যে সব মহিলারা কাজকর্ম বিশেষ করেন না এবং আরামে থাকেন তাদের হজম শক্তি কমে যায়এবং তাদের লিভার মন্থরগিতিতে কাজ করে। এর থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় এবং পাকস্থলিতে হজম না হওয়া পদার্থ জমতে থাকে। এ সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফলের চিকিৎসা ও বিভিন্ন ধরনের সমাধান দিতে পারে। মেয়েদের শারিরিক সমস্যায় ফলের চিকিৎসা সম্পর্কে এই পোস্টটি তে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে।পড়তে থাকুন—
শরীরে যে সব পদার্থ জমতে থাকে সেই পদার্থের পচনের ফরে শরীরে নানা রকমের ব্যাথা যন্ত্রনা শুরু হয়। যেমন, পেট ভার হয়, মাথা ব্যাথা করে, সব সময় একটা ঝিমুনি ভাব আসে। যারা এই সব ধরনের অসুখে ভুগছেন তারা যদি কম করে এক সপ্তাহ ফলের চিকিৎসা করে দেখেন এবং তার সাথে প্রচুর পরিমানে পানি খান তাহলে তাদের বদহজম এবং তৎসংক্রান্ত যে অসুখ সেরে যাবে এবং পেট পরিস্কার হয়ে যাবে।
ভৃমিকা
ফল আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। প্রত্যেকদিনের খাদ্য তালিকায় যে কোন একটা করে ফল খাওয়া উচিত আমাদেরকে। আপনার সাধ্য অনুযায়ী ফল খেলে আশা করা যায় আপনার শরীরে অসুখ খুব কম বাসা বাধবে।ফল আমাদের শরীরে বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করে থাকে। এই জন্য আপনাদের শারিরিক সমস্যা সমাধানে ফলের চিকিৎসা কি ভাবে করতে হবে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায় ফলের চিকিৎসা
যে সব মহিলাদের নিয়মিত মাসিক হয় না তারা আঙুরের রস খাবেন। এটা টনিক হিসাবে ও কাজ করবে এবং এতে মাসিক ও নিয়মিত হবে।তা ছারাও যদি ভালো না হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
গর্ভবতি মহিলাদের বমির ভাব কমানোয় ফলের চিকিৎসা
গর্ভবতি মহিলারা যদি নিয়মিত যতেষ্ট পরিমানে আঙ্গুরের রস খান তাহলে তাদের বমির ভাব, মাথা ঘোরা, মাথা ধরা কমবে। কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না। তারা সুস্থ্য সবল শিশু প্রসব করবেনএবং প্রসবের সময় কোনও অসুবিধা হবে না। আঙ্গুরের রসের সঙ্গে যদি কিসমিস মিশিয়ে খাওয়া যায় তাহরে আরও বেশী উপকার পাওয়া যাবে। গর্ভের ৯ মাসের শুরু থেকে প্রসবের দিন পর্যন্ত যদি প্রতিদিন সকালবেলা ১ চা চামুচ করে বাদামের (কাশ্মির) তেল বা পানি ভেজানো আট দশটি বাদাম (কাশ্মির)খোসা ছারিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন তাহলে প্রসব ও বেদনা একে বারেই হবে না।
মেয়েদের কোষ্টকাঠিন্য রোগে ফলের চিকিৎসা
মেয়ারা কোষ্টকাঠিন্য রোগে বেশী ভোগেন এবং কোষ্ঠকাঠিন্যই যত স্ত্রীরোগের উৎপত্তির কারন। মহিলারা স্বাভতই একটু কোমল প্রকৃতির। প্রকৃতিই মানুষকে অনেক রোগের হাত থেকে বাচায়। ফল প্রকৃতিরই দান। নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে নানাবিধ স্ত্রীরোগর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তার প্রথম ধাপই হল প্রচুর ফল খেয়ে বারোমাসের কোষ্ঠকাঠিন্য কমানো এবং পেট পরিস্কার রাাখা।
প্রতিদিন দশ থেকে বারো টা করে কিসমিস দুধে ফুটিয়ে নিতে হবে তারপরে দুধের সঙ্গে কিসমিস গুলো খেয়ে নিন। দেখে নিতে হবে কিসমিসের রং যেন কালো হয়। কিন্তু কিসমিস গুলো যেন পচা না হয়।
