কুরআনের ফজিলত পূর্ণ সূরা সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

ইসলামিক জ্ঞানের ভান্ডারকুরআনের ফজিলত পূর্ণ সূরা সমূহ গুলো সম্পর্কে আমাদের হয়তো অনেকেরই জানা নেই। প্রিয় পাঠক,আজ এই পোষ্টটি তে কয়েকটি সূরার গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত নিয়ে বিস্তারিত লেখা হয়েছে।আপনেরা প্রত্যেকটা সূরার ফজিলত গুলো গুরুত্ব সহকারে পরতে থাকুন,ইনশাল্লাহ আপনারা উপকৃত হবেন।যে সূরা গুলো আমল করা মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কোরআনের ফজিলত পূর্ণ সূরা সমূহ
এখানে কোরআনের যে সকল সূরা ও আয়াতের কথা সহীহ হাদিসে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে,সে সকল সূরার ফজীলত তুলে ধরা হলো।

ভৃমিকা

কোরআনের একটি আয়াত পাঠকরা বা কাউকে শিক্ষা দেয়া একটা উটের মালিক হওয়া অপেক্ষা উত্তম।যে ব্যক্তিরা আল্লাহর কোরাআন শুদ্ধ করে পাঠ করে, নামাজ কায়েম করে, এবং আল্লাহ যা দিয়েছেন তা থেকে তারা ব্যায় করে এবং পরকাল এবং আখেরাতের বিশ্বাস করে তাদের কে আল্লহ পুরোপুরি সওয়াব দান করবেন। এবং নিজ অনুগ্রতে আল্লাহ আরো বেশি দান করবেন।
অধিক অধিক ফজিলতের সূরা সমূহ

সূরা বাকারা ও আলে ইমরানের ফযীলত

নবী করিম (সাঃ) ফরমান, যে ব্যক্তি সূরা বাকারা ও আল ইমরান পাঠকের তার জন্য গুনাহ মাফের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করতে থাকবে। (মিশকাত) তিনি ফরমান, রাত্রিবেলা বাকারা পাঠ করলে ৩ রাত্রি পর্যন্ত ওই ঘরে শয়তান প্রবেশ করতে পারবে না। এবং দিনে পড়লেও ৩ দিন পর্যন্ত শয়তান প্রবেশ করতে পারবে না। 
তিনি আরো ফরমান, জুমার দিন আল ইমরান পড়লে ফেরেস্তারা রাত পর্যন্ত গুনাহ মাপের দোয়া করতে থাকবে ।রাত্রিবেলা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পড়লে পাঠকের নিরাপত্তার জন্য ইহাই যথেষ্ট হইবে। বাকারা ও কিয়ামতের দিন পাঠকে ছায়া দান করবে আল ইমরানের শেষ রুকু পাঠ করলে। সারা রাত্রি ইবাদত বন্দেগী তথা নফল নামাজ পড়ার নেক হইবে। (মিশকাত হিসনে হাসিন)।

সূরা কাহাফের ফজিলত

নবী করিম (সাঃ) ফরমান যে, ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে তার ঈমানের নূর পরবর্তী জুমা পর্যন্ত চুমকিতে থাকবে। আর যে প্রথম দশটি আয়াত মুখস্ত করবে তাকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ রাখা হবে। এবং এই দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করলে পরবর্তী জুম্মা পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশতা তার গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করতে থাকবে।(মিরকাত)

