পাকা টমেটো মুখে মাখার উপকারিতাশুকনো ডুমুর খাওয়ার নিয়ম হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা, ত বন্ধুরা আমরা এখন জানব এই পোষ্ট থেকে শুকনো ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম। কাঁচা ডুমুর ফল খেলে যেমন উপকার পাওয়া যায় তেমনি ডুমুর কে শুকিয়ে নিয়ে খেলে ও উপকার পাওয়া যায়। কিন্তু শুকনো ডুমুর খাওয়ার কিছু নিয়ম আছে তা নিচে দিয়া হলো।
সময়ের সাথে সাথে কমেছে ডুমুরের ব্যাবহার। আগে কার দিনে যেমন আমাদের মা- চাচিরা ডুমুরের শুধু তরকারি রান্না করে খেতেন। কিন্ত এখনকার দিনে ডুমুর কাঁচা খাওয়া, পাকা খাওয়া, ডুমুরের পাতা খাওয়া এবং ডুমুর রোদে শুকিয়ে খাওয়া শিকেছে।
ভৃমিকা
ডুমুর ফলের ব্যাবহার যতই আলাদা হয়ে থাকুক না কেন। কিন্তু ডুমুরের উপকারিতা এক চুল পরিমান ও কমেনি। কারন মানুষের মধ্যে এখন শুকনো ডুমুরের ব্যাবহার বেড়েছে। এখন কথা হলো কাচা ডুমুর খাওয়া ভালো না শুকনো ডুমর। বন্ধুরা পড়তে থাকুন-
কাঁচা ডুমুর খাওয়ার নিয়ম
যে কোন ফল খাওয়ার একটা নিয়ম থাকে। সেরকম ডুমুর ফল খাওয়ার ও নিয়ম আছে। তা নিচে দেওয়া হলো-
১. অতিরোক্ত আমাশা হলে টাটকা কাঁচা ডুমুর ধুয়ে কাঁচা চিবিয়ে খাবেন। তাহলে ভালো উপকার পাবেন। তবে ৩ দিন ধরে খেতে হবে।
২. যে মেয়েদের অতিরোক্ত মাসিকের রক্ত যায় তাদের কে কাঁচা ডুমুর বেটে একচা চমুচ মধু মিশিয়ে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। তবে নিয়ম করে খেতে হবে।
৩. যাদের মাথা ঘোরা রোগ আছে তারা কাাঁচা ডুমুর ভেজে খেলে মাথা ঘোরা কমে যাবে।
৪. যাদের ডায়াবেটিস রোগ আছে তারা প্রত্যেক দিন সকাল – সন্ধ্যায় একটি করে কাঁচা ডুমুর চিবিয়ে খেলে ডায়াবেটিস এর মাত্রা কমে আসে। নিয়ম করে প্রত্যেক দিন খেতে হবে। তবে ১ টার বেশী খাওয়া যাবে না।
৫. যারা রক্তশুন্যতায় ভুগছেন এবং শরীরে আয়রনের পরিমান কম আছে তারা ডুমুর ফল কাঁচা বা রান্না করে নিয়ম করে খেলে শরীরে রক্তশুন্যতা পূরণ হবে।
৬. যাদের হেচকি ওঠা রোগ আছে তারা কাঁচা ডুমুরকে কুচি কুচি করে কেটে নিয়ে পানিতে ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ঐ পানি একটু পর পর খেতে হবে। তাহলে হেচকি ওঠা রোগ ভালো হয়ে যাবে।
শুকনো ডুমুর খাওয়ার নিয়ম
শুকনো ডুমুর ও কাঁচা ডুমুর দুটোই শরীরের বিভিন্ন উপকার করে। তবে আমরা কাচা ডুমুর খাওয়ার নিয়ম জানলাম। কিন্তু শুকনো ডুমুর কিভাবে খেতে হয় বা কিভাবে ডমুর শুকাতে হয় তা আমরা এখন জানব। স্বাস্থ্যকর ডায়েটের জন্য শুকনো ডুমুর বিশেষ অবদান রাখেন।
১. শুকনো ডুমুরে রয়েছে অনেক পরিমান পটশিয়াম, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন B6 এবং ভিটামিন K ।
২. শুকনো ডুমুর গাছ থেকে পেরে রোদে শুকিয়ে ১ থেকে ২ মাস সংরক্ষন করা যায়।কারন বেশিদিন রাখলে পোকা ধরতে পারে।
৩. শুকনো ডুমুর ২ টা টুকরো করে কেটে রাতের বেলা ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে সকালে ঐ ডুমুর সহকারে খেতে হবে। তাহলে বেশ উপকার পাওয়া যাবে।তবে প্রত্যেকদিন খাওয়া যাবে না হজমে সমস্যা হবে।
৪. এক গ্লাস দুধের সাথে এক চা চামুচ মধু এবং একটা শুকনো ডুমুর কুচি কুচি করে কেটে নিয়ে একসাথে খেতে হবে তাহলে পুরুষদের যৌনস্বাস্থ্যর উপকার হবে।
আরো পড়ুনঃ কাঁচা ডুমুরের উপকারিতা কি কি জেনে নিন
৫. শুকনো ডুমুর এবং একগ্লাস দুধ গরম করে সিদ্ধকরে নিয়ে খেতে হবে তাহলে বুকে কফ জমা এবং শুকনো কাশি সেরে যাবে।
৬. শুকনো ডুমুর নিয়মিত খেলে হার্টের কার্যক্রমে একটা উপকারি প্রভাব ফেলে।
৭. যে কোন তরকারি যেমন, ঝোলের তরকারি, মাছের তরকারি, মাংসের তরকারি বা চরচরি সব তরকারির ভিতর শুকনো ডুমুর দিয়ে রান্না করা যায়। এ থেকে প্রচুর পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। এতে ডুমুর খাওয়ার ও অরুচি থাকে না।