খাবারের তালিকায় বেশির ভাগই যেন শাক-সবজি থাকে ভাত ডাল কম খেলেই ভালো । আমলকির মোরব্বা এবং পেপের তরকারি খেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পেয়ারাও প্রচুর খাবেন। শাক-সবজির মধ্যে বাঁধাকপি বেশি করে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দুর হয়।
আরো পড়ুনঃ দ্রুত পেটের গ্যাস কমানোর উপায় জানুন
পাকা আঙুর আর পাঁকা পেপে যেন খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন থাকে। শীতের সময় শালগম পাওয়া যায়-শালগমের তরকারি খেলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। রাতের খাবারের তালিকায় সেদ্ধ দালিয়া (গমের দানা ছো্ট ছোট করে ভাঙ্গা), পালঙ্গ শাকের তরকারি,নাশপাতি, ও পাকা ডোমরের সালাত খাবেন আপনারা প্রতিনিয়ত।
প্রতিরাতে দুটো করে পাকা কলা ও একটি পাকা পেয়ারা খেতে পারলে আরও ভালো হয়। শুধু কলা যেন খাবেন-তাতে কোষ্ঠকাঠিন্য আরো ও বাড়বে। আঙ্গুর খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে খুবেই ভাল তা যদি না পারা যায় তাহলে তার বদলে নাশপাতি, আতা, পেয়ারা, কলা, পাকা পেঁপে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমবে এবং অনেক স্ত্রীরোগের হাত থেকে বাঁচা যাবে।
হিস্টিরিয়া রোগে ফলের চিকিৎসা
মাসিকের গন্ডগোল হলে অনেক সময় হিস্টিরিয়া রোগ দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে আঙ্গুরের রসের চিকিৎসায় বিশেষ উপকার পাওয়া যাবে।
অনিয়মিত মাসিক ও বহুদিন ধরে মাসিক চলতে থাকা
বেশি দিন ধরে মাসিক চলতে থাকলে শরীরের অনেক রক্ত বেরিয়ে যায় এবং শরীর দুর্বল হয়ে পরে। নানাবিধ চিকিৎসায় যদি এ অসুখ না সারে তাহরে ফলের চিকিৎসা করে দেখুন।
পাকা কলার চিকিৎসা
সারা দিনে ৬-৭ টা পাকা কলা (যার যেমন সহ্য হবে) ছোট এলাচের সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। এই চিকিৎসা চলাকালে খাওয়া দাওয়া একে বারে হালকা ধরনের করতে হবে। ভাজাভুজি একে বারেই খাবেন না । রান্নায় ঝাল-মশলাও বাদ দিবেন। নারিকেলের পানি, আখের রস, ফলসার রস, এ ছারাও খেজুর, কাচা পানিফল, কিসমিস, আঙ্গুর খেতে পারলে এই সব অসুখের উপশম হয়।
গর্ভাবস্থায় অস্থিরতা ও দুর্বলতা
অনেকে গর্ভবতী হওয়ার পর খুবই অস্থিরতা বা দুর্বলতা বোধ করেন। এবং তার সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ ও দেখা দেয়। যারা শারিরিক পরিশ্রম করেন তাদের কিন্তু এই দুর্বলতার ভাবটা খুবই কমই থাকে। ঔষুধ পত্রে যদি কাজ না হয় তাহলে দুর্বলতা দুর করতে যতটা পরিমানে সহ্য হবে দুধ এবং ফল খাবেনএবং সংযত ভাবে জীবন যাপন করবেন। মাখনের সঙ্গে মিশ্রি মিশিয়ে যতটা সহ্য হবে ততটা পরিমানে খাবেন। এতে উপকার পাওয়া যাবে।
দুধ এবং পাকা কলা উপকার দিবে দুধের সঙ্গে একটু চিনি মিশিয়ে খাবেন যাদের পক্ষে সম্ভব তারা কিসমসি বা তাজা আঙ্গুর খাবেন। তারা ছারা আপেল ,আমলকি খেলেও দুর্বলতা কমে।প্রসবের পর নানা বিধ উপসর্গ দেখা দেয়। শরীরের দুর্বলতা বেশী হলে একটু আদার রস সামান্য গরম করে মধু মিশিয়ে খেলে ভালো হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সেই রকম খাবার খেতে হবে। দুুুধে ১০ থেকে১২ টা কিসমিস দিয়ে ফুটিয়ে একটা একটা করে খেয়ে দুধ টা পান করে নিবেন। যদি সহ্য হয় দিনে ২ বার করে খেলে ভালো হয়।