সূরা ইয়াসীনের ফজিলত

নবী করিম (সাঃ) ফরমান, যে ব্যক্তি দ্বীনের প্রথম ভাগে ইয়াসিন পাঠ করবে আল্লাহ পাক তার সমস্ত কোরআনের সওয়াব দান করবেন।
১. একবার পাঠ করলে আল্লাহ তাকে১০ খতমের কোরআনের সওয়াব দান করবেন। 
২. পেছনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন। 
৩. মৃত্যু ব্যক্তির জন্য পড়লে কবরের আজাব মুক্ত করে দিবেন। 
৪. রাতে পড়ে মারা গেলে শহীদি মর্যাদা লাভ করবে।
৫. মৃত্যুর সময় রোগীর নিকট পড়লে মৃত্যু যন্ত্রণা দূর হবে এবং অতি আসনে মৃত্যু হবে। 
৬. প্রসব বেদনার সময় পড়লে সহজে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে। 
৭. যে কোন মার্কস দিয়ে পড়লে মাকসুদ পূর্ণ হবে।
.শয়ন কালে পড়লে সকাল বেলা নিষ্পাপ হয়ে ঘুম থেকে উঠবে। 
. দৈনিক পাঠ করলে কিয়ামতের দিন পাটকারীর জন্য সুপারিশ করবে। 
১০.কবরের পাশে পড়লে কবরের আজাব মাফ হবে। 
১১. জুমার দিনে ইয়াসিন পড়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
১২.খাদ্যের স্বল্পতার সময় পড়লে খাদ্য বরকত হয়। 
১৩. পাটকারী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয় একে কোরআন এর দিল বলা হয়। 
১৪.আসমান জমিন সৃষ্টির ১০০০ বছর পূর্বে আল্লাহ তা’আলা সূরা তোহা ও ইয়াসিন পাঠ করেছিলেন। ফেরেশতারা শুনে বলেছিলেন যে, ধন্য ওই জাতি যে ব্যক্তি মুখ ও অন্তর যাদের উপর তা নাযিল হয়েছে।(মেশকাত)

সূরা ফাতিহার ফজিলত

নবী করিম (সাঃ) ফরমান, ১.সুরা ফাতিহা সর্বপ্রকার রোগের ঔষধ যদি কেউ ফজরের ফরজ ও সুন্নতের মাঝখানে পূর্ণ বিসমিল্লাহর সাথে ৪০ বার পাঠ করে রোগীর মুখে দম করে তবে সে আল্লাহর রহমতে আরোগ্য লাভ করবে। 
২. ঘুমের পূর্বে সূরা ফাতিহা ও সূরা বিসমিল্লাহর সাথে চল্লিশ বার পাঠ করে তবে সে আল্লাহর রহমতে আরোগ্য লাভ করবে।
৩.সূরা ফাতিহা কুরআনের দুই তৃতীয়াংশ পড়ার সমতুল্য সওয়াব।
৪. ফজরের সুন্নত ও ফরজের মাঝখানে বিসমিল্লাহর মীমের সাথে আলহামদু লাম কে মিলিয়ে ৪১ বার করে ৪০ দিন পড়লে যে কোন নেক উদ্দেশ্য পূরণ হবে।
৫. কঠিন রোগীকে ফু দিয়ে পান করালে রোগ থেকে মুক্তি পাবে।
. বাসনে গোলাপ ও মেসকে জাফরানে লিখে চল্লিশ দিন পান করলে কঠিন রোগ থেকে মুক্তি লাভ করবে।
. দাঁত মাথা ও পেটে ব্যথায় সাতবার পাঠ করে দম করলে ব্যথা দূর হবে।
. ফাতিহা ও বাকারার শেষে কয়টি আয়াতকে নূর বলা হয়। কেননা কিয়ামতের দিন নুর হয়ে পাঠকারীর আগে আগে চলবে। হুজুর (সাঃ) আরো ফরমান, ফাতেহা নেকের দিক দিয়ে কুরআনের দুই তৃতীয়াংশের সমান। (বুখারী) তিনবার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে দুই খতম কোরআনের সমান নেক পাওয়া যায়। (মাজহারি)
৯. সূরা ফাতিহা সমস্ত পৃথিবী হইতে উত্তম। তাই সপ্তাহে অনন্ত ১ বার হলেও পাঠ করবেন।(হিসনে হাসীন)

সূরা আর রহমানের ফজিলত

সূর্যোদয়ের সময় মুখ করিয়া ফাবিআইয়্যি আলা- ই রাব্বিকুমা তু কাজজিবান পড়ার সময় সূর্যের দিকে ইশারা করে ৪ দিন পরলে অবাধ্য মানুষকে বাধ্য করা যায়। ১১ বার পড়লে যে কোন নেক মাকসুদ পূর্ণ হয়। নিয়মিত পাঠ করলে কিয়ামতের দিন চন্দ্রের নাই চেহারা উজ্জ্বল হইবে ও বেহেস্তি হইবে। দোয়া কবুল হবে। ফাবিআইয়্যিআলা জিবান তিনবার করে হাকিমের দরবারে গেলেও সম্মান পাবে। এই সূরা পাঠকারী জান্নাতুল ফেরদৌসের অধিকারী হবে। এই সূরা পবিত্র কুরআনের শোভা। (মিশকাত)

