প্রকৃত মুুমিন ব্যক্তির গুনাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

প্রকৃত মুুমিন তারাই যারা আল্লাহ ও রসুলের প্রতি ঈমান আনার পর আর সন্দেহে পরে না এবং নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে । এরাই (তাদের ঈমানের দাবিতে )সত্যবাদি। মুমিন মানে বিশ্বাসী। তাওহিদ, রিসলাত, ও আখিরাতে বিশ্বাসীকে মুমিন বলা হয় ।কোরআন ও হাদিসে প্রকৃত মুমিন ব্যক্তির গুনাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ননা আছে । 

প্রকৃত মুমিন ব্যক্তির গুনাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
আল্লাহ মুমিদের অভিভাবক । তাদের কে তিনি অন্ধকার থেকেআলোতে বের করে আনেন।ইসলাম মানে অনুগত্য ব্যক্তি ,যিনি   ইমানের সাথে নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত এবং আল্লাহর রাসুল (সা) এর যাবতীয আদেশ নিষেধ মেনে চলেন । 
১।মুমিন গণ যেন কাফিরকে অন্য মুমিন ছারা বন্ধুরৃপে গ্রহণ না করে। যারা এরৃপ করবে তাদের সাথে আল্লাহর কোন সম্পর্ক থাকবে না ।তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন ক্ষতির আশঙ্কা কর , তবে তাদের সাথে সর্তকতার সাথে থাকবে । আল্লাহতালা তার সম্পর্কে তোমাদের সর্তক করেছেন এবং সবাই কে তার কাছেই ফিরে যেতে হবে। (সূরা আল ইমরানঃ ২৮)
২। প্রকৃত মুুমিনদের বৈশিষ্ট্যর মধ্যে রয়েছে ঃ আল্লাহর স্মরনে তাদের দিল কেপে উঠে তাদের সামনে আল্লাহর বাণী উচ্চারিত হলে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় , তারা আল্লাহর উপর আস্থাশীল ও নির্ভরশীল হয়ে থাকে । নামাজ কায়েম করে এবং আল্লাহর প্রদত্ত থেকে ব্যায় করে। বস্তুত এরাই হচ্ছে সত্যিকারের মুমিন । তাদের জন্য আল্লাহর নিকট খুবই উচ্চ মর্যদা রয়েছে আর রয়েছে অপরাধের ক্ষমা ও অতি উত্তম রিজিক।(সূরা আল আনফালঃ ২-৪)
৩। সেই সব মুমিনরা নিশ্চিতই সফলকাম ।যারা নিজেদের নামাজে ভীত ও বিনয় আবলম্বন করে। যারা নিরর্থক বেহুদা কাজ থেকে দুরে থাকে । যারা যাকাতের পন্থায় কর্মতৎপরতা থাকে । যারা নিজেদের যৌনাঙ্গ হেফাজত করে । কিন্তু তাদের পত্নী ও অধিকিার ভুক্ত ক্রীতদসিগণ ব্যাতিত, এতে তাদের কোন দোস হবে না। যারা এতদ্ব্যতীয় (অন্যভাবে কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থকরতে) প্রয়াস হয় এমন লোক শরীয়তের সীমারঙ্গণকারী।
 যারা আমানত ও ওয়াদা চুক্তির রক্ষনাবেক্ষন করে এবং যারা নিজেদের নামাজ সমুহকে পুর্ণভাবে হেফাজত করতে থাকে ।এরাই হচ্ছে সেই উত্তরাধিকারি। তারা ফেরদাউসের ওয়ারিস হবে তারাই সেখানে চিরকল থাকবে।(সুরা মুমিনুনঃ১-১০)
