কবুতরের সবুজ চুনা পায়খানা এবং ঝিমানো একটি পরিচিত রোগ। এধরনের রোগ হলে খুব দ্রুত কবুতরের চিকিৎসা নিতে হবে। তা না হলে কবুতর মারা যেতে পারে। বন্ধুরা আপনাদের জন্য আমার পোষ্ট লেখা। আপনারা যারা কবুতর পালন করেন তারা এই পোষ্ট টা প্রথম থেকে শুরু পর্যন্ত পড়তে থাকুন তাহলে সব কিছু জানতে পারবেন।
কবুতর আমরা শখের বশত বা মাংস খাওয়ার জন্য পালন করি। এই শখের কবুতরের কোন অসুখ হলে তো আর ভালো লাগে না। কবুতরের সবুজ চুনা পায়খানা ও বমির রোগে কিভাবে সুস্থ্য করে তুলবেন তা নিচে দেওয়া হলো।
কবুতরের সবুজ চুনা পায়খানা ও বমির চিকিৎসা
আমরা যারা কবুতর পালন করি তারা অনেকেই জানি না যে, কিভাবে কবুতরের সবুজ চুনা পায়খানায় ঔষুধ খাওয়াব। যাদের এ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নেই তারা পড়তে থাকুন।
Cosumex plus এই ঔষুধ টা পাউডার জাতীয়। এই পাউডার এক গ্রাম নিতে হবে এবং এক লিটার পানিতে মেশাতে হবে। প্রত্যেকদিন একবার করে তিন দিন খাওয়াতে হবে।
Erokot – এক গ্রাম
Flajil-( ফ্লাজিল) ২.৫ মিলি.
ডক্সিভেট
প্রত্যেকদিন রাইস স্যালাইন খাওয়াবেন। অসুস্থ্য কবুতর ছারাও আরো যেগুলো কবুতর থাকবে সেগুলোকেও এক লিটার পানির সাথে ঔষধ গুলিয়ে খাওয়াতে থাকবেন তিন দিন। রাত্রি বেলা ১০ মিলি করে প্রিভেন্টিক ডোজ হিসাবে চলবে। যে কবুতর গুলো সুস্থ্য থাকবে সেগুলো কে রাইস স্যালাইন খাওয়ানোর দরকার নেই। বিশেষ করে কবুতরের এই ধরনের রোগ হলে রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খাওয়াতে হবে।
কবুতরের পক্স রোগের কারন, লক্ষণ, ও চিকিৎসা
কবুতরের সবচেয়ে অন্যতম রোগ হলো পক্স জাতীয় রোগ। কবুতরের পক্স রোগের কারন, লক্ষণ, ও চিকিৎসা নিচে তুলে ধরা হলো-
কারনঃ এই পক্স রোগ টা সব ধরনের পাখির একটা ভাইরাস রোগ। এই রোগ টা ডিপথেরিক আকারে হতে পারে। অন্তত ষোল টি বিভিন্ন প্রজাতির Avipoxviruses আছে।
পিজিয়ন পক্স রোগটি বিশ্বের সব পাখির হয়। এই রোগ টা অসুস্থ্য পাখির মাধ্যমে হতে পারে।এছারাও কীটপতঙ্গের কামরে ভাইরাস ছরাতে পারে।
এই রোগের লক্ষণঃ পালকগুলো এলোমেলো হয়ে যায় বা পালক উঠতে শুরু করে। এবং চোখ , ঠোট, এবং পায়ে ক্ষত বা পক্স দেখা দেয়।
এই রোগের চিকিৎসাঃ এখন অনেক আধুনিক চিকিৎসা আছে যেগুলো আপনারা রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করতে পারেন। এই রোগের ঔষুধ গুলো হলো – ভিটামিন-এ, টপিক্যাল ওয়েন্টমেন্ট, এন্টিবায়েটিক, এমাইনো এসিড।
এই রোগ দেখা দিলে প্রাণী সম্পদ অফিসে গিয়ে বিস্তারিত জানতে হবে বা জানা উচিত। যে সব করানে রোগ টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে সেগুলো বিষয়ে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে। এব আক্রান্ত কবুতরকে সুস্থ্য কবুতরের কাছ থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
পক্স রোগের প্রতিরোধঃ ভ্যাকসিন সরবরাহ কৃত সুই ডুবিয়ে নিয়ে এবং ত্বকের মাধ্যমে এর টিপ টি ধুয়ে ফেলে একটি ছোট রক্ত ঝরানো তৈরী করে টিকা দিতে হয়। একটি টিকা জীবন কালের জন্য ইমিউনিটি প্রদান করে। তাই এক মাত্রাই যতেষ্ঠ।
কবুতরের চুনা পায়খানায় প্রাকৃতিক চিকিৎসা