সূরা ওয়াকিয়াহ’র ফজিলত

নবী করীম (সাঃ) ফরমান প্রত্যহ রাতে ওয়াকিয়া পাঠ করলে জীবনে কখনো অভাব হবে না। জুমার দিন হতে ৭ দিন প্রত্যহবাদ ফজর একবার পড়লে পরবর্তী জুম্মার রাতে মাগরিবের পর ২৫বার দরুদ পড়ে প্রত্যাহার সকাল সন্ধ্যা একবার করে পাঠ করলে তার কোন অভাবে থাকবে না।ওয়াকিয়াহও আর রহমান পাঠকারি জান্নাতুল ফেরদৌসের অধিবাসী হবে। এটা সম্পদশালী হওয়ার সূরা। (কাঞ্জল উম্মাল)

সূরা মুজ্জাম্মিলের ফজিলত

নবী করীম (সাঃ)ফরমান, এই সূরা বিপদের সময় পড়লে বিপদ দূর হয়। সর্বদা পড়লে স্বপ্নে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জিয়ারত নসিব হবে। এবং তার জন্য দোজখ হারাম হয়ে যাবে। এটা পাঠ করে হাকিমের সম্মুখে গেলে হাকিম সদাই হইবে। দৈনিক১ থেকে ৭ বার পড়লে রুজি বৃদ্ধি হয়। প্রত্যহ শেষ রাতে ৪১ বার করে চার দিন একটানা পড়লে কঠিন কাজ হলেও সহজ হয়ে যাবে। (তিরমিজি)

সূরা কাহাফ এর ফজিলত

জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করা এক জুম্মা থেকে অন্য জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ হয়। পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর চমকাতে থাকে ২০ থেকে ২৩ আয়াত পাঠ করলে দাজ্জালের ফেতনা থেকে হেফাজত রাখবেন। (বুখারী, তিরমিজি, বায়হাকী)

সূরা মুলক এর ফজিলত

নবী করীম (সাঃ)ফরমান, যে ব্যক্তি প্রত্যহ সুরা মুলক পাঠ করবে সে কবর আজাব এবং কেয়ামতের কঠিন মুসিবত হতে রেহাই পাবে। ৪১ বার পড়ে বিপদ উদ্ধার ও ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা হবে। নিয়মিত পাঠ করলে এই সূরা কিয়ামতের দিন সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবে। নতুন চাঁদ দেখে বললে পূর্ণ মাসে নিরাপদে থাকবে। 
দৈনিক তিনবার করে তিন দিন পরে চক্ষু রোগীকে দম করলে চোখের রোগ আরোগ্য হবে। সূরা মূলক ও আলিফ লাম সিজদা মাগরিব ও এসার মধ্যবর্তী সময়ে পাঠ করলে শবে কদরের সমতুল্য নেক থেকে আমাকে মুছে ফেলুন। কবরের আজাব এই সূরায় অবশ্যই মুক্তি দিয়ে থাকে।(আবু দাউদ,তিরমীজি)

আয়তুল কুরসি’র ফজিলত

১. আয়াতুল কুরসি পাটকারির জন্য জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ছাড়া কোন বাধা নেই। 
. যে ব্যক্তি প্রত্যহ ফরজ নামাজের পর একবার পাঠ করে তার মৃত্যুর যন্ত্রণা হালকা হবে।
৩. রিজিক বৃদ্ধি পাবে। 
৪. মৃত্যুর পর তার ও জান্নাতের মধ্যে দুই আঙ্গুল পরিমাণ ব্যবধান থাকবে। 
৫. দুনিয়া ও আখিরাতের নানা উন্নতি হবে। 
৬. সকাল সন্ধ্যা পড়লে আল্লাহ তার জিম্মাদার হবেন।
৭. শয়তান তার নিকটে আসতে পারবে না। 
. কোথাও রওনা হওয়ার পূর্বে এটা পড়ে বাম পা ফেললে কাজের সফল হবে।
৯. নবী করীম (সাঃ) এর মৃত্যুর সময় আজরাইল বলল, আপনার উম্মতের মধ্যে যে প্রত্যহ ফরজ নামাজের পর একবার পড়লে আমি তার রূহু সহজে কবজ করব। এই আয়াত পড়ে ঘুমালে সারারাত ফেরেশতা পাহারা দেই যেন চুরি হতে না পারে। কোন বিপদ আপদ যেন না হয়। (বুখারী ও মুসলিম) আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল হাইয়ুল কাইয়ুম থেকে আলী উল আজিম পর্যন্ত পড়তে হবে।