মুমিন দের বৈশিষ্টর মধ্যে রয়েছে যে , তারা একে অপরের ভাই।
৪। মুমিন নারি ও পুরুষের আরো বৈশিষ্ট রয়েছে যে, তারা পরস্পরের বন্ধু ও সাহায্যকারি। তারা একে অপরকে যাবতীয় ভালো কাজের নির্দেশ দেয়। অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে । নামাজ কায়েম করে, যাকাত পরিশোধ করে, এবং আল্লাহ ও তার রসুলের অনুগত্য করে । তারা এমন লোক যাদের প্রতি আল্লাহর রহমত অবশ্যই নাযিল হবে। (সূরা আত তওবাঃ৭১)
৫। তোমাদের মধ্যে সত্যিকারে মুুমিন ও সৎকর্মশালিদের জন্য আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, তিনি অবশ্যই পৃথিবীতে তাদের খেলাফত দান করেবেন , যেমনি দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তি মুমিন দের । আর তিনি তাদের জন্য যে দীন পছন্দ করেছেন অবশ্যই তার প্রতিষ্ঠা দান করবেন । এবং তাদের ভীতজনক ।অবস্থাকে শান্তি ও নিরাপত্তায় পরিণত করবেন। ( সূরা আন নূরঃ ৫৫)
নিশ্চই সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য দয়াময় আল্লাহ তাদের জন্য (মানুষের অন্তরে) মহব্বত সৃষ্টি করে দেন।(সূরা মরিয়মঃ৯৬)
৬। মুমিনদেরকে আল্লহ এক সুপ্রমাণিত কথার ভিত্তিতে দুুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই প্রতিষ্ঠা দান করেন এবং যালিমদের কে কারে দেন বিভ্রান্ত এবং তিনি যা ইচ্ছে করেন , তা করার ইখতিয়ার তার রয়েছে ।( সুরা ইব্রাহীমঃ২৭)
৭। সৎকর্মশীল মুমিনদের আমি এমন জান্নাতে প্রবেশ করব, যার তলদেশে ঝর্ণা ধারা প্রবাহমান ।চির কাল তারা তা উপভোগ করবে। সেখানে তাদের জন্য পবিত্র স্ত্রীরাও রয়েছে । আমি তাদের কে ঘন নিবির ছায়ায় আশ্রয় দান করব।(সূরা আন নিসাঃ৫৭)
৮। এই মুমিন পুরুষ নারিদের জন্য আল্লাহর ওয়াদা এইযে, তাদেরকে এমন বাগবাগিচা দান করবেন যারা নিম্ন দেশে ঝর্ণধারা প্রবাহমান। চিরকাল তারা তা উপভোাগ করবে। এই চির সবুজ শ্যামল জান্নাতে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র পরিচ্ছিন্ন বসবাসের স্থান । আল্লাহর সন্তোষ লাভ করে তারা হবে সৌভাগ্যমান আর এ হবে তাদরে সবচাইতে বড় সাফল্য । (সূরা আত তওবাঃ৭২)
৯। হে রাসুল আপনি মুমিনদের কে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিরাট অনুগ্রহ রয়েছে। (সূরা আহযাবঃ ৪৭)
১০। মুমিন গন তোমরা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরন করবে এবং সকাল বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করবে। তিনিই তোমাদের প্রতি রহম করবেন এবং তার ফেরেস্তা গন ও রহমতের দোয়া করেন-অন্ধকার থেকে তোমাকে আলোতে বের করা র জন্য । আর তিনি মুমিন দের প্র্রতি পরম দয়ালু। (সূরা আল আহযাবঃ ৪১-৪৩)