হার্টের জন্য উপকারি ফল
বিশেষ করে বিত্তবান বাড়ির মেয়েদের হার্টের অসুখের কথা বেশি শোনা যায়। কারন তারা বেশী মশলা পাতি ও ঘি দেওয়া দামি খাবার খান। অনেকে আবার অনিয়মিত জিবন যাপন করেন। তাদের বুক ধরফরানি, বুকে ব্যাথা এই সব অসুখ প্রায়ই হয়। ঔষুধ পত্রে কাজ না হলে ফর খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে হার্টের উন্নতি হবে। নারিকেল, নাশপাতি, আপেল, পানিফল, আমলকির মোরব্বা, ফলসা ইত্যাদি নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন। নারিকেলের পানি কিংবা ডাবও হার্টের অসুখে খুবই উপকারি।
লিউকোরিয়া রোগের চিকিৎসা কি
মেয়েরা অনেকেই এই অসুখে ভুগেন। এতে শরীর দুর্ব ল হয়ে যায়। এই অসুখের প্রধানত দুটি কারন আছে তার মধ্যে একটি হলো নিয়মিত খাওয়া দাওয়া না করা এবং আরেক টি হলো অসংযত জীনবযাপন করা। কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করতে পারলে এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। ষাট গ্রাম মতো (চার টেবিল চামুচ শাস) পাকা বেল দিনে তিন থেকে চার বার খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে শ্বেত-স্রাব অবার্থ ভাবে সেরে যায়।
আরো পড়ুনঃ গর্ভবস্থায় কি কি কাজ করা নিষেধ জেনে নিন
এই বেল যে কয়দিন খাবেন সে কয়দিন ডাল ভাত না খাওয়াই ভালো। আপেলের জ্যাম, আমলকির মোরব্বা, নিয়মিত খেলে এই রোগ সেরে যেতে পারে। সকালে বিকারে এক টেবিল চামুচ করে আঙ্গুরের রস খেলেও উপকার পাওয়া যায়। গায়ের রঙ্গের ফ্যাকাসে ভাব কমাতে পারে এবং জরায়ুর দ্বার থেকে অনবরত জলীয় পদার্থ বেরোনো এতে কমে যাবে।
শুকনো কাশি কমানোর উপায়
শুকনো কাশিতে প্রতিদিন সকালে যদি কয়েকটি পাকা আলুচা (প্লামা- যা শুকিয়ে আলুবোখরা হয় -যতটা খেতে পারেন,ধরুন ১৫ টা) খেলে এই অসুখ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। জ্বর থাকলেও কমে যাবে। গরম লেগে জ্বর হলে বা খুব তেষ্টা পেলে এই ফল রোগে উপশম করবে। এই ফলটা গরম কালে পাওয়া যায়। অন্য ঋতুতে এই ফল না পেলে শুকনো আলুবোখরা খেতে পারেন।
লেখকের মন্তব্য
ফল আমরা একে বারেই খাই না, বলা যাবে না।কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বাদের কারনে। গুনাগুন বিচর করে ফর খাওয়ার অভ্যাস আমাদের বলতে গেলে গড়েই ওঠেনি। যেমন আমরা অনেকেই জানি না,কোন ফল খেলে শরীরে রক্ত তৈরী হয়। জানিনা কিভাবে ফল খেয়ে সারানো যায় মাথার রোগকি চোখের অসুখ, কমানো যায় হার্টের ব্যামো, ডায়াবেটিস,জ্বর,চর্মরোগ, বাত কিংবা সর্দি-কাশি।
এমনকি শিশুদের অসুখে, মেয়েদের রোগে অথবা পৌরুষবৃুদ্ধিতেও ফল কত প্রয়েজনীয় আমরা তা খবরই রাখি না।আপনাদের সাধ্য অনুযায়ি নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন শরীরটাকে রোগ মুক্ত করুন। আমার এই পোষ্টটি পরে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে পরিচিতদের কাছে সেয়ার করে দিন ।তারাও পোস্টটি পড়ে উপকৃত হবে। ইনশাল্লাহ।