প্রাকৃতিক উপায়ে কোন ধরনের সাইড ইফেক্ট ছারাই কবুতরের চুনা পায়খানার চিকিৎসা করা যায়।
আমি নিজে এই চিকিৎসা করে ভালো ফল পাইছি। ৯৯ % কাজ করবে ইনশাল্লাহ।
ঔষধ বানাতে লাগবে
- কাসনি- এটা বাজারে পাওয়া যায়। বিশেষ করে মশলা বা জিরার সাথে থাকে।
- এলাচ- বিচি বাদে শুধু খোসা নিবেন।
- দই পানি- দই এর উপরের যে পানি থাকে।
বানানোর নিয়ম
এলাচের খোসা এবং কাসনি ভালো করে গুরো করতে হবে। একে বারে মিহি করে নিতে হবে। তার পর গুরার সাথ পানি মেশান। তার পর সেগুলো ক্যাপসুলের মতো তৈরী করুন।
খাওয়ানোর নিয়ম
ক্যাপসুল গুলো বা বরি গুলো ৭-৮ টা বানাবেন। রোজ খাবার খাওয়ানোর পর একটা করে বরি খাওয়াবেন। বরি খাওয়ানোর পর ছোট ইনজেকশানের সিরিজে করে এক সিরিজ দুধ খাওয়াবেন। বেশী দুধ খাওয়ানো যাবে না। এভাবে ৭-৮ টি বরি খাওয়ানোর পর আপনার কবুতর সুস্থ্য হয়ে যাবে।
কি খাওয়ালে কবুতর সুস্থ্য থাকে
কবুতর সুস্থ্য থাকার খাবার গুলো ন্যাচারাল প্রকৃতির খাবার যেগুলো তারা কুরিয়ে খাই সেগুলো খাবার গুলো তাদের কে যদি দেওয়া হয় তাহলে কবুতর অবশ্যই সুস্থ্য থাকবে। সেসকল খাবার গুলো হচ্ছে ইটের গুরা, ডিমের খোসা কাচা ঘাস, ঘাসের বিচি সরিষা, গম, তিসি, ধান, মসুর ডাল, ভুট্টা এগুলো খাবার দিলে কবুতর সুস্থ্য থাকবে। এবং এসকল খাবারের পাশাপাশি অবশ্যই পানি পাত্রে দিয়ে রাখবেন।
কবুতরের ডিম পারার লক্ষণ
কবুতর ডিম পারার আগে যে লক্ষণ গুলো প্রকাশ করে তা নিচে সংক্ষেপে দেওয়া হলো-
- বাসা বাধার চেষ্টা করবে।
- বাসার খরকুটো সংগ্রহ করবে।
- শরীরের পরিবর্তন আসবে।
- নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করবে।
- দুটো কবুতরের মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশ করবে।
- বেশী খাবার খাবে।
উপরোক্ত লক্ষণগুলো একটি কবুতরের মধ্যে দেখতে পেলে বুঝবেন যে কবুতর ডিম পারবে।
কবুতরের ডিম কি খাওয়া যায়
কবুতরের ডিম অনেক পুষ্টিকর খাবার। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে কবুতরের ডিম থেকে বাচ্চা উঠছে না বা কবুতর তা দিচ্ছে না সেই ডিম গুলো আপনি খেতে পারবেন। কবুতরের একটি ছোট ডিমের মধ্যে তিনটি পল্ট্রি মুরগীর ডিমের পুষ্টি থাকে। এটা হয়তো আপনারা অনেকেই জানেন না। আপনারা অবশ্যই কবুতরের ডিম ফেলে দিবেন না। ডিম গুলো সিদ্ধ করে বা ভেজে খেতে পারবেন।
কবুতর কত বয়সে ডিম দেয়
কবুতরের বয়স ৫-৬ মাস হলে ডিম দেয়। তবে জাত ভেদে বিভিন্ন সময় লাগে।
কবুতরের বাচ্চা কত দিনে উড়তে পারে
কবুতরের ডিম সাধারনত ১৭-১৮ দিন পর্যন্ত তা দিয়ে বাচ্চা ফুটে। সেই বাচ্চা গুলা কে বাচ্চার মা এক তেকে দুই মাস পর্যন্ত খাইয়ে বড় করে। বাচ্চার বয়স যখন দেড় তেকে দুই মাস হয় তখন বাচ্চাগুলা উড়তে শুরু করে।
শেষ কথা
মানুষ সাধারনত দুটি উপায়ের জন্য কবুতর পালন করে। একটি হলো শখের বসে আরেকটি হলো মাংস খাওয়ার জন্য।শুধু মাংস খাওয়ার জন্যই নয় বিশ্বে এমন কিছু কবুতর আছে যেগুলোর দাম লাখ লাখ টাকা। যেগুলো শখ করে পালন করা হয়। আবার শখ বললে ভুল হবে কারো কারো কাছ নেশার মতো হয়ে গেছে এই কবুতর পোষা।
আমার পোস্টটি পরে ভালো লেগে থাকলে পরিচিতদের মধ্যে সেয়ার করবেন । তারা ও পরে কিছুটা কবুতর সম্পর্কে জানতে পারবে।