মুমিনের গুণাবলিঃ মুমিনের কয়েকটি গুণাবলি নিচে দেওয়া হলো 

০ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন রাসুলুরল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোদের মধ্য ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ আকাঙিক্ষত মনের মুমিন হতে পারবে না যতক্ষন না তারা নিজের প্রবৃত্তি (খেয়াল-খুশি ) আমার আনীত আদর্শের অনুসারি হয়। (মিশকাত)
০ হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন ঃ তোমাদের মধ্য কেউ ততক্ষন পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষন আমি তার কাছে তার পিতা -মাতা ,সন্তান -সন্ততি এবং অন্য সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় না হয়। (বুখারি মুসলিম)
০ হযরত নু‘মান ইসনে বাশির (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন ঃ তুমি মুমিনদের একে অপরের প্রতি দয়া প্রদর্শন একে অপরের প্রতি প্রেম -ভালোবাসা এবং এক অপরের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের দিক দিয়ে একই দেহের ন্যায় দেখতে পাবে । যেমন দেহের কোন একটি অংশ কষ্ট অনুভব করলে গোটা দেহটাই জ্বর ও নিদ্রহীনতার দ্বারা এর প্রতি সাড়া দিয়ে থাকে । (বুখারি, মুসলিম)
০ হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলল্লাহ (সা) বলেছেন,  তোমরা ততক্ষন পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষন  তোমরা মুমিন হবে। আর তোমরা ততক্ষন মুমিন হতে পারবে না যতক্ষন পর্যন্ত তোমরা একে অপরকে না ভালোবাসবে । আমি কি তোমাদের কে এমন একটি আমলের কথা বলব না , যা করলে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্বের সৃষ্টি হবে?
তা হলো তোমরা পরস্পর ব্যাপক ভাবে সালাম বিনিময় করবে। (মুসলিম)
০ হযরত নুমান (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন ,রসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, সকল মুমিন একই ব্যক্তির সত্তার মতো। যখন তার চোখে যন্ত্রনা হয় ,তখন তা গোটা শরীরটাই অনুভব করে । যদি তার মাথা ব্যাথা হয় তখন তার গোটা শরীর টাই বিচলিত হয়ে পরে। (মিশকাত)
০ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, মুমিন ব্যক্তি তার গুনাহ সম্পর্কে এতদুর ভীতু হয়ে থাকে যে , সে মনে করে যেন কোন পাহাড়ের পদদেশে বসে আছে এবং প্রতিটি মুহুর্তে সে এই ভয় করে যে, পাহাড় তার উপর ভেঙ্গে পরতে পারে । কিন্তু আল্লাহদ্রহী ও পাপিষ্ট লোক গুনাহকে মনে করে একটি মাছির মতো । 
যা তার নাকের ডগার উপর ‍দিয়ে উড়ে গেছে ( এবং সে তাকে হাতের ইশারায় তাড়িয়ে দিয়েছে) এই বলে হাদিস বর্ণনাকারি আবু শিহাব নাকের উপর হাত দ্বারা ইশারা করলেন। ( বুখারী)
০ হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি ঃ সে ব্যক্তি মুমিন নয় , যে পেট পুরে খায় অথচ পাশেই তার প্রতিবেশি ক্ষুধার যাতনায় কাতর । (মিশকাত)
মুমিন ব্যক্তি কখনো ও এক গর্তে দুই বার নিপাতিত হয় না ।
প্রকৃত মুমিন হওয়ার জন্য কয়েক টি গুন মানুষের মধ্যে অবশ্যই থাকতে হবে । যেমনঃ
  • তাওহীদ ,রিসলাত ও আখিরাতে বিশ্বাসীকে মুমিন বলা হয়
  • ঈমানের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে হবে।
  • ঈমানের সঙ্গে রোজা রাখতে হবে।
  • হজ , যাকাত এবং আল্লাহ ও রাসুল (সা) এর যাবতীয় হুকুম আহকাম মেনে চলতে হবে ।

শেষ কথা 

খারাপ কাজে নিষেধ আর ভালো কাজে উপেদেশ দেওয়ায় হলো একজন মুমিন বান্দার কাজ । এ প্রসঙ্গে আল্লাহতালা বলেন ,তোমরা হলে সর্বত্তম উম্মত মানব জাতির কল্যানের জন্যই তোমাদের উদ্ভদ ঘাটানো হয়েছে। আমাদের মহান আল্লাহতালা তিনিই অসীম দয়ালু ।আল্লাহ তালা মানব জাতিকে  ইমানের মূল্যবান সম্পদ লাভের তওফিক দান করুন। 
ইমান স্থাপনের মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের সব নেয়ামত নেয়ামত ভোগ করার তাওফিক দান করুন। মুমিন ও মুসলমান ব্যক্তি জন্মগত ভাবে বংশীয় পরিচয় নয়, বিশ্বাস ও কর্মে তা অর্জন করতে হবে। 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *