাত্বক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এখন আমরা এই পোষ্টে পরবো অতিরিক্ত ঘাম দূর করার ঘরোয়া উপায়। জানতে হলে মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।
অতিরিক্ত ঘাম দূর করার ঘরোয়া উপায়
অতিরিক্ত ঘাম দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন আমাদের এই পোষ্ট থেকে। শরীর থেকে ঘাম ঝরার কারনে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে। শরীরে ঘাম হওয়া একটি সাধারন বিষয়। এই বিষয় নিয়ে অযথা চিন্তা করার দরকার নেই। গরম আবহাওয়া, অতিরোক্ত পরিশ্রম, টেনশান বা রাগ হওয়ার কারনে শরীর থেকে ঘাম ঝরে। আবার অতিরোক্ত ঘাম ঝরার কারনে শরীর থেকে লবণ পানি বেরিয়ে যায়। এই অতিরোক্ত ঘাম দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় দেওয়া হলো-
পানি পান করুন
গরমের সময় প্রচুর পানি পান করতে হবে। কারন গা থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি বের হয়ে যায়। এই জন্য প্রতি ঘন্টায় যদি পারেন ২ লিটার করে পানি পান করবেন। এতে শরীর ঠান্ডা থাকবে অতিরিক্ত ঘাম দূর করবে। অতিরিক্ত ঘাম দূর করার ঘরোয়া উপায়।
পাতলা সুতি কাপর
গরমের সময় অবশ্যই পাতলা সুতি কাপর ব্যবহার করবেন। কারন মোটা কাপর শরীর গরম করে এবং গরম হলে গা থেকে প্রচুর পরিমানে ঘাম ঝরতে থাকে। শরীরে যেন আলো বাতাস পায় সে রকম পাতলা সুতি কাপর পরিধান করবেন। অতিরিক্ত ঘাম দূর করার ঘরোয়া উপায়।
মেথি ভেজানো পানি
মেথি ভেজানো পানি পান করলে শরীর থেকে ঘাম কম ঝরবে। রাতে সোয়ার আগে এক গ্লাস পানিতে এক চামুচ মেথি ভিজিয়ে রাখুন সকালে ঘুম থেকে উঠে সেই পানি পান করুন। দেখবেন সারাদিন শরীর থেকে ঘাম কম ঝরবে। অতিরিক্ত ঘাম দূর করার ঘরোয়া উপায়।
বেকিং সোডা
বেকিং সোডা ব্যাবহারের ফলে শরীর থেকে ঘাম কম ঝরে। ১ গ্লাস পানিতে এক চামুচ বেকিং সোডা মিসিয়ে তার সঙ্গে সুগন্ধি তেল এক চামুচ মিশিয়ে গোটা শরীর তেলের মতো দিবেন এবং ১০-১৫ মিনিট রাখার পরে গোসল করে নিবেন। তাতে ভালো ফলাফল পাবেন।
চন্দনের ব্যবহার
চন্দন মিহি করে বেটে নিয়ে তার সঙ্গে পরিমান মতো পানি মিশেয়ে গোটা শরীর লাগিয়ে রাখুন প্রায় ২০-৩০ মিনিট। তাহলে বেশ উপকার পাবেন। শরীর অনেক কম ঘামবে এবং শরীর থেকে সুগন্ধি বের হবে।
খাবারের পরিবর্তন
- অবশ্যই খাবারের পরিবর্তন না করলে বিপদ হতে পারে। চর্বি জাতীয় খাবার, মশলা জাতীয় খাবার, ঝাল খাবার এরিয়ে চলার চেষ্টা করবেন। কারন এই সব খাবার গুলো শরীরে চর্বি জমিয়ে দেয় আর শরীরে চর্বি হলে তো বুঝতেই পারছেন গা অতিরোক্ত ঘামবে এবং তার সঙ্গে বিভিন্ন রোগ দেখা দিবে।
- রাতে কয়েক টা কিচমিচ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন তার পর সকালে সেই পানি কিচমিচ সহকারে খেয়ে ফেলুন তাতে বেশ উপকার পাবেন।
- বেশি গরম পরলে অল্প খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কারন বেশি খাবার খেলে হজমে ব্যাহত হতে পারে। যার ফলে শরীর বেশি ঘামতে পারে।
- যদি পারেন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস করলার জুস বা নিমপাতার জুস খাবেন এতে শরীরে রোদের তাপ কম লাগবে এবং শরীর কম ঘামবে।
হাতের তালু ঘামার কারন ও প্রতিকার
হাতের তালু ঘামার কারন ও প্রতিকার জেনে নিন এই পোষ্ট থেকে। বিভিন্ন রোগের কারনে হাত ও পায়ের তালু অস্বাভিক ঘেমে যায়। যাদের এই সমস্যা আছে তাদের শীত বা গরম সব সময় হাত পায়ের তালু ঘামতে থাকে। তো বন্ধুরা আজ আমরা আপনাদের কে জানাবো হাতের তালু ঘামার কারণ ও প্রতিকার । এই ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের কাছে কিছু ঘরোয়া টিপস আছে যেগুলো ফলো করলে উপকার পাবেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক হাতের তালু ঘামার কারন ও প্রতিকার।
হাতের তালু ঘামার কারন জেনে নিন
- শরীরে ব্লাড সুগার লো থাকলে হাত ও পায়ের তালু ঘামতে থাকে।
- ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খাবার যেমন, অ্যালকোহল জাতীয় পানি পান করলে, চা, কফি পান করলে শরীর সহ হাত ও পায়ের তালু ঘামতে থাকে।