কুলিল্লাহুম্মা এর ফজিলত

ধনী হওয়া ঋণ পরিশোধ ও ব্যবসার উন্নতির আমল প্রত্যহ নামাজের পর স্বয়ংকালে এবং সকাল বিকাল সাতবার করে নিয়মিত পাঠ করলে আর্থিক সচ্ছলতা আর ঋণ পরিশোধ সম্মান বৃদ্ধি পরীক্ষিত আমল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু এর জিয়ারত ও সুপারিশ লাভের উপায় যে ব্যক্তি প্রত্যহ ফজর নামাজের পর সাতবার তৌবার শেষে দুটি আয়াত পাঠ করে সে অবশ্যই নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর জিয়ারত ও সুপারিশ লাভ করতে পারবে।

সূরা কাফিরুন এর ফজিলত

নবী করিম সাল্লাল্লাহু ফরমান যে ব্যক্তি চারবার সূরা কাফিরুন পাঠ করবে সে এক খতমের কুরআনের সওয়াব পাবে তিরমিজি

সূরা নাসর এর ফজিলত

নবী করিম সাল্লাল্লাহু ফরমান চার বার সূরা নাসর পাঠ করলে এক খতম কোরআনের সোয়াব পাবে তিরমিজি

সূরা ইখলাস এর ফজিলত

নবী করীম (সাঃ) ফরমান, ৩ বার সূরা ইখলাস পাঠ করলে একবার খতমে কোরআনে নেক এবং এই সূরা পাঠকারীর জন্য জান্নাত অবধারিত বলিয়া সুসংবাদ রয়েছে। এবং সূরা কুলহু মহব্বত কারীকে অবশ্যই তিনি জান্নাতে পৌঁছে দিবেন। তিনি আরো ফরমান যে ব্যক্তি প্রতি রাতে ১০০ বার এই সূরা পাঠ করবে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তালা ডেকে বলবেন, হে আমার বান্দা তুমি তোমার ডান দিকের রাস্তা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করো। (বুখারী ও তিরমিজি)

সূরা কুলহু, ফালাক, নাস, এর ফজিলত

নবী করীম (সাঃ) ফরমান, এই সূরাগুলো যাবতীয় জাদুটনার অনিষ্ঠ থেকে শরীর বন্ধ ও নিরাপদ থাকার এই আমল করতেন। প্রত্যহ রাতে ঘুমানোর পূর্বে দুই হাতের তালু একত্র করে তিনটি সুরা পাঠ করে হাতে দম করতেন। তারা নিজ শরীরের যতদূর সম্ভব সর্বত্র মুছে ফেলতেন এবং মাথা থেকে আরম্ভ করে তিনবার করতেন। যে ব্যক্তি সকালে বিকালে এই সূরা গুলো পাঠ করবে সে সকল বিপদ আপদ থেকে হেফাজতে থাকবে। (বুখারী তিরমিজি)

সূরা কদর এর ফজিলত

নবী করীম (সাঃ) ফরমান, যে ব্যক্তি চারবার সূরা কদর পাঠ করবে সে এক খতম কুরআনের সওয়াব পাবেঅ (তিরমিজি)

সূরা আদিয়াত এর ফজিলত

নবী করীম (সাঃ) ফরমান, যে ব্যক্তি দুই বার সূরা আদিয়াত পাঠ করবে সে এক খতমে কোরআনের সওয়াব পাবে। (তাফঃমায়াহিবু রহমান)

সূরা তাকাসুর এর ফজিলত

নবী করীম (সাঃ) ফরমান, যে ব্যক্তি একবার সুরা তাকাসুর পাঠ করবে সে এক হাজার আয়াত পাঠ করার সমান নেক পাবে।

সূরা আলামনাশ রাহলাহ এর ফজিলত

গায়েব থেকে রিজিক আসার আমল এই সূরা। প্রত্যহ ফরজ নামাজের পর সাতবার করে পাঠ করলে গায়েব থেকে রিজিক আসবে।

শেষ কথা

আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক নামাজের মধ্যেই গড়ে উঠে ও বৃদ্ধি পেতে থাকে।আপনি ইসলামী আন্দলনে সক্রিয় হোন বা না হোন ,আখিরাতের মুক্তির কামনা তো নিশ্চই করেন। তাহলে মনটাকে ইতিবাচক কাজ দিন। মনকে ইবলিসের বেগার কর্মচারি হতে দিবেন না।ইবলিস থেকে মনকে রক্ষা করতে সক্ষম হলে দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য অনিবার্য।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *