শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি লিভার ও একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। লিভার শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভৃমিকা পালন করে। তবে আমাদের শরীরে লিভার রোগের লক্ষণ দেখা দিলে শরীরের অন্যান্য লক্ষণ গুলো ও ফুটে উঠে। তবে অনেকের শরীরে বিশেষ কোন লক্ষণ ছাড়াই ও এই রোগ বাসা বাধতে পারে। এই পোষ্টটিতে আমি চেষ্টা করব কিভাবে লিভার রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যায় ।
এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে আপনি দ্রুত গতিতে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিবেন। আপনার লিভারের কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে আপনি কিছু লক্ষণ দেখে তা বুঝতে পারবেন। লিভার রোগের লক্ষনগুলো সম্পর্কে আপনার জানা থাকলে আপনি প্রথমদিকে ভালোভাবে চিকিৎসা নিতে পারবেন ।
ভৃমিকা
বর্তমানে লিভার রোগের আক্রান্তের মানুষ দিনে দিনে বাড়্রতে থাকছে। ডাক্তারদের মতে, লিভার রোগ ১০০ টির ও বেশী আছে। আবার এই রোগের বিভিন্ন ধরনের কারন ও আছে । যেমন, অকারনে ঔষুধ খাওয়ার কারনে,মদপান করার কারনে, ক্যান্সারে রোগে অসুস্থ্য থাকলে, সংক্রামন ইত্যাদির কারনে এই রোগ হওয়ার ঝুকি বেশী ।লিভার রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো ঃ
লিভারের সমস্যা হলে কি খেতে হয়
আপনি যদি সুস্থ্য থাকতে চান এবং স্বাভিক ভাবে বাঁচতে চান তাহলে আপনাকে খাদ্য খাওয়ার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের খাবারের কারনে আমাদের লিভারের সমস্যা হয়ে থাকে । ঔষুধ খেলেই শুধু সুস্থ্য থাকবেন এ ধারনা ঠিক না । শরীরে ফ্যাটি লিভারের কারনে লিভার সমস্যা হতে পারে। প্রত্যেকদিনের খাবারের অভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনতে পারলে রক্ষা পেতে পারবেন ফ্যাটি লিভারের হাত থেকে ।
আমাদের সবার জানা উচিত ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রত্যেক দিনের ডায়েটে কোন কোন খাবার খাবেন।লিভার সমস্যাই যা খাবেন
- ওটমিল
- কফি
- গ্রিন টি
- আমন্ড বাদাম
- পালংশাক
- ব্লুবেরী
- বাতাবী লেবু
- অ্যাভুকাডো
- রসুন ইত্যাদি খাবেন।
লিভার ভালো রাখার ব্যায়াম
কোন অসুখ কে নিয়ে হেলা ফেলা করা যাবে না । যাদের শরীরের ওজন বেশী থাকে তাদের লিভারের সমস্যা হলে খুবই কষ্ট দায়ক হয় ।কি ব্যায়াম করলে লিভারের জন্য ভালো হয় তা নিচে দেওয়া হলো ঃ
শরীরের ওজন ঠিক রাখতে হবে
শরীরের ওজন স্বাভীকের চেয়ে বেশী হলে আমাদের লিভারের সমস্যা হতে পারে।বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার সমস্যা দ্রুত হতে পারে । তাই সময় থাকতে আপনাদের শরীরের ওজন কমান।
ব্যালেন্স ডায়েট
লিভারকে সুস্থ্য রাখতে চাইলে ব্যালেন্স ডায়েট বা সুষম খাবার খেতে হবে।যেমন , তাজা শাক-সবজি,ফল ।এ ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমানে ফাইবার আছে।
প্রত্যেকদিন ৪০ মিনিট ঘাম ঝরান
আপনি যতই ব্যাস্ত থাকেন না কেন সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে অন্তত ৪০ মিনিট সময় বের করে নিবেন হাটার জন্য।যদি আপনার সময় থাকে তাহলে আপনি জিমে গিয়েও ব্যায়াম করতে পারেন। এত আপনার লিভারের সুস্থ্যতা বজায় থাকবে।
খাবার খাওয়ার আগে হাত ধুয়া