- গর্ভবস্থায় শরীর দুর্বল থাকলে হাত ও পায়ের তালু ঘামতে পারে।
- ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারনে হাত ও পায়ের তালু ঘামে।
- টেনশান, চিন্তা, হতাশার কারনে ও হাত ও পায়ের তালু ঘামে।
- যাদের হাইপারথাইরয়েডইজম আছে তাদের হাত ও পায়ের তালু ঘামে।
- চর্বিজাতীয় খাবার বা মশলা জাতীয় খাবার খেলে হাত ও পায়ের তালু ঘামে।
- অনেক সময় ধরে মোজা, কেট্স বা প্লাস্টিকের জুতা পরে কাজ করলে পায়ের তালু ঘামে।
হাতের তালু ঘামার প্রতিকার জেনে নিন
- চর্বি ও মশলা যুক্ত খাবার গুলো এরিয়ে যাবেন।
- প্রচুর পরিমানে পানি পান করার অভ্যাস করবেন।
- আন্টিপার্সপিরেন্ট রাতে সোয়ার আগে হাতের তালুতে এবং পায়ের তালুতে ২০-৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখবেন।
- অ্যালকোহল জাতীয় বা চা, কফি কম খাওয়ার অভ্যাস করবেন।
- দিনে দুই বার গোসল করবেন। যদি সমস্যা হয় তাহলে ঠান্ডা পানি দিয়ে হাত পা ধুয়ে নিবেন।পানিতে পা ধোয়ার পর পা শুকনো কাপর দিয়ে ভালো করে মুছে নিবেন। কারন পা ভিজে থাকলে জীবানু জন্ম নিতে পারে, পায়ের গোড়ালী ফেটে যেতে পারে, পায়ের তালু ঘামতে পারে।
- অবশ্যই চেষ্টা করবেন সকালে খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসের উপর হাটা। তাছারাও বাড়িতে খালি পায়েই হাটাহাটি করবেন।
- পাতলা মোজা পরে কাজ করার চেষ্টা করবেন। আর মোজা পরিষ্কার রাখবেন। আর ভেজা জুতা বা মোজা পরবেন না। উপরোক্ত বিষয় গুলো যদি আপনারা মেনে চলতে পারেন তাহলে অবশ্যই হাতের ও পায়ের তালু ঘামা থেকে মুক্তি পাবেন। আর এগুলো ফলো করেও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে হবে।হাতের তালু ঘামার কারন ও প্রতিকার
অতিরিক্ত ঘামলে কি খাওয়া উচিত
অতিরিক্ত ঘামলে কি খাওয়া উচিত জানা থাকলে আমাদের অনেক উপকার হবে। তো বন্ধুরা চলুন জেনে নেওয়া যাক অতিরোক্ত ঘামলে কি খাওয়া উচিত। বিভিন্ন কারনে শরীর থেকে ঘাম ঝরতে পারে। শারিরিক পরিশ্রম, মশলা জাতীয় খাবার খেয়ে, তেলের খাবার খেয়ে, কাঁচা লবণ বা আয়োডিন যুক্ত খাবার খেয়ে অথবা শারীরিক দুর্বলতার কারনেও শরীর থেকে ঘাম ঝরতে পারে। গরমে তো শরীর ঘামবে এটা স্বাভিক ব্যাপার।
তবে অতিরোক্ত ঘাম হলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাবে এবং পানিশূন্যতা দেখা দিবে। আবার অনেক সময় ব্লাড সুগার লো বা অন্যান্য কারনে হাতের ও পায়ের তালু ঘামতে থাকে। এ ধরনের সমস্যা গুলো কে ভালো করার জন্য ঠান্ডা জাতীয় খাবার খেলে রক্ষা পাওয়া যাবে। তো চলুন বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত ঘামলে কি খাওয়া উচিত তা নিচে দেওয়া হলো- অতিরিক্ত ঘামলে কি খাওয়া উচিত?
- প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন।
- ডাবের পানি পান করুন।
- গুড়ের সরবত পান করুন।
- কুসুরের রস পান করুন।
- গ্লুকোজ পানি পান করুন।
- তরমুজ, পাকা পেঁপে, বাঙ্গি, আনারস, মাল্টা, কমলা, বিভিন্ন ফলের রস, ঘোল, লাচ্ছি ইত্যাদি খাবার খাবেন।
আর কম মশলা যুক্ত খাবার খাবেন। ঝোলের তরকারি বেশি করে খাবেন। এতে শরীরের অনেক উপকার হয় এবং পানি শুন্যতা দুর করে। উপরোক্ত বিষয় গুলো মানার পরেও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করবেন। ইনশাল্লাহ ভালো হয়ে যাবে।
শেষ কথাঃ কোন ভিটামিনের অভাবে গা ঘামে
বন্ধুরা আজ আমরা এই পোষ্ট থেকে জানতে পারলাম, কোন ভিটামিনের অভাবে গা ঘামে, অতিরিক্ত মাথা ঘামার কারণ, অতিরিক্ত ঘাম কোন রোগের লক্ষণ, শীতল ঘাম হওয়া কোন রোগের লক্ষণ , অতিরিক্ত ঘাম দূর করার ঘরোয়া উপায়, হাতের তালু ঘামার কারন ও প্রতিকার, হাতের তালু ঘামার কারন ও প্রতিকার, অতিরিক্ত ঘামলে কি খাওয়া উচিত । তো বন্ধুরা আমাদের এই পোষ্ট পড়ে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে পরিচিতদের মধ্যে সেয়ার করবেন। সকলেই ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।