৮. মেয়েদের অতিরোক্ত ঋতুস্রাব হলে শুকনো ডুমুর, একচামুচ মধু বা চিনি এবং একগ্লাস দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে ঋতুস্রাব কমে আসবে।
ডুমুর পাতার উপকারিতা
১. কাঁচা ডুমুরের পাতা বেটে মুখে বা শরীরে লাগালে ত্বকের আলসার এবং ব্রঙ্কাইটিস রোগ নিরাময়ের জন্য উপকারি।
২. শাক হিসাবে ডুমুর পাতা রান্না করে খেলে হৃদপিন্ডের ক্ষতিকারক চর্বিগুলোকে কমিয়ে আনে। দিনে দিনে সুস্থ্য করে তুলে।
৩. স্যাতস্যাতে ডুমুরের পাতা পান করা শরীরের চিনি নিয়ত্রনে জন্য দায়ি ইনসুলেনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
৪. ডুমুর পাতা খাওয়ার সাথে সাথে রেটিনা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে অনেকের।
ডুমুর ফলের দাম কত
বন্ধুরা ডুমুর গাছ তো জঙ্গলে কোন পরিচর্যা ছারাই অবহেলিত ভাবে বড় হয়। আবার ভালো মানের মিশরীয় ডুমুর ফল আছে। যেগুলো একটু সুস্বাদু বেশী হয়। ১ কেজি দেশী ডুমুর বাজারে কিনতে গেলে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যায়। তবে ফল ডুমুর কত টাকা কেজি দরে যাচ্ছে তা নির্ভর করে ডুমুরের কোয়ালিটির উপর। কোয়ালিটি ভালো হলে একটু দাম বেশী হবে।
ডুমুর ফল কোথায় পাওয়া যায়
ডুমুর বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় ডুমুর গাছ বাংলাদেশে অসংখ্য পরিমাণ রয়েছে তবুও ডুমুর একটি সাধারন অবহেলিত ফল। এর গাছ কোন পরিচর্যা ছাড়াই বড় হয়। সাধারনত গ্রামের হাট বাজারে বা গ্রামের বাড়িতে এই ফল গুলো অনেক পাবেন। তবে বাংলাদেশের যেকোন প্রত্যন্ত থানা শহর থেকে জেলা শহর থেকে আপনি ডুমুর ফল ক্রয় করতে পারেন। বড় বাজার, ছোট বাজার, সব জায়গাতে এ ফল টি আপনি সহজেই পাবেন। এই ফলের দাম ও অনেক কম। মিশরীয় ডুমুর হলে দাম একটু বেশী হবে।
ডুমুর কাঁচা এবং কাকা উভয় ভাবেই খাওয়া যায় কোন কাঁচা অবস্থায় তরকারি সাথে রান্না করা হয় এবং পেকে গেলে হালকা লবণের সাথে খাওয়া হয়. খেতে খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর এটি ক্যালসিয়ামের পূরণ করে শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করে এবং শরীরকে সুস্থ ও ফিট থাকতে সাহায্য করে.
ডুমুর গাছের ছবি
আপনি কি ডুমুর গাছের ছবি করছেন কখনো ডুমুর গাছ দেখেননি? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপনার সাথে ডুমুর গাছের ছবি শেয়ার করব আপনারা যারা অনেকেই ডুমুর গাছ কখনো দেখেননি তারা নিচের এই চিত্রটিতে ডুমুর গাছের ছবি দেখে নিন ডুমুর গাছ দেখতে অনেকটা লিচু গাছের মত এবং এর গায়ে ডুমুর গুলো ফুলের মত লেগে থাকে.

ডুমুর ফল কয়েক প্রজাতির হয়। বাংলাদেশে যে ডুমুর ফল পাওয়া যায়, সে ফর সাইজে অনেক ছোট। যা খাওয়ার অনপযোক্ত। এই ডুমুরের নাম কাকডুমুর। এর গাছ যেখানে সেখানে কোন পরিচর্যা ছারাই বড় হয়ে থাকে। পাকা ডুমুর পাখি খেয়ে যেখানে বিষ্টা পড়বে সেখানে এই ডুমুরের গাছ গজিয়ে ওঠে। অনেক এলাকায় এই ফল দিয়ে তরকারি রান্না করে খাওয়া হয়। এর পাতাগুলো শিরিশ কাগজের মত খসখসে। এর ফলগুলো কান্ডে থোকায় থোকায় ধরে থাকে।
শেষ কথা
প্রিয় বন্ধুরা ডুমুর ফল নিয়ে আপনেদের প্রশ্ন বা কোন জিঙ্গাসা থাকলে কমেন্ট বকসে জানিয়ে দিতে পারেন। ত যাই হোক বন্ধুরা ডুমুর তো উপকারি ফল তা আমরা এই পোষ্টে জানলাম। রোগ প্রতিরোধের জন্য নিয়ম করে ডুমুর ফল আমরা সকলেই খাওয়া শিখব। নিশ্চয় আমাদের দেশে অনেক ডুমুর গাছ আছে।
সেখান থেকে আমরা ডুমুর ফল সংগ্রহ করতে পারব। তাছারাও এখন অনলাইনে ভালো জাতের ডুমুর ফল বিক্রি করা হচ্ছে। আশা করি আমার লেখা পোষ্টটি পড়ে আপনি অনেক কিছু জানতে পারলেন। ভালো থাকবেন সুস্থ্য জীবন গড়বেন।