আমাদের আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস আছে যা অপরিষ্কার হাতে খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের লিভারের উপর আঘাত হনে। এজন্য নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিবেন এতে আমাদের নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ হবে।
লিভার ভালো রাখার দোয়া
বিশ্বনবি (সাঃ) মানুষের শরীর কে সুস্থ্য রাখতে সকাল সন্ধ্যা দোয়ার আমল করতে বলেছেন। বিশ্বনবি (সাঃ) নিজের শরীর মোবারককে সুস্থ্য রাখতে এ দোয়া পাঠ করতেন-
*আল্লাহহুম্মা আফেনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফেনি ফি সামায়ি, আল্লাহুম্মা আফেনি বি বাসারি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।
অর্থ: হে আল্লাহ!আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিকে। আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই।
লিভার রোগের লক্ষণ
এ রোগ হওয়া মানে লিভারের ক্ষতি হওয়া শুরু করে দেয় । কারন লিভার আমাদের শরীরের পাওয়ার হাউজ । সুতরাং লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের এনার্জি দিনে দিনে কমে যায় । এই রোগের দৃশ্যমান লক্ষণ থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।
- বমি বমি ভাব হবে
- পরিশ্রম করার পর শরীর টা ক্লান্ত লাগবে
- চোখের রং হলুদ বর্নের হবে এবং ত্বক ও হলুদ বর্ণের হবে
- ত্বক চুলাকানির পর সহজেই ক্ষত হয়ে যাবে
- পেট বড় হয়ে যাবে এবং পেট প্রথম অবস্থাই হালকা হালকা ব্যাথা করবে
- পেসাবের কালার পরিবর্তন হবে
লিভার রোগের প্রতিকার
লিভার শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সুস্থ থাকতে হলে আমাদের কে লিভারের খেয়াল অবশ্যই রাখতে হবে। লিভার খারাপ হয় নিজেদের কিছু বদ অভ্যাসের জন্য । কিভাবে লিভার রোগের প্রতিকার করা যেতে পারে নিচে তুলে ধরা হলোঃ
- ভাইরাল হেপাটাইটিসের জন্য টিকা নেন
- অ্যালকোহল যুক্ত খাবার পরিমান মতো খাবেন
- ওজন বজায় রাখতে হবে
- অস্বাভিক এবং ঝুকিপূর্ণ আচরন এড়িয়ে চলুন
- নিয়মিত ভাবে রোগীর মেডিকেল চেকআপ করুন
লিভার রোগের পরিক্ষা
লিভার রোগ সনাক্ত করতে গেলে বেশ কিছু পরিক্ষা নিরিক্ষা করতে হয় ।সে ক্ষেত্রে প্রথমে লিভারের একটি আলট্রাসনোগ্রাফি করতে হয়।এর মাধ্যমে জানা যায় লিভারের আকার আকৃতি এবং লিভারে কোন চর্বি জমে আছে কিনা। এছাড়াও রক্তের পরিক্ষা করা হয় ডায়াবেটিস আছে কিনা ।তার সাথে লিভার ফ্যাংসান টেস্ট করা হয় ।এছারাও সিটি স্কান, লিভার বায়োপাসি, এমআর আই,পরিক্ষা করা হয়।
৫ টি বড় লিভার রোগের নাম
- হেপাটাইটিস রোগ
- ফ্যাটিলিভার রোগ
- কর্কটরাশি
- সিরোসিস
- লিভার ব্যার্থতা
লেখকের মন্তব্য
এই রোগের জন্য সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন এবং কারো এই রোগ হলে রোগ নিয়ে এরিয়ে যাবেন না । তাহলে রোগীর গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হবে। নির্দিষ্ট ধরনের লিভার রোগের জন্য ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।তবে আপনাকে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরন করে আপনার লিভার কে ঝুকির মধ্যে ফেলার বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। আপনার যদি লিভার রোগ থাকে তাহলে আপনাকে সুচিকিৎসার জন্য লিভারের ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে হবে। এবং নিয়মিত চিকিৎসা তালিকা অনুসরন করতে হবে ইনশাল্লাহ এই রোগ থেকে মুক্তি পাবেন ।